📄 যিকরুল্লাহ সবচেয়ে সহজ ইবাদত
৩১. যিকরুল্লাহ সবচেয়ে সহজ অথচ সবচেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। কেননা অন্যান্য ইবাদতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পরিচালনা ও আন্দোলিত করার চেয়ে যিকিরে জিহ্বাকে পরিচালনা ও আন্দোলিত করা খুবই সহজ ও হালকা। দিনে-রাতে একজন মানুষকে যতবার জিহ্বা নাড়াতে ও পরিচালনা করতে হয়, ততবার যদি অন্য কোনো অঙ্গকে নাড়াতে ও পরিচালনা করতে হত, তবে তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে যেত; বরং তার পক্ষে কোনোভাবেই তা সম্ভবপর হত না।
৩২. যিকরুল্লাহ জান্নাতের গাছ। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'ইসরার রাতে ইবরাহীমের সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি আমাকে বলেন, 'ইয়া মুহাম্মাদ, আপনি আপনার উম্মাতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দেবেন এবং তাদেরকে জানিয়ে দেবেন, জান্নাতের মাটি অতীব সুঘ্রাণযুক্ত, তার পানি খুবই সুমিষ্ট, তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা 'সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার'।৩৩
টিকাঃ
৩২. সুনানুত তিরমিযী, ২৯২৬, হাদিসটি দুর্বল।
৩৩. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৬২, হাদিসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য।
📄 যিকরুল্লাহ আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় আমল
৩৩. যিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর যত অনুগ্রহ ও ফযিলত অর্জন করা সম্ভব হয়, অন্য কোনো আমলের মাধ্যমে তত অনুগ্রহ ও ফযিলত অর্জন সম্ভব নয়। আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি একশতবার
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াহুদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর' অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই; রাজত্ব একমাত্র তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও একমাত্র তাঁরই জন্য, আর তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান-পড়ে সে দশটি গোলাম মুক্ত করার সমান সাওয়াব পায়, তার জন্য একশত সাওয়াব লেখা হয় এবং একশত গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান হতে সংরক্ষিত থাকে। আর কোনো লোক তার চেয়ে উত্তম কাজ করতে পারেনা; তবে সে ব্যক্তি পারে, যে তার চেয়ে এই দুআটি বেশি পাঠ করে।৩৫
জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি 'সুবহানাল্লাহি ওয়াবিহামদিহি' বলে, তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ লাগানো হয়।'৩৪
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, যে ব্যক্তি দিনে একশতবার 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' বলে, তার পাপ মিটিয়ে দেওয়া হয়, যদিও তার পাপের পরিমাণ সমুদ্রের ফেনা বরাবর হয়।৩৬
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যার ওপর সূর্য উদিত হয় অর্থাৎ গোটা দুনিয়া থেকে
سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ،
'সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদুলিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার' বলা আমার কাছে বেশি প্রিয়।৩৭
আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকালে বা বিকেলে একবার-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَصْبَحْتُ أُشْهِدُكَ وَأُشْهِدُ حَمَلَةَ عَرْشِكَ وَمَلَائِكَتَكَ، وَجَمِيعَ خَلْقِكَ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُكَ وَرَسُولُكَ
