📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 মনীষা প্রসবিনী ভারতবর্ষের ইসলামী বংশধারা

📄 মনীষা প্রসবিনী ভারতবর্ষের ইসলামী বংশধারা


ভারত বর্ষের কতিপয় মনীষীদের উদাহরণ পেশ করা হল যারা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্ব ও অনন্য সফলতার সাক্ষর রেখেছেন। 'নুযহাতুল খাওয়াতির' নামক আট খন্ডে সমাপ্ত বিশাল গ্রন্থটি পাঁচ হাজার মহান ব্যক্তিত্বের আলোচনায় সমৃদ্ধ। এক নজরে এর মূল্যায়ন করলে এই জনপদ থেকে সৃষ্ট বহুমাত্রিক প্রতিভাধর মহান ব্যক্তিত্বদের এক আলোকোজ্জ্বল ধারণা লাভ করা যায়।

মুসলমানরা ভারত বর্ষে নিষ্ঠার সাথে ইসলামের পবিত্র বৃক্ষের চারা রোপন করেছেন। আর পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী মুজাহিদীনগণ কলিজার পবিত্র খুন ঢেলে যুগে যুগে এই জমিকে উর্বর করেছেন। বিশ্ব স্রষ্টার করুনায় যা আজো বরাবরই ফসল উৎপাদন করে যাচ্ছে। এখানে যুগে যুগে প্রবাদপ্রতীম, যুগ শ্রেষ্ঠ এমন কীর্তিমান পুরুষগণ জন্ম নিয়েছেন, যারা অন্যান্য মনীষীদের তুলনায় অত্যাশ্চর্য ধীশক্তি, বিরল প্রতিভা এবং আল্লাহ প্রদত্ত যোগ্যতায় বিস্ময়কর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেন। ঔপনিবেশিক বৃটিশ বেনিয়া গোষ্ঠীর শাসনামলে যখন মুসলমানদের চিন্তা ও চেতনা বিনাশী সুপরিকল্পিত নীল নকশার বাস্তবায়ন চলছিল তখনো মুসলমানদের মাঝে শীর্ষস্থানীয় আইনবিদ, সাহিত্যিক, সব্যসাচী লেখক, অংক শাস্ত্র বিদ, দার্শনিক রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক এবং রসায়ন শাস্ত্রে এমনসব বিশেষজ্ঞ সর্বোপরি ইংরেজী ভাষায় পারদর্শী সাহিত্যিক, ও বিশ্লেষক সৃষ্টি হয়েছিলেন যাদের ইংরেজী সাহিত্য, পান্ডিত্য, বাগ্মীতা এবং অসাধারণ ক্ষুরধার লেখনী বিস্ময়কর প্রতিভার স্বীকৃতি ইংরেজরা পর্যন্ত না দিয়ে পারেনি। এমন কীর্তিমান পুরুষ আইন প্রণেতা, আইনবিদ, বাগ্মী, উঁচুমানের সুবক্তা ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে জন্ম নিয়েছেন যারা গোটা বিশ্বের বড় মাপের বিজ্ঞ ব্যক্তিদের প্রথম কাতারে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।

মুসলিম জনগোষ্ঠীর মাঝে এমন সব বিস্ময়কর কবি, চিন্তাবিদ, প্রাজ্ঞ বিশ্লেষক যাদের পয়গাম, কাব্য খ্যাতি ও গ্রহণযোগ্যতা ইরান, আফগানিস্তান এবং তুরস্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাঁদের রচনা, বক্তব্য, মুসলিম বিশ্বের একাধিক ভাষায় অনূদিত ও ভাষান্তরিত হয়েছে।¹ আরবী সভ্যতা ও সংস্কৃতিকেও আজো এ জাতি বুকে আঁকড়ে আছে নিবিড় মমতায় বরং তাতে সৃজনশীল পরিবর্ধন ও নবসংযোজন অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের সামনে ঘটনা প্রবাহ এবং বাস্তবতার যে প্রত্যক্ষ চিত্র রয়েছে তা থেকে বরাবরই এ আশা পোষণ যৌক্তিক যে, অদূর ভবিষ্যতে আরবী সাহিত্যের এক নতুন চিন্তাধারা এবং নতুন আঙ্গিকে সাহিত্য রীতির উদ্ভব ঘটবে যা সাহিত্য, অধ্যাত্মিক চেতনা, ঈমান, দাওয়াত এবং সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দু রূপে পরিগণিত হবে।

এসব জ্যোতির্ময় বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করে বলা যায় ভারত বর্ষের মুসলমান জনগোষ্ঠী যারা আজ ইতিহাসের নাজুক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে হাজারো প্রতিকূলতার ভয়াল তরঙ্গাভিঘাতেও সমহিমায় স্বীয় অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম। এ জন্য প্রবল ও বহুমুখী তৎপরতা যেমন আছে তেমনি আছে এ মাটির মহান মনীষীদের অমর ব্যক্তিত্বের যুগান্তকারী প্রভাবও।

টিকাঃ
১. যথা- সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.): বিরচিত 'রাওয়াইউল ইকবাল' দ্রষ্টব্য, উর্দু তরজমা, 'নুকুশে ইকবাল'; ইংরেজী অনুবাদ- GLORY OF IQBAL

ফন্ট সাইজ
15px
17px