📄 ভালোবাসার গভীরতা - বিবাহ এবং পারিবারিক জীবন
আমাদের সমাজে ও দেশে এমন অনেক বিচারক আছেন যারা ন্যায়বিচার করেন, তার বুদ্ধি ও বিবেচনা অনুযায়ী ন্যায়ানুগ ফায়ছালা দিতে চেষ্টা করেন। তাদের জন্যই পরকালে ক্বিয়ামতের মাঠে আরশের নিচে ছায়ার ব্যবস্থা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, আল্লাহ সাত শ্রেণীর লোককে তাঁর আরশের নিচে ছায়া দান করবেন, যে দিন তাঁর ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে এক শ্রেণীর লোক হ'লেন ন্যায়বিচারক নেতা বা শাসক'।
ন্যায়বিচার সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলাও নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক, আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্য দান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতামাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতিও হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চেয়ে বেশি। অতএব তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ কর না' (নিসা ৪/১৩৫)।
অন্যত্র তিনি বলেন, 'যখন তোমরা কথা বল, তখন সুবিচার কর। যদিও সে আত্মীয় হয়' (আন'আম ৬/১৫২)। তিনি আরো বলেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে ন্যায়পরায়ণতা ও ইহসান করার নির্দেশ দিয়েছেন' (নাহল ১৬/৯০)। এসব আয়াত সকল প্রকার গোঁড়ামি পরিহার করে ন্যায়নীতি অবলম্বনের নির্দেশ দেয়, তেমনি সকল কাজে ইনসাফ অলম্বন কামনা করে। এতে মর্যাদাবান লোকের মর্যাদাকে তুচ্ছ করাও অন্যায়।
বিচার-ফায়ছালা ও সাক্ষ্য দানের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার করতে এবং সত্য সাক্ষ্য প্রদান করতে হবে। অবিচার ও মিথ্যাসাক্ষ্য থেকে বিরত থাকতে হবে। এক্ষেত্রে প্রভাবিত হয়ে কিংবা পক্ষপাতমূলকভাবে বিচার করা কিংবা সাক্ষ্য প্রদান করা মুমিনের বৈশিষ্ট্য বিরোধী। তাই এক্ষেত্রে ইনছাফ করাই ইসলামের দাবী।
তাছাড়া যোগ্য-দক্ষ বিচারক নিয়োগ করা রাষ্ট্রপ্রধানের কর্তব্য, যাতে দেশের জনগণ হক বিচার পায়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'যখন দুই ব্যক্তি (বাদী ও বিবাদী) কোন এক ব্যাপার নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হয়, তখন প্রতিপক্ষের কথাবার্তা না শোনা পর্যন্ত বাদীর পক্ষে (ডিক্রী) রায় প্রদান করবে না। কেননা প্রতিপক্ষের বর্ণনা হতে মোকদ্দমার রায় প্রদানে তোমার মদদ ও সাহায্য মিলবে'।
অতএব আল্লাহভীরু, সৎ-যোগ্য বিচারক নিয়োগ দানের মাধ্যমে জনসেবায় ব্রতী হওয়া দায়িত্বশীলদের কর্তব্য। এ কর্তব্যে অবহেলা করা হলে মানুষ যুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়। আল্লাহ আমাদেরকে এ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীকু দান করুন।
টিকাঃ
৫৫. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত, হা/৭০১, 'ছালাত' অধ্যায়।
৫৬. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৩৭৩১।
৫৭. আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৩৭৩৫, সনদ ছহীহ, ইরওয়াউল গালীল হা/২৬১৪।
৫৮. আবু দাউদ হা/৩৫৮২; তিরমিযী হা/১৩৫৪ সনদ হাসান।
ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদীছটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিন ব্যক্তি রাসূলের স্ত্রীগণের নিকটে এসে তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জানতে চাইল। তাদেরকে যখন ঐ সম্পর্কে বলা হলো, তারা যেন তা কম মনে করল। তখন তারা বলল, রাসূলের আমলের তুলনায় আমরা কোথায় পড়ে আছি? অথচ আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সকল গোনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তাদের একজন বলল, আমি সর্বদা সারারাত ছালাত আদায় করব। আরেকজন বলল, আমি সারা বছর ছিয়াম পালন করব, কোন দিন ছাড়ব না। অন্যজন বলল, আমি নারীসঙ্গ ত্যাগ করব, কোন দিন বিবাহ করব না। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এসে বললেন, তোমরা এরূপ এরূপ বলেছ? আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে অধিক ভয় করি। তথাপি আমি ছিয়াম পালন করি, ছেড়েও দেই, আমি ছালাত আদায় করি এবং ঘুমাই। আমি বিবাহও করেছি। সুতরাং যে আমার সুন্নাতকে পরিত্যাগ করবে সে আমার দলভুক্ত নয়।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবাদত-বন্দেগীতে এমন মশগুল থাকতেন যে, তার স্ত্রীর প্রতি কর্তব্যও উপেক্ষিত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একথা জানতে পেরে বললেন, ‘হে আবদুল্লাহ! আমি কি শুনিনি যে, তুমি সারাদিন ছিয়াম পালন কর এবং সারা রাত ছালাত আদায় কর? আব্দুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! মহানবী (ছাঃ) বললেন, এরূপ কর না। তুমি ছিয়াম রাখবে আবার বিরতিও দিবে। ছালাত আদায় করবে আবার ঘুমাবেও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে, তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে, তেমনি তোমার উপর তোমার স্ত্রীর দাবী আছে এবং তোমার উপর অতিথিরও হক আছে’।
এ মর্মে প্রখ্যাত ছাহাবী সালমান ফারসী ও তাঁর একান্ত বন্ধু আবুদ দারদার মধ্যকার ঘটনাটিও প্রণিধানযোগ্য। একদা সালমান (রাঃ) আবু দারদার বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। দেখলেন আবুদ দারদার স্ত্রী উম্মু দারদা জীর্ণবসন পরিহিতা। তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে উম্মু দারদা বললেন, আপনার ভাই আবুদ দারদার দুনিয়াবী কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যে আবুদ দারদা এসে সালমান (রাঃ)-এর জন্য কিছু খাবার তৈরী করে নিয়ে আসলেন। সালমান (রাঃ) তার সাথে আবুদ দারদাকে খেতে বললেন। তিনি বললেন, আমি ছিয়াম রেখেছি। তখন সালমান (রাঃ) বললেন, 'তুমি না খেলে আমিও খাব না'। সুতরাং আবুদ দারদাও সালমানের সাথে খেলেন। রাতে আবুদ দারদা ছালাতের জন্য উঠলে সালমান (রাঃ) তাকে ঘুমাতে যেতে বললেন। তিনি ঘুমাতে গেলেন। রাতের শেষ প্রান্তে সালমান (রাঃ) আবুদ দারদাকে বললেন, এখন ওঠো। তখন দু'জনে ছালাত আদায় করলেন। পরে সালমান (রাঃ) আবুদ দারদাকে বললেন, তোমার উপর তোমার প্রভুর হক আছে, তোমার উপর তোমার আত্মার হক আছে, তোমার উপর পরিবারেরও হক আছে। সুতরাং প্রত্যেককে তার ন্যায্য অধিকার দাও। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, সালমান সত্য বলেছে।
টিকাঃ
২১. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত, হা/১৪৫, 'ঈমান' অধ্যায়।
২২. বুখারী হা/১৯৭৫, ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনু শারফ আন-নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫০, 'ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন' অনুচ্ছেদ।
২৩. বুখারী হা/১৯৬৮, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৪৯, 'ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন' অনুচ্ছেদ।
ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদীছটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিন ব্যক্তি রাসূলের স্ত্রীগণের নিকটে এসে তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জানতে চাইল। তাদেরকে যখন ঐ সম্পর্কে বলা হলো, তারা যেন তা কম মনে করল। তখন তারা বলল, রাসূলের আমলের তুলনায় আমরা কোথায় পড়ে আছি? অথচ আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সকল গোনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তাদের একজন বলল, আমি সর্বদা সারারাত ছালাত আদায় করব। আরেকজন বলল, আমি সারা বছর ছিয়াম পালন করব, কোন দিন ছাড়ব না। অন্যজন বলল, আমি নারীসঙ্গ ত্যাগ করব, কোন দিন বিবাহ করব না। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এসে বললেন, তোমরা এরূপ এরূপ বলেছ? আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে অধিক ভয় করি। তথাপি আমি ছিয়াম পালন করি, ছেড়েও দেই, আমি ছালাত আদায় করি এবং ঘুমাই। আমি বিবাহও করেছি। সুতরাং যে আমার সুন্নাতকে পরিত্যাগ করবে সে আমার দলভুক্ত নয়।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবাদত-বন্দেগীতে এমন মশগুল থাকতেন যে, তার স্ত্রীর প্রতি কর্তব্যও উপেক্ষিত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একথা জানতে পেরে বললেন, ‘হে আবদুল্লাহ! আমি কি শুনিনি যে, তুমি সারাদিন ছিয়াম পালন কর এবং সারা রাত ছালাত আদায় কর? আব্দুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! মহানবী (ছাঃ) বললেন, এরূপ কর না। তুমি ছিয়াম রাখবে আবার বিরতিও দিবে। ছালাত আদায় করবে আবার ঘুমাবেও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে, তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে, তেমনি তোমার উপর তোমার স্ত্রীর দাবী আছে এবং তোমার উপর অতিথিরও হক আছে’।
এ মর্মে প্রখ্যাত ছাহাবী সালমান ফারসী ও তাঁর একান্ত বন্ধু আবুদ দারদার মধ্যকার ঘটনাটিও প্রণিধানযোগ্য। একদা সালমান (রাঃ) আবু দারদার বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। দেখলেন আবুদ দারদার স্ত্রী উম্মু দারদা জীর্ণবসন পরিহিতা। তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে উম্মু দারদা বললেন, আপনার ভাই আবুদ দারদার দুনিয়াবী কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যে আবুদ দারদা এসে সালমান (রাঃ)-এর জন্য কিছু খাবার তৈরী করে নিয়ে আসলেন। সালমান (রাঃ) তার সাথে আবুদ দারদাকে খেতে বললেন। তিনি বললেন, আমি ছিয়াম রেখেছি। তখন সালমান (রাঃ) বললেন, 'তুমি না খেলে আমিও খাব না'। সুতরাং আবুদ দারদাও সালমানের সাথে খেলেন। রাতে আবুদ দারদা ছালাতের জন্য উঠলে সালমান (রাঃ) তাকে ঘুমাতে যেতে বললেন। তিনি ঘুমাতে গেলেন। রাতের শেষ প্রান্তে সালমান (রাঃ) আবুদ দারদাকে বললেন, এখন ওঠো। তখন দু'জনে ছালাত আদায় করলেন। পরে সালমান (রাঃ) আবুদ দারদাকে বললেন, তোমার উপর তোমার প্রভুর হক আছে, তোমার উপর তোমার আত্মার হক আছে, তোমার উপর পরিবারেরও হক আছে। সুতরাং প্রত্যেককে তার ন্যায্য অধিকার দাও। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, সালমান সত্য বলেছে।
টিকাঃ
২১. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত, হা/১৪৫, 'ঈমান' অধ্যায়।
২২. বুখারী হা/১৯৭৫, ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনু শারফ আন-নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫০, 'ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন' অনুচ্ছেদ।
২৩. বুখারী হা/১৯৬৮, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৪৯, 'ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন' অনুচ্ছেদ।
ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদীছটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিন ব্যক্তি রাসূলের স্ত্রীগণের নিকটে এসে তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জানতে চাইল। তাদেরকে যখন ঐ সম্পর্কে বলা হলো, তারা যেন তা কম মনে করল। তখন তারা বলল, রাসূলের আমলের তুলনায় আমরা কোথায় পড়ে আছি? অথচ আল্লাহ তাঁর পূর্বাপর সকল গোনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তখন তাদের একজন বলল, আমি সর্বদা সারারাত ছালাত আদায় করব। আরেকজন বলল, আমি সারা বছর ছিয়াম পালন করব, কোন দিন ছাড়ব না। অন্যজন বলল, আমি নারীসঙ্গ ত্যাগ করব, কোন দিন বিবাহ করব না। ইতিমধ্যে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এসে বললেন, তোমরা এরূপ এরূপ বলেছ? আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে অধিক ভয় করি। তথাপি আমি ছিয়াম পালন করি, ছেড়েও দেই, আমি ছালাত আদায় করি এবং ঘুমাই। আমি বিবাহও করেছি। সুতরাং যে আমার সুন্নাতকে পরিত্যাগ করবে সে আমার দলভুক্ত নয়।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবাদত-বন্দেগীতে এমন মশগুল থাকতেন যে, তার স্ত্রীর প্রতি কর্তব্যও উপেক্ষিত হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একথা জানতে পেরে বললেন, ‘হে আবদুল্লাহ! আমি কি শুনিনি যে, তুমি সারাদিন ছিয়াম পালন কর এবং সারা রাত ছালাত আদায় কর? আব্দুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহ্র রাসূল! মহানবী (ছাঃ) বললেন, এরূপ কর না। তুমি ছিয়াম রাখবে আবার বিরতিও দিবে। ছালাত আদায় করবে আবার ঘুমাবেও। কেননা তোমার উপর তোমার শরীরের হক আছে, তোমার উপর তোমার চোখের হক রয়েছে, তেমনি তোমার উপর তোমার স্ত্রীর দাবী আছে এবং তোমার উপর অতিথিরও হক আছে’।
এ মর্মে প্রখ্যাত ছাহাবী সালমান ফারসী ও তাঁর একান্ত বন্ধু আবুদ দারদার মধ্যকার ঘটনাটিও প্রণিধানযোগ্য। একদা সালমান (রাঃ) আবু দারদার বাড়িতে বেড়াতে গেলেন। দেখলেন আবুদ দারদার স্ত্রী উম্মু দারদা জীর্ণবসন পরিহিতা। তিনি এর কারণ জিজ্ঞেস করলে উম্মু দারদা বললেন, আপনার ভাই আবুদ দারদার দুনিয়াবী কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। ইতিমধ্যে আবুদ দারদা এসে সালমান (রাঃ)-এর জন্য কিছু খাবার তৈরী করে নিয়ে আসলেন। সালমান (রাঃ) তার সাথে আবুদ দারদাকে খেতে বললেন। তিনি বললেন, আমি ছিয়াম রেখেছি। তখন সালমান (রাঃ) বললেন, 'তুমি না খেলে আমিও খাব না'। সুতরাং আবুদ দারদাও সালমানের সাথে খেলেন। রাতে আবুদ দারদা ছালাতের জন্য উঠলে সালমান (রাঃ) তাকে ঘুমাতে যেতে বললেন। তিনি ঘুমাতে গেলেন। রাতের শেষ প্রান্তে সালমান (রাঃ) আবুদ দারদাকে বললেন, এখন ওঠো। তখন দু'জনে ছালাত আদায় করলেন। পরে সালমান (রাঃ) আবুদ দারদাকে বললেন, তোমার উপর তোমার প্রভুর হক আছে, তোমার উপর তোমার আত্মার হক আছে, তোমার উপর পরিবারেরও হক আছে। সুতরাং প্রত্যেককে তার ন্যায্য অধিকার দাও। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, সালমান সত্য বলেছে।
টিকাঃ
২১. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত, হা/১৪৫, 'ঈমান' অধ্যায়।
২২. বুখারী হা/১৯৭৫, ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনু শারফ আন-নববী, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫০, 'ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন' অনুচ্ছেদ।
২৩. বুখারী হা/১৯৬৮, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৪৯, 'ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বন' অনুচ্ছেদ।