📄 অসহযোগ আন্দোলন (Non co operation movement)
১৯২০ সালে গান্ধীজী, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বৈদেশিক পণ্য বর্জন (Boycott) ও সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব পেশ করেন। এটা অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার। এই হাতিয়ার প্রয়োগ করা হয় স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় জাগরণের ক্ষেত্রে। ইংরেজ সরকার এর প্রতি যথাযথ গুরুত্বারোপ করতে বাধ্য হয়। এক পর্যায়ে এ আশঙ্কা দেখা দেয় যে, পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাবে এবং গণবিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। তখন ধীরে ধীরে আলামত সুস্পষ্ট হচ্ছিলো ইংরেজ শাসনের অন্তিম মুহূর্ত ঘনিয়ে আসার। ব্রিটেনের সরকারের পুরো শাসন যন্ত্র এত দূরবর্তী দেশে বড় জটিলতা ও সমস্যার শিকার হচ্ছিলো।
📄 ইংরেজ রাজনীতির তূণীর শেষ তীর
কিন্তু ইংরেজ রাজনীতি তার তুণীর শেষ তীর নিক্ষেপ করলো, যা সাধারণত প্রাচ্য দেশসমূহে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না। এই তীর ছিল সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও অন্তর্দ্বন্ধ সৃষ্টি করার তীর। একজন রাজপ্রতিনিধি (Viceroy) জনৈক হিন্দু নেতাকে এই কথা বুঝালো যে, হিন্দু ধর্ম প্রচার করুন এবং এদেশের অধিকাংশ হিন্দু মুসলমান হয়ে গেছে। তাদেরকে পুনরায় হিন্দুত্বের দিকে ফিরিয়ে আনুন। হিন্দু সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও সামরিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ও সুবিন্যাস্ত করুন। কেননা সে সময় খিলাফত ও স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের প্রাধান্য ও তৎপরতা, কর্মশক্তি ও বিন্যাস দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল তাদেরই হাতে। কারণ যে বিষয়টি সাধারণ জনতাকে অনুপ্রাণিত করতো তা ছিল ইসলামী বিষয়, যার সরাসরি সম্পর্ক ছিল খিলাফতের কেন্দ্রের সাথে।
📄 শুদ্ধি ও সংগঠন, তাবলীগ ও তানজীম
এই কেন্দ্রবিন্দু হতেই সংগঠন ও শুদ্ধি অভিযান শুরু হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে এর দায়ী ও প্রচারকগণ। এর বিপরীতে গড়ে উঠে ইসলাম প্রচারের স্বতন্ত্র শিবির। শুরু হয় তানজীম আন্দোলন। ধর্মীয় বিতর্ক, বক্তব্য ও জলসার এক অশেষ ধারা শুরু হয়ে যায়। ফলে উপমহাদেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামার এক সাইমুম ঝড় বইতে থাকে যার আবর্তে তালগোল পাকিয়ে যায় সমগ্র দেশের পরিস্থিতি। এই নাজুক পরিস্থিতিতেও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং অনুষ্ঠিত হতে থাকে এর সভা-সমাবেশ। ১৯২৩ সালের বিশেষ সভার সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ। সে বছরের বার্ষিক অধিবেশন মাওলানা মুহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে 'কুকনাড়ে' অনুষ্ঠিত হয়।
📄 সাম্প্রদায়িক দাবানল
সাম্প্রদায়িক দ্বন্ধ-কলহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এমনকি ১৯২৭ সালের মাত্র মাস দু'য়েকের মধ্যে পঁচিশটি হাঙ্গামা হয়। এই দাঙ্গাগুলোই ছিল সাধারণ মানুষের আলোচনার বিষয়। প্রত্যেকের মূখে রাতদিন এই একটিই আলোচনা। কংগ্রেস ও খিলাফত আন্দোলনের নেতাদের ক্ষমতা ছিল না যে, তারা এই দাঙ্গা-ফ্যাসাদ রুখে দাঁড়াবে এবং হিন্দু মুসলমান ঐক্যের সেই সোনালী যুগে নিয়ে যাবে, যখন পরস্পরে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস, শান্তি ও সুখের নির্মল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। সারকথা, এভাবে উভয় সম্প্রদায়ের মাঝে দূরত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। পাশাপাশি নেতাদের মাঝেও বিচ্ছিন্নতার প্রবণতা দেখা দেয়। হিন্দু-মুসলমান কেউ এ বাস্তবতা এড়াতে পারেননি।