📘 উসওয়াতুল লিল আলামিন > 📄 বাস্তবতার সাক্ষ্য

📄 বাস্তবতার সাক্ষ্য


অতীত বা বর্তমান সকল যুগের বাস্তবতা এটাই যে, অন্য ধর্মগুলোর চেয়ে ইসলামধর্মই পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত প্রসার লাভ করছে। আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়া শুরু করেছিলেন। সে সময় খুব অল্পসংখ্যক মানুষই ইসলাম গ্রহণ করে। এরপর বহু দিন, বহু বছর কেটে গেছে, আজ সেই স্বল্প সংখ্যক মানুষের ইসলাম এখন পৌঁছে গেছে পৃথিবীর সকল প্রান্তে।
ইতিহাস তার অকাট্য সততা নিয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছে, ক্রমান্বয়ে এই ধর্ম অতি দ্রুত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে এবং পৃথিবীর বহু জাতি-গোষ্ঠী এর প্রতি ঈমান আনছে, চাই সে জাতি বাহ্যিক কোনো যুদ্ধে বিজয়ী হোক অথবা পরাজিত। এটা এমন এক বিস্ময়কর বিষয়, যা পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবীদের বিচলিত করে ছাড়ে। অর্থাৎ মুসলিমরা কোথাও বাহ্যিকভাবে পরাজিত হলেও ইসলাম সকল স্থানেই বিজয়ী হচ্ছে। এই যে তাতারদের ইসলামগ্রহণ, এটা তো খুব দূরের কোনো ঘটনা নয়। তারা মুসলমান-অধ্যুষিত এলাকায় প্রবেশ করেছিল মুসলমানদের চিরতরে নির্মূল ও নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ৬৮৫ হিজরিতে (১২৬০ খ্রিষ্টাব্দে) 'আইনে জালুত'-এর ময়দানে যখন তাদের পরাজয় ঘটল, তখন তারা বাধ্য হলো এ ধর্মের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যাবলি নিয়ে ভাবতে। খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে এ কারণে তাদের অধিকাংশই ইসলামগ্রহণে ধন্য হয়েছে। ফলে, একসময় যারা ছিল ইসলাম ধ্বংসের মূল কারিগর, তারাই আবার ইসলামের সৈনিকে পরিণত হলো। তারাই তখন ইসলামের বাগানকে অত্যাচারীদের কবল থেকে রক্ষা করতে নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করল।
অতএব, নির্দ্বিধায় বলা যায়, ইসলামের প্রতি সবচেয়ে বড় আহ্বানকারী ইসলাম নিজেই। কারণ, ইসলামের আকিদা-বিশ্বাস এবং তার বিধিবিধান এতটাই শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার যে, সুচিন্তক প্রতিটি মানুষকেই তা আকর্ষণ করে এবং তার ছায়াতলে আশ্রয় নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
তা ছাড়া ইসলাম গ্রহণকারী প্রতিটি ব্যক্তিকেই ইসলাম তার অধিকার প্রদান করে। তার কোনো অধিকার হরণ করে না। কারণ, একজন ব্যক্তি ইসলামের মাধ্যমে তার প্রতিপালকের সাথে সরাসরি সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। তাকে পাওয়ার পথ পেয়ে যায়। দিনে অন্তত পাঁচবার তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হতে পারে। কোনোরকম অন্তরায় ছাড়া সরাসরি নির্বিঘ্নে তাকে হৃদয়খুলে ডাকতে পারে। এমনইভাবে, ইসলামি বিধান মেনে এই পার্থিব জীবনেও সে সবচেয়ে সুখী, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন একটি জীবনযাপনের আশা করতে পারে। মৃত্যুপরবর্তী জীবনে স্থায়ী শান্তির জায়গা জান্নাত কামনা করতে পারে। আর এ মহান প্রাপ্তির জন্য ইসলাম শুধু তাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ব্যাপারে সাক্ষ্যপ্রদান এবং শরিয়তের বিধান অনুসরণের কথা বলে। এ ছাড়া তার সক্ষমতার বাইরে তার ওপর অন্য কিছু চাপিয়ে দেয় না।
আপনি যদি পৃথিবীর মানচিত্রের দিকে একটু দৃষ্টি দেন এবং ইসলামের সম্প্রসারণ নিয়ে একটু চিন্তাভাবনা করেন, নিঃসন্দেহে আপনি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাবেন। (মানচিত্র নং-৩)
আপনার এই বিস্ময়-বিমুগ্ধতা বাড়তেই থাকবে, যখন আপনার সামনে স্পষ্ট হবে যে, ইসলাম তার প্রতিটি অনুসারীর অন্তরে পরিপূর্ণভাবে স্থান করে নিয়েছে। অথচ এগুলোর জন্য নেই নিয়মতান্ত্রিক কোনো সৈন্যবাহিনী অথবা প্রচলিত নিয়মের কোনো রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা। এসব ব্যবস্থাপনা ছাড়াই ক্রমে তার অনুসারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
