📄 গুজরাট
গুজরাটে 'মাজমাউল বিহার' এর লিখক শায়খ মুহাম্মদ তাহের পাটনী, শায়খ ওয়াজীহুদ্দীন আলভী গুজরাটী, মোল্লা নূরুদ্দীন প্রমূখ আলেমরা ইলমের বারি ধারা বর্ষণ করেছেন। একই সময়ে নিউতনী নিবাসী কাজী যিয়াউদ্দীন গুজরাটে এসে শায়খ ওয়াজীহুদ্দীনের নিকট লালিত হন। পরবর্তীতে দীর্ঘ তরবিয়তের ইলমী তোহফা স্বদেশবাসীর জন্যে বহন করে নিয়ে যান। তাঁর দ্বারা শায়খ জামাল উপকৃতহন, যার কাছে জ্ঞান অর্জন করেন মোল্লা লুতফুল্লাহ। শেষোক্ত আলেমের শিষ্যদের মধ্যে 'নুরুল আনওয়ার' রচয়িতা মোল্লা জিয়ুন, মোল্লা আলী আসগর, মোল্লা মুহাম্মদ জামান, কাজী আলীমুল্লাহ্ খুব বেশী প্রসিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে প্রত্যেকেই দীর্ঘ কালব্যাপী পঠন পাঠন ও অধ্যাত্ম সাধনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন।
📄 এলাহাবাদ
কাজী মুহাম্মদ আসিফ, শায়খ মুহাম্মদ আফযল, শাহ খুরুল্লাহ্, শায়খ মুহাম্মদ তাহের, হাজী মুহাম্মদ ফাখের জায়ের, মৌলভী বরকত, মৌলভী যাফরুল্লাহ এবং অন্যান্য সুযোগ্য আলেমগণ দীর্ঘদিন পঠন-পাঠনের ময়দান সরগরম রাখেন এবং প্রায় একশ' বছর পর্যন্ত এর চর্চা চলে স্বচ্ছন্দ গতিতে।
📄 লক্ষ্ণৌ
লক্ষ্ণৌতে সর্বপ্রথম শায়খ আযম ইলমের হাদিয়া জৌনপুর থেকে নিয়ে আসেন। অতঃপর শাহ পীর মুহাম্মদ শিক্ষকতার মাহফিল আলোকিত করেন এবং তাঁর শাগরেদ মোল্লা গোলাম নকশবন্দ তাতে খুব আলো দেন। একই সময়ে শায়খ কুতুবুদ্দীন সাহালভীরও ঢঙ্কা বাজছিলো সর্বত্র। তিনি ছিলেন আবদুস সালাম দেভী ও মুহিব্বুল্লাহ্ এলাহাবাদীর সিলসিলার অন্যতম খ্যাতনামা আলেম। শায়খ কুতুবুদ্দীনের শাহাদাতের পর তাঁর সুযোগ্য সাহেবজাদা মোল্লা নেজামুদ্দীন ইলমের নহর বইয়ে দিয়ে লক্ষ্ণৌকে ইলমের কেন্দ্রে পরিণত করেছিলেন এবং সেখানে তিনি যে পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করেছিলেন তা ভারতের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাদরে গৃহীত হয়। একই খান্দানে মোল্লা হাসান, বাহরুল উলূম, মোল্লা মুবীন, মুফতী যহুরুল্লাহ্, মৌলভী ওয়ালী উল্লাহ্, মুফতী মুহাম্মদ আসগর, মুফতী মুহাম্মদ ইউসুফ, মৌলভী নঈমুল্লাহ্, মৌলভী নুরুল্লাহ, মৌলভী আবদুল হাকীম, মৌলভী আবদুল হালীম, মৌলভী আবদুল হাই প্রমুখ- এমন এমন যোগ্য শিক্ষক জন্ম নিয়েছেন যাদের উপমা অন্যকোন খান্দানে পাওয়া মুশকিল।
📄 অউধের এলাকা
এ খান্দানের শিষ্যরাও ভারতের প্রতিটি কোণায় কোনায় জ্ঞানের আলো বিস্তারে কোন ত্রুটি করেননি। কুতুবুদ্দীন শামসাবাদী, কুতুব উদ্দীন গোপামুয়ী, মুহিব্বুল্লাহ্ বিহারী, আমানুল্লাহ্ বেনারসী, মৌলভী ইয়াদুল্লাহ্, মৌলভী ফযল ইমাম, মৌলভী ফযলে হক ও তাঁদের নয়নমনি মৌলভী আবদুল হক প্রমুখ- সবাই সেই জ্ঞান সাগর হতে পরিতৃপ্ত ছিলেন।
অউধের প্রতিটি গ্রামে ছিলো ইলমের চর্চা সম্প্রসারিত। এ রকম কোন দূর্ভাগা পাওয়া কঠিন ছিলো যেখানে ইলমের আলো পৌঁছেনি। সব চেয়ে প্রসিদ্ধ স্থান সমূহ ছিলো: জায়েস, আমেঠী, হরগা, নিউতনী, গোপামুঁ, বিলগ্রাম, সিন্দালিয়া, কাকুরী, প্রভৃতি। এ সব স্থানে এত বেশী আলিম জন্ম নিয়েছেন যাদের নযীর পাওয়া ছিল অন্যান্য দেশে দূরূহ ব্যাপার।