📄 যিকরকারীকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেন
৬৩. যিকিরকারীকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যায়ন করেন এবং তাকে সত্যাবাদী বলে ঘোষণা করেন। কেননা যিকিরকারী আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ গুণাবলী ও শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্যবলীর মাধ্যমে যিকির করে। তাই যিকিরকারী যখন তাঁর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যবলী উল্লেখ করে তখন আল্লাহ তার সত্যায়ন করেন এবং তাকে সত্যবাদী বলে আখ্যা দেন। আর স্বয়ং আল্লাহ যার সত্যায়ন করেন ও যাকে সত্যবাদী আখ্যা দেন, তার হাশর কশ্চিঙ্কালেও মিথ্যুকদের সাথে হবে না। ইনশাআল্লাহ তার হাশর হবে সিদ্দীকদের সাথে।
আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
কোনো বান্দা 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' বললে, প্রভু তার কথাটি সত্য বলে অনুমোদন দেন এবং বলেন, আমি ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, আমিই মহান। আর বান্দা যখন 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু (আল্লাহ তাআলা ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক) বলে, তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং আমি এক। বান্দা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই) বললে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, আমি এক, আমার কোনো অংশীদার নেই। এরপর বান্দা 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহল হামদু' (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই, তাঁরই রাজত্ব, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর) বললে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই, রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমার জন্যই। বান্দা যখন বলে, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারার্থে কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো অনিষ্ট বা উপকার করার ক্ষমতা কারো নেই), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্যিকারার্থে কোনো মাবুদ নেই, আমি ছাড়া অকল্যাণ দূর করা ও মঙ্গল লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেন,
যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত অবস্থায় এই বাক্যগুলো পাঠ করে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। ১৩৯
টিকাঃ
১৩৯. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৩০; সুনানু ইবন মাজাহ, ৩৭৯৪; হাদিসটি সহীহ
📄 যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হয়
৬৪. যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যিকিরকারী যিকির করা বন্ধ করলে ফেরেশতারাও সেই অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। পুনরায় সে যিকির করা আরম্ভ করলে ফেরেশতারাও পুনরায় নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেন। ইবন আবীদ দুনইয়া স্বীয় আয-যিকর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হাকীম ইবন মুহাম্মাদ আখনাসী বলেন,
আমরা জানতে পেরেছি যে, যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যিকিরকারী তার যিকির বন্ধ করলে ফেরেশতারাও সেই অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। তাদেরকে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, আমাদের কাছে নির্মাণ খরচ আসলে আবার শুরু করবো। ১৪০
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি সাতবার সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম বলে, তার জন্য সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়।” ১৪১
যিকিরের মাধ্যমে যেমন অট্টালিকা নির্মাণ করা হয় তেমনি জান্নাতের বাগানে গাছও লাগানো হয়। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত,
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“ইসরার রাতে ইবরাহীমের সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি আমাকে বলেন, 'ইয়া মুহাম্মাদ, আপনি আপনার উম্মাতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দেবেন এবং তাদের জানিয়ে দেবেন, জান্নাতের মাটি অতীব সুঘ্রাণযুক্ত, তার পানি সুমিষ্ট, তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা হল,
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। ১৪২
অতএব, প্রমাণ হয়, যিকরুল্লাহ জান্নাতের অট্টালিকা ও গাছ।
আবদুল্লাহ ইবন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমরা বেশি বেশি জান্নাতে গাছ লাগাও। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, জান্নাতের গাছ কী? তিনি বলেন, মাশাআল্লাহ লা হাওলা ওয়া কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। ১৪৩
টিকাঃ
১৪০. ইবন আবীদ দুরইয়ার এ কিতাব এখনো অপ্রকাশিত。
১৪১. আত-তারীখুল কাবীর, ৩/৫২২; এর সনদ দুর্বল।
১৪২. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৬২, হাদিসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য।
১৪৩. মুজামুল কাবীর, ১২/২৭৯; এর সনদ দুর্বল
📄 যিকরুল্লাহ জাহান্নামের প্রতিবন্ধক
৬৫. যিকরুল্লাহ বান্দা ও জাহান্নামের মাঝে প্রতিবন্ধক। বান্দা যখন জাহান্নামের পথে চলতে শুরু করে, তখন যিকরুল্লাহ তাকে ঐ পথে চলতে বাধা দেয় এবং সেখান থেকে টেনে আনে। তাই বান্দা যদি অহর্নিশ যিকিরে ডুবে থাকে, তাহলে তার জন্য এই যিকির জাহান্নামের পথের স্থায়ী ও শক্তিশালী প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। অন্যথা সে জাহান্নামের পথে হাঁটতে থাকে।
আবদুল আযীয ইবন আবী রওয়াদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এক ব্যক্তি জঙ্গলে বসবাস করত। তিনি সেখানে একটি মসজিদ বানালেন, অতঃপর মেহরাবের স্থানে সাতটি পাথর রাখলেন। সালাت শেষ করে তিনি বলতেন, 'পাথর আমি তোমাদের স্বাক্ষী রেখে বলছি, আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই।'
একদিন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার রূহকে ওপরে নিয়ে যাওয়া হল। অতঃপর লোকটি বললেন, একবার স্বপ্নে দেখলাম, আমাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি আমার মসজিদের পাথরগুলোর মধ্য থেকে একটি পাথরকে প্রকান্ডাকারে দেখতে পেলাম। জাহান্নামের দরজায় আমার আমার জন্য পাথরটি প্রতিবন্ধক হয়ে আছে। এভাবে প্রতিটি পাথর আমার জন্য জাহান্নামের দরজায় প্রতিবন্ধক হয়ে গিয়েছে। ১৪৪
টিকাঃ
১৪৪. আবুল কাসিম তাইমী, আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ২৫১৫
📄 যিকরকারীদের জন্য ফেরেশতারা মাগফিরাত কামনা করে
৬৬. ফেরেশতারা যেমন তওবাকারীর জন্য মাগফিরাতের দুআ করে, তেমনি তারা যিকিরকারীদের জন্যও মাগফিরাতের দুআ করে। আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন আস বলেন,
আমি আল্লাহর কিতাবে পাই যে, বান্দা 'আলহামদুলিল্লাহ' বললে ফেরেশতারা বলেন রব্বিল আলামীন। আর যখন বান্দা বলে 'আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন' তখন ফেরেশতারা বলেন, হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো। বান্দা যখন বলে, 'সুবহানাল্লাহ' তখন ফেরেশতারা বলেন, 'ওয়াবিহামদিহি'। আর যখন বান্দা বলে, 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি', তখন ফেরেশতারা বলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।' বান্দা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বললে ফেরেশতারা বলেন, 'ওয়াল্লাহু আকবার'। আর যখন বান্দা বলে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার', তখন ফেরেশতারা বলেন, 'হে আল্লাহ, তুমি তোমার বান্দাকে ক্ষমা করো।' ১৪৫
টিকাঃ
১৪৫. এ হাদিস ইবন আবীদ দুনইয়ার গ্রন্থে রয়েছে যা এখনো প্রকাশ হয়নি।