📄 যিকরকারী মুজতাহিদ তুলনায় বেশি সম্মানিত
৪৫. মুত্তাকী ব্যক্তির থেকেও ঐ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানিত যার জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে। কেননা যিকিরকারী একদিকে যেমন আল্লাহর আদেশ-নিষেধের ব্যাপারে তাঁকে ভয় করে, তেমনিভাবে অন্যদিকে যিকিরকে নিজের জীবনের অনুষঙ্গ বানিয়ে নেয়।
তাকওয়া জান্নাতে প্রবেশ আর জাহান্নাম থেকে নাজাতকে নিশ্চিত করে। তাকওয়ার প্রতিদান ও পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করান ও জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন। অপরপক্ষে যিকির আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর সান্নিধ্য লাভকে নিশ্চিত করে। আর আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও সান্নিধ্যপ্রাপ্তি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান। আর এ কথা সকলের জানা আছে যে, প্রতিদান ও পুরস্কারের চেয়ে মর্যাদাপ্রদান অধিক গৌরবের ও অধিক সম্মানের।
পরকালের জন্য যারা আমল করে তারা দুই দলে বিভক্ত। একদল প্রতিদান ও পুরস্কার পাবার জন্য আমল করে। অন্যদল আমল করে মর্যাদা ও সম্মান হাসিল করার নিমিত্তে। দ্বিতীয় দল মূলত আল্লাহর কাছে সম্মানিত হবার জন্য এবং তাঁর নৈকট্য পাবার জন্য প্রতিযোগিতা করে। আল্লাহ তাআলা উভয় দলের কথা সূরা হাদীদে উল্লেখ করেছেন,
إِنَّ الْمُصَّدِقِينَ وَالْمُصَّدِقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ
নিশ্চয় সাদকাকারী পুরুষ ও নারীদের এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণদাতাদের প্রতিদান বহুগুণ বেশি দেওয়া হবে। উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।৯৬
এ আয়াতে বর্ণিত ব্যক্তিরা প্রতিদান ও পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমলকারী দলের অন্তর্ভুক্ত। এর পরের আয়াতে তিনি বলেন,
وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّدِّيقُونَ
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে তারা সিদ্দীক-সত্যবাদী।৯৭
এরা সম্মান, মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের জন্য আমলকারী দল। এরপর তিনি বলেন,
وَالشُّهَدَاءُ عِنْدَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ
"এবং (তারা হচ্ছে) তাদের রবের কাছে শহীদ। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও আলো।"৯৮
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন:
• তারা সিদ্দীক-সত্যবাদী,
• তারা শহীদ। আর সিদ্দীক ও শহীদ দুটি মর্যাদা ও সম্মানজনক স্তর।
• তাদের জন্য রয়েছে পুরস্কার,
• তারা পাবে আলো। আর পুরস্কার ও আলো হলো প্রতিদান ও বিনিময়।
আবার কেউ বলেছেন, সিদ্দীক-সত্যবাদী বলার মাধ্যমে সত্যবাদীদের অবস্থার বর্ণনা ইতি টানা হয়েছে। তারপর শহীদদের অবস্থা বর্ণনা করতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'এবং (তারা হচ্ছে) তাদের রবের কাছে শহীদ। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও আলো।'
এই হিসেবে প্রথমে আল্লাহ তাআলা নেকককার ও সৎকর্মশীল সিদ্দীকদের কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর ঐসব মুমিনদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের অন্তরে ঈমান পোক্ত হয়ে গিয়েছে এবং ঈমান দ্বারা অন্তর পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আর এমন লোকেরাই সিদ্দীক। তারা যেমন জ্ঞানের অধিকারী, তেমন আমলকারী। প্রথম শ্রেণী নেককার ও সৎকর্মশীল হলেও এ দল প্রথম দল থেকে বেশি পরিপূর্ণ।
এরপর আল্লাহ তাআলা শহীদদের কথা বলেছেন। বলা হয়েছে, তিনি তাদের রিযিক ও আলো দেবেন। যেহেতু তারা নিজেদের জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে তাই প্রতিদানস্বরূপ তিনি তাদের জীবিত রাখবেন ও উত্তম রিযিকের ব্যবস্থা করবেন। তারা যেমন রিযিক পাবে তেমনি আলো বা জীবন পাবে। এরাই হলো প্রকৃত সৌভাগ্যবান।
শহীদদের উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা দুর্ভাগাদের উল্লেখ করেছেন,
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
আর যারা কুফরি করেছে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা জাহান্নামের অধিবাসী। ৯৯
টিকাঃ
৯৬. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৮
৯৭. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৯
৯৮. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৯
৯৯. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৯
📄 যিকরকারী বিশেষ সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে
হাসান বাসরী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিয়ে বলবে, 'আজ হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই জানতে পারবে, কারা সম্মানের অধিকারী।' এরপর ডাক দিয়ে বলবে, তারা কোথায় যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছিলেন,
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ
তারা বিছানা ত্যাগ করে আশা ও আশংকা নিয়ে তাদের রবকে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। ১০৭
ডাক শুনে এই শ্রেণীর লোকেরা দাঁড়িয়ে মানুষের ভিড় ঠেলে সামনে চলে যাবে।
আবার ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবে, 'আজ হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই জানতে পারবে, কারা সম্মানের অধিকারী।' এরপর ডাক দিয়ে বলবে, তারা কোথায় যাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছিলেন,
رِجَالٌ لَا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ
সেসব লোক যাদেরকে ব্যবসা বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।১০৮
ডাক শুনে এ শ্রেণীর লোকেরা দাঁড়িয়ে মানুষের ভিড় ঠেলে সামনে চলে যাবে।
এরপর আবারও ঘোষণাকারী ঘোষণা করে বলবে, 'আজ হাশরের ময়দানে উপস্থিত সবাই জানতে পারবে, কারা সম্মানের অধিকারী। কোথায় সর্ববস্থায় বেশি বেশি আল্লাহর প্রশংসাকারীরা?
