📄 ভূমিকা ৩ - একটি সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প
আক্বীদা-বিশ্বাস ও ইবাদতে যেমন মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে তেমনি আচার-আচরণ, চাল-চলনসহ সকল কর্মকাণ্ডে মধ্যপন্থা অবলম্বনের জন্য ইসলামে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে আখলাক ও মু'আমালাত তথা চারিত্রিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হ'ল।-
(ক) চাল-চলনে মধ্যপন্থা: মানুষের চাল-চলনে অনেক সময় গর্ব-অহংকার প্রকাশ পায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে পৃথিবীতে অহংকারবশে চলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا 'পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না' (বনু ইসরাঈল ১৭/৩৭)। পক্ষান্তরে চাল-চলনে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, وَأَقْصِدْ فِي مَشْيِكَ 'মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, কণ্ঠস্বরকে নিম্নগামী রাখ' (লোকুমান ৩১/১৯)। চাল-চলনে মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, চাল-চলন, ধীরস্থিরতা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন নবুওয়াতের চব্বিশ ভাগের একভাগ'।
(খ) কথাবার্তায় মধ্যপন্থা: কথাবার্তায় কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখার জন্যও আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'কণ্ঠস্বরকে নিম্নগামী রাখ। নিশ্চয়ই নিকৃষ্ট আওয়ায হচ্ছে গাধার আওয়ায' (লুকুমান ৩১/১৯)। চিৎকার, চেঁচামেচি ও কর্কশতা পরিহার এবং বিশুদ্ধ ও নম্রভাষায় কথা বলার নির্দেশই উক্ত আয়াতের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আল্লাহ তা'আলা এগুলি পরিহার করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো না' (হুজুরাত ৪৯/২)।
(গ) আচার-ব্যবহারে মধ্যপন্থা: মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা আচার-ব্যবহারে বিনয়ী ও নম্র হবে। হাদীছে এসেছে, 'ঈমানদার হয় সরল ও ভদ্র, পক্ষান্তরে পাপী হয় ধূর্ত ও হীন চরিত্রের'। অন্য হাদীছে এসেছে, 'ঈমানদারগণ নাকে রশি লাগানো উটের ন্যায় সরল, সহজ ও কোমল স্বভাবের হয়'। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে লক্ষ্য করে বলেন, 'আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রুক্ষ্ম ও কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে চলে যেত' (আলে ইমরান ৩/১৫৯)।
টিকাঃ
২৬. ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩/৪৪৭পৃ.।
২৭. তিরমিযী; মিশকাত, হা/৫০৫৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৪৮৩৮, সনদ হাসান।
২৮. আবুদাউদ, হা/৪৮৭৬; মিশকাত, হা/৫০৬০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৪৮৩৯, সনদ হাসান।
২৯. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩/৪৪৭পৃ.।
৩০. প্রাগুক্ত।
৩১. তিরমিযী, হা/২০১৮, সনদ ছহীহ।
৩২. রিয়াযুছ ছালেহীন, পৃ. ২৩৩।
৩৩. তিরমিযী, রিয়াযুছ ছালেহীন, পৃ. ২৩৩।
৩৪. তিরমিযী, হা/২০০৩-৪; মিশকাত হা/৫০৮১।
৩৫. তিরমিযী, আবুদাঊদ, হা/৪৭৯০; মিশকাত, হা/৫০৮৫।
৩৬. তিরমিযী; মিশকাত, হা/৫০৮৬; ছহীহাহ হা/৯৩৬।