📘 ভালোবাসা কারে কয় 📄 ভূমিকা ১ - ভালোবাসার তাড়না

📄 ভূমিকা ১ - ভালোবাসার তাড়না


আক্বীদার ক্ষেত্রে মুসলিম জাতি বিশেষত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত মধ্যপন্থা অবলম্বনকারী। জাহমিয়ারা আল্লাহ্ গুণবাচক নাম অস্বীকার করে, আবার মুশাববিহারা আল্লাহ্ ঐসব নামের সাথে সাদৃশ্য দাড় করায়। মু'তাযিলারা আল্লাহকে কর্মের স্রষ্টা স্বীকার করে না, কাদারিয়ারা আবার আল্লাহকে কর্মের স্রষ্টা বানিয়ে মানুষকে নিষ্পাপ বলে এবং মানুষের পাপের কারণে আল্লাহকেই দায়ী করতে চায়। তেমনি পরকালীন শাস্তির ক্ষেত্রে মুরজিয়া ও কাদারিয়ারা পরস্পর বিরোধী অবস্থানে অটল। একদিকে কাদারিয়ারা বান্দার কর্মের উপর নির্ভর করে তাকদীরকে অস্বীকার করে। অন্যদিকে জাবারিয়ারা তাকদীরের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে তাদের কাছে কর্ম গুরুত্বহীন। অনুরূপভাবে ঈমানের ব্যাপারে খারেজী ও মু'তাযিলা এবং মুরজিয়া ও জাহমিয়ারা বাড়াবাড়ি করে থাকে। রাফেযী ও খারেজীরা ছাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে ভ্রান্ত আক্বীদা পোষণ করে। এসবই বাড়াবাড়ি। আক্বীদার ক্ষেত্রে এসব বাড়াবাড়ি পরিহার করে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে এবং এক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছে বর্ণিত আক্বীদা পোষণ করতে হবে। আক্বীদার ক্ষেত্রে এসব বাড়াবাড়ি সম্পর্কে দৃষ্টান্ত স্বরূপ কয়েকটি হাদীছ এখানে উপস্থাপন করা হলো।-

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সম্পদ বণ্টন করছিলেন, এমন সময় আব্দুল্লাহ ইবনু যিল খুওয়াইছিরা এসে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ন্যায়বিচার করুন। তখন তিনি বললেন, তোমার ধ্বংস হোক, আমি ইনছাফ না করলে, কে ইনছাফ করবে? তখন ওমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা তার অনেক সাথী আছে, যাদের ছালাতের তুলনায় তোমাদের ছালাতকে এবং তাদের ছিয়ামের তুলনায় তোমাদের ছিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমনভাবে তীর ধনুক থেকে বের হয়ে যায়। ... তাদের নিদর্শন হচ্ছে তাদের দুই হাতের এক হাত অথবা দুই স্তনের একটি মেয়েদের স্তনের মত। অথবা তিনি বলেছেন, বোঝার মত দোদুল্যমান। মানুষের বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় আলী (রাঃ) তাদের বের করে দিয়েছিলেন।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, যখন খারেজীরা মুসলমানদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদাভাবে বসবাস করতে লাগল, তখন আমি আলী (রাঃ)-কে বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! ছালাত একটু দেরী করে পড়ুন, আমি ঐ সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে তাদের সাথে কথা বলব। ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি তাদেরকে বললাম, আমার নিকট এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, তোমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর চাচাত ভাই ও তাঁর জামাতার সাথে বিদ্বেষ ও শত্রুতা পোষণ করছ, যিনি রাসূলের ছাহাবায়ে কেরামের মধ্যে সর্বপ্রথম তাঁর প্রতি ঈমান এনেছেন। তারা বলল, তাঁর প্রতি আমাদের শত্রুতার কারণ তিনটি। ... ইবনু আব্বাস (রাঃ) যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ্র কিতাব (থেকে দলীল) পাঠ করে শুনাই এবং রাসূলের হাদীছ তোমাদের নিকট বর্ণনা করি, যা তোমরা অস্বীকার করতে পারবে না, তাহলে কি তোমরা (তোমাদের দাবী থেকে) ফিরে আসবে? তারা বলল, হ্যাঁ।

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, 'তোমাদের প্রথম অভিযোগ হচ্ছে, আল্লাহ্ দ্বীনের ব্যাপারে তিনি মানুষকে শালিস নিযুক্ত করেছেন'। কিন্তু আল্লাহও মানুষকে শালিস নিযুক্ত করেছেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنْكُمْ 'তোমাদের মধ্যকার দু'জন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এর ফায়ছালা করবে' (মায়েদাহ ৫/৯৫)। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি কি (কুরআন-হাদীছ থেকে) দলীল উপস্থাপন করতে পেরেছি? তারা বলল, হ্যাঁ। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে ১২,০০০ লোক ফিরে আসল এবং চার হাযার অবশিষ্ট থাকল। অতঃপর তাদেরকে হত্যা করা হ'ল।

উপরোক্ত হাদীছ দু'টি প্রমাণ করে আক্বীদার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি মানুষকে কুফরীতে নিপতিত করে। ফলে মানুষের যাবতীয় সৎ আমল বাতিল হয়ে যায়, মুসলিম মিল্লাত থেকে বহিষ্কৃত হয়, জাহান্নাম তাদের জন্য অবধারিত হয়ে যায়। সুতরাং মানুষের আক্বীদা পরিশুদ্ধ হওয়া অত্যাবশ্যক। এজন্য প্রয়োজন দ্বীন সম্পর্কে সঠিক ইলম হাছিল করা। অস্পষ্ট বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা লাভের জন্য হক্বপন্থী বিজ্ঞ আলেমের শরণাপন্ন হয়ে দলীল ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সংশয়-সন্দেহ দূরীভূত করতে হবে এবং অজ্ঞাত বিষয় জেনে নিতে হবে। এ মর্মে মহান আল্লাহ বলেন, فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنتُمْ لَا تَعْلَمُوْনَ بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ، ‘অজ্ঞাত বিষয় দলীল-প্রমাণ সহকারে জেনে নাও’ (নাহল ১৬/৪৩-৪৪)।

টিকাঃ
১০. ড. আলী ইবনু আব্দুল আযীয আশ-শিবল, ওয়াসতিয়া আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আত ওয়া আছারুহা ফী 'ইলাজিল গুলু, আল-ফুরক্বান (কুয়েত: ২০০৯), ৪৩৭তম সংখ্যা, পৃ. ১২।
১১. বুখারী হা/৬৯৩৩, আহমাদ হা/১১৫৫৪।
১২. তাবারানী, আহমাদ, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৬/২৩৯পৃ. হা/১০৪৫০; আব্দুর রাযযাক, মুছান্নাফ, ১০/১৫৮পৃ.; ইমাম শাত্বেবী, আল-ই'তেছাম, (বৈরুত : দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১৫ হি./১৯৯৫ খ্রী.), ২/৪০৬-৪০৭ পৃ.।

📘 ভালোবাসা কারে কয় 📄 ভূমিকা ২ - কারো প্রতি ভালোবাসা অনুভব করা

📄 ভূমিকা ২ - কারো প্রতি ভালোবাসা অনুভব করা


কোন কোন মানুষ অত্যধিক পরহেযগারিতা অর্জন করতে গিয়ে অধিক ইবাদত করতে প্রবৃত্ত হয়। অনেক সময় সাধ্যাতীত কাজ করার চেষ্টা করে। অথচ ইসলাম এটা সমর্থন করে না। যেমন আল্লাহ বলেন, أَتَّقُوا اللَّهِ مَا اسْتَطَعْتُمْ 'তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর' (তাগাবুন ৬৪/১৬)। সুতরাং সাধ্যের বাইরে কোন কাজ করার চেষ্টা করাও অনুচিত। কেননা আল্লাহ মানুষের উপর তার সাধ্যের বাইরে কোন বিধান চাপিয়ে দেন না। তিনি বলেন, لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا 'আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না' (বাক্বারাহ ২/২৮৬)। অতএব অতিরঞ্জিত কোন কিছু না করে কুরআন-হাদীছে যতটুকু করার নির্দেশ রয়েছে ততটুকুই করতে হবে।

