📘 যিকরুল্লাহ 📄 আল্লাহর গুণাবলীর আলো

📄 আল্লাহর গুণাবলীর আলো


অন্তরের এই আলোর সাথে সবচেয়ে মহান ও সবচেয়ে বড় আরেকটি আলোর সেতুবন্ধন ঘটে। আর সেই মহান ও শ্রেষ্ঠ আলোটি হলো আল্লাহ তাআলার মহান গুণাবলীর আলো। এই আলোর সামনে সমস্ত আলো নিষ্প্রভ হয়ে যায়। ঈমানের-দৃষ্টির সাহায্যে অন্তর এই আলোকে ঠিক সেভাবে দেখে, যেভাবে চর্মচক্ষু দৃশ্যমান বস্তু দেখে। এধরণের অন্তরে ইয়াকীনের পারদ এতটাই শক্তিশালী হয় এবং অদৃশ্যবস্তুর হকীকত এতটাই উম্মোচিত হয়ে পড়ে যে, সে যেন রহমানের আরশ ও আরশের ওপর তাঁর সমুন্নত হওয়াকে সরাসরি দেখতে পায়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে আল্লাহ তাআলার অসংখ্য গুণের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন, তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন, আদেশ-নিষেধ করেন, সৃষ্টি করেন ও রিজিকের ব্যবস্থা করেন, জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান, সিদ্ধান্ত দেন ও তা বাস্তবায়ন করেন, সম্মানিত ও অপমানিত করেন, দিনরাতকে পরিবর্তন করেন, মানুষের মাঝে দিনের পালাবदल ঘটান এবং দেশগুলো পরিবর্তন করেন। এক দেশকে পরাজিত করে অপর দেশকে বিজয়ী করেন।

ফেরেশতাগণ তাঁর আদেশ নিয়ে কখনো ওপরে উঠে যায়, আবার কখনো নিচে নেমে আসে। তিনি যা চান তা হয়; সামান্য কমবেশি হয় না। তার আদেশ ও হুকুমাত জমিন, জমিনের নিচে, সমুদ্রে, আবহাওয়াসহ আসমান ও জমিনের আনাচে-কানাচে সর্বত্র কার্যকর হয়। তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কোনো কিছু তাঁর জ্ঞানের বাইরে নেই। তিনি সবকিছু দেখছেন। এমনকি গভীর নিকষ কালো রাতে কুচকুচে কালো পাথরের ওপর দিয়ে যে কালো পিঁপড়া চলাচল করে তাও তিনি দেখেন। তাঁর দৃষ্টিতে অদৃশ্য বলতে কিছুই নেই। তিনি বান্দার সকল কিছু পরিচালনা করেন। তিনি পাপ ক্ষমা করেন। বান্দার দুঃখ-কষ্ট, যাতনা, দুশ্চিন্তা, দারিদ্রতা, অসুস্থতা-সহ যাবতীয় বিষয়ে তিনি বান্দাকে সহযোগিতা করেন। তিনি ঘুমান না। ঘুম তাঁর শানে যায় না।

এভাবে আল্লাহ তাআলার অসংখ্য গুণ রয়েছে। বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলীর আলো তাজাল্লি হলে সেই আলোর সামনে সমস্ত আলো গায়েব ও বিলীন হয়ে যায়। এ আলোর ফলে অন্তরে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয়, যা কখনো কোনো অন্তকরণ কল্পনা করেনি আর তা ভাষায় প্রকাশ করাও সম্ভবপর নয়।

মোটকথা, অন্তর, চেহারা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যিকিরের মাধ্যমে আলোকিত হয়। দুনিয়া, কবর ও আখিরাতে যিকির হল বান্দার আলো। বান্দার অন্তরের আলো অনুসারে বান্দা আমল করতে পারে ও ভালো কথা বলতে পারে এবং সে আলো অনুসারে তার আমল ও কথা আলোকিত হয়। এমনকি কোনো কোনো মুমিনের আমল আল্লাহর কাছে ওপরে উঠার সময় সূর্যের আলোর মতো আলোকিত থাকে। একইভাবে তাদের আত্মাও ওপরে উঠার সময় সূর্যের আলোর মতো আলোকিত থাকে। পুলসিরাত পার হওয়ার সময় অন্তরের আলো অনুসারে বান্দার সামনে আলো দৌঁড়াদৌড়ি করবে। অনুরূপভাবে বান্দার চেহারার আলোও কিয়ামতের দিন চমকাতে থাকবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية