📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকিরবিহীন মজলিস আফসোস ও পরিতাপের কারণ

📄 যিকিরবিহীন মজলিস আফসোস ও পরিতাপের কারণ


আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের খুব ভালোবাসেন ও তাদের কল্যাণ চান। তাই তিনি তাদেরকে বেশি বেশি তাঁর যিকির করার আদেশ দিয়েছেন। কারণ, যিকির বান্দার সর্বাধিক প্রয়োজনীয় বস্তু। এক লহমাও যিকিরবিমুখ থাকা বান্দার জন্য সমীচীন নয়। যিকিরবিহীন তার যে সময়টুকু অতিবাহিত হবে সে সময়টুকুর জন্য তাকে ক্ষতির হিসাব গুণতে হবে এবং দগ্ধ হতে হবে পরিতাপের অনলে। বাহ্যিক কোনো লাভের আশায় যিকিরবিহীন যে সময়টুকু ব্যয় হয়, গভীর দৃষ্টিতে দেখলে প্রমাণ হবে, লাভের তুলনায় লোকসানের পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি।

কোনো একজন আল্লাহওয়ালা ব্যক্তি বলেছেন, কোনো বান্দা যদি বছরের পর বছর আল্লাহর যিকিরে কাটানোর পরও সামান্যটুকু সময় যিকির থেকে বিমুখ হয়, তাহলে তার অর্জনের তুলনায় হারানোর পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যায়।

ইমাম বাইহাকী আয়েশা ও আবুবকর রাযিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'আদম সন্তানের যে সময়টুকু আল্লাহর যিকিরবিহীন কাটে, কিয়ামতের দিন তা তার পরিতাপ ও আফসোসের কারণ হবে।'১৯

মুআয ইবন জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
'জান্নাতীদের কোনো আফসোস থাকবে না; তবে শুধু ঐ সময়টুকুর জন্য আফসোস করবে, যে সময়টুকু তারা আল্লাহর যিকিরবিহীন কাটিয়েছিলো। ২০

নবি-পত্নী উম্মু হাবীবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'আদম সন্তানের প্রতিটি কথা তার জন্য অপকারী; উপকারী নয়। তবে কেবল সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজ থেকে নিষেধ এবং আল্লাহর যিকিরে ব্যয় হওয়া কথা তার জন্য উপকারী। '২১

মুআয ইবন জাবাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করি,
'আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি?' তিনি বলেন, 'এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা যখন জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে। '২২

আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, প্রতিটি বস্তুর বিভা ও দ্যুতি রয়েছে। অন্তরের বিভা ও দ্যুতি হলো আল্লাহর যিকির। ২৩

টিকাঃ
১৯. শুআবুল ঈমান, ২/৪০৮-৪০৯; মুজামুল আওসাত লিত-তবারানী, ৮/১৯৫; সনদ দুর্বল
২০. শুআবুল ঈমান, ২/৪০৮-৪০৯; আল-জামিউস সগীর, ৯৫৭৭; ইমাম মুনযিরী এর এক সনদকে ভালো বলেছেন। ইমাম আলবানী হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন。
২১. সুনানুত তিরমিযী, ২৪১২; সুনানু ইবন মাজাহ, ৩৯৭৪; হাদিসটি দুর্বল
২২. সহীহ ইবন হিব্বান, ৮১৮; হাদিসটি সহীহ
২৩. শুআবুল ঈমান, ২/৪১৯

