📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 মোপালাদের উপর ইংরেজ অত্যাচার

📄 মোপালাদের উপর ইংরেজ অত্যাচার


হিন্দুস্থানের স্বাধীনতা আন্দোলন ও তাহরীকে খিলাফতের সময় সবচেয়ে বেশী জানমালের ক্ষতির শিকার হয় দক্ষিণ হিন্দুস্থানের একটি মুসলিম গোত্র মৌপালার সদস্যরা। তাদের লক্ষ লক্ষ সদস্য মালাবারে (বর্তমান কেরালা) বসবাস করে। ১৯২১ সালের ২১ আগষ্ট মৌপালারা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে অত্যাচার ও নিপীড়নের জবাব দিতে শুরু করে। এই প্রতিরোধ যুদ্ধ ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। নিহত মৌপালাদের সংখ্যা কয়েক হাজার। তাদের বিদ্রোহ দমনের জন্য ব্রিটেনের যুদ্ধ জাহাজকেও তৎপর হতে হয়। এই যুদ্ধে মাত্র আগষ্ট হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের পক্ষে ব্যয় হয় ৫১ লাখ রূপী। মৌপালাদের বন্দীদেরকে জানোয়ারের মত গাড়িতে ভর্তি করা হয়। তিনজন ডাক্তার একমত হয়ে ঘোষণা দেয় যে, তাদেরকে যে গাড়িতে ভর্তি করা হয় তা কখনো মানুষের উপযোগী ছিল না। এই হতভাগাদের এক বিরাট অংশ দম বন্ধ হয়ে গাড়িতেই মৃত্যু বরণ করেন। তাদের আর্তচিৎকার এবং পানির জন্য হাহাকারে কারো মনে দয়ার উদ্রেক হলো না। বিদ্রোহ দমনের পরেও মৌপালারা কঠিন প্রহরায় জীবন যাপন করতো এবং তাদের সাথে অপমান জনক আচরণ অব্যাহত ছিল। বহুদিন যাবৎ তাদেরকে সে সব নাগরিক অধিকার হতে বঞ্চিত রাখা হয়, যা তারা লাভ করেছিল প্রাকৃতিকভাবেই। ১৯২২ সালে গঠিত মালাবারের সরকারী তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়:

There are at lest 35,000 Mopla women and children whose condition is extremely miserable and unless proper measures are taken for their relief, many of them are likely to die of disease and starvation.

“নিদেনপক্ষে ৩৫ হাজার মৌপালা নারী ও শিশুর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। যদি তাদের কাছে জরুরী ভাবে উল্লেখযোগ্য সাহায্য না পৌঁছানো হয়, তবে তাদের অনেকে ক্ষুৎপিপাসা ও রোগে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।”

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 অসহযোগ আন্দোলন (Non co operation movement)

📄 অসহযোগ আন্দোলন (Non co operation movement)


১৯২০ সালে গান্ধীজী, মাওলানা আবুল কালাম আযাদ বৈদেশিক পণ্য বর্জন (Boycott) ও সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব পেশ করেন। এটা অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার। এই হাতিয়ার প্রয়োগ করা হয় স্বাধীনতা আন্দোলন ও জাতীয় জাগরণের ক্ষেত্রে। ইংরেজ সরকার এর প্রতি যথাযথ গুরুত্বারোপ করতে বাধ্য হয়। এক পর্যায়ে এ আশঙ্কা দেখা দেয় যে, পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাবে এবং গণবিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। তখন ধীরে ধীরে আলামত সুস্পষ্ট হচ্ছিলো ইংরেজ শাসনের অন্তিম মুহূর্ত ঘনিয়ে আসার। ব্রিটেনের সরকারের পুরো শাসন যন্ত্র এত দূরবর্তী দেশে বড় জটিলতা ও সমস্যার শিকার হচ্ছিলো।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 ইংরেজ রাজনীতির তূণীর শেষ তীর

📄 ইংরেজ রাজনীতির তূণীর শেষ তীর


কিন্তু ইংরেজ রাজনীতি তার তুণীর শেষ তীর নিক্ষেপ করলো, যা সাধারণত প্রাচ্য দেশসমূহে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না। এই তীর ছিল সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও অন্তর্দ্বন্ধ সৃষ্টি করার তীর। একজন রাজপ্রতিনিধি (Viceroy) জনৈক হিন্দু নেতাকে এই কথা বুঝালো যে, হিন্দু ধর্ম প্রচার করুন এবং এদেশের অধিকাংশ হিন্দু মুসলমান হয়ে গেছে। তাদেরকে পুনরায় হিন্দুত্বের দিকে ফিরিয়ে আনুন। হিন্দু সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ও সামরিক ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত ও সুবিন্যাস্ত করুন। কেননা সে সময় খিলাফত ও স্বাধীনতা আন্দোলনে মুসলমানদের প্রাধান্য ও তৎপরতা, কর্মশক্তি ও বিন্যাস দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল তাদেরই হাতে। কারণ যে বিষয়টি সাধারণ জনতাকে অনুপ্রাণিত করতো তা ছিল ইসলামী বিষয়, যার সরাসরি সম্পর্ক ছিল খিলাফতের কেন্দ্রের সাথে।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 শুদ্ধি ও সংগঠন, তাবলীগ ও তানজীম

📄 শুদ্ধি ও সংগঠন, তাবলীগ ও তানজীম


এই কেন্দ্রবিন্দু হতেই সংগঠন ও শুদ্ধি অভিযান শুরু হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে এর দায়ী ও প্রচারকগণ। এর বিপরীতে গড়ে উঠে ইসলাম প্রচারের স্বতন্ত্র শিবির। শুরু হয় তানজীম আন্দোলন। ধর্মীয় বিতর্ক, বক্তব্য ও জলসার এক অশেষ ধারা শুরু হয়ে যায়। ফলে উপমহাদেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামার এক সাইমুম ঝড় বইতে থাকে যার আবর্তে তালগোল পাকিয়ে যায় সমগ্র দেশের পরিস্থিতি। এই নাজুক পরিস্থিতিতেও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখে এবং অনুষ্ঠিত হতে থাকে এর সভা-সমাবেশ। ১৯২৩ সালের বিশেষ সভার সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আবুল কালাম আযাদ। সে বছরের বার্ষিক অধিবেশন মাওলানা মুহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে 'কুকনাড়ে' অনুষ্ঠিত হয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px