📘 ভ্রান্তির বেড়াজালে নব্য সালাফী আকিদা 📄 আল্লামা তাজউদ্দীন আস সুবকী রহ.-এর বক্তব্য

📄 আল্লামা তাজউদ্দীন আস সুবকী রহ.-এর বক্তব্য


ইমাম তাজউদ্দীন আস সুবকী রহঃ বলেন-
"জেনে রেখ, ওয়াজিব (ফরজ), জায়েজ, হালাল-হারাম মনে করার আক্বীদায় আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সকলে (অর্থাৎ প্রত্যেক অংশ) একই আক্বীদায় একমত। যদিও তারা পরস্পরে পদ্ধতিগত এবং অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য নীতিগত (তথা ফুরুয়ী) ইখতেলাফ করে থাকে। মোটকথা ব্যাপক অনুসন্ধান ও তাহকিকের পর জানা গেছে তারা (আহলুস সুন্নাহ) তিনটি বড় দলে বিভক্তঃ

প্রথম দলঃ আহলুল হাদীস (তথা হাদীস শাস্ত্রের মহাপন্ডিতগণ বা আছারীগণ)। তাদের অনুসৃত নীতিমালা হচ্ছে শ্রুতির দলিল, অর্থাৎ আমি বুঝাতে চাচ্ছি— কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা।

২য় দলঃ আহলুন নজর ওয়াল আকুল যুক্তিবাদী ও দর্শন শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জনকারীগণ, এরা হচ্ছেন— আশআরী এবং হানাফিয়্যাগন (তথা মাতুরিদীগণ)। আশায়েরা আক্বীদার শায়খ হচ্ছেন ইমাম আবুল হাসান আল আশ'আরী এবং হানাফিয়্যাদের (আক্বীদার) শায়খ হচ্ছেন ইমাম আবু মানসূর আল মাতুরিদী।

৩য় দলঃ আহলে উইজদান ও কাশফ ওয়ালগণ। এবং তারা হচ্ছেন সূফীগণ (তথা সুন্নাহ পন্থী সূফীগণ, যেমন— ইমাম জুনায়দ বাগদাদি, আবু বকর শিবলী, আব্দুল্লাহ তাসতুরী, সুলাইমান দারানী, শায়খ আব্দুল কাদের আল জীলানি রহঃ প্রমুখ)। এবং তাদের অনুসৃত নীতিমালা হচ্ছে— সূচনালগ্নে এরা আহলুল হাদিস ও আহলুন নজর (সহিহ যুক্তিবাদী) দের অনুসৃত নীতিমালা অনুযায়ী চলে, আর শেষে কাশফ ও ইলহাম অনুযায়ী ভালো-মন্দের সিদ্ধান্ত নেন।" [ইশারাতুল মারাম মিন ইবারাতিল ইমাম, হাশিয়া, পৃঃ ২৯৮; ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাক্বীন, মুরতাযা যুবাইদী ২/৬; শারহু আক্বীদাতিল ইমাম ইবনু হাজেব আল মালেকী, তাজউদ্দীন আস সুবকী]

উল্লেখ্য যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের স্বতঃসিদ্ধ আক্বিদা হচ্ছে আল্লাহ ওয়ালা নেককার দের আল্লাহর তরফ থেকে কাশফ ইলহাম কারামতের ছুরতে হয়ে থাকে। কাশফ মানে অপ্রকাশ্য জিনিস উন্মোচন হয়ে যাওয়া আর ইলহাম মানে মনের মাঝে আল্লাহর পক্ষ থেকে ভালো-মন্দের উদ্রেক হওয়া, যেমনটি সূরা শামসের মাঝে আল্লাহ তা'লা ইরশাদ করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية