📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (রহ.)

📄 শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (রহ.)


দারুল উলূম দেওবন্দের মাওলানা মাহমূদুল হাসান (যিনি পরে 'শায়খুল হিন্দ' নামে খ্যাত হয়েছেন) ইংরেজ শাসন ও আধিপত্যের প্রবল বিরোধী ছিলেন। সুলতান টিপুর পরে ইংরেজদের এত বড় শত্রু ও প্রতিপক্ষ আর কেউ আত্মপ্রকাশ করেনি। তিনি তৎকালীন ইসলামী বিশ্বের অগ্রনায়ক ও খিলাফতের পতাকাবাহী ওসমানী সালতানাতের সোচ্চার সমর্থক এবং হিন্দুস্থানের স্বাধীনতা ও স্বাধীন জাতীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ আহবায়ক ছিলেন। তিনি সেই মহান ব্যক্তিবর্গের অন্যতম ছিলেন, যাদের সমস্ত জীবন এই মূল্যবান মিশনের জন্য ওয়াকফ ছিল এবং সব আবেগ-উদ্দীপনা চেষ্টা-উদ্যম এই মিশনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো। এ ক্ষেত্রে তিনি আফগান সরকার ও ওসমানী সাম্রাজ্যের কতিপয় নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তি যেমন আনোয়ার পাশা প্রমুখের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন।¹ ১৯১৬ সালে শরীফ হোসাইনের সরকার তাঁকে মদীনা মুনাওয়ারায় গ্রেফতার করে ইংরেজ সরকারের হাতে তুলে দেয়। ইংরেজ প্রশাসন তাঁকে এবং কতিপয় সাথী ও শিষ্য মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী, মাওলানা উযাইর গুল, মাওলানা হাকীম নুসরাত হোসাইন, মৌলভী ওয়াহীদ আহমদকে ১৩৩৫ হি./১৯১৭ সালে মাল্টার দ্বীপে নির্বাসন দেয়। তাঁরা ১৩৩৮ হিজরী/১৯২০ সাল পর্যন্ত সেখানে দুঃখের জীবন অতিবাহিত করেন।

টিকাঃ
১. ইংরেজদের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য আনোয়ার পাশা ও জামাল পাশার পক্ষ হতে তিনি পত্র লাভ করতে সক্ষম হন। এই পত্রগুলো তিনি কাঠের ফলকে প্রোথিত করে বক্স তৈরী করেন এবং তাতে রেশমী কাপড় ভর্তি করে হিন্দুস্থানে পাঠিয়ে দেন। বক্সটি হিন্দুস্থানে আপন গন্তব্যে পৌঁছে যায় এই ঘটনাটি 'রেশমী রুমাল' নামে খ্যাত। রলেট (Rowlatt) তার বিখ্যাত প্রতিবেদনে এর উল্লেখ করেছেন।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 মাওলানা আবদুল বা’রী ফিরিঙ্গী মহল্লী (রহ.)

📄 মাওলানা আবদুল বা’রী ফিরিঙ্গী মহল্লী (রহ.)


জমিয়তুল উলামার প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল বা'রী ফিরিঙ্গী মহল্লী (১৯২৬) স্বাধীনতা ও খিলাফত আন্দোলনের বলিষ্ঠ ও শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও লক্ষ্ণৌতে তাঁর আবাসস্থল তথা ফারাঙ্গী মহল ছিল মুসলমানদের বিশ্বাস ও রাজনীতির কেন্দ্র।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 রওলেট রিপোর্ট (Rowlatt Report)

📄 রওলেট রিপোর্ট (Rowlatt Report)


১৯১৮ সালে রওলেটের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে মুসলমানদেরকেই বিশেষভাবে টার্গেট করে বিদ্রোহের জন্য দায়ী করা হয়। এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে হিন্দুস্থানের সর্বত্র প্রবল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 খিলাফত আন্দোলন ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্য

📄 খিলাফত আন্দোলন ও হিন্দু-মুসলিম ঐক্য


১৯১৯ সালে মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলীকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়। তখন হিন্দু ও মুসলমানদের মাঝে ঐক্যের বেশ চমৎকার দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়। উভয় সম্প্রদায় ইংরেজ শাসনের মুকাবিলা, ওসমানী শাসনের ক্ষেত্রে ঐক্য প্রত্যাশীদের রাজনীতির বিরোধিতা, দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। সমগ্র হিন্দুস্থান জুড়ে বইতে শুরু করে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের প্রবল হাওয়া। এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে হিন্দুস্থানে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি হয়, দেশপ্রেম ও ইংরেজদের প্রতি ঘৃণার প্রবল উচ্ছাস দেখা দেয়। এতে গান্ধীজী পূর্ণ উদ্যম ও অটল জযবার সাথে অংশ গ্রহণ করেন। তিনি মাওলানা মুহাম্মদ আলী এবং মাওলানা শওকত আলীর সাথে সমগ্র দেশ চষে বেড়ান। এমন বড় বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যার চেয়ে বড় ও উত্তপ্ত সমাবেশ ভারতবর্ষে এর পূর্বে আর কখনো দেখা যায়নি এবং পরে দেখার আশাও নেই। সাধারণ জনতা এই নেতাদের হৃদয় উজাড় করে সংবর্ধনা জানায় এবং শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলো আকাশ- বাতাস।

ফন্ট সাইজ
15px
17px