📘 যিকরুল্লাহ > 📄 দৈহিক শক্তি বৃদ্ধিকরণে যিকরুল্লাহ

📄 দৈহিক শক্তি বৃদ্ধিকরণে যিকরুল্লাহ


৬১. যিকরুল্লাহ যিকিরকারীর দৈহিক শক্তি বৃদ্ধি করে। এমনকি যিকির অবস্থায় যিকিরকারী এমন কঠিন কাজ করে ফেলতে সক্ষম হয়, যা যিকিরবিহীন অবস্থায় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি এই শক্তি শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ কদ্দাসাল্লাহু রূহাহু এর হাঁটা, আলোচনা, চলাফেরা ও লেখালেখিতে খুব ভালোভাবে অবলোকন করেছি। এগুলো ছিল এক বিস্ময়কর ব্যাপার। তিনি একদিনে এতো বেশী পরিমাণ লিখতেন যে, পেশাদার লেখকদের পক্ষে তা লিখতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে যেত। যুদ্ধের ময়দানেও এই রুহানী শক্তি দেখে সৈন্যবাহিনী অবাক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকত।

ফাতিমা রাযিয়াল্লাহু আনহা নিজের পরিবারের সব কাজ একাই সামলাতেন। জাঁতা পিষা, রুটি পাকানো-সহ যাবতীয় ভারি-ভারি কাজ তাকে নিজ হাতে করতে হত। তাই তিনি তাঁর আব্বাজান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে নিজের কষ্টের কথা ব্যক্ত করে একটি দাসী চান। কিন্তু তিনি তাকে দাসী না দিয়ে তাকে ও আলী রাযিয়াল্লাহু আনহুকে শিক্ষা দেন যে, তোমরা যখন ঘুমাতে যাবে তখন ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে। এরপর তিনি বলেন, দাসীর চেয়ে এসব যিকির করা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর। ১৩৪

অনেকেই বলে থাকেন, কেউ স্থায়ীভাবে উল্লিখিত যিকিরগুলো ধরে রাখলে, তার শরীরে এমন শক্তি সঞ্চার হয় যে, কোনো দাস-দাসী বা চাকর-বাকরের প্রয়োজন পড়ে না। আমি শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহকে এ ব্যাপারে একটি হাদিস বলতে শুনেছি। হাদিসটি হল, ফেরেশতাদেরকে আরশ বহন করার আদেশ দেওয়া হলে তারা বলেন, 'ইয়া রব, আপনার মতো মহান ও শ্রেষ্ঠ সত্তা যে আরশের ওপর আছেন, আমাদের পক্ষে সেই আরশ বহন করা কীভাবে সম্ভব হতে পারে!?' তিনি তাদের বলেন, 'তোমরা 'লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লাবিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম' বলো।' তারা তা বলার পর আরশ বহন করতে সক্ষম হয়।

হুবহু এই হাদিসটি ইবন আবীদ দুনইয়া লাইস ইবন সাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনা করেছেন মুআবিয়া ইবন সালিহ থেকে। তিনি বলেন, আমাদেরকে আমাদের শাইখগণ বর্ণনা করেছেন। আমাদের শাইখগণ জানতে পেরেছেন যে, যখন আল্লাহর আরশ পানির ওপর ছিল, তখন সর্বপ্রথম তিনি আরশ বহনকারী ফেরেশতাদের সৃষ্টি করেন। সৃষ্টি হবার পর তারা বলেন, 'ইয়া রব, আমাদেরকে কী উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করলেন?' তিনি বলেন, 'আমার আরش বহন করার জন্য তোমাদেরকে সৃষ্টি করলাম।' তারা বলেন, 'ইয়া রব, আপনার মতো মহান ও শ্রেষ্ঠ সত্তা যে আরশের ওপর আছেন, সেই আরশ বহন করা আমাদের পক্ষে কীভাবে সম্ভব হতে পারে!?' তিনি বলেন, 'আমি একমাত্র এই উদ্দেশ্যে তোমাদের সৃষ্টি করেছি।' তিনি এ কথা কয়েকবার বলেন। এরপর তিনি তাদের বলেন, 'তোমরা 'লা- হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ' বলো।' তারা তা বলার পর আরশ বহন করার শক্তি পায়। ১৩৫

কষ্টকর কাজ করার সময়, কঠিন জিনিসের দায়িত্বভার নেওয়ার সময় এবং রাজা-বাদশাহদের দরবারে প্রবেশকালে এমনকি অত্যন্ত ভয়ানক ও জটিল মুহূর্তে এই কালিমা পড়লে হাতেনাতে এর বিরাট ফলাফল পাওয়া যায়। এই যিকির বা কালিমা পড়লে এসবকিছু সহজ হয়ে যায়।

অনুরূপভাবে দরিদ্রতা বিমোচনে উল্লিখিত যিকিরের ভূমিকা অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার 'লা-হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ' বলবে, তাকে কখনো দরিদ্রতা স্পর্শ করবে না। ১৩৬

শত্রু বাহিনীর মোকাবেলায় হাবীব ইবন মাসলামাহ যখন জিহাদের ময়দানে অবতরণ করতেন বা কোনো দুর্গ বিজয় করতে উদ্যত হতেন, তখন 'লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ' পড়তেন। একদিন তিনি একটি দুর্গ জয় করার জন্য সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হন। সেদিন পারস্যরা পরাজিত হয়। মুসলিম বাহিনী 'আল্লাহু আকবার' বলে তাকবির দিলে দুর্গটি বিজয় হয়ে যায়।১৩৭

টিকাঃ
১৩৪. সহীহুল বুখারী, ৩৭০৫; সহীহ মুসলিম, ২৭২৭
১৩৫. আর-রদ্দু আলাল মারীসী, ১০৪; তাফসীরুত তাবারী, ২৩/৫৮৩-৫৭৪। এটি একটি ইসলাঈলী বর্ণনা।
১৩৬. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ২/৪৪১; ইমাম আলবানী হাদিসটি দুর্বল বলেছেন, যাঈফ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/৪৮৬-৪৮৭
১৩৭. দালাইলুন নুবুওয়াত, ৬/১১৩; দারীখু দামিষ্ক, ১২/৭৭

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরুল্লাহ চেহারাকে নূরানী করে

📄 যিকরুল্লাহ চেহারাকে নূরানী করে


৭০. যিকরুল্লাহ মাধ্যমে চেহারায় আলোর বিভা ছড়িয়ে পড়ে। পরকালেও তাদের চেহারায় আলোর ঝলকানি থাকবে। দুনিয়াতেও যিকিরকারীদের চেহারা হয়ে উঠে সবচেয়ে দীপ্তময় ও উজ্জ্বল এবং পরকালেও তারা সবচেয়ে ঝলমলে আলোর অধিকারী হবে।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশতবার -
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়াহুল হামদু ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু বিইয়াদিহিল খাইর ওয়াহু আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর

অর্থাৎ 'আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই। তিনি একক। তাঁর কোনো শরীক নেই। প্রশংসা তাঁর। তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু দেন। তাঁর হাতে যাবতীয় কল্যাণ। তিনি সকল কিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।'-দুআটি পড়বে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার চেহারাকে ১৪ তারিখের পূর্ণিমা চাঁদের চেয়ে উজ্জ্বল করে দেবেন।”১৫৩

টিকাঃ
১৫৩. মুসনাদুশ শামিয়‍্যীন, ২/১০৩; হাদিসটি মুরসাল ও দুর্বল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00