📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 সাধনা ও স্বাবলম্বন

📄 সাধনা ও স্বাবলম্বন


এসব সূফী দরবেশ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পদ, সরদার ও বিত্তবানদের মূল্যবান উপঢৌকন ও ভূসম্পত্তি গ্রহণ করা থেকে প্রায় বিরত থাকতেন। তাঁরা সাধনা, আত্মনির্ভরশীলতা, অল্পতুষ্টি ও আল্লাহ ভরসা, আত্মপ্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস ও আত্মপরিচিতির এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন যা ভারতীয় সমাজে কর্মদক্ষতা, অপূর্ব সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার গুণাবলী ও উপাদান সমূহের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। তাঁরা মানবতার সুনাম ও সুখ্যাতিকে সতত সুদৃঢ় ও অক্ষুন্ন রাখেন লাভ-লোকসানের বিপনিতে, যেখানে মানুষের ক্রয়- বিক্রয়ও হয়ে থাকে। তাঁদের জীবনের নীতিমালা ও শ্লোগান ছিল নিম্নরূপ:

"আমি স্বীয় ফকিরী পোষাককে রাজা-বাদশাহদের মুকুটের বদলে প্রদান করতে প্রস্তুত নই। আমি আমার দরিদ্রতাকে সুলাইমানী রাজত্বের বিনিময়ে হস্তান্তর করতে রাজী নই। দারিদ্র্যের কষাঘাতে অন্তরে আমি যে তৃপ্তি পেয়েছি, তা রাজা-বাদশাহদের আরাম আয়েশের বিনিময়ে আদৌ অর্পন করব না।"

ভারতবর্ষে সূফীবাদ ও তাসাউফের ইতিহাস সাধনা, আত্মপ্রত্যয়, আত্মপরিচিতি, পরার্থ ও আত্মোৎসর্গের রোমাঞ্চকর ঘটনাবলী দ্বারা পরিপূর্ণ ও ব্যাপৃত। কোন তরীকতের সিলসিলা এবং তাসাউফের ইতিহাস সেসব আদর্শ থেকে শূন্য নয়। তবে এ ক্ষেত্রে মাত্র দু'শতাব্দীর (ত্রয়োদশ-চতুর্দশ) কতিপয় ঘটনাবলী প্রদত্ত হলো যা সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের সাথে সম্পর্কিত। যেখানে বস্তুবাদ ও ভোগবাদ স্বীয় শিকড়কে মযবুত করার সুযোগ পেয়েছে। নকশবন্দিয়া মুজাদ্দেদিয়া সিলসিলায় হযরত মির্যা জানে জানাঁ দেহলভী (রহ.) নামক এক বুযুর্গ ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পূর্বে তদানীন্তন দিল্লির বাদশাহ সংবাদ পাঠান যে, মহান আল্লাহ তা'য়ালা আমাকে বিশাল রাজত্ব দান করেছেন; আপনি তাঁর কিছু অংশ গ্রহণ করুন। উত্তরে তিনি বললেন, মহান আল্লাহ সপ্ত পৃথিবীকে 'মাতা'উদ্দুনিয়া কুলীল' তথা পার্থিব সামগ্রী ক্ষুদ্র ও সীমিত বলে ঘোষণা করেন। অতএব, এক সপ্তমাংশের ন্যূনতম অংশ আপনার কর্তৃত্বে এলে আমি সেদিকে লোভের হস্ত সম্প্রসারণ করার প্রয়োজন কী? একদা নওয়াব আসিফ জাহ বিশ হাজার টাকা হাদিয়া দিলে তিনি তা প্রত্যখ্যান করেন। নওয়াব তা গরীবদের মাঝে বণ্টন করতে বললে তিনি বলেন, সে যোগ্যতা আমার নেই। এখান থেকে বেরিয়ে আপনি নিজেই বন্টন করতে থাকুন, ঘরে পৌঁছতে পৌঁছতে বিলি হয়ে যাবে অথবা ওখানে গিয়ে বন্টন সমাপ্ত করুন।

টুংকু রাজ্যের শাসক নওয়াব মীর খান একদা হযরত গোলাম আলী দেহলভী (রহ.) এর খানকাহ্ শরীফের বার্ষিক ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি মোটা অংকের অনুদান দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে তিনি বলেন: 'দরিদ্রতা ও সন্তুষ্টির মুখোশ উন্মোচন করতে চাই না। নওয়াব মীর খানকে জানিয়ে দাও, রিস্ক একমাত্র আল্লাহর হাতে। একদা হযরত মাওলানা ফযলে রাহমান গঞ্জেমুরাবাদী (রহ.) (মৃত্যু: ১৩১৩ হি.) এর দরবারে এক গভর্ণরের আগমন ঘটে। তিনি হুজুরের মুখে চরিত্র সংক্রান্ত বয়ান শুনে মুগ্ধ হয়ে বল্লেন, হুজুর! আপনার সম্মতি পেলে সরকারী তহবিল থেকে আপনার খানকার নামে কিছু অনুদান বরাদ্দ করে দিব। উত্তরে তিনি বলেন, "আমি আপনাদের সরকারী অর্থ নিয়ে কী করব? আল্লাহ তা'য়ালার অনুকম্পায় আমার সম্বল হল- রশির তৈরী একটি খাঁটি, মৃত্তিকার দু'টি লোটা ও দু'টি কলসি। আমার শিষ্যদের মধ্যে কেউ কেউ ভুট্টা নিয়ে আসে; তা দিয়ে রুটি বানানো হয়। আমার পত্নী অল্প শাক-সবজী বা ডাল রান্না করে; তা দিয়ে খাবার সেরে নিই। হযরত মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ সাহেব বলেন, রামপুর প্রশাসক নওয়াব কলবে আলী খান একদা আগ্রহ ব্যক্ত করেন যেন রামপুরের মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা ফযলুর রহমান সাহেব তথায় তাশরীফ নেন। সে ক্ষেত্রে তিনি নওয়াব সাহেবকে বলেন, আপনি কী নযরানা পেশ করবেন? তিনি বললেন, একলাখ টাকা। তখন মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ্ সাহেব মুরাদাবাদ পৌঁছে আরয করেন, হুজুর! রামপুরে তাশরীফ নেন। সেখানকার প্রশাসক নওয়াব কলবে আলী খান আপনার অন্ধ ভক্ত। তদুপরি এক লাখ টাকা হাদিয়া দেবেন। হুজুর স্বাভাবিক নিয়মে সংলাপ করতে থাকেন। কিন্তু এ প্রসঙ্গে আলাপ হলে তা সাধারণ কথা রূপে উড়িয়ে দেন এবং বলেন, আরো মিঞা! লাখ টাকা ডাস্টবিনে নিক্ষেপ কর এবং জেনে রেখো: 'যে অন্তরে দয়ার্দ্রতার প্রকাশ পায়, সে অন্তর রাজকীয় অর্থভান্ডারের চাইতেও উত্তম।'"

টিকাঃ
১. নুযহাতুল খাওয়াতির, ৫খন্ড।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 লেখা-পড়ায় আত্মমগ্নতা

📄 লেখা-পড়ায় আত্মমগ্নতা


পঠন-পাঠনে প্রাচীন যুগের শিক্ষকদের মনোযোগ ও আত্মমগ্নতা এত গভীর ছিল যে, বাস্তব দৃষ্টান্ত ও ঘটনা বর্ণনা করা ছাড়া তা কল্পনাও করা যায় না। পঠন পাঠনই তাদের আত্মার খোরাক, ইবাদত ও জীবনের একমাত্র ব্রতে পরিণত হয়েছিল। জীবনের দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম সময় রাত-দিন একাকার করে তারা লেখা-পড়ায় আত্ম নিমগ্ন থাকতেন। আলেমকুল শিরোমনি আল্লাম ওজীহুদ্দীন গুজরাটী ৬৫/৬৭ বছর পর্যন্ত শিক্ষকতা করেছেন। মৌলানা আবদুস সালাম লাহোরী, মোল্লা আবদুল হাকীম শিয়ালকোটী, মৌলানা আলী আসগর কন্নোজী এদের প্রত্যেকের শিক্ষকতার সময় ছিল ৬০ বছর। মৌলানা আহমদ আমীটভী যিনি মোল্লা জিয়ূন নামে সমধিক পরিচিত জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দরস দিয়ে গেছেন।

শিক্ষকদের সবটুকু সময় (মানবিক প্রয়োজন ও অল্প বিশ্রাম ব্যতীত) দারস ও তাদরীসেই কাটতো। কোন কোন আলেমতো খাবার সময় এমনকি চলাফেরার সময়ও পড়াতেন। মোল্লা আবদুল কাদের বাদাউনী নিজেদের উস্তাদ আবদুল্লাহ বাদাউনী সম্পর্কে লিখেছেন, তিনি যখন সওদা করতে বাজারে যেতেন তাঁর পেছনে পেছনে ছাত্রদের একটি বিশাল জামা'আত থাকতো। সেই অবস্থাও তিনি তাদের পড়াতেন। শেষযুগের এক প্রখ্যাত আলেম ও শিক্ষক মাওলানা আবদুল হাই ফিরিঙ্গী মহল্লী ফজরের নামাযের পূর্বে কিছু ছাত্রদের সময় দিতেন এবং একটি ক্লাস নিতেন।¹

