📄 যিকরুল্লাহ অন্তরের ওষুধ
৪৭. যিকরুল্লাহ অসুস্থ অন্তরের আরোগ্য ও শিফা। যিকির বিমুখতা মূলত অন্তরের একপ্রকার রোগ। ফলে কেউ যিকির বিমুখ হলে তার অন্তর অসুস্থ হয়ে যায়। সেই অসুস্থ অন্তরকে শুধুমাত্র যিকির সুস্থ করে তুলতে পারে। মাকহুল রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহর যিকির আরোগ্য আর মানুষের যিকির ব্যাধি।১১২
জেনো রেখো, তুমি যতক্ষণ আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকবে ততক্ষণ তোমার অন্তর সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকবে আর যখনই যিকির থেকে দূরে সরে যাবে তখনই তোমার অন্তর অসুস্থ ও রোগা হয়ে যাবে। কবি বলেছেন,
'আমরা অসুস্থ হলে তোমার যিকিরের ওষুধ সেবন করি বটে; কোনো সময় যিকির ছুটে গেলে আবারও অবস্থার অবনতি ঘটে।'
টিকাঃ
১১২. আত-তারগীব ওয়াত তারহীবে (১৩৮৯) উক্তিটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্ণনাটি মুরসাল।
📄 যিকরুল্লাহ আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভের মূল উপকরণ
৪৮. যিকির আল্লাহর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার ও তাঁর ওলী হওয়ার মূল মাধ্যম। অপরপক্ষে তাঁর শত্রু ও দুশমনে পরিণত হওয়ার প্রধান উপাদান যিকির বিমুখতা। বান্দা যিকির করতে থাকলে আল্লাহ তাকে ভালোবেসে ফেলেন এবং তাকে বন্ধু বানিয়ে নেন। অপরপক্ষে কেউ যিকির থেকে দূরে থাকলে তিনি তাকে ঘৃণা করেন এবং তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করেন। ইমাম আওযাঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, হাসসান ইবন আতিয়্যাহ বলেছেন,
সে ব্যক্তির চেয়ে তার রবের বড় দুশমন অন্য কেউ হতে পারে না, যে যিকরুল্লাহকে অপছন্দ করে বা যিকিরকারীদের অপছন্দ করে। ১১৩
আল্লাহর শত্রু ও বিরাগভাজন পরিণত হওয়ার মূল হল-যিকির থেকে দূরে সরে যাওয়া। যখন কেউ ধারাবাহিকভাবে যিকির থেকে দূরে সরে যেতে থাকে, তখন যিকির ও যিকিরকারী তার কাছে অপছন্দনীয় বস্তুতে পরিণত হয়। এমনকি একপর্যায়ে সে শুধু যিকিরকারীকে নয় বরং রবকেও নিজের দুশমন ভাবতে শুরু করে।
টিকাঃ
১১৩. শুআবুল ঈমান, ২/৫৯৯-৬০০
📄 যিকরুল্লাহ নেয়ামত অর্জনের মাধ্যম এবং আল্লাহর ক্রোধ থেকে বাঁচার উপায়
৪৯. যেসব উপায়ে আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ লাভে ধন্য হওয়া যায়, যিকরুল্লাহ তার অন্যতম। এছাড়া আল্লাহর বিরাগ ও ক্রোধ থেকে বাঁচতে যিকরুল্লাহ ঢাল হিসেবে কাজ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا
নিঃসন্দেহে আল্লাহ ঈমানদারদের রক্ষা করেন। ১১৪
তাদের ঈমানের শক্তি ও পূর্ণাঙ্গতা অনুসারে আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করেন। আর যিকরুল্লাহ হল ঈমানের মূল উপাদান ও শক্তি। যার ঈমান যত বেশি পরিপূর্ণ ও শক্তিশালী, আল্লাহ তাআলাও তাকে তত বেশি রক্ষা করেন। অপরপক্ষে ঈমান কমে গেলে আল্লাহর রক্ষার বলয়ও কমে যায়। আল্লাহকে স্মরণ করলে আল্লাহও স্মরণ করে আর তাঁকে ভুলে গেলে তিনিও ভুলে যান। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ
যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিয়েছেন যে, তোমরা শুকরিয়া করলে আমি তোমাদের আরও দেব। ১১৫
আমরা আগেই আলোচনা করেছি যে, যিকরুল্লাহ শোকরের মূল। আর শোকর নেয়ামতকে ত্বরান্বিত করে এবং নেয়ামত বৃদ্ধি করে। এক সালাফ বলেছেন, যে তোমাকে দয়া ও অনুগ্রহ করতে ভুলে যান না তাকে ভুলে যাওয়া কতই না গর্হিত ও নিন্দিত চরিত্র। ১১৬
টিকাঃ
১১৪. সূরা হজ, আয়াত: ৩৮
১১৫. সূরা ইবরাহীম, আয়াত: ৭
১১৬. আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামী, তবাকাতুস সূফিয়্যাহ, ৩১৭; শুআবুল ঈমান, ২/৫৯২
📄 যাবতীয় সমস্যা সমাধানে যিকরুল্লাহর ভূমিকা
৫৯. যিকরুল্লাহ কঠিনকে সহজ করে, জটিলতাকে আসান করে এবং ভারিকে হালকা করে। কোনো কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর যিকির করা হলে তা সহজ হয়ে যায়। কোনো জটিলতার সময় যিকরুল্লাহর আশ্রয় নেওয়া হলে তা আসান হয়ে যায়। কোনো কষ্টসাধ্য বিষয়ে তাঁর যিকির করা হলে তা হালকা হয়ে যায়। যেকোনো বিপদের সময় যিকরুল্লাহর বলয়ে প্রবেশ করলে সে বিপদ দূরে হয়ে যায়। কোনো দুঃখ-কষ্টের সময় যিকির করা হলে তা কেটে যায়। যিকরুল্লাহ মানে বিপদের পরে নেয়ামত, কষ্টের পর স্বস্তি এবং দুশ্চিন্তা ও উৎকণ্ঠার পরে তৃপ্তি।