বাড়াবাড়ি পরিহার করে সাধ্যমত আমল করার প্রতি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ হ'ল, عَلَيْكُمْ بِمَا تُطِيقُوْنَ 'আমল করতে থাক, যা করা তোমার পক্ষে সম্ভব। কারণ যতক্ষণ না তোমরা ক্লান্ত হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর প্রতিদানও বন্ধ হবে না। আল্লাহ্র কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল হ'ল যা আমলকারী স্থায়ীভাবে'। অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, أَحَبُّ الْأَعْمَالِ إِلَى الله أَدْوَمُهَا وَإِنْ قَلَّ 'আল্লাহর নিকট প্রিয়তর আমল হচ্ছে যা অবিরতভাবে করা হয়ে থাকে, যদিও তা কম হয়'।

আর আমল ততক্ষণ পর্যন্ত করতে হবে যতক্ষণ তা স্বাচ্ছন্দ্যে করা যায়। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, خُذُوا مِنَ الْأَعْمَالِ مَا تُطِيْقُوْنَ 'তোমরা কাজ সে পরিমাণ গ্রহণ করবে, যে পরিমাণ তোমরা (সর্বদা) করতে সমর্থ হও'। রাত্রির নফল ছালাত আদায়ের ক্ষেত্রেও যতক্ষণ তন্দ্রাচ্ছন্ন না হয়, ততক্ষণ ছালাত আদায় করতে হবে। তন্দ্রা বা ঘুম এসে গেলে ঘুমিয়ে নিতে হবে। এ মর্মে হাদীছে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'যখন তোমাদের কেউ ছালাত পড়ার সময় তন্দ্রাভিভূত হয়, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে, যতক্ষণ না তার নিদ্রা দূর হয়'।

ইবাদতে মধ্যপন্থা অবলম্বনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত হাদীছটি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেন, তিন ব্যক্তি রাসূলের স্ত্রীগণের নিকটে এসে তাঁর ইবাদত সম্পর্কে জানতে চাইল। তাদেরকে যখন ঐ সম্পর্কে বলা হলো, তারা যেন তা কম মনে করল। তখন তারা বলল, রাসূলের আমলের তুলনায় আমরা কোথায় পড়ে আছি? ... রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এসে বললেন, তোমরা এরূপ এরূপ বলেছ? আল্লাহ্র কসম! আমি তোমাদের চেয়ে আল্লাহকে অধিক ভয় করি। তথাপি আমি ছিয়াম পালন করি, ছেড়েও দেই, আমি ছালাত আদায় করি এবং ঘুমাই। আমি বিবাহও করেছি। সুতরাং যে আমার সুন্নাতকে পরিত্যাগ করবে সে আমার দলভুক্ত নয়'।

সালমান ফারসী ও তাঁর একান্ত বন্ধু আবুদ দারদার মধ্যকার ঘটনাটিও প্রণিধানযোগ্য। সালমান (রাঃ) আবুদ দারদাকে বললেন, তোমার উপর তোমার প্রভুর হক আছে, তোমার উপর তোমার আত্মার হক আছে, তোমার উপর পরিবারেরও হক আছে। সুতরাং প্রত্যেককে তার ন্যায্য অধিকার দাও। অতঃপর নবী করীম (ছাঃ)-এর নিকটে এসে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন, সালমান সত্য বলেছে।

ইবাদতের ক্ষেত্রে এসব কঠোরতার বিরুদ্ধে রাসূলের ঘোষণা- لَا تُشدِّدُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ ‘তোমরা নিজেদের নফসের উপরে কঠোরতা আরোপ করো না। পূর্ববর্তী উম্মত নিজেদের উপর কঠোরতা আরোপ করায় ধ্বংসে নিপতিত হয়েছে’।

টিকাঃ
১৪. বুখারী হা/৪৩, মুসলিম হা/৭৮৫, আবুদাউদ, নাসাঈ, হা/৫০৩৫; ইবনু মাজাহ, হা/৪২৩৮।
১৫. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৪২।
১৬. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৪৩।
১৭. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৪৪।
১৮. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৪৫
১৯. বুখারী, মিশকাত হা/১২৪৮।
২০. আবু দাউদ, মিশকাত হা/১২৫৩।
২১. বুখারী, মুসলিম; মিশকাত, হা/১৪৫, 'ঈমান' অধ্যায়।
২২. বুখারী হা/১৯৭৫, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৫০।
২৩. বুখারী হা/১৯৬৮, রিয়াযুছ ছালেহীন, হা/১৪৯।
২৪. মুত্তাফাক্ব আলাইহ, আবুদাউদ, হা/১৩১২।
২৫. বায়হাক্বী, শু'আবুল ঈমান, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩১২৪।

