📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 ঐতিহাসিক মসজিদগুলোকে মন্দিরে পরিণত করা দাবী

📄 ঐতিহাসিক মসজিদগুলোকে মন্দিরে পরিণত করা দাবী


বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ১৯৮৪ সালে ৭,৮ এপ্রিল এক গুপ্ত সম্মেলন আহবান করে। এতে সারা ভারতের বিপুল সংখ্যক চরমপন্থী হিন্দু অংশ গ্রহণ করে। সম্মেলনে মুসলিম জাতি গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে বিনাশ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব পাশ হয়। সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতের বুক থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ (Ethnic cleansing) এবং স্বতন্ত্র সম্প্রদায় হিসেবে তারা যেন পরিচয় দিতে না পারে। বেনারসের জ্ঞানবাকী মসজিদ, মথুরার ঈদগাহ ও অযোধ্যার বাবরী মসজিদকে মুসলমানদের হাত থেকে মুক্ত করে যথাক্রমে প্রথমটাকে বিষুনাথের মন্দির, দ্বিতীয়টিকে কৃষ্ণ জন্মভূমি ও তৃতীয়টিকে রাম জন্মভূমিতে পরিণত করার দাবী জানানো হয়। ইতোমধ্যে বিশ্বহিন্দু পরিষদ দিল্লির কুতুব মিনার আগ্রার তাজমহলের নিচে মন্দির থাকার কাল্পনিক তথ্য প্রচার করে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ভেঙে ফেলার দাবী জানায়।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (RSS) সাধারণ হিন্দু জনগণকে একথা বুঝাবার চেষ্টা করে যে, বর্তমানে যেখানে বাবরী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত সেখানে ষোড়শ শতাব্দীর আগে জহিরুদ্দীন মুহামমদ বাবর এটা ভেঙ্গে মসজিদ তৈরী করেন। গোটা ভারতের ইংরেজী ও হিন্দী সংবাদপত্র সমূহ অত্যন্ত জোরালো ভাষায় রামজন্ম ভূমির পক্ষে উম্মত্ত প্রচারণা চালাতে থাকে। ১৯৮৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারী মসজিদের তালা আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়। আগে থেকেই মসজিদের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মুর্তি স্থাপন করা হয়। এটা ছিল বড় ধরণের ঘুর্ণিঝড়ের বিপদ সঙ্কেত। আতঙ্ক ও দূর্যোগের ঘণঘটায় আচ্ছন্ন পরিবেশে দ্বীনি, জাতীয় গবেষণা, শিক্ষা বিষয়ক কোন কাজ হতে পারেনা। সম্পদ্রায় হিসেবে মুসলামনদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বই সংকটের আবর্তে পড়ে যায়। বাবরী মসজিদ রাম জন্ম ভূমিতে তৈরী হয়েছে এ গুজব ও প্রোপাগান্ডা খন্ডন করে লক্ষ্ণৌর ইসলামিক রিসার্চ ও পাবলিকেশন একাডেমী, আজমগড়ের দারুল মুসান্নিফীনের পক্ষ হতে বিজ্ঞ হিন্দু ও মুসলমানের লেখায় সমৃদ্ধ অনেক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ বেরিয়েছে। এসব নিবন্ধে বিজ্ঞ লেখকগণ প্রমাণ করেছেন যে, বাবর কোন মন্দিরকে ধ্বংস করে মসজিদ বানিয়েছেন এমন কোন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই। থাকলেও তা বিতর্কিত স্থানের বাইরে। এ বিষয়ে আজমগড়ের দারুল মুসান্নিফীনের পরিচালক মাওলানা সাইয়েদ সাবাহুদ্দীন এম.এ রচিত 'বাবরী মসজিদ তারিখী পাস মান্যার আওর পেশ নযর কী রৌশনী মে' বিশেষ প্রশংসার দাবী রাখে। এছাড়া ড.