'আল্ল-হুম্মা ইন্নী আসবাহতু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা আরশিকা ওয়া মালা-য়িকাতিকা ওয়া জামীঈ খলক্বিকা আননাকা আনতাল্লা-হু লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুকা ওয়া রসুলুকা
অর্থাৎ হে আল্লাহ, আমি সকাল করলাম। তোমার সাক্ষ্য দিচ্ছি, আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি তোমার আরশের বহনকারীদের, তোমার ফেরেশতাদের এবং তোমার সমস্ত সৃষ্টির। নিশ্চয়ই তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই। আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার বান্দা ও রাসুল।'
দুআটি পড়বে, আল্লাহ তাআলা তার একচতুর্থাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেবেন। যে ব্যক্তি তা দুই বার পড়বে আল্লাহ তাআলা তার অর্ধেকাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেবেন। যে ব্যক্তি তা তিনবার পড়বে আল্লাহ তাআলা তার তিন-চতুর্থাশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি তা চার বার পড়বে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেবেন। ৩৮
সাওবান রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায়
رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا
'রযীতু বিল্লাহি রব্বা ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা ওয়াবি মুহাম্মাদিন রাসুলা' পাঠ করে, তাকে সন্তুষ্ট করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিয়ে নেন। ৩৯
উমার রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে এ দুআ পড়ে,
لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ حَيٌّ لاَ يَمُوتُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়াহুওয়া হায়য়ুন, লা ইয়ামুতু বিয়াদিহিল খয়রু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কদীর
অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা, তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু
দান করেন, তিনি চিরঞ্জীব, কক্ষনো মৃত্যুবরণ করবেন না। তাঁর হাতেই কল্যাণ এবং তিনি সমস্ত জিনিসের উপর ক্ষমতাশীল। -আল্লাহ তাআলা তার জন্য দশ লক্ষ সওয়াব লিখেন, দশ লক্ষ গুনাহ মিটিয়ে দেন, দশ লক্ষ মর্যাদা বাড়িয়ে দেন এবং তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করেন। ৪০
টিকাঃ
৩৪. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৬৪, হাদিসটি সহীহ
৩৫. সহীহুল বুখারী, ৩২৯৩; সহীহ মুসলিম, ২৬৯১
৩৬. সহীহ মুসলিম, ২৬৯১
৩৭. সহীহ মুসলিম, ২৬৯৫
৩৮. সুনানু আবি দাউদ, ৫০৬৯; সুনানু তিরমিযী, ৩৫০১; হাদিসটি ইমাম ইবন হাজার আসকালানী হাসান বলেছেন আর ইমাম আলবানী দুর্বল বলেছেন।
৩৯. সুনানুত তিরমিযী, ৩৩৮৯; হাদিসটি ইমাম ইবন হাজার আসকালানী হাসান বলেছেন আর ইমাম আলবানী দুর্বল বলেছেন।
৪০. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪২৮, হাদিসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য।
📄 যিকরুল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব