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরুল্লাহ বিমুখ হওয়ার ক্ষতি

📄 যিকরুল্লাহ বিমুখ হওয়ার ক্ষতি


মানুষ যখন নিজেকে ভুলে যায় তখন সে নিজের কল্যাণ থেকে ছিটকে পড়ে এবং অকল্যাণকর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে সে নিজের নিশ্চিত ধ্বংস ও ক্ষতি ডেকে আনে। এধরনের লোকদের উদাহরণ ঐ লোকের মতো যার ক্ষেত্র, বাগান ও গবাদিপশু ছাড়াও অন্যান্য উপকরণ রয়েছে। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে, এসব উপকরণ মালিকের জন্য তখনই কল্যাণ ও লাভ বয়ে আনে, যখন সে এগুলোর নিবিড়ভাবে দেখাশোনা করে, যথাযথ পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু এতকিছু পেয়েও হতচ্ছড়া মালিক এসব উপকরণকে উপেক্ষা করতে থাকে। এমনকি একপর্যায়ে গিয়ে এগুলোর কথা একেবারেই বিস্মৃত হয়ে যায় এবং অন্যান্য কাজে নিজেকে ব্যস্ত করে ফেলে। এই লোকের ধ্বংস ও ক্ষতি অনিবার্য। যদিও সে ইচ্ছে করলে অন্য কারো তত্ত্বাবধানে রেখে এগুলোর পরিচর্যা করতে পারত। কাজেই যে নিজেকে ভুলে যায়, অবহেলার কারণে নিজের কল্যাণকর জিনিসের কথা মন থেকে মুছে ফেলে, তার ধ্বংস ও ক্ষতি যে নিশ্চিত তা সহজেই অনুমেয়। তুমি কি এমন ধ্বংস, ক্ষতি, বরবাদি ও বঞ্চনা চাও!?

অবহেলা ও অসচেতনতায় সীমালঙ্ঘনের দরুণ এরকম হয়। ক্রমান্বয়ে সীমালঙ্ঘনের পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে একপর্যায়ে তার সমস্ত কর্মকান্ডে বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন জায়গা করে নেয়। ফলে তার কল্যাণ ও সফলতা নষ্ট হয়ে যায়। অনিবার্য হয়ে পড়ে ধ্বংস, বঞ্চনা ও দুর্ভাগ্য।

এসব ক্ষতি ও ধ্বংস থেকে নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হল, সর্বদা আল্লাহর যিকির করা, তাঁর জন্য নিবেদিত হওয়া, যিকিরের মাধ্যমে রসনাকে অহর্নিশ সিক্ত রাখা, যিকিরকে নিজের জীবন মনে করা, যিকিরকে খাবার হিসেবে গ্রহণ করা যে খাবার ছাড়া শরীর অচল হয়ে পড়ে, প্রবল পিপাসায় বুকের ছাতি ফাটা পরিস্থিতিতে যিকরুল্লাহকে শীতল পানি মনে করা এবং কাঠফাটা রোদ, লুহাওয়া ও প্রবল শীতের সময়কার পোশাক হিসেবে গণ্য করা।

অতএব, প্রত্যেকের দায়িত্ব যিকিরের ব্যাপারে এরকম কিংবা এর চেয়েও অধিক গুরুত্ব দেওয়া। মনে রাখতে হবে, রূহ ও অন্তর ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তুলনায় শরীর ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া একেবারেই নস্যি। কারণ, শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হবেই এবং হলে তা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু রূহ ও অন্তর একবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা সংশোধন করা সম্ভব নয়। লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়‍্যীল আযীম।

এই একটি উপকার ব্যতীত যিকরুল্লাহয় যদি আর কোনো উপকার নাও থাকতো, তবুও এই এটিই যথেষ্ট হত।

যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভুলে যায়, তার দুনিয়াবী শান্তি হল, আল্লাহ তাকে তার নিজের ব্যাপারে ভুলিয়ে দেন। আর কিয়ামতের দিনের শাস্তি তো আরও ভয়াবহ। কিয়ামতের দিন তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে তার কথা ভুলে যাওয়া হবে। আল্লাহ তাআলা এ সম্পর্কে বলেন,

وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى (٤٢১) قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا (৫২১) قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى

যে ব্যক্তি আমার যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য জীবিকা হবে সংকীর্ণ আর তাকে কিয়ামতের দিন উত্থিত করবো অন্ধ অবস্থায়। সে বলবে, হে আমার রব, কেন আমাকে অন্ধ করে উঠালে? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। আল্লাহ বলবেন, আমার নিদর্শনসমূহ যখন তোমার কাছে এসেছিলো এভাবেই তো তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে। আজকের দিনে সেভাবেই তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে।৪২