📘 ভালোবাসা কারে কয় 📄 ভূমিকা ৩ - একটি সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প

📄 ভূমিকা ৩ - একটি সত্যিকারের ভালোবাসার গল্প


আক্বীদা-বিশ্বাস ও ইবাদতে যেমন মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে তেমনি আচার-আচরণ, চাল-চলনসহ সকল কর্মকাণ্ডে মধ্যপন্থা অবলম্বনের জন্য ইসলামে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে আখলাক ও মু'আমালাত তথা চারিত্রিক ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বনের কয়েকটি দিক উল্লেখ করা হ'ল।-

(ক) চাল-চলনে মধ্যপন্থা: মানুষের চাল-চলনে অনেক সময় গর্ব-অহংকার প্রকাশ পায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে পৃথিবীতে অহংকারবশে চলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, وَلَا تَمْشِ فِي الْأَرْضِ مَرَحًا 'পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না' (বনু ইসরাঈল ১৭/৩৭)। পক্ষান্তরে চাল-চলনে মধ্যপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, وَأَقْصِدْ فِي مَشْيِكَ 'মধ্যপন্থা অবলম্বন কর, কণ্ঠস্বরকে নিম্নগামী রাখ' (লোকুমান ৩১/১৯)। চাল-চলনে মধ্যপন্থা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, চাল-চলন, ধীরস্থিরতা এবং মধ্যপন্থা অবলম্বন নবুওয়াতের চব্বিশ ভাগের একভাগ'।

(খ) কথাবার্তায় মধ্যপন্থা: কথাবার্তায় কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখার জন্যও আল্লাহ তা'আলা নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'কণ্ঠস্বরকে নিম্নগামী রাখ। নিশ্চয়ই নিকৃষ্ট আওয়ায হচ্ছে গাধার আওয়ায' (লুকুমান ৩১/১৯)। চিৎকার, চেঁচামেচি ও কর্কশতা পরিহার এবং বিশুদ্ধ ও নম্রভাষায় কথা বলার নির্দেশই উক্ত আয়াতের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। আল্লাহ তা'আলা এগুলি পরিহার করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, 'হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উচু করো না এবং তোমরা একে অপরের সাথে যেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বল, তাঁর সাথে সেরূপ উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো না' (হুজুরাত ৪৯/২)।

(গ) আচার-ব্যবহারে মধ্যপন্থা: মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা আচার-ব্যবহারে বিনয়ী ও নম্র হবে। হাদীছে এসেছে, 'ঈমানদার হয় সরল ও ভদ্র, পক্ষান্তরে পাপী হয় ধূর্ত ও হীন চরিত্রের'। অন্য হাদীছে এসেছে, 'ঈমানদারগণ নাকে রশি লাগানো উটের ন্যায় সরল, সহজ ও কোমল স্বভাবের হয়'। আল্লাহ তাঁর রাসূলকে লক্ষ্য করে বলেন, 'আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রুক্ষ্ম ও কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে চলে যেত' (আলে ইমরান ৩/১৫৯)।

টিকাঃ
২৬. ইবনু কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩/৪৪৭পৃ.।
২৭. তিরমিযী; মিশকাত, হা/৫০৫৯; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৪৮৩৮, সনদ হাসান।
২৮. আবুদাউদ, হা/৪৮৭৬; মিশকাত, হা/৫০৬০; বঙ্গানুবাদ মিশকাত, হা/৪৮৩৯, সনদ হাসান।
২৯. তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, ৩/৪৪৭পৃ.।
৩০. প্রাগুক্ত।
৩১. তিরমিযী, হা/২০১৮, সনদ ছহীহ।
৩২. রিয়াযুছ ছালেহীন, পৃ. ২৩৩।
৩৩. তিরমিযী, রিয়াযুছ ছালেহীন, পৃ. ২৩৩।
৩৪. তিরমিযী, হা/২০০৩-৪; মিশকাত হা/৫০৮১।
৩৫. তিরমিযী, আবুদাঊদ, হা/৪৭৯০; মিশকাত, হা/৫০৮৫।
৩৬. তিরমিযী; মিশকাত, হা/৫০৮৬; ছহীহাহ হা/৯৩৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px