আর. এল. শাকলা, চৈতানন্দ দাশ প্রমুখ বিজ্ঞ লেখকগণও বাবরী মসজিদ ও রামমন্দির ইস্যু নিয়ে পক্ষপাতহীন ও বাস্তবোচিত নিবন্ধ লিখে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ১৯৮৪ সালে ৭,৮ এপ্রিল এক গুপ্ত সম্মেলন আহবান করে। এতে সারা ভারতের বিপুল সংখ্যক চরমপন্থী হিন্দু অংশ গ্রহণ করে। সম্মেলনে মুসলিম জাতি গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র অস্তিত্বকে বিনাশ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব পাশ হয়। সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতের বুক থেকে মুসলমানদের উচ্ছেদ (Ethnic cleansing) এবং স্বতন্ত্র সম্প্রদায় হিসেবে তারা যেন পরিচয় দিতে না পারে। বেনারসের জ্ঞানবাকী মসজিদ, মথুরার ঈদগাহ ও অযোধ্যার বাবরী মসজিদকে মুসলমানদের হাত থেকে মুক্ত করে যথাক্রমে প্রথমটাকে বিষুনাথের মন্দির, দ্বিতীয়টিকে কৃষ্ণ জন্মভূমি ও তৃতীয়টিকে রাম জন্মভূমিতে পরিণত করার দাবী জানানো হয়। ইতোমধ্যে বিশ্বহিন্দু পরিষদ দিল্লির কুতুব মিনার আগ্রার তাজমহলের নিচে মন্দির থাকার কাল্পনিক তথ্য প্রচার করে এসব ঐতিহাসিক নিদর্শন ভেঙে ফেলার দাবী জানায়।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও বজরং দল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (RSS) সাধারণ হিন্দু জনগণকে একথা বুঝাবার চেষ্টা করে যে, বর্তমানে যেখানে বাবরী মসজিদ প্রতিষ্ঠিত সেখানে ষোড়শ শতাব্দীর আগে জহিরুদ্দীন মুহামমদ বাবর এটা ভেঙ্গে মসজিদ তৈরী করেন। গোটা ভারতের ইংরেজী ও হিন্দী সংবাদপত্র সমূহ অত্যন্ত জোরালো ভাষায় রামজন্ম ভূমির পক্ষে উম্মত্ত প্রচারণা চালাতে থাকে। ১৯৮৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারী মসজিদের তালা আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা হয়। আগে থেকেই মসজিদের অভ্যন্তরে বিভিন্ন মুর্তি স্থাপন করা হয়। এটা ছিল বড় ধরণের ঘুর্ণিঝড়ের বিপদ সঙ্কেত। আতঙ্ক ও দূর্যোগের ঘণঘটায় আচ্ছন্ন পরিবেশে দ্বীনি, জাতীয় গবেষণা, শিক্ষা বিষয়ক কোন কাজ হতে পারেনা। সম্পদ্রায় হিসেবে মুসলামনদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বই সংকটের আবর্তে পড়ে যায়। বাবরী মসজিদ রাম জন্ম ভূমিতে তৈরী হয়েছে এ গুজব ও প্রোপাগান্ডা খন্ডন করে লক্ষ্ণৌর ইসলামিক রিসার্চ ও পাবলিকেশন একাডেমী, আজমগড়ের দারুল মুসান্নিফীনের পক্ষ হতে বিজ্ঞ হিন্দু ও মুসলমানের লেখায় সমৃদ্ধ অনেক, প্রবন্ধ-নিবন্ধ বেরিয়েছে। এসব নিবন্ধে বিজ্ঞ লেখকগণ প্রমাণ করেছেন যে, বাবর কোন মন্দিরকে ধ্বংস করে মসজিদ বানিয়েছেন এমন কোন ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই। থাকলেও তা বিতর্কিত স্থানের বাইরে। এ বিষয়ে আজমগড়ের দারুল মুসান্নিফীনের পরিচালক মাওলানা সাইয়েদ সাবাহুদ্দীন এম.এ রচিত 'বাবরী মসজিদ তারিখী পাস মান্যার আওর পেশ নযর কী রৌশনী মে' বিশেষ প্রশংসার দাবী রাখে। এছাড়া ড.আর. এল. শাকলা, চৈতানন্দ দাশ প্রমুখ বিজ্ঞ লেখকগণও বাবরী মসজিদ ও রামমন্দির ইস্যু নিয়ে পক্ষপাতহীন ও বাস্তবোচিত নিবন্ধ লিখে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 ঘুমন্ত অস্থিরতাকে জাগিয়ে তোলা অনুচিত

