📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরুল্লাহর মজলিস মূলত ফেরেশতাদের মজলিস

📄 যিকরুল্লাহর মজলিস মূলত ফেরেশতাদের মজলিস


৫২. যিকরুল্লাহর মজলিস মূলত ফেরেশমাহাত্ম্য ঘোষণা করত, আরো অধিক পরিমাণে আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করত।

তখন আল্লাহ বলেন, তারা আমার কাছে কী চায়? তারা বলে, তারা আপনার কাছে জান্নাত চায়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জান্নাত দেখেছে? ফেরেশতারা বলেন, না। আপনার সত্তার কসম, হে রব, তারা তা দেখেনি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, যদি তারা দেখত তবে তারা কী করত? তাঁরা বলে, যদি তারা তা দেখত তাহলে তারা জান্নাতের আরো অধিক লোভ করত, আরো বেশি চাইত এবং এর জন্য আরো বেশি বেশি আকৃষ্ট হত।

আল্লাহ তাআলা আবার তাদের জিজ্ঞেস করেন, তারা কী থেকে আমার আশ্রয় চায়? ফেরেশতাগণ বললেন, জাহান্নাম থেকে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, তারা কি জাহান্নাম দেখেছে? তারা জবাব বলে, আল্লাহর কসম, হে প্রতিপালক, তারা জাহান্নাম দেখেনি। তখন তিনি জিজ্ঞেস করেন, যদি তারা তা দেখত তখন তাদের কী হত? তারা বলে, যদি তারা তা দেখত, তাহলে তারা তা থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত এবং একে অত্যন্ত বেশি ভয় করত। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি, আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। তখন ফেরেশতাদের একজন বলে, তাদের মধ্যে অমুক ব্যক্তি আছে, যে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় বরং সে কোনো প্রয়োজনে এসেছে। আল্লাহ তাআলা বললেন, এই মজলিসে যারাই বসবে কেউ বঞ্চিত হবে না। ১১৯

যিকিরের বরকত যেমন স্বয়ং যিকিরকারীরা পায়, তেমনি তাদের সাথে উপবিষ্ট লোকেরাও পায়। ঈসা আলাইহিস সালামের কথা যিকিরকারীদের ক্ষেত্রে শতভাগ প্রযোজ্য। তিনি বলেছিলেন,
وَجَعَلَنِي مُبَарَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ
আমি যেখানেই অবস্থান করি না কেন আল্লাহ আমাকে বরকতময় করেছেন। ১২০

মুমিন বান্দারা যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, তারা বরকতময় আর পাপিষ্ঠরা যেখানেই থাকুক না কেন, তারা অশুভ ও অকল্যাণকর।

অতএব, বোঝা যায়, যিকরুল্লাহর মজলিস ফেরেশতাদের মজলিস আর যিকিরমুক্ত মজলিস শয়তানের মজলিস। যে ব্যক্তি যেমন, সে তেমন ব্যক্তি বা সৃষ্টির সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই রঙে রঙিন হয়।

টিকাঃ
১১৯. সহীহুল বুখারী, ৬৪০৮; সহীহ মুসলিম, ২৬৮৯
১২০. সূরা মারইয়াম, আয়াত: ৩১

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরকারীর জন্য ফেরেশতারা দুআ করে

📄 যিকরকারীর জন্য ফেরেশতারা দুআ করে


৫০. যিকির আল্লাহর রহমতকে নিশ্চিত করে এবং যিকিরকারীর জন্য ফেরেশতারা অনুগ্রহের দুআ করে। আর যাদের ওপর আল্লাহ তাআলা দয়া করেন ও ফেরেশতারা অনুগ্রহের দুআ করেন, তারা চূড়ান্ত সফল ও কামিয়াব ব্যক্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا (١٤) وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا (٢٤) هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا
হে ঈমানদারগণ, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করো। আর সকাল সন্ধ্যা তাঁর তাসবীহ পাঠ করো। তিনিই তোমাদের ওপর দয়া করেন এবং ফেরেশতারাও অনুগ্রহ প্রার্থনা করে অন্ধকার হতে তোমাদেরকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য। তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। ১১৭

আল্লাহ তাআলার এই দয়া এবং ফেরেশতাদের অনুগ্রহ প্রার্থনা যিকিরকারীদের জন্য খাস। আল্লাহর দয়া ও ফেরেশতাদের অনুগ্রহ প্রার্থনা যিকিরকারীর অন্ধকার থেকে আলোর পথে চলার অবলম্বন। ফলে যিকিরকারীরা যখন আল্লাহর দয়া ও ফেরেশতাদের অনুগ্রহ প্রার্থনা অর্জন করতে সামর্থ্য হয়, তখন তারা অন্ধকারের পথ মাড়িয়ে আলোর পথে চলা শুরু করে। এ পথ যাবতীয় কল্যাণের আধার এবং যাবতীয় অকল্যাণের প্রতিরোধক।

হায় গাফেলরা, তোমরা কি জানো তোমাদের রবের কত কল্যাণ ও অনুগ্রহ থেকে তোমরা বঞ্চিত হচ্ছো? আল্লাহ তাওফীকদাতা।

টিকাঃ
১১৭. সূরা আহযাব, আয়াত: ৪১-৪৩

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন

📄 আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন


৫৩. আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের সামনে যিকিরকারীদের নিয়ে গর্ব করেন। আবু সাঈদ আল খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুআবিয়াহ রাযিয়াল্লাহু আনহু মাসজিদে একটি হালাকার উদ্দেশ্যে বের হলেন। তিনি সেখানে পৌঁছে বলেন, তোমরা এখানে কেন বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর যিকির করার উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসেছি। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলো, তোমরা কি কেবল এই একটি উদ্দেশ্যে এখানে বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, এই একটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসিনি? তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে মিথ্যা মনে করে শপথ করতে বলিনি। এমন কেউ নেই যে আমার তুলনায় কম হাদিস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছে।

একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের একটি হালাকায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি তাদেরকে বলেন, তোমরা কী উদ্দেশ্যে এখানে বসেছো? তারা বলে, আল্লাহর যিকির ও তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উদ্দেশ্যে এখানে বসেছি। কেননা তিনি আমাদেরকে ইসলামের দিকে পথ দেখিয়েছেন এবং আমাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ করে বলো তোমরা কি কেবল এই একটি উদ্দেশ্যে এখানে বসেছ? তারা বলে, আল্লাহর শপথ, এই একটি উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমরা এখানে বসিনি? তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে মিথ্যা মনে করে শপথ করতে বলিনি; বরং আমার নিকট জিবরীল এসে আমাকে অবহিত করলেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ফেরেশতাদের সামনে তোমাদের নিয়ে গর্ব করছেন।”১২১

আল্লাহ তাআলার এই গর্ব করা থেকে যিকিরের ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ হয়। আরও প্রমাণ হয়, যিকির আল্লাহ তাআলার অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল এবং যিকিরে যে বৈশিষ্ট্য ও মাহাত্ম্য রয়েছে তা অন্য কোনো আমলে নেই।

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরকারী হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে

📄 যিকরকারী হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে


৫৪. যিকরুল্লায় সিক্ত ব্যক্তি হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যাদের জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে তারা হাসতে হাসতে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ১২২

টিকাঃ
১২১. সহীহ মুসলিম, ৬৭৫০
১২২. মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১০/৩০৩; আহমাদ ইবন হাম্বাল, আয-যুহদ, ১৩৬; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ১/২১৯; সনদ হাসান

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00