📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 শুদ্ধি ও সংগঠন, তাবলীগ ও তানজীম

📄 শুদ্ধি ও সংগঠন, তাবলীগ ও তানজীম


এই কেন্দ্রবিন্দু হতেই সংগঠন ও শুদ্ধি অভিযান শুরু হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে এর দায়ী ও প্রচারকগণ। এর বিপরীতে গড়ে উঠে ইসলাম প্রচারের স্বতন্ত্র শিবির। শুরু হয় তানজীম আন্দোলন। ধর্মীয় বিতর্ক, বক্তব্য ও জলসার এক অশেষ ধারা শুরু হয়ে যায়। ফলে উপমহাদেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামার এক সাইমুম ঝড় বইতে থাকে যার আবর্তে তালগোল পাকিয়ে যায় সমগ্র দেশের পরিস্থিতি। এই নাজুক পরিস্থিতিতেও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং অনুষ্ঠিত হতে থাকে এর সভা-সমাবেশ। ১৯২৩ সালের বিশেষ সভার সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ। সে বছরের বার্ষিক অধিবেশন মাওলানা মুহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে 'কুকনাড়ে' অনুষ্ঠিত হয়।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 সাম্প্রদায়িক দাবানল

📄 সাম্প্রদায়িক দাবানল


সাম্প্রদায়িক দ্বন্ধ-কলহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এমনকি ১৯২৭ সালের মাত্র মাস দু'য়েকের মধ্যে পঁচিশটি হাঙ্গামা হয়। এই দাঙ্গাগুলোই ছিল সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয়। প্রত্যেকের মূখে রাতদিন এই একটিই আলোচনা। কংগ্রেস ও খিলাফত আন্দোলনের নেতাদের ক্ষমতা ছিল না যে, তারা এই দাঙ্গা-ফ্যাসাদ রুখে দাঁড়াবে এবং হিন্দু মুসলমান ঐক্যের সেই সোনালী যুগে নিয়ে যাবে, যখন পরস্পরে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস, শান্তি ও সুখের নির্মল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। সারকথা, এভাবে উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে দূরত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাশাপাশি নেতাদের মাঝেও বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা দেখা দেয়। হিন্দু-মুসলমান কেউ এ বাস্তবতা এড়াতে পারেননি।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 বিচ্ছিন্নতার ক্রমবর্ধমানে প্রবণতা

📄 বিচ্ছিন্নতার ক্রমবর্ধমানে প্রবণতা


লোকেরা ভাবতে শুরু করলো যে, দেশের জাতীয় নেতাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা শীতল হয়ে যাচ্ছে এবং তাঁরা সাম্প্রদায়িক শিবিরে অংশ গ্রহণ করছেন। নেতাগণ ধর্মীয় শ্লোগান ও আবেগ-অনুভূতিতে প্রভাবিত হয়ে ভাবনার ঘোড়া দৌড়াতে শুরু করেছেন। মুসলমানদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ মনে করছিলেন যে, হিন্দু নেতারা (যাদের প্রধান ছিলেন গান্ধীজী) দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থামানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা সে দৃঢ় সংকল্প ও চেষ্টা-উদ্যমের প্রমাণ দেননি, যা তাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও শক্তির অধিকারী হওয়ার কারণে তাঁদের পক্ষে এটা সম্ভব ছিল যে, তাঁরা পরিপূর্ণ নিরপেক্ষতা ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এই বিস্তৃত দাবানলকে থামিয়ে দিবেন, যা দেশের শান্তি ও ঐক্যের সেই সোনালী পরিবেশকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

এই ধারণা সঠিক হোক বা ভুল, কিংবা এতে অতিরঞ্জনের আশ্রয় নেয়া হোক, এই ধারণা ও অনুভূতি বহু এমন মুসলিম নেতাকে কংগ্রেস থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যারা জাতীয় আযাদী আন্দোলনের অগ্রপথিক ছিলেন, গোটা জাতির মনমানসে স্বাধীনতার স্পৃহা ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন এবং দেশসেবা ও ইংরেজ বিরোধিতায় যাদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তাঁরা এবার নিজেদের মনোযোগ ও তৎপরতা মুসলমানদের বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করা সমীচীন মনে করেন।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 মুসলমানদের জাতীয় ঐক্য ও বিভক্তির দাবী

📄 মুসলমানদের জাতীয় ঐক্য ও বিভক্তির দাবী


এভাবে মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও তাঁর বহু সাথী-সঙ্গী কংগ্রেস থেকে ইস্তেফা দিয়ে মুসলমানদের জাতীয় শিবিরে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। সময়ের বিবর্তনে মুসলমানদের মধ্যে দেশবিভাগের মনোভাব চাঙ্গা ও তীব্র হতে থাকে। বিভক্তি আন্দোলনে মিষ্টার মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করতে থাকেন। ১৯৩৭ সালে মি. জিন্নাহ মুসলিম লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং মাত্র ক'বছরের মধ্যে এটা ভারতীয় মুসলমানদের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনে পরিণত হয়। মুসলমানদের এক বৃহৎ অংশের উষ্ণ সমর্থনে বলীয়ান হয়ে এ আন্দোলন এক পর্যায়ে 'পাকিস্তান' সৃষ্টির দাবী তোলে। ভারতের সামাজিক অস্থিত্বে অনিয়ম, মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তার অভাব, রাষ্ট্রীয় অফিস-আদালতে সাম্প্রদায়িকতার তিক্ত অভিজ্ঞতা, আন্তঃসপ্রদায়ের পারস্পরিক অনাস্থা, রাজনৈতিক সচেতনতার অভাব ও পরস্পর কাঁদা ছুঁড়াছুড়ি মুসলমানদের এই দাবীকে আরো সুদৃঢ় করে। অবশেষে ১৯৪৭ সালে দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় অখন্ড ভারত। জন্ম নেয় পাকিস্তান রাষ্ট্রের। পরবর্তীতে পাকিস্তান বিভক্ত হয়ে সৃষ্টি হয় স্বাধীন বাংলাদেশের।

ফন্ট সাইজ
15px
17px