📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 দায়েরাতুল মা’আরিফ হায়দ্রাবাদ

📄 দায়েরাতুল মা’আরিফ হায়দ্রাবাদ


ভারতবর্ষের শীর্ষস্থানীয় ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র গুলোর মধ্যে দায়েরাতুল মা'আরিফ হায়দ্রাবাদ এর অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিষ্ঠান ধর্ম, ইতিাস ও শিক্ষা বিষয়ক বেশ কিছু অমূল্য গ্রন্থ প্রাচীন গ্রন্থাগারের অতল গহ্বর থেকে বের করে এনে প্রকাশনা ও পরিবেশনার দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ১৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দে দেশের শীর্ষ পুরোধা ব্যক্তিত্ব সাইয়েদ হোসাইন বিলগ্রামী, মোল্লা আবদুল কাইয়ুম, ফযীলত জঙ্গ মাওলানা আনওয়ার খান, হায়দ্রাবাদের সাবেক প্রধান উস্তাদ মীর উসমান আলীর প্রাণান্তকর প্রয়াসে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 'দায়েরাতুল মা'আরিফ' হাদীস বর্ণনাকারীগণের ইতিবৃত্ত, ইতিহাস, হিসাব বিজ্ঞান এবং দর্শন শাস্ত্রের এমন দেড় শতাধিক কিতাব পাঠকের খিদমতের উপস্থান করে যা ইতোপূর্বে প্রায় লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলো। শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, প্রাজ্ঞ শিক্ষক মহল, বিদগ্ধ গবেষক শ্রেণী এতদিন এসব গ্রন্থের কেবল নাম শুনে আসছিলেন। 'দায়েরা' এর উদ্যোগের সুবাদে এই প্রথম গ্রন্থগুলো আলোর মুখ দেখলো। ওলামায়ে কেরাম ও বিশ্লেষক মহল এসব গ্রন্থ থেকে প্রভূত উপকৃত হচ্ছেন। 'দায়েরা' এর এই কার্যক্রম শিক্ষা ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সর্বোপরি ভারতীয় মুসলমানদের জন্য এটি চিরন্তন ও যুগান্তকারী শিক্ষা কার্যক্রম এবং তাদের উন্নত জ্ঞান, অভিরুচি ও ধর্মীয় কৃতিত্বের সাক্ষর হয়ে থাকবে।¹ প্রাচ্য-প্রতীচ্যের বরেণ্য ও শীর্ষ শিক্ষাবিদগণ এই গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের মহান খিদমতগুলোর সপ্রশংস স্বীকৃতি দিয়েছেন। ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে জামেয়া আল-আযহার এর একটি শিক্ষা প্রতিনিধি দল ভারত সফরে আসলে প্রতিনিধি দলের প্রধান দায়েরাতুল মা'আরিফ সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নিম্নোক্ত মন্তব্য করেন :

"ইসলামী রচনা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান যে অবদান রেখে চলেছে তা আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখেছি।”

পূর্ববর্তী ওলামা এবং গবেষকদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় গ্রন্থ যা এ যাবতকাল যবনিকার আড়ালে ছিল এবং যেসব গ্রন্থাবলীর চিহ্ন পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছিলো কিন্তু এসব গ্রন্থের নামের গুঞ্জরণ মৃদৃ অনুরণিত হচ্ছিল। জ্ঞান পিপাসু অন্তর ও অনুসন্ধিৎসু প্রতিভা এসব গ্রন্থ থেকে উপকৃত হবার জন্য ছটফট করছিল উদগ্র তৃষ্ণায়। দায়েরাতুল মা'আরিফ এর উৎসাহী কর্মী ও শিক্ষানুরাগী দায়িত্বশীলগণ এসব গ্রন্থরাজি কেবল খুঁজে বের করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ফলপ্রসূ সংযোজনে সুসমৃদ্ধ করে তা প্রকাশ করেছেন। একাজে একদিকে তারা বিশাল ব্যয় বহুল প্রকল্পের ঝুঁকি নিয়েছেন এবং অন্যদিকে পরিমার্জন, বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধা ও প্রতিভার অসামান্য পরিশ্রমের স্বাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়েছেন।

টিকাঃ
১. মাওলানা সাইয়েদ হাশেম নদভী, ডা. আবদুল মুয়ীদ খানের পরিচালনায় এ প্রতিষ্ঠান দীর্ঘকাল ব্যাপী তার মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়ে এসেছে। আর্থিক টানাপোড়েন ও প্রতিকূলতার মাঝেও এটি আজো টিকে আছে।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 দারুত তারজুমাহ্ মরহুম

📄 দারুত তারজুমাহ্ মরহুম


উসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হায়দ্রাবাদ কর্তৃক যখন উর্দু ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তখন ১৩৩৫ হিজরী মুতাবিক ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে দারুত তারজুমাহ'র ভিত্তি স্থাপিত হয়। এ প্রতিষ্ঠান ৩৫৮টি গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশ করেছে। এসব গ্রন্থাবলীর মধ্যে ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, আইন শাস্ত্র, জীবদিয়া, দর্শন, মানতিক, মনস্তত্ত্ব, প্রকৃতি, নৈতিকতা, হিসাব বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গ্রন্থ রয়েছে। দারুত তারজুমাহ'র গুরুত্বপূর্ণ অবদান সমূহের অন্যতম হল, শিক্ষার পরিভাষা সমূহের ব্যাপক প্রচলন ও উর্দুতে তা ভাষান্তরের খিদমত আঞ্জাম দেয়া; যার মাধ্যমে ভারতবর্ষের শিক্ষা ও সাহিত্যের প্রতিটি ফোরাম উপকৃত হয়েছে। ভারতবর্ষের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষাবিদ, লেখক-গবেষক এ প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এদের মধ্যে ডা. মাওলানা আবদুল হক, মাওলানা আবদুল মাজেদ দরিয়াবাদী, মাওলানা আবদুল্লাহ্ আল-ইমাদী, মাওলানা ওয়াহিদুদ্দীন সলিম পাণিপথী, মাওলানা ইনায়েতুল্লাহ্ দেহলভী, মাওলানা মাসউদ আলী মাহভী এবং কাজী তিলমীয হোসাইন গোরকপুরী সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য। দারুত তারজুমাহর বার্ষিক বাজেট ছিল ২,৬১,৪১৫ রুপি। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে হায়দ্রাবাদের পতনের পর এই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। অগ্নিসংযোগে গ্রন্থাগার ভস্মীভূত হয়। ফলে কোটি কোটি টাকার পুঁজির এই বিশাল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যায়।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 জামায়াতে ইসলামী র পাঠ্যক্রম ও মুসলিম সন্তানদের চাহিদা

📄 জামায়াতে ইসলামী র পাঠ্যক্রম ও মুসলিম সন্তানদের চাহিদা


ইসলামী সাহিত্যের প্রসারে ভারতীয় জামায়াতে ইসলামী উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। উর্দু এবং হিন্দি ভাষায় বলিষ্ঠ ইসলামী সিলেবাস ও পাঠ্যসূচীর গ্রন্থাবলী রচনা ও বিন্যাসকর্মে মুসলিম সন্তানদের প্রয়োজন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে জামায়াতে ইসলামী ভারত। এই সব পাঠ্যক্রম বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে এবং যুগচাহিদার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরের বেশ কিছু বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px