৩৫. যিকির বান্দাকে অতিযতনে কল্যাণের পথ পরিভ্রমণ করায়; বান্দা বিছানায় শুয়ে থাকুক, বাজারে থাকুক, সুস্থ থাকুক বা অসুস্থ থাকুক, সুখ-শান্তি ও নেয়ামতে থাকুক, দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে থাকুক, সফরে থাকুক কিংবা বাড়িতে থাকুক—যিকির ভিন্ন এমন কোনো আমল নেই, যা সর্বাবস্থায় ও সবসময় বান্দাকে কল্যাণের পথে পরিভ্রমণ করাতে পারে। বিছানায় ঘুমন্ত ব্যক্তিকেও যিকির কল্যাণের পথে ভ্রমণ করাতে পারে। ফলে ঐ ঘুমন্ত ব্যক্তি যিকিরবিমুখ সারারাত তাহাজ্জুদগুযার ব্যক্তিকেও পেছনে ফেলে দেয়। সকালে দেখা যায়, বিছানায় শুয়ে থাকা ব্যক্তি তার ভ্রমণ শেষ করে ফেরত চলে এসেছে আর যিকিরবিমুখ তাহাজ্জুদগুযার ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে আছে। এটাই হচ্ছে আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে চান তাকে তাঁর অনুগ্রহ দান করেন।
একজন ইবাদতগুযার ব্যক্তির ব্যাপারে প্রচলিত আছে যে, সে একজন আবেদ ব্যক্তির বাসায় মেহমান হয় এবং সারারাত তাহাজ্জুদে কাটিয়ে দেয়। কিন্তু মেজবান আবেদ সারারাত ঘুমিয়ে কাটায়। সকাল হলে আবেদ মেজবানকে উদ্দেশ্য করে মেহমান বলে, 'ভাই, আজ আপনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন তখন কাফেলা আপনাকে রেখে চলে গেছে।' তার জবাবে আবেদ মেজবান বলেন, 'ঐ ব্যক্তি সফল নয় যে সারারাত সফর জারি রাখার পরও কাফেলার সাথে সকাল করে। বরং ঐ ব্যক্তি সফল যে সারারাত ঘুমিয়ে থাকার পরও কাফেলাকে পেছনে ফেলে সফর শেষ করে।'
দুই অর্থে এই ঘটনাকে প্রয়োগ করা যেতে পারে: একটি সঠিক, অন্যটি বাতিল। কেউ যদি বলে এর অর্থ হল, বিছানায় ঘুমন্ত ব্যক্তি রাত জেগে তাহাজ্জুদগুযার থেকে অগ্রগামী, তবে তার এ কথা ভুল ও বাতিল। আর কেউ যদি বলে, এক ব্যক্তি তার অন্তরকে আল্লাহর সাথে জুড়ে দেয়, তার অন্তরের ভালোবাসাকে আরশের সাথে লটকিয়ে রাখে এবং দুনিয়া ও দুনিয়ার সব ভুলে তার অন্তর রাতে ফেরেশতাদের সাথে আরশের চারপাশে প্রদক্ষিণ করে; কিন্তু জ্বর, ঠান্ডা, শত্রুর ভয় বা অন্য কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে তাহাজ্জুদে দাঁড়াতে না পারার কারণে বিছানায় শুয়ে থাকে। এর বিপরীতে আরেকজন রাত জেগে তাহাজ্জুদ আদায় করে এবং কুরআন তিলাওয়াত করে কিন্তু তার অন্তর লৌকিকতা, আত্মঅহমিকা এবং মানুষের থেকে মর্যাদা ও স্তুতি কুড়ানো উদ্দেশ্য দ্বারা ভরপুর থাকে অথবা তার দেহ পৃথিবীর একপ্রান্তে আর মন অন্যপ্রান্তরে থাকে।
নিঃসন্দেহে এমন রাত জেগে তাহাজ্জুদগুযার ও কুরআন তিলাওয়াতকারীর তুলনায় পূর্বের ঘুমন্ত ব্যক্তি উত্তম। পূর্বের ঘুমন্ত ব্যক্তি এমন তাহাজ্জুদগুযার ও তিলাওয়াতকারী থেকে অগ্রগামী। কেননা আমলের সম্পর্ক অন্তরের সাথে; দেহ ও শরীরের সাথে নয়। আমলের গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে জড়ের ওপর, পাতার ওপর নয়। যিকির এমন একটি ইবাদত যা দমে যাওয়া প্রত্যয়কে উজ্জীবিত করে, সুপ্ত ভালোবাসাকে জাগিয়ে তোলে এবং মৃত জযবায় রূহ ফুঁকে দেয়।
📄 যিকরকারী মুজতাহিদ তুলনায় বেশি সম্মানিত
৪৫. মুত্তাকী ব্যক্তির থেকেও ঐ ব্যক্তি আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানিত যার জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে। কেননা যিকিরকারী একদিকে যেমন আল্লাহর আদেশ-নিষেধের ব্যাপারে তাঁকে ভয় করে, তেমনিভাবে অন্যদিকে যিকিরকে নিজের জীবনের অনুষঙ্গ বানিয়ে নেয়।
তাকওয়া জান্নাতে প্রবেশ আর জাহান্নাম থেকে নাজাতকে নিশ্চিত করে। তাকওয়ার প্রতিদান ও পুরস্কারস্বরূপ আল্লাহ বান্দাকে জান্নাতে প্রবেশ করান ও জাহান্নাম থেকে নাজাত দেন। অপরপক্ষে যিকির আল্লাহর নৈকট্য ও তাঁর সান্নিধ্য লাভকে নিশ্চিত করে। আর আল্লাহর নৈকট্যলাভ ও সান্নিধ্যপ্রাপ্তি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান। আর এ কথা সকলের জানা আছে যে, প্রতিদান ও পুরস্কারের চেয়ে মর্যাদাপ্রদান অধিক গৌরবের ও অধিক সম্মানের।
