📘 ভ্রান্তির বেড়াজালে নব্য সালাফী আকিদা 📄 যে যে সালফে সালেহিন তাওয়িল করেছেন

📄 যে যে সালফে সালেহিন তাওয়িল করেছেন


তাওয়িলের অর্থ যখন জানা হলো, তখন (এ কথাও জেনে রাখা প্রয়োজন যে,) যখন শর্ত বাস্তবায়িত হবে, তখন তাওয়িল গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য হবে। সাহাবাযুগ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত সর্বযুগে সব এলাকার আলিমরা কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়া এর ওপর অব্যাহতভাবে আমল করে আসছেন। [আল-ইহকাম : ৩/৬০]

এবার পাঠক, আপনিই বলতে পারবেন, সালাফি নাম ধারণ করে সালাফদের স্বীকৃত মানহাজের ওপর আপত্তি করাই কি সালাফিদের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত নাকি বিনা বাক্যব্যয়ে তা মেনে নেওয়া তাদের স্বভাববৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত?

এখানে আমরা সালাফে সালেহিন বলতে প্রথমে যাদেরকে বোঝায়, তাদের কিছু তাওয়িলের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করতে পারি।

📘 ভ্রান্তির বেড়াজালে নব্য সালাফী আকিদা 📄 ইবনু আব্বাস (রা.) ও দাহহাক রহ. এর তাওয়িল

📄 ইবনু আব্বাস (রা.) ও দাহহাক রহ. এর তাওয়িল


আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. ও দাহহাক রহ. আল্লাহ তাআলার 'আসা' (أَنْ يَأْتِيَهُمُ) -কে তাওয়িল করেছেন— তাঁর 'নির্দেশ' আসবে।— [কুরতুবি : ৭/১২৯]

হাসান বসরি রহ. তাঁর 'আগমন' (المجيئ) -কে তাওয়িল করেছেন— তাঁর আদেশ ও সিদ্ধান্তের আগমন হবে।— [বাগাওয়ি : ৪/৪৫৪]

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. ও আরও অনেকে 'কুরসি'কে তাওয়িল করেছেন 'ইলম' বলে।— [ইবনু আবি হাতিম : ২/৪৯০]

ইবনু আব্বাস রা., মুজাহিদ ও দাহহাক রহ. পায়ের গোছা (ساق) -কে তাওয়িল করেছেন অবস্থার বিভীষিকা ও প্রচণ্ডতা বলে। [তাবারি, ইবনু আবি হাতিম প্রভৃতি]

ইবনু আব্বাস রা.-সহ আরও অনেকে হাতসমূহ (أيد) -কে তাওয়িল করেছেন 'শক্তি' দ্বারা। [তাবারি: ১১/৪৭২]

আ'মাশ রহ. দ্রুত চলা (هرولة) -কে তাওয়িল করেছেন ক্ষমা ও রহমত দ্বারা।— [তিরমিজি: ৫/৫৮১]

আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. 'আল্লাহর পার্শ্ব' (كنف) -কে তাওয়িল করেছেন 'ছায়া ও আশ্রয়' দ্বারা।— [খালকু আফআলিল ইবাদ, বুখারি : ৭৮]

ইমাম মালিক রহ. 'আল্লাহর নেমে আসা' (نزول) -কে তাওয়িল করেছেন 'নির্দেশ ও রহমত নাজিল হওয়া' দ্বারা।— [আত-তামহিদ: ৭/১৪৩; সিয়ার : ৮/১০৫]

হাসান বসরি ও নজর ইবনু শুমায়ল রহ. 'আল্লাহর পা' (قدم) -কে তাওয়িল করেছেন 'পূর্বে যাদের ব্যাপারে ইলম রয়েছে' বলে। — [আসমা-সিফাত, বায়হাকি : ৩৫২; দাফউ শুবাহিত তাশবিহ: ৮১]

