📄 আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন
৫৩. আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকিরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন। আবু সাঈদ আল খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআবিয়াহ রাযিয়াল্লাহু আনহু মাসজিদে একটি হালাকার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি সেখানে পৌঁছে বলেন, তোমরা এখানে কেন বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর যিকির করার উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসেছি। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলো, তোমরা কি কেবল এই একটি উদ্দেশ্যে এখানে বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, এই একটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসিনি? তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে মিথ্যা মনে করে শপথ করতে বলিনি। এমন কেউ নেই যে আমার তুলনায় কম হাদিস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছে।
একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের একটি হালাকায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি তাদেরকে বলেন, তোমরা কী উদ্দেশ্যে এখানে বসেছো? তারা বলে, আল্লাহর যিকির ও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এখানে বসেছি। কেননা তিনি আমাদেরকে ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলো তোমরা কি কেবল এই একটি উদ্দেশ্যে এখানে বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, এই একটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসিনি? তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে মিথ্যা মনে করে শপথ করতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিবরীল এসে আমাকে অবহিত করলেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের সামনে তোমাদের নিয়ে গর্ব করছেন।”১২১
আল্লাহ তাআলার এই গর্ব করা থেকে যিকিরের ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয়। আরও প্রমাণ হয়, যিকির আল্লাহ তাআলার অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল এবং যিকিরে যে বৈশিষ্ট্য ও মাহাত্ম্য রয়েছে তা অন্য কোনো আমলে নেই।
📄 যিকরকারী হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে
৫৪. যিকরুল্লায় সিক্ত ব্যক্তি হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যাদের জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে তারা হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ১২২
টিকাঃ
১২১. সহীহ মুসলিম, ৬৭৫০
১২২. মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১০/৩০৩; আহমাদ ইবন হাম্বাল, আয-যুহদ, ১৩৬; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/২১৯; সনদ হাসান
📄 যিকরকারীকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেন
৬৩. যিকিরকারীকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যায়ন করেন এবং তাকে সত্যাবাদী বলে ঘোষণা করেন। কেননা যিকিরকারী আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ গুণাবলী ও শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্যবলীর মাধ্যমে যিকির করে। তাই যিকিরকারী যখন তাঁর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যবলী উল্লেখ করে তখন আল্লাহ তার সত্যায়ন করেন এবং তাকে সত্যবাদী বলে আখ্যা দেন। আর স্বয়ং আল্লাহ যার সত্যায়ন করেন ও যাকে সত্যবাদী আখ্যা দেন, তার হাশর কশ্চিঙ্কালেও মিথ্যুকদের সাথে হবে না। ইনশাআল্লাহ তার হাশর হবে সিদ্দীকদের সাথে।
আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
কোনো বান্দা 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' বললে, প্রভু তার কথাটি সত্য বলে অনুমোদন দেন এবং বলেন, আমি ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, আমিই মহান। আর বান্দা যখন 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু (আল্লাহ তাআলা ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক) বলে, তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং আমি এক। বান্দা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই) বললে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, আমি এক, আমার কোনো অংশীদার নেই। এরপর বান্দা 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহল হামদু' (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই, তাঁরই রাজত্ব, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর) বললে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই, রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমার জন্যই। বান্দা যখন বলে, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারার্থে কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো অনিষ্ট বা উপকার করার ক্ষমতা কারো নেই), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্যিকারার্থে কোনো মাবুদ নেই, আমি ছাড়া অকল্যাণ দূর করা ও মঙ্গল লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেন,
যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত অবস্থায় এই বাক্যগুলো পাঠ করে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। ১৩৯
টিকাঃ
১৩৯. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৩০; সুনানু ইবন মাজাহ, ৩৭৯৪; হাদিসটি সহীহ
📄 যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে ঘর নির্মাণ করা হয়
৬৪. যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যিকিরকারী যিকির করা বন্ধ করলে ফেরেশতারাও সেই অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। পুনরায় সে যিকির করা আরম্ভ করলে ফেরেশতারাও পুনরায় নির্মাণ কাজ আরম্ভ করেন। ইবন আবীদ দুনইয়া স্বীয় আয-যিকর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, হাকীম ইবন মুহাম্মাদ আখনাসী বলেন,
আমরা জানতে পেরেছি যে, যিকিরের মাধ্যমে জান্নাতে অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়। যিকিরকারী তার যিকির বন্ধ করলে ফেরেশতারাও সেই অট্টালিকা ও প্রাসাদ নির্মাণ বন্ধ করে দেন। তাদেরকে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তারা বলেন, আমাদের কাছে নির্মাণ খরচ আসলে আবার শুরু করবো। ১৪০
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি সাতবার সুবহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম বলে, তার জন্য সুরম্য অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়।” ১৪১
যিকিরের মাধ্যমে যেমন অট্টালিকা নির্মাণ করা হয় তেমনি জান্নাতের বাগানে গাছও লাগানো হয়। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ থেকে বর্ণিত,
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“ইসরার রাতে ইবরাহীমের সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি আমাকে বলেন, 'ইয়া মুহাম্মাদ, আপনি আপনার উম্মাতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দেবেন এবং তাদের জানিয়ে দেবেন, জান্নাতের মাটি অতীব সুঘ্রাণযুক্ত, তার পানি সুমিষ্ট, তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা হল,
سُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ
সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। ১৪২
অতএব, প্রমাণ হয়, যিকরুল্লাহ জান্নাতের অট্টালিকা ও গাছ।
আবদুল্লাহ ইবন উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমরা বেশি বেশি জান্নাতে গাছ লাগাও। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, জান্নাতের গাছ কী? তিনি বলেন, মাশাআল্লাহ লা হাওলা ওয়া কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। ১৪৩
টিকাঃ
১৪০. ইবন আবীদ দুরইয়ার এ কিতাব এখনো অপ্রকাশিত。
১৪১. আত-তারীখুল কাবীর, ৩/৫২২; এর সনদ দুর্বল।
১৪২. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৬২, হাদিসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য।
১৪৩. মুজামুল কাবীর, ১২/২৭৯; এর সনদ দুর্বল