টিকাঃ
৪২. সূরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪-১২৬

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 মনকা বা সংকীর্ণ জীবিকা বনতে কী বোঝায়

📄 মনকা বা সংকীর্ণ জীবিকা বনতে কী বোঝায়


অর্থাৎ তোমাকে শাস্তিতে নিক্ষেপ করে ভুলে যাওয়া হবে, যেভাবে আমার নিদর্শনসমূহ তুমি ভুলে গিয়েছিলে। অবারিত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দুনিয়াতে তুমি আমার নিদর্শনসমূহ স্মরণ করোনি এবং তদনুযায়ী আমল করোনি।

আয়াতে উল্লিখিত 'যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া' এর অর্থ হল, আল্লাহর অবতীর্ণ কিতাব, সে কিতাবের আদেশ-নিষেধ, আল্লাহর নাম ও গুণাবলী এবং তাঁর প্রদত্ত নেয়ামত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এসবকিছুই যিকির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তা তিলাওয়াত করে না, তা নিয়ে গবেষণা করে না, বোঝে না এবং সে অনুযায়ী আমল করে না—তার জীবন ও জীবিকা সংকীর্ণ হতেই থাকবে; এমনকি নিজের জীবন ও জীবিকাকে আযাব ও শাস্তি মনে হতে থাকবে।

আয়াতে উল্লিখিত কর্মা-যনকা শব্দের অর্থ হলো, সংকীর্ণতা, কঠোরতা ও বিপদ। এই আয়াতে 'জীবিকা' এর সাথে 'যনকা বা সংকীর্ণতা' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সংকীর্ণতার আধিক্যতা বোঝাতে। কেউ কেউ বলেছেন, সংকীর্ণ জীবিকা দ্বারা কবরের আযাব উদ্দেশ্য। তবে আমার মতে দুনিয়াবী জীবিকা ও কবরের আযাব দুটোই উদ্দেশ্য। কেননা এমন ব্যক্তি দুনিয়া ও কবর উভয় জায়গায় সংকীর্ণতা, শাস্তি ও কঠোরতার মধ্যে থাকবে আর পরকালে তাকে আযাবে নিক্ষেপ করে ভুলে যাওয়া হবে।

সৌভাগ্যবান ও সফলকামদের অবস্থান এই সমস্ত লোকের ঠিক বিপরীতে হবে। সৌভাগ্যবান ও সফলকাম ব্যক্তিদের দুনিয়া ও কবরের জীবন হবে অতিউত্তম ও প্রশান্তিদায়ক আর পরকালে থাকবে অঢেল সওয়াব।

আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً
"যে পুরুষ ও নারী ঈমানদার অবস্থায় সৎকাজ করবে, তাকে আমি উত্তম জীবন দান করবো।"৪৩

আয়াতে বর্ণিত এই অঙ্গীকার দুনিয়াবী জীবনের জন্য প্রযোজ্য। আর পরের—
وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
এবং তাদেরকে তাদের শ্রেষ্ঠ কর্মের পুরস্কার দেব।44
-এ অংশটুকু কবর ও পরকালীন জীবনের জন্য প্রযোজ্য।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
নির্যাতিত হওয়ার পর যারা আমার জন্য হিজরত করেছে, আমি তাদেরকে অবশ্যই দুনিয়াতে উত্তম বাসস্থান দেব। আর আখিরাতের পুরস্কার তো আরও বড়। হায়, তারা যদি জানতো।৪৫

তিনি আরও বলেন,
وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَتَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُسَمًّى
"তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা চাও আর অনুশোচনা ভরে তাঁর দিকেই ফিরে এসো, তাহলে তিনি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তোমাদেরকে উত্তম ভোগ সামগ্রী দেবেন।"৪৬