টিকাঃ
১. মুন্তাখাবুত তাওয়ারীখ, পৃ.৫৬

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 জ্ঞানের বিকাশ সাধন

📄 জ্ঞানের বিকাশ সাধন


ভারত বর্ষের পীর-মাশায়েখগণ সর্বদা জ্ঞানের পৃষ্টপোষক ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁদের অনেকেই উচ্চাঙ্গের সাহিত্য ও জ্ঞানের আধার ছিলেন। প্রথম দিন থেকেই জ্ঞানের প্রতি তাঁদের প্রতি আস্থা ছিল সুদৃঢ় এবং তারা বিশ্বাস করতেন 'জ্ঞানহীন ব্যক্তি আল্লাহকে চিনতে পারে না।' যেহেতু মূর্খ সূফী শয়তানের পুতুলের নামান্তর; সেহেতু অনেক যোগ্য ও মেধাবী ছাত্ররা জ্ঞানার্জন সম্পন্ন না করা পর্যন্ত পীর- মাশায়েখগণ তাদেরকে খিলাফত প্রদান করতেন না। যার বিবরণ এই কিতাবের অন্যত্র দেয়া হয়েছে। ভারতবর্ষে শিক্ষার বিকাশ ও জ্ঞানের চর্চা মূলতঃ তরীকতের পীর-মাশায়েখের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও উৎসাহ প্রদানের ফলশ্রুতি। চতুর্দশ শতাব্দীর দু'জন বিখ্যাত পন্ডিত ও গবেষক কাযী আবদুল মুকতাদির কিন্দী এবং শায়খ আহমদ থানেশ্বরী ছিলেন খাজা নাসিরুদ্দীন চেরাগ-ই-দেহলভীর আধ্যাত্মিক শিষ্য। সপ্তদশ শতাব্দীর সুবিখ্যাত উস্তাদ মাওলানা লুতফুল্লাহ্ কুয়েলীর শিষ্যবৃন্দ ও শিষ্যদের শিষ্যকুলের শিক্ষা-দীক্ষার ধারাবাহিকতা উনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। চিশতী তরীকতের উপরিউক্ত পীর ও বুযুর্গের গভীর সম্পর্ক ছিল খানকাহ্ ও মাদ্রাসার সাথে। এককথায় পীর-দরবেশ ও খানকাহ-মাদ্রাসা ছিল একে অপরের পরিপূরক ও সম্পূরক। জৈনপুরের খানকায়ে রশীদিয়া, লক্ষ্ণৌর মাওলানা পীর মুহাম্মদ সাহেবের মাদ্রাসা, দিল্লির হযরত শাহ ওয়ালি উল্লাহ দেহলভীর শিক্ষাঙ্গণ এবং গাঙ্গুহে মাওলানা রশীদ আহমদ সাহেবের খানকাহ তার অনন্য উদাহরণ ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

📘 ভারতর্বর্ষে মুসলমানদের অবদান 📄 পরোপকার

📄 পরোপকার


এ সব পীর-মাশায়েখ ও খানাকাহের মাধ্যমে অনেক আল্লাহর বান্দাদের অভাব বিমোচন হতো; অজস্র পরিবার ও ঘর-বাড়িতে জলে উঠতো প্রদীপ, গরম হতো চুলা ও উনুন। বিপুল সংখ্যক মানুষ খানকাতে খেয়ে উদরপূর্তি করতো, বিভিন্ন প্রকারের উপাদেয় খাবারের স্বাদ আস্বাদন করতো। সূফী সাধকদের খাবারের বিছানায় শত্রু-মিত্র, আত্মীয়-অনাত্মীয়, ধনী-দরিদ্র ও দেশী-বিদেশীর কোন ভেদাভেদ ছিল না। খাজা নিজামুদ্দীন আওলিয়া (রহ.) এর খাবারের আসরে মহার্ঘ ও বিপুল পরিমাণ খাদ্য আইটেমের কারণে প্রবাদতুল্য ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ শেখ সাইফুদ্দীন সিরহিন্দী (রহ.) এর খানকায় প্রত্যেহ দু'বেলায় এক হাজারের বেশী লোক ইচ্ছা ও পছন্দ অনুযায়ী খাবার গ্রহণ করতো।¹ সাইয়েদ মুহাম্মদ সাঈদ আকন্দ প্রকাশ 'শাহ ভীক' নামক সপ্তদশ ও অষ্টাদশ শতকের চিশতী তরিকার এক সাধক সম্পর্কে তাঁর জীবনীকার বর্ণনা করেন যে, তাঁর যিক্র ও সাধনায় স্থায়ীভাবে প্রায় পাঁচশ'জনের ভক্তদল তথায় আসা-যাওয়ায় থাকত এভাবে প্রায় এক হাজার লোক তাঁর সাথে আহার গ্রহণ করতেন নিয়মিত। তিন হাজারী সৈন্যের মনসবদার ও দিল্লির সম্রাট ফররুখ শিয়রের অনুগ্রহভাজন জমিদার একদা খানকা সংস্কারের জন্যে সত্তর হাজার টাকা হাদিয়া পেশ করেন। তখন হুজুর ওগুলো আপাতত রেখে দিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিকাল বেলা মিস্ত্রিদের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হবে। রওশনদ্দৌলা যখন বিশ্রাম নিতে চলে গেলেন, শাহভীক তখন দরবেশদের ডেকে সমুদয় অর্থ আম্বালা, থানেশ্বর, সিরহিন্দ ও পানিপথ শহরের বিধবা নারী ও গরীব-দুঃখীর গৃহে পাঠিয়ে দেন।¹