ডাক শুনে এ শ্রেণীর লোকেরা দাঁড়াবে এবং মানুষের ভিড় ঠেলে সামনে চলে যাবে। এদের সংখ্যা হবে অনেক। এরপর বাকী লোকদের হিসাব-নিকাশ শুরু হবে।১০৯
এক ব্যক্তি আবু মুসলিম খাওলানীর কাছে এসে বলল, 'ইয়া আবা মুসলিম, আমাকে কিছু নসীহত করুন।' তিনি বলেন, 'প্রত্যেক গাছগাছালি, বনজঙ্গল ও পাথরের কাছে গিয়ে যিকির করবে।' লোকটি বলল, 'আমাকে আরও নসীহত করুন।' তিনি বলেন, 'তুমি এত বেশি যিকির করবে যেন লোকেরা তোমাকে পাগল মনে করে।'
ঐ লোকটির ভাষ্য হল, আবু মুসলিম খাওলানী অনেক বেশি যিকির করতেন। একদিন এক ব্যক্তি তাকে যিকির করতে দেখে বলল, তোমার এই সাথী কি পাগল? আবু মুসলিম তার কথা শুনে ফেলল। তখন তিনি তাকে বলেন, ভাতিজা, এটা পাগলামী নয় বরং পাগলামীর প্রতিষেধক। ১১০
টিকাঃ
১০৭. সূরা সাজদাহ, আয়াত: ১৬
১০৮. সূরা নূর, আয়াত: ৩৭
১০৯. এই আসারটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এ গ্রন্থের মুহাক্কিকের মতে তাতে যে দুর্বলতা রয়েছে তা শাহিদের ভিত্তিতে দূর হয়ে যাবে। ইবন আব্বাসের বক্তব্য হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে। সে সনদকে আসকালানী ও বুসীরী হাসান বলেছেন。
১১০. শুআবুল ঈমান, ২/৫৮৪; তারীখু দামিশ্ক, ২৭/২০৮
📄 যিকরুল্লাহ সমস্ত আমলের আত্মা
৫৫. আল্লাহর যিকিরকে সমুন্নত ও উচ্চকিত রাখতে সমস্ত আমল শরিয়ত সিদ্ধ করা হয়েছে। সমস্ত আমলের উদ্দেশ্য হল যিকরুল্লাহ অর্জন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَ أَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
আমার যিকিরের জন্য তুমি সালাত কায়েম করো।'১২৩
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
اتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنَ الْكِتَابِ وَأَقِمِ الصَّلَاةَ إِنَّ الصَّلَاةَ تَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ
আপনার কাছে যে কিতাব ওহি করা হয়েছে তা পাঠ করুন এবং সালাত কায়েম করুন। নিশ্চয় সালাত অশ্লীলতা ও খারাপ কাজ করা থেকে বিরত রাখে। আর আল্লাহর যিকিরই সবচেয়ে বড়।১২৪
বলা হয়ে থাকে, এ আয়াতের অর্থ, 'তোমরা সালাতে আল্লাহর যিকির করলে তিনি তাঁর যিকিরকারীকে স্মরণ করেন। তোমাদের যিকিরের তুলনায় তোমাদেরকে তাঁর স্মরণ অধিক বড়।' এই তাফসীর ইবন আব্বাস, সালমান, আবু দারদা ও ইবন মাসউদ প্রমুখ থেকে বর্ণিত হয়েছে।
ইবন আবীদ দুনইয়া ফুযাইল ইবন মারযুক থেকে বর্ণনা করেছেন আর তিনি আতিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, رُبَكُأَ اللَّهِ رُكْذِلَوَ
'আর আল্লাহর যিকির সবচেয়ে বড়' আয়াতটি মূলত مْ كُرْكُذْأَي يُورُكُذَافَ তোমরা আমার যিকির করো আমি তোমাদের স্মরণ করবো' ১২৫ আয়াতের সমর্থক। এর অর্থ, তোমাদের আল্লাহর যিকির করার তুলনায় তোমাদেরকে তাঁর স্মরণ করা বড়। ১২৬
কাতাদাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই আয়াতের অর্থ হলো, আল্লাহর স্মরণ সব থেকে বড়।
সুলাইমানকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বলেন, তুমি কি কুরআনের এ আয়াত পড়োনি :رُبِّكُاً اللَّهِ رُكْذِلَوَ 'আর আল্লাহর যিকির সবচেয়ে বড়'।
আবু দারদার উল্লিখিত হাদিসের পক্ষে আরেকটি হাদিস হল, মুআয রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের শ্রেষ্ঠ আমল সম্পর্কে জানাবো না? যে আমল তোমাদের মালিকের সবচেয়ে প্রিয়, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে সর্বাধিক সহায়ক, স্বর্ণ-রৌপ্যদান করার চেয়ে অধিক উত্তম এবং শত্রুর মুখোমুখি হয়ে তাদের গর্দান উড়িয়ে দেওয়া ও তাদের কর্তৃক তোমাদের গর্দান উড়ে যাওয়া থেকে শ্রেষ্ঠ? সাহাবীগণ বললেন, 'অবশ্যই, ইয়া রাসুলাল্লাহ। তিনি বললেন, যিকরুল্লাহ। ১২৭
শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস কাদ্দাসাহুল্লাহ রুহাহু বলেন, আয়াতের সঠিক অর্থ হল,
এখানে সালাত শব্দটিকে দুটি মহান উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে একটি উদ্দেশ্য অন্য উদ্দেশ্য থেকে আরও মহান।
ক. সালাত অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।
খ. সালাতে রয়েছে আল্লাহর যিকির।
আর যিকির অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার চেয়েও মহান।
ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করা হয়, “সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বলেন, যিকরুল্লাহ সর্বোত্তম আমল।”১২৮
আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যিকরুল্লাহ কায়েম করার উদ্দেশ্যে বায়তুল্লাহ তওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ ও জামরায় পাথর নিক্ষেপের বিধান দেওয়া হয়েছে। ১২৯
টিকাঃ
১২৩. সূরা তহা, আয়াত: ১৪
১২৪. সূরা আনকাবূত, আয়াত: ৪৫
১২৫. সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৫২
১২৬. তাফসীরুত তাবারী, ২০/৪৩
১২৭. সুনানুত তিরমিযী, ৩৩৭৭; হাদিসটি সহীহ
১২৮. মুসান্নাফ ইবন আবী শায়বাহ, ১৩/৩৭০; সনদ হাসান।
১২৯. সুনানু আবি দাউদ, ১৮৮৩; সুনানুত তিরমিযী, ৯০২; ইমাম আলবানী রাহিমাহুল্লাহ হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে ইমাম ইবন খুযাইমাহ, হাকিম, যাহাবী, তিরমিযী, ইবন জারূদ হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
📄 সর্বাধিক যিকরকারী সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তি
৫৬. দুনিয়াতে অনেক ধরনের আমল ও অনেক প্রকারের আমলকারী রয়েছে। তবে আমলকারীদের মাঝে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করে। ঐ সিয়ামপালনকারী সবচেয়ে উত্তম, যে সবচেয়ে বেশি যিকির করে। ঐ দানকারী সবচেয়ে উত্তম, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। ঐ হজ্বকারী সবচেয়ে উত্তম, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। এভাবে সকল আমলের ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে সবচেয়ে বেশি যিকিরকারী।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়, কোন মুসল্লী সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। আবার জিজ্ঞেস হয়, সবচেয়ে উত্তম জানাযার সালাত আদায়কারী কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। পুনরায় জিজ্ঞেস করা হয়, সবচেয়ে উত্তম মুজাহিদ কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। আবার জিজ্ঞেস হয়, সবচেয়ে উত্তম হাজী কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। এরপর আবার জিজ্ঞেস করা হয়, যারা অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কে? তিনি বলেন, যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহর যিকির করে। তখন আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যিকিরকারী তো তাহলে সব কল্যাণ নিয়ে গেল।১৩০
উবাইদ ইবন উমাইর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, রাত জেগে ইবাদত করা যদি তোমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়, সম্পদ দান করা যদি খুব কঠিন মনে হয় এবং শত্রুর সাথে যুদ্ধ করতে যদি সাহস সঞ্চার করতে অক্ষম হও, তবে বেশি বেশি আল্লাহর যিকির কর। ১৩১
টিকাঃ
১৩০. ইবনুল মুবারক, আয-যুহদ, ৫০১; শুআবুল ঈমান, ২/৪৫১-৪৫২; হাদিসটি মুরসাল