📘 যিকরুল্লাহ > 📄 উত্তম আত্মা ও খারাপ আত্মা

📄 উত্তম আত্মা ও খারাপ আত্মা


ফেরেশতাগণ আলো থেকে সৃষ্ট হওয়ার কারণে তারা তাদের রবের পানে উঠতে সক্ষম হয়। অনুরূপভাবে ফেরেশতাগণ যখন মুমিনদের আত্মা কবজ করে নেয়, তখন তাদের আত্মা রবের পানে উঠে যায়। তাদের আত্মার জন্য দুনিয়ার আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এরপর দ্বিতীয় আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এরপর তৃতীয় আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়। এভাবে সাত আসমান পাড়ি দিয়ে রবের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। তখন তাদের রব তাকে ইল্লীয়্যিন অধিবাসীদের তালিকায় তালিকাভুক্ত করে দেন। মুমিনদের আত্মা পবিত্র, উত্তম, আলোকিত ও উজ্জ্বল হওয়ার কারণে ফেরেশতাদের সাথে আল্লাহর দিকে ওপরে উঠে যায়।

এর বিপরীতে বেঈমানদের অন্ধকারাচ্ছন্ন খারাপ ও কুৎসিত আত্মার জন্য আসমানের দরজা খোলা হয় না, আল্লাহর দিকে তা আর উঠতে পারে না। তাকে প্রথম আসমান থেকে তার যোগ্য স্থান দুনিয়ায় নিক্ষেপ করা হয়। এভাবে প্রত্যেক আত্মাকে তার উপাদান ও যোগ্য স্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এসব কথা এক সহীহ হাদিসে বিশদাকারে বর্ণিত হয়েছে।

মোদ্দাকথা, আল্লাহর দিকে শুধুমাত্র আলোকিত আমল, কথা ও আত্মা উঠতে পারে। যার আলো যত বেশি, সে আল্লাহর তত নিকটবর্তী, তাঁর কাছে তত সম্মানিত।

মুসনাদ আহমাদে আবদুল্লাহ ইবন আমর রাযিয়াল্লাহু 'আনহু কর্তৃক বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
'আল্লাহ তাআলা মাখলুককে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তাতে তাঁর আলোর তাজাল্লি দিয়েছেন। যে এই আলো পেয়েছে সে হিদায়াত পেয়ে গেছে আর যে এই আলো পায়নি সে পথভ্রষ্ট হয়েছে। এজন্যই আমি বলি, কলম আল্লাহর ইলমে শুকিয়ে গিয়েছে। ৭৩

এটি একটি চমৎকার হাদিস। এখানে ঈমানের একটি মূলনীতি আলোচিত হয়েছে। এ হাদিস থেকে তকদিরের তত্ত্ব, রহস্য ও হিকমতসহ তকদিরের নানা বিষয়ের সমাধান দেওয়া হয়েছে।

টিকাঃ
৭২. সহীহ মুসলিম, ২৯৯৬
৭৩. মুসনাদ আহমাদ, ২/৬২৪-৬২৫; সুনানুত তিরমিযী, ২৬৪২; হাদিসটি সহীহ

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 ফিতরাতী আলো ও ওহির আলো

📄 ফিতরাতী আলো ও ওহির আলো


সৃষ্টির সূচনায় আল্লাহ তাআলা যে আলোর তাজাল্লি দিয়েছিলেন, সে আলোর মাধ্যমে তিনি মাখলুককে জীবন দান করেন এবং হিদায়াতের পথে পরিচালনা করেন। ফিতরাত বা প্রকৃতিগতভাবে মাখলুক এই আলো লাভ করে। কিন্তু সেই প্রাপ্ত আলো পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণভাবে না পাওয়ায় ওহি ও নবুওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তা পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ করে দেন। ফিতরাতের আলোর সাথে ওহি ও নবুওয়াতের আলো মিলেমিশে তা নূরুন আলা নূর বা আলো আর আলোতে পরিণত হয়। দুই আলোর মিশ্রণে অন্তরে আলোর মিনার গড়ে উঠে। মুখমন্ডল ও চেহারায় আলোক রেখা জ্বলজ্বল করে জ্বলতে থাকে। আত্মা জীবন ফিরে পায়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্ব-ইচ্ছায় আল্লাহর আনুগত্যে নিজেদেরকে নিয়োজিত করে দেয়। এভাবে অন্তরের এক জীবনের সাথে আরেক জীবন যুক্ত হয়।

