📄 মাদ্রাসাতুল ইসলাহ সরাইমীর
১৯০৯ ইংরেজী সালে দারুল উলূমের পদ্ধতি অনুসরণে আজমগড় জিলার সরাইমীর অঞ্চলে মাওলানা হামীদুদ্দীন ফারাহী (রহ.) মাদ্রাসাতুল ইসলাহ এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন। এ মাদ্রাসায় কুরআনের তাফসীর ও চর্চাকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। মাওলানা হামীদুদ্দীন (রহ.) স্বীয় তাফসীরে যে পদ্ধতির ভিত্ রচনা করেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষকমন্ডলী ও ছাত্ররা ঠিক এ পদ্ধতি অনুসরণ করেই অধ্যয়ন করে থাকেন। অনাড়ম্বর বসবাস ও শিক্ষার অনুকুল পরিবেশের বিবেচনায় এটি শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা।
📄 জামেয়াতুল ফালাহ আজমগড়
একই মূলনীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে আজমগড়ের বলইয়ারগঞ্জে গড়ে উঠে জামেয়াতুল ফালাহ্। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশেষ শিক্ষিত মহলের মনোযোগ বরাবরই সম্পৃক্ত। কচি-কাঁচা ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য এখানে ব্যাপক ও সমৃদ্ধ ব্যবস্থাপনা রয়েছে। সাম্প্রতিককালেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জামেয়া ইসলামিয়া মুজাফফরপূর নামে আরেকটি মাদ্রাসা। এটি প্রচুর সম্ভাবনাময় একটি প্রতিষ্ঠান।
📄 দারুল উলুম ভূপাল
ভূপাল ভারতের বড় ধরণের শিক্ষা-দীক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিল। ১৯৪৮ সালে বিভিন্ন রাজ্যের ভারত ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির কারণে মনে হয়েছিল; শুধু ভূপাল নয় বরং পুরো মধ্যবর্তী অঞ্চলে (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ) দ্বীনি শিক্ষার প্রদীপ নিভে যাবে কিন্তু ভাগ্যক্রমে কতিপয় দরদী, দূরদর্শী, আত্মপ্রত্যয়ী ওলামায়ে কেরামের সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়। ১৩৭৯ হিজরীতে মাওলানা সাইয়েদ সুলাইমান নাদভীর (রহ.) (যিনি তৎকালীন বিচারপতি ও জামেয়া আহমদিয়ার প্রধান হিসেবে সেখানে অবস্থান করতেন) দিক নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মাওলানা ইমরান খান সাহেবের সাহস, ব্যাপক প্রচেষ্টা ও প্রয়াসে ভূপালের বৃহৎ পরিসর সম্পন্ন মসজিদ 'তাজুল মাসাজিদ'-এ নদওয়াতুল উলামার চিন্তাধারা এবং এরই পাঠ্যক্রম অনুসরণে দারুল উলূম নামক মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটা মধ্য প্রদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ মাদ্রাসা এবং মাওলানা ইমরান খানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছে।
📄 আধুনিকশিক্ষার মুসলিম প্রতিষ্ঠান
দারুল উলূম দেওবন্দের পদ্ধতি অনুসৃত অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের বিপরীতে মুসলমানগণ আলীগড়, দিল্লি এবং হায়দ্রাবাদে বহু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। মুসলিম তরুণ-যুবকদের আধুনিক ইসলামী শিক্ষা গ্রহণ, বিদেশী ভাষা শিক্ষা, সরকারী বিভিন্ন পদে অংশ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনধারা ও সংস্কৃতিতে যথাযথ অংশ গ্রহণের লক্ষ্যকে সামনে রেখে এসব প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন করা হয়।