পরকালের জন্য যারা আমল করে তারা দুই দলে বিভক্ত। একদল প্রতিদান ও পুরস্কার পাবার জন্য আমল করে। অন্যদল আমল করে মর্যাদা ও সম্মান হাসিল করার নিমিত্তে। দ্বিতীয় দল মূলত আল্লাহর কাছে সম্মানিত হবার জন্য এবং তাঁর নৈকট্য পাবার জন্য প্রতিযোগিতা করে। আল্লাহ তাআলা উভয় দলের কথা সূরা হাদীদে উল্লেখ করেছেন,
إِنَّ الْمُصَّدِقِينَ وَالْمُصَّدِقَاتِ وَأَقْرَضُوا اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعَفُ لَهُمْ وَلَهُمْ أَجْرٌ كَرِيمٌ
নিশ্চয় সাদকাকারী পুরুষ ও নারীদের এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণদাতাদের প্রতিদান বহুগুণ বেশি দেওয়া হবে। উপরন্তু তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার।৯৬
এ আয়াতে বর্ণিত ব্যক্তিরা প্রতিদান ও পুরস্কার পাওয়ার জন্য আমলকারী দলের অন্তর্ভুক্ত। এর পরের আয়াতে তিনি বলেন,
وَالَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ أُولَئِكَ هُمُ الصَّدِّيقُونَ
আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে তারা সিদ্দীক-সত্যবাদী।৯৭
এরা সম্মান, মর্যাদা ও আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের জন্য আমলকারী দল। এরপর তিনি বলেন,
وَالشُّهَدَاءُ عِنْدَ رَبِّهِمْ لَهُمْ أَجْرُهُمْ وَنُورُهُمْ
"এবং (তারা হচ্ছে) তাদের রবের কাছে শহীদ। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও আলো।"৯৮
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা চারটি বিষয় উল্লেখ করেছেন:
• তারা সিদ্দীক-সত্যবাদী,
• তারা শহীদ। আর সিদ্দীক ও শহীদ দুটি মর্যাদা ও সম্মানজনক স্তর।
• তাদের জন্য রয়েছে পুরস্কার,
• তারা পাবে আলো। আর পুরস্কার ও আলো হলো প্রতিদান ও বিনিময়।
আবার কেউ বলেছেন, সিদ্দীক-সত্যবাদী বলার মাধ্যমে সত্যবাদীদের অবস্থার বর্ণনা ইতি টানা হয়েছে। তারপর শহীদদের অবস্থা বর্ণনা করতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'এবং (তারা হচ্ছে) তাদের রবের কাছে শহীদ। তাদের জন্য রয়েছে তাদের পুরস্কার ও আলো।'
এই হিসেবে প্রথমে আল্লাহ তাআলা নেকককার ও সৎকর্মশীল সিদ্দীকদের কথা উল্লেখ করেছেন। তারপর ঐসব মুমিনদের কথা উল্লেখ করেছেন যাদের অন্তরে ঈমান পোক্ত হয়ে গিয়েছে এবং ঈমান দ্বারা অন্তর পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আর এমন লোকেরাই সিদ্দীক। তারা যেমন জ্ঞানের অধিকারী, তেমন আমলকারী। প্রথম শ্রেণী নেককার ও সৎকর্মশীল হলেও এ দল প্রথম দল থেকে বেশি পরিপূর্ণ।
এরপর আল্লাহ তাআলা শহীদদের কথা বলেছেন। বলা হয়েছে, তিনি তাদের রিযিক ও আলো দেবেন। যেহেতু তারা নিজেদের জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছে তাই প্রতিদানস্বরূপ তিনি তাদের জীবিত রাখবেন ও উত্তম রিযিকের ব্যবস্থা করবেন। তারা যেমন রিযিক পাবে তেমনি আলো বা জীবন পাবে। এরাই হলো প্রকৃত সৌভাগ্যবান।
শহীদদের উল্লেখ করার পর আল্লাহ তাআলা দুর্ভাগাদের উল্লেখ করেছেন,
وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
আর যারা কুফরি করেছে এবং আমার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তারা জাহান্নামের অধিবাসী। ৯৯
টিকাঃ
৯৬. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৮
৯৭. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৯
৯৮. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৯
৯৯. সূরা হাদীদ, আয়াত: ১৯