📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরকারীর জন্য ফেরেশতারা দুআ করে

📄 যিকরকারীর জন্য ফেরেশতারা দুআ করে


৫০. যিকির আল্লাহর রহমতকে নিশ্চিত করে এবং যিকিরকারীর জন্য ফেরেশতারা অনুগ্রহের দুআ করে। আর যাদের ওপর আল্লাহ তাআলা দয়া করেন ও ফেরেশতারা অনুগ্রহের দুআ করেন, তারা চূড়ান্ত সফল ও কামিয়াব ব্যক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا (١٤) وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا (٢٤) هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا
হে ঈমানদারগণ, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করো। আর সকাল সন্ধ্যা তাঁর তাসবীহ পাঠ করো। তিনিই তোমাদের ওপর দয়া করেন এবং ফেরেশতারাও অনুগ্রহ প্রার্থনা করে অন্ধকার হতে তোমাদেরকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য। তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। ১১৭

আল্লাহ তাআলার এই দয়া এবং ফেরেশতাদের অনুগ্রহ প্রার্থনা যিকিরকারীদের জন্য খাস। আল্লাহর দয়া ও ফেরেশতাদের অনুগ্রহ প্রার্থনা যিকিরকারীর অন্ধকার থেকে আলোর পথে চলার অবলম্বন। ফলে যিকিরকারীরা যখন আল্লাহর দয়া ও ফেরেশতাদের অনুগ্রহ প্রার্থনা অর্জন করতে সামর্থ্য হয়, তখন তারা অন্ধকারের পথ মাড়িয়ে আলোর পথে চলা শুরু করে। এ পথ যাবতীয় কল্যাণের আধার এবং যাবতীয় অকল্যাণের প্রতিরোধক।

হায় গাফেলরা, তোমরা কি জানো তোমাদের রবের কত কল্যাণ ও অনুগ্রহ থেকে তোমরা বঞ্চিত হচ্ছো? আল্লাহ তাওফীকদাতা।

টিকাঃ
১১৭. সূরা আহযাব, আয়াত: ৪১-৪৩

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন

📄 আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন


৫৩. আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকিরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন। আবু সাঈদ আল খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআবিয়াহ রাযিয়াল্লাহু আনহু মাসজিদে একটি হালাকার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি সেখানে পৌঁছে বলেন, তোমরা এখানে কেন বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর যিকির করার উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসেছি। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলো, তোমরা কি কেবল এই একটি উদ্দেশ্যে এখানে বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, এই একটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসিনি? তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে মিথ্যা মনে করে শপথ করতে বলিনি। এমন কেউ নেই যে আমার তুলনায় কম হাদিস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছে।

একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের একটি হালাকায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি তাদেরকে বলেন, তোমরা কী উদ্দেশ্যে এখানে বসেছো? তারা বলে, আল্লাহর যিকির ও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এখানে বসেছি। কেননা তিনি আমাদেরকে ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলো তোমরা কি কেবল এই একটি উদ্দেশ্যে এখানে বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, এই একটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসিনি? তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে মিথ্যা মনে করে শপথ করতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিবরীল এসে আমাকে অবহিত করলেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের সামনে তোমাদের নিয়ে গর্ব করছেন।”১২১

আল্লাহ তাআলার এই গর্ব করা থেকে যিকিরের ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয়। আরও প্রমাণ হয়, যিকির আল্লাহ তাআলার অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল এবং যিকিরে যে বৈশিষ্ট্য ও মাহাত্ম্য রয়েছে তা অন্য কোনো আমলে নেই।

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরকারী হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে

📄 যিকরকারী হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে


৫৪. যিকরুল্লায় সিক্ত ব্যক্তি হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যাদের জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে তারা হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ১২২

টিকাঃ
১২১. সহীহ মুসলিম, ৬৭৫০
১২২. মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১০/৩০৩; আহমাদ ইবন হাম্বাল, আয-যুহদ, ১৩৬; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/২১৯; সনদ হাসান

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরকারীকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেন

📄 যিকরকারীকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যবাদী বলে ঘোষণা করেন


৬৩. যিকিরকারীকে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যায়ন করেন এবং তাকে সত্যাবাদী বলে ঘোষণা করেন। কেননা যিকিরকারী আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ গুণাবলী ও শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্যবলীর মাধ্যমে যিকির করে। তাই যিকিরকারী যখন তাঁর গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্যবলী উল্লেখ করে তখন আল্লাহ তার সত্যায়ন করেন এবং তাকে সত্যবাদী বলে আখ্যা দেন। আর স্বয়ং আল্লাহ যার সত্যায়ন করেন ও যাকে সত্যবাদী আখ্যা দেন, তার হাশর কশ্চিঙ্কালেও মিথ্যুকদের সাথে হবে না। ইনশাআল্লাহ তার হাশর হবে সিদ্দীকদের সাথে।

আবু সাঈদ ও আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
কোনো বান্দা 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' বললে, প্রভু তার কথাটি সত্য বলে অনুমোদন দেন এবং বলেন, আমি ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, আমিই মহান। আর বান্দা যখন 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু (আল্লাহ তাআলা ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক) বলে, তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই এবং আমি এক। বান্দা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু (আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই) বললে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, আমি এক, আমার কোনো অংশীদার নেই। এরপর বান্দা 'লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহল হামদু' (আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই, তাঁরই রাজত্ব, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর) বললে আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্য কোনো মাবুদ নেই, রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমার জন্যই। বান্দা যখন বলে, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারার্থে কোনো মাবুদ নেই। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো অনিষ্ট বা উপকার করার ক্ষমতা কারো নেই), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ব্যতীত সত্যিকারার্থে কোনো মাবুদ নেই, আমি ছাড়া অকল্যাণ দূর করা ও মঙ্গল লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলতেন,
যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত অবস্থায় এই বাক্যগুলো পাঠ করে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। ১৩৯

টিকাঃ
১৩৯. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৩০; সুনানু ইবন মাজাহ, ৩৭৯৪; হাদিসটি সহীহ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00