📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরকারী বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে

📄 যিকরকারী বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে


হাসান বাসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিয়ে বলবে, 'আজ হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই জানতে পারবে, কারা সম্মানের অধিকারী।' এরপর ডাক দিয়ে বলবে, তারা কোথায় যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছিলেন,

تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ

তারা বিছানা ত্যাগ করে আশা ও আশংকা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। ১০৭

ডাক শুনে এই শ্রেণীর লোকেরা দাঁড়িয়ে মানুষের ভিড় ঠেলে সামনে চলে যাবে।

আবার ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবে, 'আজ হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই জানতে পারবে, কারা সম্মানের অধিকারী।' এরপর ডাক দিয়ে বলবে, তারা কোথায় যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছিলেন,

رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ

সেসব লোক যাদেরকে ব্যবসা বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।১০৮

ডাক শুনে এ শ্রেণীর লোকেরা দাঁড়িয়ে মানুষের ভিড় ঠেলে সামনে চলে যাবে।

এরপর আবারও ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবে, 'আজ হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই জানতে পারবে, কারা সম্মানের অধিকারী। কোথায় সর্ববস্থায় বেশি বেশি আল্লাহর প্রশংসাকারীরা?

ডাক শুনে এ শ্রেণীর লোকেরা দাঁড়াবে এবং মানুষের ভিড় ঠেলে সামনে চলে যাবে। এদের সংখ্যা হবে অনেক। এরপর বাকী লোকদের হিসাব-নিকাশ শুরু হবে।১০৯

এক ব্যক্তি আবু মুসলিম খাওলানীর কাছে এসে বলল, 'ইয়া আবা মুসলিম, আমাকে কিছু নসীহত করুন।' তিনি বলেন, 'প্রত্যেক গাছগাছালি, বনজঙ্গল ও পাথরের কাছে গিয়ে যিকির করবে।' লোকটি বলল, 'আমাকে আরও নসীহত করুন।' তিনি বলেন, 'তুমি এত বেশি যিকির করবে যেন লোকেরা তোমাকে পাগল মনে করে।'

ঐ লোকটির ভাষ্য হল, আবু মুসলিম খাওলানী অনেক বেশি যিকির করতেন। একদিন এক ব্যক্তি তাকে যিকির করতে দেখে বলল, তোমার এই সাথী কি পাগল? আবু মুসলিম তার কথা শুনে ফেলল। তখন তিনি তাকে বলেন, ভাতিজা, এটা পাগলামী নয় বরং পাগলামীর প্রতিষেধক। ১১০

টিকাঃ
১০৭. সূরা সাজদাহ, আয়াত: ১৬
১০৮. সূরা নূর, আয়াত: ৩৭
১০৯. এই আসারটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এ গ্রন্থের মুহাক্কিকের মতে তাতে যে দুর্বলতা রয়েছে তা শাহিদের ভিত্তিতে দূর হয়ে যাবে। ইবন আব্বাসের বক্তব্য হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। সে সনদকে আসকালানী ও বুসীরী হাসান বলেছেন。
১১০. শুআবুল ঈমান, ২/৫৮৪; তারীখু দামিশ্ক, ২৭/২০৮

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরুল্লাহ সমস্ত আমলের আত্মা

📄 যিকরুল্লাহ সমস্ত আমলের আত্মা


৫৫. আল্লাহর যিকিরকে সমুন্নত ও উচ্চকিত রাখতে সমস্ত আমল শরিয়ত সিদ্ধ করা হয়েছে। সমস্ত আমলের উদ্দেশ্য হল যিকরুল্লাহ অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَ أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي

আমার যিকিরের জন্য তুমি সালাত কায়েম করো।'১২৩

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ

আপনার কাছে যে কিতাব ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয় সালাত অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ করা থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর যিকিরই সবচেয়ে বড়।১২৪

বলা হয়ে থাকে, এ আয়াতের অর্থ, 'তোমরা সালাতে আল্লাহর যিকির করলে তিনি তাঁর যিকিরকারীকে স্মরণ করেন। তোমাদের যিকিরের তুলনায় তোমাদেরকে তাঁর স্মরণ অধিক বড়।' এই তাফসীর ইবন আব্বাস, সালমান, আবু দারদা ও ইবন মাসউদ প্রমুখ থেকে বর্ণিত হয়েছে।

ইবন আবীদ দুনইয়া ফুযাইল ইবন মারযুক থেকে বর্ণনা করেছেন আর তিনি আতিয়‍্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, رُبَكُأَ اللَّهِ رُكْذِلَوَ

'আর আল্লাহর যিকির সবচেয়ে বড়' আয়াতটি মূলত مْ كُرْكُذْأَي يُورُكُذَافَ তোমরা আমার যিকির করো আমি তোমাদের স্মরণ করবো' ১২৫ আয়াতের সমর্থক। এর অর্থ, তোমাদের আল্লাহর যিকির করার তুলনায় তোমাদেরকে তাঁর স্মরণ করা বড়। ১২৬

কাতাদাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই আয়াতের অর্থ হলো, আল্লাহর স্মরণ সব থেকে বড়।

সুলাইমানকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বলেন, তুমি কি কুরআনের এ আয়াত পড়োনি :رُبِّكُاً اللَّهِ رُكْذِلَوَ 'আর আল্লাহর যিকির সবচেয়ে বড়'।

আবু দারদার উল্লিখিত হাদিসের পক্ষে আরেকটি হাদিস হল, মুআয রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের শ্রেষ্ঠ আমল সম্পর্কে জানাবো না? যে আমল তোমাদের মালিকের সবচেয়ে প্রিয়, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সর্বাধিক সহায়ক, স্বর্ণ-রৌপ্যদান করার চেয়ে অধিক উত্তম এবং শত্রুর মুখোমুখি হয়ে তাদের গর্দান উড়িয়ে দেওয়া ও তাদের কর্তৃক তোমাদের গর্দান উড়ে যাওয়া থেকে শ্রেষ্ঠ? সাহাবীগণ বললেন, 'অবশ্যই, ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, যিকরুল্লাহ। ১২৭

শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস কাদ্দাসাহুল্লাহ রুহাহু বলেন, আয়াতের সঠিক অর্থ হল,
এখানে সালাত শব্দটিকে দুটি মহান উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে একটি উদ্দেশ্য অন্য উদ্দেশ্য থেকে আরও মহান।

ক. সালাত অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
খ. সালাতে রয়েছে আল্লাহর যিকির।

আর যিকির অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার চেয়েও মহান।

ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হয়, “সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বলেন, যিকরুল্লাহ সর্বোত্তম আমল।”১২৮

আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিকরুল্লাহ কায়েম করার উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ তওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ ও জামরায় পাথর নিক্ষেপের বিধান দেওয়া হয়েছে। ১২৯

টিকাঃ
১২৩. সূরা তহা, আয়াত: ১৪
১২৪. সূরা আনকাবূত, আয়াত: ৪৫
১২৫. সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৫২
১২৬. তাফসীরুত তাবারী, ২০/৪৩
১২৭. সুনানুত তিরমিযী, ৩৩৭৭; হাদিসটি সহীহ
১২৮. মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১৩/৩৭০; সনদ হাসান।
১২৯. সুনানু আবি দাউদ, ১৮৮৩; সুনানুত তিরমিযী, ৯০২; ইমাম আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে ইমাম ইবন খুযাইমাহ, হাকিম, যাহাবী, তিরমিযী, ইবন জারূদ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 সর্বাধিক যিকরকারী সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি

📄 সর্বাধিক যিকরকারী সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি


৫৬. দুনিয়াতে অনেক ধরনের আমল ও অনেক প্রকারের আমলকারী রয়েছে। তবে আমলকারীদের মাঝে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করে। ঐ সিয়ামপালনকারী সবচেয়ে উত্তম, যে সবচেয়ে বেশি যিকির করে। ঐ দানকারী সবচেয়ে উত্তম, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। ঐ হজ্বকারী সবচেয়ে উত্তম, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। এভাবে সকল আমলের ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে সবচেয়ে বেশি যিকিরকারী।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন মুসল্লী সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। আবার জিজ্ঞেস হয়, সবচেয়ে উত্তম জানাযার সালাত আদায়কারী কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হয়, সবচেয়ে উত্তম মুজাহিদ কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। আবার জিজ্ঞেস হয়, সবচেয়ে উত্তম হাজী কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। এরপর আবার জিজ্ঞেস করা হয়, যারা অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। তখন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যিকিরকারী তো তাহলে সব কল্যাণ নিয়ে গেল।১৩০

উবাইদ ইবন উমাইর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, রাত জেগে ইবাদত করা যদি তোমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়, সম্পদ দান করা যদি খুব কঠিন মনে হয় এবং শত্রুর সাথে যুদ্ধ করতে যদি সাহস সঞ্চার করতে অক্ষম হও, তবে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির কর। ১৩১

টিকাঃ
১৩০. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, ৫০১; শুআবুল ঈমান, ২/৪৫১-৪৫২; হাদিসটি মুরসাল

📘 যিকরুল্লাহ > 📄 যিকরুল্লাহ নফল ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত

📄 যিকরুল্লাহ নফল ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত


৫৭. ধারাবাহিক আল্লাহর যিকির নফল ইবাদতের স্থলাভিষিক্ত; সেটা যেকোন নফল ইবাদতই হতে পারে। দৈহিক বা আর্থিক কিংবা নফল হজের মতো দৈহিক ও আর্থিক উভয় নফল ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