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 আল্লাহর গুণাবলীর আলো

📄 আল্লাহর গুণাবলীর আলো


অন্তরের এই আলোর সাথে সবচেয়ে মহান ও সবচেয়ে বড় আরেকটি আলোর সেতুবন্ধন ঘটে। আর সেই মহান ও শ্রেষ্ঠ আলোটি হলো আল্লাহ তাআলার মহান গুণাবলীর আলো। এই আলোর সামনে সমস্ত আলো নিষ্প্রভ হয়ে যায়। ঈমানের-দৃষ্টির সাহায্যে অন্তর এই আলোকে ঠিক সেভাবে দেখে, যেভাবে চর্মচক্ষু দৃশ্যমান বস্তু দেখে। এধরণের অন্তরে ইয়াকীনের পারদ এতটাই শক্তিশালী হয় এবং অদৃশ্যবস্তুর হকীকত এতটাই উম্মোচিত হয়ে পড়ে যে, সে যেন রহমানের আরশ ও আরশের ওপর তাঁর সমুন্নত হওয়াকে সরাসরি দেখতে পায়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে আল্লাহ তাআলার অসংখ্য গুণের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন, তিনি সবকিছু পরিচালনা করেন, আদেশ-নিষেধ করেন, সৃষ্টি করেন ও রিজিকের ব্যবস্থা করেন, জীবন দেন ও মৃত্যু ঘটান, সিদ্ধান্ত দেন ও তা বাস্তবায়ন করেন, সম্মানিত ও অপমানিত করেন, দিনরাতকে পরিবর্তন করেন, মানুষের মাঝে দিনের পালাবदल ঘটান এবং দেশগুলো পরিবর্তন করেন। এক দেশকে পরাজিত করে অপর দেশকে বিজয়ী করেন।

ফেরেশতাগণ তাঁর আদেশ নিয়ে কখনো ওপরে উঠে যায়, আবার কখনো নিচে নেমে আসে। তিনি যা চান তা হয়; সামান্য কমবেশি হয় না। তার আদেশ ও হুকুমাত জমিন, জমিনের নিচে, সমুদ্রে, আবহাওয়াসহ আসমান ও জমিনের আনাচে-কানাচে সর্বত্র কার্যকর হয়। তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন। সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কোনো কিছু তাঁর জ্ঞানের বাইরে নেই। তিনি সবকিছু দেখছেন। এমনকি গভীর নিকষ কালো রাতে কুচকুচে কালো পাথরের ওপর দিয়ে যে কালো পিঁপড়া চলাচল করে তাও তিনি দেখেন। তাঁর দৃষ্টিতে অদৃশ্য বলতে কিছুই নেই। তিনি বান্দার সকল কিছু পরিচালনা করেন। তিনি পাপ ক্ষমা করেন। বান্দার দুঃখ-কষ্ট, যাতনা, দুশ্চিন্তা, দারিদ্রতা, অসুস্থতা-সহ যাবতীয় বিষয়ে তিনি বান্দাকে সহযোগিতা করেন। তিনি ঘুমান না। ঘুম তাঁর শানে যায় না।

এভাবে আল্লাহ তাআলার অসংখ্য গুণ রয়েছে। বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলীর আলো তাজাল্লি হলে সেই আলোর সামনে সমস্ত আলো গায়েব ও বিলীন হয়ে যায়। এ আলোর ফলে অন্তরে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয়, যা কখনো কোনো অন্তকরণ কল্পনা করেনি আর তা ভাষায় প্রকাশ করাও সম্ভবপর নয়।

মোটকথা, অন্তর, চেহারা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যিকিরের মাধ্যমে আলোকিত হয়। দুনিয়া, কবর ও আখিরাতে যিকির হল বান্দার আলো। বান্দার অন্তরের আলো অনুসারে বান্দা আমল করতে পারে ও ভালো কথা বলতে পারে এবং সে আলো অনুসারে তার আমল ও কথা আলোকিত হয়। এমনকি কোনো কোনো মুমিনের আমল আল্লাহর কাছে ওপরে উঠার সময় সূর্যের আলোর মতো আলোকিত থাকে। একইভাবে তাদের আত্মাও ওপরে উঠার সময় সূর্যের আলোর মতো আলোকিত থাকে। পুলসিরাত পার হওয়ার সময় অন্তরের আলো অনুসারে বান্দার সামনে আলো দৌঁড়াদৌড়ি করবে। অনুরূপভাবে বান্দার চেহারার আলোও কিয়ামতের দিন চমকাতে থাকবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00