📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 ইংরেজ রাজনীতির তূণীর শেষ তীর

📄 ইংরেজ রাজনীতির তূণীর শেষ তীর


কিন্তু ইংরেজ রাজনীতি তার তুণীর শেষ তীর নিক্ষেপ করলো, যা সাধারণত প্রাচ্য দেশসমূহে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না। এই তীর ছিল সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও অন্তর্দ্বন্ধ সৃষ্টি করার তীর। একজন রাজপ্রতিনিধি (Viceroy) জনৈক হিন্দু নেতাকে এই কথা বুঝালো যে, হিন্দু ধর্ম প্রচার করুন এবং এদেশের অধিকাংশ হিন্দু মুসলমান হয়ে গেছে। তাদেরকে পুনরায় হিন্দুত্বের দিকে ফিরিয়ে আনুন। হিন্দু সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও সামরিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ও সুবিন্যাস্ত করুন। কেননা সে সময় খিলাফত ও স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের প্রাধান্য ও তৎপরতা, কর্মশক্তি ও বিন্যাস দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল তাদেরই হাতে। কারণ যে বিষয়টি সাধারণ জনতাকে অনুপ্রাণিত করতো তা ছিল ইসলামী বিষয়, যার সরাসরি সম্পর্ক ছিল খিলাফতের কেন্দ্রের সাথে।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 শুদ্ধি ও সংগঠন, তাবলীগ ও তানজীম

📄 শুদ্ধি ও সংগঠন, তাবলীগ ও তানজীম


এই কেন্দ্রবিন্দু হতেই সংগঠন ও শুদ্ধি অভিযান শুরু হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে এর দায়ী ও প্রচারকগণ। এর বিপরীতে গড়ে উঠে ইসলাম প্রচারের স্বতন্ত্র শিবির। শুরু হয় তানজীম আন্দোলন। ধর্মীয় বিতর্ক, বক্তব্য ও জলসার এক অশেষ ধারা শুরু হয়ে যায়। ফলে উপমহাদেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামার এক সাইমুম ঝড় বইতে থাকে যার আবর্তে তালগোল পাকিয়ে যায় সমগ্র দেশের পরিস্থিতি। এই নাজুক পরিস্থিতিতেও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং অনুষ্ঠিত হতে থাকে এর সভা-সমাবেশ। ১৯২৩ সালের বিশেষ সভার সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ। সে বছরের বার্ষিক অধিবেশন মাওলানা মুহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে 'কুকনাড়ে' অনুষ্ঠিত হয়।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 সাম্প্রদায়িক দাবানল

📄 সাম্প্রদায়িক দাবানল


সাম্প্রদায়িক দ্বন্ধ-কলহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এমনকি ১৯২৭ সালের মাত্র মাস দু'য়েকের মধ্যে পঁচিশটি হাঙ্গামা হয়। এই দাঙ্গাগুলোই ছিল সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয়। প্রত্যেকের মূখে রাতদিন এই একটিই আলোচনা। কংগ্রেস ও খিলাফত আন্দোলনের নেতাদের ক্ষমতা ছিল না যে, তারা এই দাঙ্গা-ফ্যাসাদ রুখে দাঁড়াবে এবং হিন্দু মুসলমান ঐক্যের সেই সোনালী যুগে নিয়ে যাবে, যখন পরস্পরে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস, শান্তি ও সুখের নির্মল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। সারকথা, এভাবে উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে দূরত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাশাপাশি নেতাদের মাঝেও বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা দেখা দেয়। হিন্দু-মুসলমান কেউ এ বাস্তবতা এড়াতে পারেননি।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 বিচ্ছিন্নতার ক্রমবর্ধমানে প্রবণতা

📄 বিচ্ছিন্নতার ক্রমবর্ধমানে প্রবণতা


লোকেরা ভাবতে শুরু করলো যে, দেশের জাতীয় নেতাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা শীতল হয়ে যাচ্ছে এবং তাঁরা সাম্প্রদায়িক শিবিরে অংশ গ্রহণ করছেন। নেতাগণ ধর্মীয় শ্লোগান ও আবেগ-অনুভূতিতে প্রভাবিত হয়ে ভাবনার ঘোড়া দৌড়াতে শুরু করেছেন। মুসলমানদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ মনে করছিলেন যে, হিন্দু নেতারা (যাদের প্রধান ছিলেন গান্ধীজী) দাঙ্গা-ফ্যাসাদ থামানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তারা সে দৃঢ় সংকল্প ও চেষ্টা-উদ্যমের প্রমাণ দেননি, যা তাদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও শক্তির অধিকারী হওয়ার কারণে তাঁদের পক্ষে এটা সম্ভব ছিল যে, তাঁরা পরিপূর্ণ নিরপেক্ষতা ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এই বিস্তৃত দাবানলকে থামিয়ে দিবেন, যা দেশের শান্তি ও ঐক্যের সেই সোনালী পরিবেশকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে।

এই ধারণা সঠিক হোক বা ভুল, কিংবা এতে অতিরঞ্জনের আশ্রয় নেয়া হোক, এই ধারণা ও অনুভূতি বহু এমন মুসলিম নেতাকে কংগ্রেস থেকে দূরে সরিয়ে দেয় যারা জাতীয় আযাদী আন্দোলনের অগ্রপথিক ছিলেন, গোটা জাতির মনমানসে স্বাধীনতার স্পৃহা ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলেন এবং দেশসেবা ও ইংরেজ বিরোধিতায় যাদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তাঁরা এবার নিজেদের মনোযোগ ও তৎপরতা মুসলমানদের বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করা সমীচীন মনে করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px