📄 জামিয়া মিল্লিয়া দিল্লি
আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির কতিপয় কৃতি ছাত্র খেলাফত আন্দোলনের সময় আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পৃথক হয়ে যায়; তাঁরা ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন ; যার নামকরণ করা হয় 'জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়া' যার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন শায়খুল হিন্দ মাওলানা মাহমূদুল হাসান দেওবন্দী (রহ.) পরে এটি দিল্লিতে স্থানান্তরিত হয়। এই শ্রেণীটির নেতৃত্বে ছিলেন মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহার (রহ.)। তাঁর অন্যতম সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন হাকীম আজমল খান মরহুম এবং ডা. মুখতার আহমদ আনসারী। এখানকার শিক্ষক মন্ডলীর দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও কুরবানীর মানসিকতা অনন্য ও ভাস্বর হয়ে আছে ইতিহাসের পাতায়। প্রাজ্ঞ শিক্ষাবিদ ডা. জাকির হোছাইন খানের নেতৃত্বে (প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী ভারত) এবং তাঁর বিজ্ঞ নির্দেশনায় এ প্রতিষ্ঠান প্রতিকূল ও বৈরী চিন্তার ভয়াবহ তুফান এবং জটিলতর সংকট মুকাবিলা করেছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয় সভ্যতা-সংস্কৃতি, জ্ঞান, শিক্ষার সাহিত্যের পরিমন্ডলে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। বর্তমানে এটি কেন্দ্রীয় সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিণত হয়। এতে মুসলিম ছাত্রের তুলনায় হিন্দু ছাত্রদের সংখ্যা আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
📄 জামেয়া উসমানিয়া হায়দ্রাবাদ
জামেয়া ইসলামিয়া হায়দ্রাবাদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে উর্দুকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয় যা ভারতের জ্ঞান চর্চার ভাষা। আধুনিক জ্ঞান, দর্শন, হিকমাত, মনস্তত্ত্ব, চিকিৎসা বিজ্ঞান, রাজনীতি, সমাজ তত্ত্ব, ইতিহাসের এক বিশাল ভান্ডার, অন্যভাষা থেকে উর্দুতে অনুদিত হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন শাস্ত্রগত পরিভাষাগুলোর উর্দু রূপান্তর এবং প্রণয়নের কাজ আঞ্জাম দেয়ার মহান কর্তব্য সমাধা হয়ে যায়। অনুরূপভাবে এ প্রতিষ্ঠান উর্দু ভাষা শিক্ষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে এক বিরাট অবদান রাখতে সক্ষম হয়। ভারতের কতিপয় সুযোগ্য শিক্ষকমন্ডলী এবং বিশেষজ্ঞ শাস্ত্রবিদ এ প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনার খিদমত করেন।¹
পরিবর্তনের হাওয়া লেগে এটিও অন্যসব ইউনিভার্সিটির মত গতানুগতিক ও একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় এবং উর্দুর পূর্বেকার সেই গুরুত্বও আর বাকী নেই। এসব বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও মুসলমানরা বিভিন্ন জায়গায় ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে কিছু স্বাতন্ত্রিক ব্যতিক্রম বাদে সাধারণতঃ সরকারী পাঠ্যক্রম ও বিষয়াদিই পড়ানো হয়। উত্তর ভারতের প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই এ ধরণের ইন্টারমেডিয়েট ও ডিগ্রী কলেজ অবস্থিত। দক্ষিণ ভারত, মাদ্রাজ ও কেরালাতে অনেক মুসলিম কলেজ রয়েছে, যার মধ্যে মাদ্রাজের নিউ কলেজ, ট্রিচিনিপলীর জামাল মুহাম্মদ কলেজ, করনুলের উসমানিয়া কলেজ এবং ক্যালিকটের অদূরে ফারুক কলেজ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ প্রসঙ্গে আজমগড়ের শিবলী কলেজও উল্লেখ করার মতো প্রতিষ্ঠান।
টিকাঃ
১. যথা মাওলানা সাইয়েদ মানাযির আহসান গিলানী (রহ.) চেয়ারম্যান- দ্বীনিয়াত বিভাগ, মাওলানা আবদুল বা'রী নদভী, শিক্ষক-দ্বীনিয়াত ও আধুনিক দর্শন, প্রফেসর ইলিয়াস বারণী, শিক্ষক- সমাজ বিজ্ঞান, ডা. খলিফা আবদুল হালীম, অধ্যাপক- আধুনিক শাস্ত্র, ড. মীর ওয়ালিউদ্দীন (দর্শন) ড. হামীদুল্লাহ্, (রাষ্ট্রনীতি), হারুন খান শিরওয়ানী ড. রকীবুদ্দীন সিদ্দিকী, (হিসাব বিজ্ঞান), ড. মুহিউদ্দীন কাদেরী জ্বর, (উর্দু), ড. সাইয়েদ আবদুল লতীক (ইংরেজী)।
📄 দারুল মুসান্নিফীন আজমগড়
মাওলানা মানযূর নো'মানী ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে আজমগড়ে এক মর্যাদাশীল শিক্ষা ও প্রকাশনা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন, যা 'দারুল মুসান্নিফীন' নামে নামকরণ করা হয়। এর জন্য তিনি স্বীয় ব্যক্তিগত বাগান ও বাংলো ওয়াকফ করে দেন। তাঁর পর ২৫০ বছরের অধিককাল পর্যন্ত মাওলানা সাইয়েদ সুলাইমান নদভীর (রহ.) সুযোগ্য নেতৃত্ব ও সুদক্ষ পরিচালনায় ধন্য ও সমৃদ্ধ হয় এই একাডেমী। এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ লেখক ও গবেষকগণ মাযহাব, ইতিহাস ও সাহিত্যের নানা বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন; যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্ততঃ উর্দু ভাষায় শীর্ষ শ্রেণীর গ্রন্থ। এখানে লিখিত কতিপয় গ্রন্থ অন্যান্য ভাষায় রচিত গ্রন্থ থেকেও স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে শ্রেষ্ঠ ও অনন্য, যা ছাড়া কোন কুতুবখানা বা গ্রন্থাগার পূর্ণতার দাবী করতে পারেনা। বিখ্যাত শিক্ষা ও সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী 'আল-মারুফ' ও দারুল মুসান্নিফীন থেকে প্রকাশিত হয়, যার সম্পাদক মাওলানা সুলাইমান নদভী (রহ.)। তাঁর পর তাঁর সুযোগ্য ছাত্ররা যথাক্রমে এ দায়িত্বপালন করেন। যাদের মধ্যে মাওলানা শাহ মুঈনুদ্দীন আহমদ নাদভী, মাওলানা আবদু সালাম কিদওয়ায়ী নাদভী, এবং সাইয়্যেদ সাবাহ উদ্দীন আবদুর রহমান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
📄 নদওয়াতুল মুসান্নিফীন দিল্লি
দিল্লিতে অবস্থিত 'নাদওয়াতুল মুসান্নিফীন' এ শ্রেণীরই অপর শিক্ষা সংস্থা। যা ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক কয়েক ডজন গ্রন্থ প্রকাশ করে। দেশের শিক্ষিত ও ধর্মীয় মহলে এসব গ্রন্থ ব্যাপক সমাদর লাভ করে। এর প্রখ্যাত প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকদের মধ্যে মাসিক 'বুরহান' সম্পাদক মাওলানা মুফতী আতীকুর রহমান উসমানী ও মাওলানা সাইয়েদ আহমদ আকবরাবাদীর নাম সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।