হাদিসে সুস্পষ্টভাবে এটা বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দরিদ্র লোকেরা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলে, 'সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চমর্যাদা ও স্থায়ী আবাস অর্জন করে ফেলছে অথচ তারা আমাদের মত সালাত আদায় করছে, আমাদের মত সিয়াম পালন করছে এবং অর্থের দ্বারা হজ, উমরাহ, জিহাদ ও সাদকাহ করার মর্যাদাও লাভ করছে।'

দরিদ্রদের এমন অভিযোগ শুনে তিনি বলেন, 'আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব, তোমরা যেটা করলে, যারা নেক কাজে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে, তোমরাও তাদের পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে।

তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর তেত্রিশ বার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) এবং তাকবীর (আল্লাহ আকবার) পাঠ করবে। কয়বার পড়তে হবে তা নিয়ে পরে আমাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। কেউ বলে, আমরা তেত্রিশবার তাসবীহ পড়ব, তেত্রিশবার তাহমীদ পড়ব আর চৌত্রিশ বার তাকবীর পড়ব। অতপর আমি তাঁর নিকট ফিরে যাই।

তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার সবগুলোই তেত্রিশবার করে বলবে। ১৩২

এই হাদিসে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দরিদ্রদেরকে ছুটে যাওয়া হজ, উমরা, জিহাদের পরিবর্তে যিকির করার পরামর্শ দিয়ে বলেন,
তোমরা এই যিকিরের মাধ্যমে ধনী লোকদের ছাড়িয়ে যাবে। পরবর্তীতে ধনী লোকেরা একথা শুনে ফেলে এবং তারাও আমল করতে শুরু করে। সাদকাহ, আর্থিক ইবাদত-সহ এই যিকিরেও তারা মনোনিবেশ করে। ফলে তারা আবার দরিদ্র লোকদের পেছনে ফেলে দেয়। দরিদ্ররা পুনরায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলে, তারাও তো আমাদের সাথে আপনার শিক্ষা দেওয়া যিকির করতে শুরু করেছে। আর আর্থিক ইবাদতের মাধ্যমে আমাদেরকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এটা আল্লাহর অনুগ্রহ; যাকে ইচ্ছা তিনি অনুগ্রহ করেন।

আবদুল্লাহ ইবন বুসর থেকে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি বলে,
'ইয়া রাসুলাল্লাহ, ভালো আমল তো অনেক। আর আমি সব ভালো আমল করতে সামর্থ্য রাখি না। আমাকে এমন ভালো কিছু কাজ বলুন যা আমি আঁকড়ে ধরে থাকতে পারব। আবার এমন বেশি বলবেন না, যা আমি ভুলতে বসব।'

আরেক বর্ণনায় এসেছে তিনি বলেন,
'ইসলামী শরিয়তের বিষয়গুলো আমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে গেছে অথচ আমি একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। অতএব, এমন কিছু বিষয় বলুন যা আমি আঁকড়ে ধরে থাকতো পারব। আবার এমন বেশি বলবেন না, যা আমি ভুলতে বসব।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, তোমার রসনা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে। ১৩৩

বিচক্ষণ নসীহতকারী নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে এমন জিনিসের নসীহত করেন যে, সে যদি সত্যিকারার্থে তাঁর নসীহত মতো চলে, তবে তার জন্য ইসলামের সমস্ত বিধিবিধান সহজ হয়ে যাবে, সেসব বিধান পালন করতে উদ্দীপ্ত হবে এবং সেগুলো বেশি বেশি পালন করবে। সে যদি যিকরুল্লাহকে তার জীবনের অনুষঙ্গ বানিয়ে নেয়, তবে একদিন সে আল্লাহকে ভালোবেসে ফেলবে এবং আল্লাহ যা ভালোবাসেন, তা ভালোবাসতে শুরু করবে। এক পর্যায়ে শরিয়তের বিধিবিধান পালন করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যলাভ করা তার সবচেয়ে প্রিয় আমলে পরিণত হবে। এ কারণে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে যিকরুল্লাহর মতো এমন এক জিনিসের সন্ধান দেন, যার মাধ্যমে খুব সহজেই সে ইসলামের বাকী বিধিবিধান পালন করতে পারবে।

টিকাঃ
১৩১. মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১০/৩৯২; আহমাদ ইবন হাম্বাল, আয-যুহদ, ৩৭৮-৩৭৯; হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৩/২৬৭-২৬৮
১৩২. সহীহুল বুখারী, ৮৪৩; সহীহ মুসলিম, ৫৯৫
১৩৩. সুনানুত তিরমিযী, ৩৩৭৫; সুনানু ইবন মাজাহ, ৩৭৯৩; হাদিসটি সহীহ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00