📄 ঘুমন্ত অস্থিরতাকে জাগিয়ে তোলা অনুচিত


আমি প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে লিখিত এক পত্রে বলেছিলাম: ইতিহাসের চাকাকে উল্টো দিকে ঘুরাতে গেলে অপ্রয়োজনীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এটা একটি ঘুমন্ত বাঘ, তাকে জাগানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় গুলোর বিষয়ে ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে সত্য-মিথ্যা তথ্যাদি বের করে পুরণো অবয়বে ফিরে নেয়ার দাবী- একটি বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দেবে এবং এর ধারাবাহিকতা শেষ হবার নয়। আমি প্রথম এ পরামর্শই দিয়েছি। অতঃপর প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী রাজীবগান্ধীকেও বলেছি যে, সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করুক যে, প্রতিটি সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলো ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্টের পূর্ববর্তী অবস্থায় থাকবে। কোন সম্প্রদায়ের অপর সম্প্রদায়ের উপাসনালয় দখল করার অথবা কল্পিত পুরণো অবয়বে ফিরে নেয়ার অনুমতি দেয়া যাবেনা।

বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আমার আন্তরিক পরামর্শ তাঁরা যেন উপাসনালয় ও পবিত্র স্থান সমূহের পরিবর্তন ও পরিবর্দ্ধন করার বা আধিপত্য বিস্তারের অনুমতি না দেন। ইতিহাসকে পেছনের দিকে নেয়ার পরিবর্তে সামনে দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ কারণ- জীবন চলমান ও প্রবাহমান। পৃথিবী দ্রুততর সাথে উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের দেশ বিশেষভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সমস্যায় জর্জরিত। কল্যানকামিতা, মানবতা, শান্তিপ্রিয়তা ও নৈতিকতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে এদেশকে পৃথিবীর নৈতিক নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হতে হবে। এটা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাভাবিকতা। পৃথিবীর বৃহত্তর শক্তিগুলো এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে এবং দুর্নামের ভাগী হয়েছে অনেকাংশে।

আমি প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে লিখিত এক পত্রে বলেছিলাম: ইতিহাসের চাকাকে উল্টো দিকে ঘুরাতে গেলে অপ্রয়োজনীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এটা একটি ঘুমন্ত বাঘ, তাকে জাগানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় গুলোর বিষয়ে ইতিহাসের ধ্বংসস্তূপ থেকে সত্য-মিথ্যা তথ্যাদি বের করে পুরণো অবয়বে ফিরে নেয়ার দাবী- একটি বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দেবে এবং এর ধারাবাহিকতা শেষ হবার নয়। আমি প্রথম এ পরামর্শই দিয়েছি। অতঃপর প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী রাজীবগান্ধীকেও বলেছি যে, সরকার প্রকাশ্যে ঘোষণা করুক যে, প্রতিটি সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলো ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্টের পূর্ববর্তী অবস্থায় থাকবে। কোন সম্প্রদায়ের অপর সম্প্রদায়ের উপাসনালয় দখল করার অথবা কল্পিত পুরণো অবয়বে ফিরে নেয়ার অনুমতি দেয়া যাবেনা।

বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আমার আন্তরিক পরামর্শ তাঁরা যেন উপাসনালয় ও পবিত্র স্থান সমূহের পরিবর্তন ও পরিবর্দ্ধন করার বা আধিপত্য বিস্তারের অনুমতি না দেন। ইতিহাসকে পেছনের দিকে নেয়ার পরিবর্তে সামনে দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ কারণ- জীবন চলমান ও প্রবাহমান। পৃথিবী দ্রুততর সাথে উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে। আমাদের দেশ বিশেষভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর সমস্যায় জর্জরিত। কল্যানকামিতা, মানবতা, শান্তিপ্রিয়তা ও নৈতিকতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে এদেশকে পৃথিবীর নৈতিক নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হতে হবে। এটা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্বাভাবিকতা। পৃথিবীর বৃহত্তর শক্তিগুলো এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে এবং দুর্নামের ভাগী হয়েছে অনেকাংশে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px