এমনকি একটি টাকা অবশিষ্ট ছিল না। অতপর তাঁকে বলেন, আপনার প্রদত্ত টাকাগুলো নিঃস্ব ও সাধকদের দেয়াতে আপনিও মহাপুণ্যের অধিকারী হয়েছেন। খানকার নির্মাণকাজে আদৌ কি সে সওয়াব অর্জিত হতো? আমার মত সাধারণ মানুষের জন্য প্রাসাদুপম অট্টালিকার কী দরকার? একদা সম্রাট মুহাম্মদ ফররুখ শিয়র নওয়াব রাওশনদ্দৌলা ও নওয়াব আবদুল্লাহ্ খানের পক্ষ থেকে পত্রাবলী ও তিন লাখ টাকার চেক আসে। কিন্তু হুজুরের নির্দেশক্রমে সমুদয় অর্থ পার্শ্ববর্তী এলাকার গরীব-দুঃখীদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া হয়। মাওলানা মানাযির হাসান গীলানী (রহ.) সঠিক বলেছেন: 'ইসলামের এসব সূফীদের খানকাহ সমূহ ধনী ও নিঃস্বদের মাঝে সেতু বন্ধনের কাজ দিতো। এসব বুযুর্গদের দরবার এমন ছিল যে, ক্ষমতাসীন রাজা-বাদশাহগণও কর প্রদান করতেন। সুলতানুল মাশায়েখের ঘটনা পর্যালোচনা করুন। যুবরাজ খিযির খান পর্যন্ত সে দরবারে সেবক হিসেবে নিয়োজিত থাকতেন। সুলতান আলাউদ্দীন সমগ্র ভারতবর্ষ থেকে কর আদায় করতেন। কিন্তু একটি কোষাগার এমনও ছিল যেখানে তাঁকেও রাজস্ব প্রদান করতে হত। এ খানকাহ হতে দেশের সাধারণ গরীব-মিসকীনদের নিকট তাদের ন্যায্য অংশ পাঠানো হতো।

এটাই নিম্নের প্রসিদ্ধ বাক্যের মর্মার্থ: 'মালে সুফী সাবিল আস্ত' 'অর্থাৎ সুফী দরবেশদের অর্থ সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফকৃত।' ধনী-গরীবের এ মোহনা অর্থাৎ নিঃস্বার্থ সূফী-দরবেশদের দরবারে ধনী-নির্ধন আমীর-ফকীর উভয়ই একই মর্যাদায় হাযির থাকতেন। তাতে গরীব ও দুঃস্থ মুসলমানদের বিপুল অভাব লাঘব হতো। ইসলামী যুগের কোন কাল এবং তখনকার ভারতবর্ষের এমন কোন এলাকা ও প্রদেশ ছিল না যেখানে সত্যবাদিতা ও আত্মশুদ্ধিতার এ দল নবীজির অপূর্ব বাণী 'যাকাতের মাল বিত্তবানদের কাছ থেকে নিয়ে ফকীর-মিসকীনদের নিকট পৌঁছিয়ে দাও।" সে মুতাবিক নিবেদিত প্রাণ ছিলেন না। বিশেষতঃ আমীর-ওমরাহ ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের যে সব বুযুর্গদের কোন না কোন কারণে প্রভাব ছিল সেখানে গরীব দুঃখীদের ভাগ্য পরিবর্তন না হয়ে পারেনি।

টিকাঃ
১. নুযহাতুল খাওয়াতির, ৫খন্ড।
১. মানযির আহসান গিলানী, নিযাম-ই-তা'লীম ওয়া তারবিয়াত, ২য় খন্ড, পৃ.২২১-২।

ফন্ট সাইজ
15px
17px