📄 আরো কিছু দৃষ্টান্ত
ভারতে বহুল প্রচলিত 'কলঈ' শব্দটি (বার্ণিশ) আরবী। ভারতে এ শব্দটি শ্বেতবর্ণের অর্থেই ব্যবহৃত হয়। এক্ষেত্রে লিসানুল আরব এর বিজ্ঞ গ্রন্থকারের মন্তব্য লক্ষণীয়। তিনি বলেন, 'কলঈ' উন্নত মানের সীসা বিশিষ্ট এক প্রকারের ধাতু বিশেষ। গভীর শুভ্রতার ক্ষেত্রেও শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। 'আল-কিলউ' এক প্রকারের ধাতু। যার মাধ্যমে উন্নত মানের সীসা তৈরী হয়। 'আহদী' শব্দটি প্রয়োগ হয় এমন অলস ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে সংসারে বোঝা হয়ে পড়েছে। কোন মেহনত না করার কারণে আরবীতে এর অর্থ একা বা একাকী। রাজা-বাদশাহদের দ্বারে দ্বারে কিছু লোক কেবলমাত্র প্রহরী হিসেবে নিয়োজিত থাকে; মালিকের উচ্চিংষ্টের উপরই তারা প্রতিপালিত হয়। তাই তাদের 'আহদী' নামে আখ্যায়িত করা হয়। অর্থাৎ এমন লোক যারা অলস ও পক্ষাঘাতগ্রস্থদের ন্যায় অনর্থক সময় কাটায়। অনুরূপভাবে 'তামাশা' শব্দটি হিন্দি ভাষায় চিত্ত বিনোদনের অর্থে ব্যবহৃত হয়। মুলত তা আরবি শব্দ 'তামাশি' থেকে রূপান্তরিত, যার অর্থ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ঘুরে বেড়ানো। ফার্সি ব্যাকরণের নিয়মানুযায়ী এর 'শীন' এর যেরকে যবর দিয়ে পাল্টালে 'তামাশা'য় রূপান্তরিত হয়। 'তামান্নী' থেকে 'তামান্না'।
সব আরবী শব্দ হিন্দি ভাষায় প্রবেশ করেছে এবং সংক্ষিপ্তালোচনায় তার বর্ণনা দেওয়াও সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তা'য়ালা সাইয়েদ সুলাইমান নদভীকে (রহ.) উত্তম প্রতিদানে ভূষিত করুন যে, তিনি এ বিষয়ে চুলচেরা ও প্রাণান্তকর গবেষণা পূর্বক অনেক মনোমুগ্ধকর দৃষ্টান্ত পেশ করেন। এখনো গবেষণা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যারা নিবেদিত প্রাণ; তাঁদের জন্য রয়েছে অনুসন্ধানের প্রশস্ত ও মুক্ত ময়দান। তবে শর্ত হলো, যারা এ মহৎকর্মের উদ্যোগ ও পতাকা বহন করবেন, তাঁরা যেন আরবি ও হিন্দি উভয় ভাষাতে পূর্ণ দক্ষতার অধিকারী হন। সাথে সাথে প্রাচীন ও আধুনিক তত্ত্ব-উপাত্ত সম্পর্কে থাকতে হবে তার অবাধ দখল। আরবী ভাষা ও সাহিত্য ভান্ডারে রক্ষিত প্রাচুর্য আহরণে বিশেষ মনোযোগী হতে হবে। অসম্পূর্ণতা, তাড়াহুড়া ও আপাতঃদৃষ্টি পরিহার করতে হবে। দূর-দূরান্তের পরিভ্রমণে, আরব মরুভূমি থেকে শুরু করে ইসলামী বিশ্বের প্রধান নগর সমূহে এবং সিন্ধু প্রান্তর ও গঙ্গা-যমুনার অববাহিকা হয়ে আরব সাগরের প্রান্ত পর্যন্ত প্রত্যেক মনযিল ও পর্যায়ে একজন অনুসন্ধিৎসু পরিভ্রাজককে এসব শব্দ ভান্ডারের সাথে পরিচিতি লাভে সচেষ্ট থাকতে হবে।
এটা সন্দেহাতীতভাবে সত্য যে, ভারতীয় ভাষা সমূহে ব্যাপক আরবী ভাষা এবং ভারতীয় সাহিত্যে সুনিপুন ভাবে নিজের পথ করে নিয়েছে। আরবী ভাষা ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার মুকাবিলায় এবং আরবী শব্দ সমূহ ভারতীয় ভাষায় ও ভারতীয় মানুষের জীবনধারায় এমনভাবে মিশে গেছে যে, এ বিষয়ে পন্ডিত ও বিশেষজ্ঞ ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে তা চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।