📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থায় নদওয়াতুল উলামার চিন্তাধারা ও বৈপ্লবিক কার্যক্রম

📄 পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থায় নদওয়াতুল উলামার চিন্তাধারা ও বৈপ্লবিক কার্যক্রম


নাদওয়াতুল উলামার সবচেয়ে বড় অবদান হলো পাঠক্রমের সেই নতুন রূপরেখা যা এখানে প্রণীত হবার পর বহু সংখ্যক মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ তা সাদরে গ্রহণ করেছে। অতঃপর সেটা অথবা তার আদলে নতুন সিলেবাস প্রবর্তন ও প্রণয়ন করেছে। এই সিলেবাস সাম্প্রতিক কালের বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে প্রচলিত সিলেবাসগুলোর সর্বজন গ্রাহ্য মূলনীতিকে গ্রহণ করেই বিন্যাস করা হয়েছে, শিক্ষার দ্বিমূখী ধারাকে এক ধারায কেন্দ্রীভূত করার প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে এবং সমকালীন জীবন সমস্যার সমাধানে যুগোপযোগী ও প্রয়োজনীয় সংযোজন করা হয়েছে। সিলেবাসকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক এ ধারাবাহিক ক্রমানুাসারে বিন্যস্ত করা হয়েছে। এবং এতে ধর্মীয় বিষয়াদি স্বীয় কলেবরে অক্ষুন্ন রেখে আনুষঙ্গিক বিষয়াদিকে প্রয়োজনীয় সংযোজন বিয়োজন করে পাঠ্যক্রমকে পূর্ণাঙ্গ এবং চাহিদা পূরণের উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।

এর ফলশ্রুতিতে নদওয়াতুল উলামা থেকে এমন বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিভাধর যোগ্য ব্যক্তি সৃষ্টি হয়েছেন যারা কেবল উর্দু ভাষাতেই নয় আরবী ভাষায়ও স্বীয় অনন্য যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আরবী ভাষায় তাঁদের রচনাকর্ম ও সৃজনশীল অবদানকে শিক্ষিত ও বিদগ্ধ মহল সপ্রশংস স্বীকৃতি দিয়েছেন। তাঁরা গবেষণা ও সাহিত্য বিষয়ক উল্লেখযোগ্য সংখ্যক একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নাদওয়াতুল উলামার চিন্তা-চেতনার আলোকে পরিচালিত ডজন খানেক মাদ্রাসা দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশের বাইরে মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে নেপালের দারুল উলূম নুরুল ইসলাম জিলপাপুর, বাংলাদেশে দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া, মালয়েশিয়ায় দারুতি তারবিয়্যা আল ইসলামিয়া সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। দেশের অভ্যন্তরে দারুল উলূমের মডেলে 'দারুল উলূম তাজুল মাসাজিদ' ভূপাল, 'কাশেফুল উলুম' আওরঙ্গাবাদ, 'জামিয়া ইসলামিয়া' বাটকল, 'ফালাহুল মুসলিমীন' রায়বেরেলী সর্বশ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা তথা ইসলামী বিদ্যাপীঠ হিসেবে সুপরিচিত।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 মাদ্রাসাতুল ইসলাহ সরাইমীর

📄 মাদ্রাসাতুল ইসলাহ সরাইমীর


১৯০৯ ইংরেজী সালে দারুল উলূমের পদ্ধতি অনুসরণে আজমগড় জিলার সরাইমীর অঞ্চলে মাওলানা হামীদুদ্দীন ফারাহী (রহ.) মাদ্রাসাতুল ইসলাহ এর ভিত্তি স্থাপন করেছেন। এ মাদ্রাসায় কুরআনের তাফসীর ও চর্চাকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। মাওলানা হামীদুদ্দীন (রহ.) স্বীয় তাফসীরে যে পদ্ধতির ভিত্ রচনা করেছেন, মাদ্রাসার শিক্ষকমন্ডলী ও ছাত্ররা ঠিক এ পদ্ধতি অনুসরণ করেই অধ্যয়ন করে থাকেন। অনাড়ম্বর বসবাস ও শিক্ষার অনুকুল পরিবেশের বিবেচনায় এটি শ্রেষ্ঠ মাদ্রাসা।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 জামেয়াতুল ফালাহ আজমগড়

📄 জামেয়াতুল ফালাহ আজমগড়


একই মূলনীতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে আজমগড়ের বলইয়ারগঞ্জে গড়ে উঠে জামেয়াতুল ফালাহ্। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে বিশেষ শিক্ষিত মহলের মনোযোগ বরাবরই সম্পৃক্ত। কচি-কাঁচা ছেলে-মেয়েদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য এখানে ব্যাপক ও সমৃদ্ধ ব্যবস্থাপনা রয়েছে। সাম্প্রতিককালেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জামেয়া ইসলামিয়া মুজাফফরপূর নামে আরেকটি মাদ্রাসা। এটি প্রচুর সম্ভাবনাময় একটি প্রতিষ্ঠান।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 দারুল উলুম ভূপাল

📄 দারুল উলুম ভূপাল


ভূপাল ভারতের বড় ধরণের শিক্ষা-দীক্ষার প্রাণকেন্দ্র ছিল। ১৯৪৮ সালে বিভিন্ন রাজ্যের ভারত ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্তির কারণে মনে হয়েছিল; শুধু ভূপাল নয় বরং পুরো মধ্যবর্তী অঞ্চলে (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ) দ্বীনি শিক্ষার প্রদীপ নিভে যাবে কিন্তু ভাগ্যক্রমে কতিপয় দরদী, দূরদর্শী, আত্মপ্রত্যয়ী ওলামায়ে কেরামের সময়োচিত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে এ বিপর্যয় কাটিয়ে উঠা সম্ভব হয়। ১৩৭৯ হিজরীতে মাওলানা সাইয়েদ সুলাইমান নাদভীর (রহ.) (যিনি তৎকালীন বিচারপতি ও জামেয়া আহমদিয়ার প্রধান হিসেবে সেখানে অবস্থান করতেন) দিক নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মাওলানা ইমরান খান সাহেবের সাহস, ব্যাপক প্রচেষ্টা ও প্রয়াসে ভূপালের বৃহৎ পরিসর সম্পন্ন মসজিদ 'তাজুল মাসাজিদ'-এ নদওয়াতুল উলামার চিন্তাধারা এবং এরই পাঠ্যক্রম অনুসরণে দারুল উলূম নামক মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটা মধ্য প্রদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ মাদ্রাসা এবং মাওলানা ইমরান খানের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px