📄 ইবনু আব্বাস (রা.) ও দাহহাক রহ. এর তাওয়িল
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. ও দাহহাক রহ. আল্লাহ তাআলার 'আসা' (أَنْ يَأْتِيَهُمُ) -কে তাওয়িল করেছেন— তাঁর 'নির্দেশ' আসবে।— [কুরতুবি : ৭/১২৯]
হাসান বসরি রহ. তাঁর 'আগমন' (المجيئ) -কে তাওয়িল করেছেন— তাঁর আদেশ ও সিদ্ধান্তের আগমন হবে।— [বাগাওয়ি : ৪/৪৫৪]
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. ও আরও অনেকে 'কুরসি'কে তাওয়িল করেছেন 'ইলম' বলে।— [ইবনু আবি হাতিম : ২/৪৯০]
ইবনু আব্বাস রা., মুজাহিদ ও দাহহাক রহ. পায়ের গোছা (ساق) -কে তাওয়িল করেছেন অবস্থার বিভীষিকা ও প্রচণ্ডতা বলে। [তাবারি, ইবনু আবি হাতিম প্রভৃতি]
ইবনু আব্বাস রা.-সহ আরও অনেকে হাতসমূহ (أيد) -কে তাওয়িল করেছেন 'শক্তি' দ্বারা। [তাবারি: ১১/৪৭২]
আ'মাশ রহ. দ্রুত চলা (هرولة) -কে তাওয়িল করেছেন ক্ষমা ও রহমত দ্বারা।— [তিরমিজি: ৫/৫৮১]
আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. 'আল্লাহর পার্শ্ব' (كنف) -কে তাওয়িল করেছেন 'ছায়া ও আশ্রয়' দ্বারা।— [খালকু আফআলিল ইবাদ, বুখারি : ৭৮]
ইমাম মালিক রহ. 'আল্লাহর নেমে আসা' (نزول) -কে তাওয়িল করেছেন 'নির্দেশ ও রহমত নাজিল হওয়া' দ্বারা।— [আত-তামহিদ: ৭/১৪৩; সিয়ার : ৮/১০৫]
হাসান বসরি ও নজর ইবনু শুমায়ল রহ. 'আল্লাহর পা' (قدم) -কে তাওয়িল করেছেন 'পূর্বে যাদের ব্যাপারে ইলম রয়েছে' বলে। — [আসমা-সিফাত, বায়হাকি : ৩৫২; দাফউ শুবাহিত তাশবিহ: ৮১]
ইবনু হিব্বান রহ. একই শব্দের তাওয়িল করেছেন 'স্থান' দ্বারা। [সহিহ ইবনু হিব্বান : ১/৫০২]
সুফয়ান ইবনু উয়ায়না রহ. 'রহমানের পদক্ষেপ' (وطأة) -কে তাওয়িল করেছেন বিজয় ও সাহায্য দ্বারা।— [তাওয়িলু মুখতালিফিল হাদিস, ইবনু কুতায়বা : ২১৩]
মুজাহিদ ও শাফিয়ি রহ. 'যেদিকে মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা রয়েছে' (فثم وجه الله) -কে তাওয়িল করেছেন— সেদিকেই আল্লাহর কিবলা রয়েছে।— [মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমিয়া]
এছাড়াও আবু উবায়দ কাসিম ইবনু সাল্লাম থেকেও তাওয়িল বর্ণিত রয়েছে।— [লিসানুল আরব: ১/২০৬]
📄 ইমাম বুখারি রহ.-এর তাওয়িল
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: يَضْحَكُ اللَّهُ مِنْ رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ كِلَاهُمَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ
আল্লাহ এমন দুই ব্যক্তিকে দেখে হাসেন, যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে, অনন্তর উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। [আস-সুনানুল কুবরা, বায়হাকি : ১৮৫৩২]
ইমাম বায়হাকি রহ. লেখেন : قَالَ الشَّيْخُ: وَأَمَّا الضَّحِكُ الْمَذْكُورُ فِي الْخَبَرِ فَقَدْ رَوَى الْفِرَبْرِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ أَنَّهُ قَالَ: «مَعْنَى الضَّحِكِ فِيهِ الرَّحْمَةُ»
হাদিসে বর্ণিত 'হাসা' শব্দটির ব্যাপারে ইমাম বুখারি রহ. বলেছেন, 'হাদিসের হাসার অর্থ হচ্ছে রহমত'। [আল-আসমা ওয়াস সিফাত, বায়হাকি : ২/৭৯]
ইমাম বুখারি রহ. তার 'সহিহ' গ্রন্থে লেখেন : {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ} [القصص: 88] : إلا ملكه، وَيُقَالُ: إِلَّا مَا أُرِيدَ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ
'তাঁর চেহারা ব্যতীত সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল' (কাসাস : ৮৮)— এই আয়াতে 'তাঁর চেহারা' অর্থ হলো, 'তাঁর রাজত্ব'। আরেকটি মত হলো, 'এমন আমল, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে করা হয়েছে'। [সহিহ বুখারি, সুরা কাসাসের তাফসির]
বঙ্গদেশীয় আসারিরাও আয়াতে উল্লেখিত 'চেহারা' দ্বারা সত্তা উদ্দেশ্য নিয়েছে। শায়খ আবদুল হামিদ ফাইযি মাদানি থেকে শায়খ আবু বকর যাকারিয়া— এ ক্ষেত্রে তাওয়িল করতে কেউ ত্রুটি করেনি। শায়খ যাকারিয়া সিফাত অস্বীকারকারী ট্যাগ থেকে পিঠ বাঁচাতে মূলনীতি থেকে সরে গিয়ে একইসঙ্গে শব্দের মূল অর্থ ও রূপক অর্থ উভয়টি গ্রহণ করেছেন! তবে এখানে যে এ দ্বারা মূলত 'সত্তা' উদ্দেশ্য, তা-ও নির্দ্বিধায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।