📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 লক্ষ্ণৌ

📄 লক্ষ্ণৌ


লক্ষ্ণৌতে সর্বপ্রথম শায়খ আযম ইলমের হাদিয়া জৌনপুর থেকে নিয়ে আসেন। অতঃপর শাহ পীর মুহাম্মদ শিক্ষকতার মাহফিল আলোকিত করেন এবং তাঁর শাগরেদ মোল্লা গোলাম নকশবন্দ তাতে খুব আলো দেন। একই সময়ে শায়খ কুতুবুদ্দীন সাহালভীরও ঢঙ্কা বাজছিলো সর্বত্র। তিনি ছিলেন আবদুস সালাম দেভী ও মুহিব্বুল্লাহ্ এলাহাবাদীর সিলসিলার অন্যতম খ্যাতনামা আলেম। শায়খ কুতুবুদ্দীনের শাহাদাতের পর তাঁর সুযোগ্য সাহেবজাদা মোল্লা নেজামুদ্দীন ইলমের নহর বইয়ে দিয়ে লক্ষ্ণৌকে ইলমের কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন এবং সেখানে তিনি যে পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করেছিলেন তা ভারতের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাদরে গৃহীত হয়। একই খান্দানে মোল্লা হাসান, বাহরুল উলূম, মোল্লা মুবীন, মুফতী যহুরুল্লাহ্, মৌলভী ওয়ালী উল্লাহ্, মুফতী মুহাম্মদ আসগর, মুফতী মুহাম্মদ ইউসুফ, মৌলভী নঈমুল্লাহ্, মৌলভী নুরুল্লাহ, মৌলভী আবদুল হাকীম, মৌলভী আবদুল হালীম, মৌলভী আবদুল হাই প্রমুখ- এমন এমন যোগ্য শিক্ষক জন্ম নিয়েছেন যাদের উপমা অন্যকোন খান্দানে পাওয়া মুশকিল।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 অউধের এলাকা

📄 অউধের এলাকা


এ খান্দানের শিষ্যরাও ভারতের প্রতিটি কোণায় কোনায় জ্ঞানের আলো বিস্তারে কোন ত্রুটি করেননি। কুতুবুদ্দীন শামসাবাদী, কুতুব উদ্দীন গোপামুয়ী, মুহিব্বুল্লাহ্ বিহারী, আমানুল্লাহ্ বেনারসী, মৌলভী ইয়াদুল্লাহ্, মৌলভী ফযল ইমাম, মৌলভী ফযলে হক ও তাঁদের নয়নমনি মৌলভী আবদুল হক প্রমুখ- সবাই সেই জ্ঞান সাগর হতে পরিতৃপ্ত ছিলেন।

অউধের প্রতিটি গ্রামে ছিলো ইলমের চর্চা সম্প্রসারিত। এ রকম কোন দূর্ভাগা পাওয়া কঠিন ছিলো যেখানে ইলমের আলো পৌঁছেনি। সব চেয়ে প্রসিদ্ধ স্থান সমূহ ছিলো: জায়েস, আমেঠী, হরগা, নিউতনী, গোপামুঁ, বিলগ্রাম, সিন্দালিয়া, কাকুরী, প্রভৃতি। এ সব স্থানে এত বেশী আলিম জন্ম নিয়েছেন যাদের নযীর পাওয়া ছিল অন্যান্য দেশে দূরূহ ব্যাপার।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন স্তর

📄 পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন স্তর


এখানে সহজতর প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রচলিত পাঠ্যক্রমের চারটি যুগের বর্ণনা করা সমীচিন মনে করি। প্রতিটি যুগে যেসব বই-পুস্তক প্রচলিত ছিলো তার বিবরণও যতটুকু সম্ভব ইতিহাস থেকে, বিভিন্ন স্তরের মাশায়িখ হতে, কবিদের আলোচনা থেকে উপস্থাপন করলে ভাল হয়। দেখতে এ কাজটা হালকা মনে হলেও কিন্তু হাজার হাজার পৃষ্ঠা মন্থন করার পর যে ফলাফলে আমরা পৌঁছেছি তাই পাঠক মহলের উদ্দেশ্যে পেশ করছি।¹

টিকাঃ
১. এ বইয়ে এমন সব পাঠ্য বই সমূহের তালিকা বাদ দেয়া হয়েছে। যেহেতু তা শুধু গবেষকদেরই প্রিয় বিষয়। বিস্তারিত জানার জন্যে মূল লেখা দ্রষ্টব্য।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 প্রথম যুগ

📄 প্রথম যুগ


এ যুগের সূচনা হিজরী সপ্তম শতাব্দী হতে আর এর শেষ দশম শতাব্দীর তখন হয় যখন দ্বিতীয় যুগ শুরু হয়ে যায়। প্রায় দু'শ' বছর পর্যন্ত নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর অর্জন শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি মনে করা হতো। বিষয় সমূহ হচ্ছে নাহু-ছরফ, বালাগাত, ফিক্‌হ, উসূলে ফিক্‌হ, মানতিক, তাসাউফ, তাফসীর ও হাদীস। এ যুগের স্বনামধন্য আলিমদের জীবনী অনুসন্ধানে জানা যায় যে, আমাদের যুগে 'মানতিক' ও 'ফালসাফা' যেমন শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি তেমনি সে যুগে ছিল ফিক্‌হ ও উসূলে ফিক্‌হ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px