📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 মানবতার আশ্রয়স্থল

📄 মানবতার আশ্রয়স্থল


এ সব সুফীয়ায়ে কেরামের শিক্ষা ও সাহচর্যের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধর্ম, বর্ণ ও জাতীয়তা নির্বিশেষে সব মানুষকে ভালবাসার, তাদের দুঃখে ব্যথিত হওয়ার উদ্দীপনা তৈরী হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিম্নোক্ত অমরবাণীর প্রতি তাঁদের আমল ছিল সুদৃঢ়ঃ "সৃষ্টিকুল আল্লাহর পরিবার-পরিজন সদৃশ। অতএব, তাদের মধ্যে সেই আল্লাহর নিকট অধিকতর প্রিয় যে আল্লাহর পরিবারের নিতান্ত হিতকারী।" এসব পীর-মাশায়েখ ছিলেন গোটা দুনিয়ার মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। হযরত খাজা নিযামুদ্দীন আওলিয়া (রহ.) একদা নিজের অবস্থা বর্ণনা করে বলেন, 'কোন মানুষ যখন আমার কাছে এসে নিজের সমস্যাবলী ব্যক্ত করে তখন আমিও তাঁর মত ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি। কেয়ামতের দিন পরের সন্তুষ্টি ও সেবার ইচ্ছার চাইতে অধিকতর মূল্যবান আর কোন আমল থাকবে না।' যার ফলে এ সব খানকায় ভগ্নহৃদয়ের অধিকারী মানুষের আশ্রয় মিলতো, মিলতো ব্যথার উপশমও। যারা সরকার, সমাজ, গোষ্ঠী কর্তৃক বিতাড়িত হতো, আত্মীয়-স্বজন এমন কি অনেক সময় নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের কাছেও হত উপেক্ষিত; তারা সে সব বুযর্গদের পায়ে লুটিয়ে পড়ত। ঘরের যাবতীয় আরাম-আয়েশ তথায় উপভোগ করত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মনঃকষ্ট, উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতা সেখানে দূরীভূত হতো। আহার, ঔষধ, দয়া-যত্ন সবই ছিল সেখানে। হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া (রহ.) কে তাঁর পীর-সাহেব দিল্লি অভিমূখে বিদায় দেয়ার সময় বলেন যে, তুমি হবে এক ছায়াময় বৃক্ষ; যার ছায়াতলে খোদার সৃষ্টিরাজি সুখ পাবে।¹ সত্যিই ইতিহাস সাক্ষী যে, সত্তর বছর অবধি দিল্লি ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত লোকগণ সে বৃক্ষের ঘণ ছায়াতলে আরাম-আয়েশ উপভোগ করে। এ সব সূফী-দরবেশদের অবদানে ভারতবর্ষে শতাধিক স্থানে এমন ছায়াময় বৃক্ষ বিদ্যমান ছিল যার ছায়াতলে পরিশ্রান্ত মুসাফির ও পথভ্রষ্ট কাফেলা এক নব জীবনের সন্ধান পেতো।

টিকাঃ
১. মানযির আহমদ গিলানী, মুসলমানোকা নিযামে তা'লীম ওয়া তারবিয়াত, ২খন্ড, পৃ.২২০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px