আয়াতের এ অংশটুকুও দুনিয়ার জীবনের জন্য প্রযোজ্য। আর পরের—
وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ
এবং অনুগ্রহ লাভের যোগ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাঁর অনুগ্রহ দানে ধন্য করবেন। ৪৯
-এই অংশটুকু কবর ও পরকালের জন্য প্রযোজ্য।

তিনি অন্যত্র আরও বলেন,
قُلْ يَا عِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا رَبَّكُمْ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَأَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةٌ إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ
বলে দাও, হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো। যারা এ দুনিয়াতে সৎকাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ। আল্লাহর জমিন প্রশস্ত। আর ধৈর্যশীলদেরকে বিনা হিসাবে অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে। ৪৮

আল্লাহ তাআলা উপর্যুক্ত চার আয়াতে ঘোষণা দিয়েছেন, সৎকর্মশীলদের তিনি দ্বিগুণ প্রতিদান ও পুরস্কার দেবেন: দুনিয়াতে ও পরকালে।

টিকাঃ
৪৩. সূরা নাহল, আয়াত: ৯৭
৪৪. সূরা নাহল, আয়াত: ৯৭
৪৫. সূরা নাহল, আয়াত: ৪১
৪৬. সূরা হুদ, আয়াত: ৩
৪৭. সূরা হুদ, আয়াত: ৩
৪৮. সূরা যুমার, আয়াত: ১০

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 সৎকর্মের দুনিয়াবী পুরস্কার আর অসৎকর্মের দুনিয়াবী শাস্তি

📄 সৎকর্মের দুনিয়াবী পুরস্কার আর অসৎকর্মের দুনিয়াবী শাস্তি


সৎকর্মের দুনিয়াবী প্রতিদান ও পুরস্কার রয়েছে। অসৎকর্মেরও দুনিয়াবী প্রতিদান ও শাস্তি রয়েছে। সৎকর্মের দুনিয়াবী প্রতিদান ও পুরস্কার হচ্ছে, বক্ষ প্রশস্থ হওয়া, অন্তর প্রসারিত হওয়া, অন্তরে আনন্দ খেলে যাওয়া এবং আল্লাহর আনুগত্য, যিকির ও আদেশ পালন করতে অমৃতের স্বাদ পাওয়া। আল্লাহকে ভালোবাসার ও তাঁর যিকির করার মাধ্যমে অন্তরে যে আনন্দ ও খুশি বিরাজ করে, তার কাছে দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের নৈকট্য লাভের খুশি ও আনন্দ একেবারেই নস্যি।

অপরপক্ষে অসৎকর্ম ও পাপের দুনিয়াবী শাস্তি হল, বক্ষ সংকুচিত হয়ে যাওয়া। অন্তর ইস্পাতসম কঠোর হয়ে যাওয়া এবং দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, বিষণ্ণতা, দুঃখ-কষ্ট ও ভয়-ভীতির কারণে হৃদয় অশান্ত, অন্ধকার ও কালো হয়ে যাওয়া। যার সামান্য অনুভূতি ও উপলব্ধি-শক্তি আছে, সে সন্দেহাতীতভাবে বুঝতে পারে যে, দুশ্চিন্তা, পেরেশানী, বিষণ্ণতা, দুঃখ-কষ্ট ও ভয়-ভীতি হচ্ছে, দুনিয়াবী শান্তি, দুনিয়াবী দাহন এবং দুনিয়াবী জাহান্নাম।

আল্লাহ অভিমুখী হওয়া, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা, তাঁর ও তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা, তাঁর ভালোবাসায় অন্তরকে টইটুম্বর রাখা, তাঁর যিকিরে নিমজ্জিত থাকা এবং তাঁর মারিফাতে আনন্দ ও খুশি হওয়া—এসবকিছু দুনিয়াবী পুরস্কার, দুনিয়াবী জান্নাত এবং দুনিয়াবী উত্তম জীবিকা। এমন জীবিকার কাছে রাজা-বাদশাহদের জীবিকা একেবারেই নগণ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00