📄 লাহোর
লাহোরে ইলমের চর্চা ও প্রচার-প্রসার দিল্লির আগেই ঘটেছিল। তবে দিল্লির পরবর্তী অগ্রগতির সামনে তা কিছুদিনের জন্য চাপা পড়েছিল। পরে অবশ্যই সামনে গিয়েছিল। সুতরাং জালালুদ্দীন, কামাল উদ্দীন, মুফতী আবদুস সালাম, মোল্লা আবদুল হাকীম শিয়ালকুটী প্রমূখ খ্যাতিমানদের কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত লাহোরে ইলমের চর্চা অব্যাহত ছিলো। এ সময়ে হাজার হাজার জ্ঞান পিপাসু ছাত্র তাঁদের দ্বারা উপকৃত হয়।
📄 জৌনপুর
প্রাচ্যাঞ্চলীয় বাদশাহদের আমন্ত্রণে জৌনপুরে শায়খ আবুল ফাতেহ শিহাবুদ্দীন দৌলতাবাদী, মাওলানা আল-হাদাদ, উস্তাদুল মুলক মুহাম্মদ আফজাল, 'শামসে বাজেগা' প্রণেতা মাওলানা মাহমূদ, দেওয়ান আবদুর রশীদ, মুফতী আবদুল বাকী, মোল্লা নুরুদ্দীন এর মতো যোগ্য আলেমরা কালের পরিক্রমায় জন্ম নিয়েছেন এবং তাঁদের শিষ্যরা গোটা ভারতে ছড়িয়ে পড়েন।
📄 গুজরাট
গুজরাটে 'মাজমাউল বিহার' এর লিখক শায়খ মুহাম্মদ তাহের পাটনী, শায়খ ওয়াজীহুদ্দীন আলভী গুজরাটী, মোল্লা নূরুদ্দীন প্রমূখ আলেমরা ইলমের বারি ধারা বর্ষণ করেছেন। একই সময়ে নিউতনী নিবাসী কাজী যিয়াউদ্দীন গুজরাটে এসে শায়খ ওয়াজীহুদ্দীনের নিকট লালিত হন। পরবর্তীতে দীর্ঘ তরবিয়তের ইলমী তোহফা স্বদেশবাসীর জন্যে বহন করে নিয়ে যান। তাঁর দ্বারা শায়খ জামাল উপকৃতহন, যার কাছে জ্ঞান অর্জন করেন মোল্লা লুতফুল্লাহ। শেষোক্ত আলেমের শিষ্যদের মধ্যে 'নুরুল আনওয়ার' রচয়িতা মোল্লা জিয়ুন, মোল্লা আলী আসগর, মোল্লা মুহাম্মদ জামান, কাজী আলীমুল্লাহ্ খুব বেশী প্রসিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে প্রত্যেকেই দীর্ঘ কালব্যাপী পঠন পাঠন ও অধ্যাত্ম সাধনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন।
📄 এলাহাবাদ
কাজী মুহাম্মদ আসিফ, শায়খ মুহাম্মদ আফযল, শাহ খুরুল্লাহ্, শায়খ মুহাম্মদ তাহের, হাজী মুহাম্মদ ফাখের জায়ের, মৌলভী বরকত, মৌলভী যাফরুল্লাহ এবং অন্যান্য সুযোগ্য আলেমগণ দীর্ঘদিন পঠন-পাঠনের ময়দান সরগরম রাখেন এবং প্রায় একশ' বছর পর্যন্ত এর চর্চা চলে স্বচ্ছন্দ গতিতে।