📄 মাওলানা আবদুল বা’রী ফিরিঙ্গী মহল্লী (রহ.)
জমিয়তুল উলামার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল বা'রী ফিরিঙ্গী মহল্লী (১৯২৬) স্বাধীনতা ও খিলাফত আন্দোলনের বলিষ্ঠ ও শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও লক্ষ্ণৌতে তাঁর আবাসস্থল তথা ফারাঙ্গী মহল ছিল মুসলমানদের বিশ্বাস ও রাজনীতির কেন্দ্র।
📄 রওলেট রিপোর্ট (Rowlatt Report)
১৯১৮ সালে রওলেটের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে মুসলমানদেরকেই বিশেষভাবে টার্গেট করে বিদ্রোহের জন্য দায়ী করা হয়। এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে হিন্দুস্থানের সর্বত্র প্রবল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
📄 খিলাফত আন্দোলন ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্য
১৯১৯ সালে মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। তখন হিন্দু ও মুসলমানদের মাঝে ঐক্যের বেশ চমৎকার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। উভয় সম্প্রদায় ইংরেজ শাসনের মুকাবিলা, ওসমানী শাসনের ক্ষেত্রে ঐক্য প্রত্যাশীদের রাজনীতির বিরোধিতা, দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। সমগ্র হিন্দুস্থান জুড়ে বইতে শুরু করে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রবল হাওয়া। এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে হিন্দুস্থানে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি হয়, দেশপ্রেম ও ইংরেজদের প্রতি ঘৃণার প্রবল উচ্ছাস দেখা দেয়। এতে গান্ধীজী পূর্ণ উদ্যম ও অটল জযবার সাথে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি মাওলানা মুহাম্মদ আলী এবং মাওলানা শওকত আলীর সাথে সমগ্র দেশ চষে বেড়ান। এমন বড় বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যার চেয়ে বড় ও উত্তপ্ত সমাবেশ ভারতবর্ষে এর পূর্বে আর কখনো দেখা যায়নি এবং পরে দেখার আশাও নেই। সাধারণ জনতা এই নেতাদের হৃদয় উজাড় করে সংবর্ধনা জানায় এবং শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলো আকাশ- বাতাস।
📄 মোপালাদের উপর ইংরেজ অত্যাচার
হিন্দুস্থানের স্বাধীনতা আন্দোলন ও তাহরীকে খিলাফতের সময় সবচেয়ে বেশী জানমালের ক্ষতির শিকার হয় দক্ষিণ হিন্দুস্থানের একটি মুসলিম গোত্র মৌপালার সদস্যরা। তাদের লক্ষ লক্ষ সদস্য মালাবারে (বর্তমান কেরালা) বসবাস করে। ১৯২১ সালের ২১ আগষ্ট মৌপালারা ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়ে অত্যাচার ও নিপীড়নের জবাব দিতে শুরু করে। এই প্রতিরোধ যুদ্ধ ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। নিহত মৌপালাদের সংখ্যা কয়েক হাজার। তাদের বিদ্রোহ দমনের জন্য ব্রিটেনের যুদ্ধ জাহাজকেও তৎপর হতে হয়। এই যুদ্ধে মাত্র আগষ্ট হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের পক্ষে ব্যয় হয় ৫১ লাখ রূপী। মৌপালাদের বন্দীদেরকে জানোয়ারের মত গাড়িতে ভর্তি করা হয়। তিনজন ডাক্তার একমত হয়ে ঘোষণা দেয় যে, তাদেরকে যে গাড়িতে ভর্তি করা হয় তা কখনো মানুষের উপযোগী ছিল না। এই হতভাগাদের এক বিরাট অংশ দম বন্ধ হয়ে গাড়িতেই মৃত্যু বরণ করেন। তাদের আর্তচিৎকার এবং পানির জন্য হাহাকারে কারো মনে দয়ার উদ্রেক হলো না। বিদ্রোহ দমনের পরেও মৌপালারা কঠিন প্রহরায় জীবন যাপন করতো এবং তাদের সাথে অপমান জনক আচরণ অব্যাহত ছিল। বহুদিন যাবৎ তাদেরকে সে সব নাগরিক অধিকার হতে বঞ্চিত রাখা হয়, যা তারা লাভ করেছিল প্রাকৃতিকভাবেই। ১৯২২ সালে গঠিত মালাবারের সরকারী তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়:
There are at lest 35,000 Mopla women and children whose condition is extremely miserable and unless proper measures are taken for their relief, many of them are likely to die of disease and starvation.
“নিদেনপক্ষে ৩৫ হাজার মৌপালা নারী ও শিশুর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। যদি তাদের কাছে জরুরী ভাবে উল্লেখযোগ্য সাহায্য না পৌঁছানো হয়, তবে তাদের অনেকে ক্ষুৎপিপাসা ও রোগে আক্রান্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে।”