📄 যিকরুল্লাহ সর্বোত্তম আমল
আগার আবু মুসলিম বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আবু হুরাইরাহ ও আবু সাঈদ এ মর্মে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'কোনো দল আল্লাহর যিকিরের উদ্দেশ্যে কোথাও একত্রিত হলে ফেরেশতারা তাদেরকে ঘিরে ধরে, রহমত তাদেরকে ঢেকে নেয় এবং তাদের ওপর প্রশান্তি নেমে আসে আর আল্লাহ তাঁর নিকটস্থ ফেরেশতাদের সামনে তাদের সম্পর্কে আলোচনা করেন।'
তিরমিযীতে আবদুল্লাহ ইবন বুসর থেকে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি বলে, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, ভালো আমল তো অনেক। কিন্তু আমি সব ভালো আমল করতে সামর্থ্য রাখি না। আমাকে এমন কিছু ভালো আমলের কথা বলুন, যা আমি আঁকড়ে ধরে থাকতো পারবো। তবে এমন বেশি বলবেন না, যা আমি ভুলতে বসবো।'
আরেক বর্ণনায় আছে, 'ইসলামী শরিয়তের বিষয়গুলো আমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে গিয়েছে অথচ আমি একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। অতএব, এমন কিছু বিষয় বলুন যা আমি আঁকড়ে ধরে থাকতো পারবো। তবে এমন বেশি বলবেন না, যা আমি ভুলতে বসবো।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, 'আপনার রসনা যেন সর্বদা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত থাকে।'৯ ৮. সহীহ মুসলিম, ৬৭৪৮
আবু সাঈদ খুদরী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়,
'সর্বোত্তম বান্দা কারা এবং কিয়ামতের দিন কারা আল্লাহর কাছে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবে?' তিনি বলেন, 'বেশি বেশি আল্লাহর যিকিরকারীরা।' জিজ্ঞেস করা হয়, 'আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীও নয়?' তিনি বলেন, 'জিহাদকারী যদি কাফির ও মুশরিকদেরকে তরবারি দিয়ে এমন জোরে আঘাত করে যে, তার তরবারি ভেঙে চুরমার হয়ে যায় আর সে নিজেও রক্তাক্ত হয়ে পড়ে, তবুও আল্লাহর যিকিরকারীর মর্যাদা তার থেকে বেশি হবে।'১০
আবু মূসা আশআরী থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'যে যিকির করে আর যে যিকির করে না, তাদের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃত মানুষ।'১১
আবু হুরাইরাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন, 'আমার বান্দা আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা রাখে আমি তার সাথে তেমন আচরণ করি। যখন সে আমার যিকির করে আমি তখন তার সাথেই থাকি। সে যদি মনে মনে আমার যিকির করে, আমিও মনে মনে তাকে স্মরণ করি। আর যদি সে মজলিসে আমার যিকির করে, আমিও তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তাকে স্মরণ করি। সে এক বিঘত আমার দিকে এগিয়ে আসলে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। এক হাত আমার দিকে এগিয়ে আসলে আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌঁড়ে যাই।'১২
টিকাঃ
৯. সুনানুত তিরমিযী, ৩৩৭৫; সুনানু ইবন মাজাহ, ৩৭৯৩; হাদিসটি সহীহ
১০. সুনানুত তিরমিযী, ৩৩৭৬; হাদিসটি দুর্বল
১১. সহীহুল বুখারী, ৬৪০৭
১২. সহীহুল বুখারী, ৭৪০৫; সহীহ মুসলিম, ১৬৭৫
📄 যিকরুল্লাহর মজলিস জান্নাতের একটি বাগান
আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
'তোমরা কখনো জান্নাতের বাগানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে সেখান থেকে ফল তুলে নিয়ো।' সাহাবীগণ বললেন, 'ইয়া রাসুলাল্লাহ, জান্নাতের বাগান কী?' তিনি বলেন, 'যিকিরের মজলিস। '১৩
তিরমিযীর বর্ণনায় আরও আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
'আমার প্রকৃত বান্দা তো সে, যে তার শত্রুর সাথে মোকাবেলা করা অবস্থাতেও আমার যিকির করে।'১৪
টিকাঃ
১৩. সুনানুত তিরমিযী, ৩৫১০; হাদিসটি হাসান
১৪. সুনানুত তিরমিযী, ৩৫৮০; হাদিসটি দুর্বল
📄 শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে : যিকরকারী না-কি মুজাহিদ?
উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি কে : যিকিরকারী না-কি মুজাহিদ? উক্ত হাদিসটি তার ফয়সালা দিয়ে দিয়েছে। জিহাদবিহীন যিকিরকারী এবং যিকিরবিহীন জিহাদকারী থেকে যিকিরকারী মুজাহিদ উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আর যিকিরবিহীন মুজাহিদ থেকে জিহাদবিহীন যিকিরকারী উত্তম। অতএব, সে যিকিরকারী সর্বোত্তম যে জিহাদ করে এবং সে মুজাহিদ সর্বোত্তম যে যিকির করে।
আল্লাহু তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا لَقِيتُمْ فِئَةً فَاثْبُتُوا وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা যখন কোনো বাহিনীর মুখোমুখি হবে তখন অবিচল থাকবে আর বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করবে। তবে আশা করা যায়, তোমরা সফলকাম হবে। ১৫
এই আয়াতে জিহাদরত অবস্থাতেও আল্লাহর যিকির করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মুজাহিদ দল যদি জিহাদরত অবস্থায় আল্লাহর যিকির করে, তবে তারা বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবে।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا
হে ঈমানদারগণ, তোমরা বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করো। ১৬
তিনি অন্যত্র বলেন,
وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ
আল্লাহকে বেশি বেশি যিকিরকারী ও যিকিরকারিণীগণ।১৭
তিনি আরও বলেন,
فَإِذَا قَضَيْتُمْ مَنَاسِكَكُمْ فَاذْكُرُوا اللَّهَ كَذِكْرِكُمْ آبَاءَكُمْ أَوْ أَشَدَّ ذِكْرًا
তোমরা যখন তোমাদের হজের করণীয় কার্যাবলী সমাপ্ত করবে, তখন বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করবে, যেমনভাবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করতে অথবা তার চেয়েও বেশি যিকির করবে। ১৮
টিকাঃ
১৫. সূরা আনফাল, আয়াত: ৪৫
১৬. সূরা আহযাব, আয়াত: ৪১
১৭. সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৫
১৮. সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২০০
📄 যিকরুল্লাহ সবচেয়ে সহজ ইবাদত
৩১. যিকরুল্লাহ সবচেয়ে সহজ অথচ সবচেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। কেননা অন্যান্য ইবাদতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পরিচালনা ও আন্দোলিত করার চেয়ে যিকিরে জিহ্বাকে পরিচালনা ও আন্দোলিত করা খুবই সহজ ও হালকা। দিনে-রাতে একজন মানুষকে যতবার জিহ্বা নাড়াতে ও পরিচালনা করতে হয়, ততবার যদি অন্য কোনো অঙ্গকে নাড়াতে ও পরিচালনা করতে হত, তবে তা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে যেত; বরং তার পক্ষে কোনোভাবেই তা সম্ভবপর হত না।
৩২. যিকরুল্লাহ জান্নাতের গাছ। আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'ইসরার রাতে ইবরাহীমের সাথে আমার সাক্ষাত হয়। তিনি আমাকে বলেন, 'ইয়া মুহাম্মাদ, আপনি আপনার উম্মাতকে আমার পক্ষ থেকে সালাম পৌঁছে দেবেন এবং তাদেরকে জানিয়ে দেবেন, জান্নাতের মাটি অতীব সুঘ্রাণযুক্ত, তার পানি খুবই সুমিষ্ট, তা একটি সমতল ভূমি এবং তার গাছপালা 'সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ওয়াল্লাহু আকবার'।৩৩
টিকাঃ
৩২. সুনানুত তিরমিযী, ২৯২৬, হাদিসটি দুর্বল।
৩৩. সুনানুত তিরমিযী, ৩৪৬২, হাদিসটি হাসান বা গ্রহণযোগ্য।