ইবনু হিব্বান রহ. একই শব্দের তাওয়িল করেছেন 'স্থান' দ্বারা। [সহিহ ইবনু হিব্বান : ১/৫০২]

সুফয়ান ইবনু উয়ায়না রহ. 'রহমানের পদক্ষেপ' (وطأة) -কে তাওয়িল করেছেন বিজয় ও সাহায্য দ্বারা।— [তাওয়িলু মুখতালিফিল হাদিস, ইবনু কুতায়বা : ২১৩]

মুজাহিদ ও শাফিয়ি রহ. 'যেদিকে মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর চেহারা রয়েছে' (فثم وجه الله) -কে তাওয়িল করেছেন— সেদিকেই আল্লাহর কিবলা রয়েছে।— [মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমিয়া]

এছাড়াও আবু উবায়দ কাসিম ইবনু সাল্লাম থেকেও তাওয়িল বর্ণিত রয়েছে।— [লিসানুল আরব: ১/২০৬]

📘 ভ্রান্তির বেড়াজালে নব্য সালাফী আকিদা 📄 ইমাম বুখারি রহ.-এর তাওয়িল

📄 ইমাম বুখারি রহ.-এর তাওয়িল


রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন: يَضْحَكُ اللَّهُ مِنْ رَجُلَيْنِ يَقْتُلُ أَحَدُهُمَا الْآخَرَ كِلَاهُمَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ
আল্লাহ এমন দুই ব্যক্তিকে দেখে হাসেন, যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করে, অনন্তর উভয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে। [আস-সুনানুল কুবরা, বায়হাকি : ১৮৫৩২]

ইমাম বায়হাকি রহ. লেখেন : قَالَ الشَّيْخُ: وَأَمَّا الضَّحِكُ الْمَذْكُورُ فِي الْخَبَرِ فَقَدْ رَوَى الْفِرَبْرِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ الْبُخَارِيِّ رَحِمَهُ اللَّهُ أَنَّهُ قَالَ: «مَعْنَى الضَّحِكِ فِيهِ الرَّحْمَةُ»
হাদিসে বর্ণিত 'হাসা' শব্দটির ব্যাপারে ইমাম বুখারি রহ. বলেছেন, 'হাদিসের হাসার অর্থ হচ্ছে রহমত'। [আল-আসমা ওয়াস সিফাত, বায়হাকি : ২/৭৯]

ইমাম বুখারি রহ. তার 'সহিহ' গ্রন্থে লেখেন : {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ} [القصص: 88] : إلا ملكه، وَيُقَالُ: إِلَّا مَا أُرِيدَ بِهِ وَجْهُ اللَّهِ
'তাঁর চেহারা ব্যতীত সমস্ত কিছুই ধ্বংসশীল' (কাসাস : ৮৮)— এই আয়াতে 'তাঁর চেহারা' অর্থ হলো, 'তাঁর রাজত্ব'। আরেকটি মত হলো, 'এমন আমল, যা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে করা হয়েছে'। [সহিহ বুখারি, সুরা কাসাসের তাফসির]

বঙ্গদেশীয় আসারিরাও আয়াতে উল্লেখিত 'চেহারা' দ্বারা সত্তা উদ্দেশ্য নিয়েছে। শায়খ আবদুল হামিদ ফাইযি মাদানি থেকে শায়খ আবু বকর যাকারিয়া— এ ক্ষেত্রে তাওয়িল করতে কেউ ত্রুটি করেনি। শায়খ যাকারিয়া সিফাত অস্বীকারকারী ট্যাগ থেকে পিঠ বাঁচাতে মূলনীতি থেকে সরে গিয়ে একইসঙ্গে শব্দের মূল অর্থ ও রূপক অর্থ উভয়টি গ্রহণ করেছেন! তবে এখানে যে এ দ্বারা মূলত 'সত্তা' উদ্দেশ্য, তা-ও নির্দ্বিধায় স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px