আল্লাহ তাআলা ইসলামকে মেনে নেওয়া মানবমনের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। ফলে ইসলামের সত্যবাণী কারও কর্ণপাত হলে ঈমান ও ইসলাম তার হৃদয়কে আন্দোলিত করে। আর এভাবে সত্যের प्रति যখন একবার বিশ্বাস জন্মে যায়, তখন তা হৃদয় থেকে বের করার সকল পথই ব্যর্থ প্রমাণিত হয়। (৫২৪)
[মানচিত্র নং-৩ বিশ্বে मुसलमानों হার]
ইসলামকে মেনে নেওয়া মানবমনের জন্য সহজতর হওয়ার কারণ হয়তো তার স্পষ্টতা ও সততা। এ কারণে পশ্চিমা বিশ্বের বহু পণ্ডিত ব্যক্তি ইসলামের স্বভাবজাত এইসব বৈশিষ্ট্যে প্রচণ্ড মুগ্ধ হয়েছেন। এমনকি ফ্রান্সের প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী গুস্তাভ লি বোন ইসলামের সহজতা সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন,
ইসলামের নীতিমালার মতো এত সুস্পষ্ট ও জটিলতাহীন কোনো মতবাদ বা মতাদর্শ পৃথিবীতে নেই। এই নীতিমালাতে একজন উপাস্যের কথা বলা হয়েছে। সেই উপাস্যের সামনে সকল মানুষ সমান। সাথে এমন কিছু অত্যাবশ্যক কাজের কথা বলা হয়েছে, যারা তা পালন করে চলবে, তারা জান্নাতে যাবে। আর যারা সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আপনার যদি একজন অতি সাধারণ মুসলমানের সাথেও দেখা হয়, তবুও দেখবেন, নিজের আবশ্যক বিশ্বাসের বিষয়াবলি সম্পর্কে সে সম্পূর্ণ অবগত। সে আপনার নিকট ইসলামের মৌলিক নীতিমালাগুলো অল্প কথায় খুব সহজে ব্যক্ত করতে সক্ষম। অথচ এ ব্যাপারটাতে খ্রিষ্টানরা সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। কারণ, সাধারণ একজন খ্রিষ্টান ত্রিত্ববাদ, রূপান্তর, দেহান্তর ও অন্যান্য দুর্বোধ্য বিষয়াবলি সম্পর্কে কিছুই বলতে সক্ষম হবে না, যদি না সে খ্রিষ্টধর্মের এমন বড় কোনো ধর্মীয় জ্ঞাণী হয়, যার তর্কশাস্ত্র সম্পর্কে পূর্ণ অবগতি রয়েছে।
এ ছাড়া, মানুষের প্রতি ইসলামের ন্যায়পরতা ও কল্যাণের সুস্পষ্ট নির্দেশনাও বিশ্বব্যাপী তার প্রচার-প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। (৫২৫)
আজকের এই জনবহুল বিশ্বের দিকে দৃষ্টি প্রদান করলে আমরা দেখতে পাব, পুরো পৃথিবীতে (৪২০০) চার হাজার দুইশরও অধিক ধর্ম প্রচলিত রয়েছে। (৫২৬) কিন্তু বিভিন্ন জরিপ এ তথ্য দিচ্ছে যে, এসব ধর্মের মধ্যে ইসলামধর্মই সবচেয়ে বেশি প্রসারতা লাভ করছে। ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের জরিপে দেখা গেছে, পৃথিবীতে তখন مسلمانوں সংখ্যা ছিল ১২.৪% আর খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ছিল ২৬.৯%। এরপর ১৯৮০ সালে পৃথিবীতে মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ১৬.৫% আর খ্রিষ্টানদের সংখ্যা ছিল ৩০%। ২০০০ সালে এসে মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে হয়ে গেল ১৯.২% আর খ্রিষ্টানদের সংখ্যা নেমে এলো ২৯.৯%-এ। (৫২৭)
স্বয়ং খ্রিষ্টীয় বিশ্বকোষের (World Christian Encyclopedia) সর্বশেষ নতুন সংস্করণেও সংখ্যানুপাতের এই তারতম্য স্বীকার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সারা পৃথিবীতে বসবাসকারীদের সামষ্টিক হিসেবে গত শতাব্দীতে মুসলমানদের সংখ্যাবৃদ্ধির হার ৭%, যেখানে খ্রিষ্টানদের জনসংখ্যার হার ধীরে ধীরে স্বল্পতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
এ ছাড়াও বলা হয়েছে, সারা পৃথিবীতে বসবাসকারীদের সামষ্টিক সংখ্যা হিসেবে মুসলমানগণের সংখ্যা বেড়ে ১৯.৬%-এ উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ मुसलमानों সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (১.৩ বিলিয়ন) ১.৩ শ কোটির কাছাকাছি। (৫২৮)
তা ছাড়া পরিসংখ্যান পর্যবেক্ষকগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ২০২৫ সালে বিশ্বের মুসলমানদের সংখ্যা বেড়ে মোট জনসংখ্যার ৩০%-এ উন্নীত হবে। আর খ্রিষ্টানদের সংখ্যা নেমে ২৫%-এ চলে আসবে। এ সকল পরিসংখ্যানের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, প্রতি বছর গড়ে مسلمانوں সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ২.৯% হারে আর পৃথিবীতে এটাই সবচেয়ে উঁচু হার। (৫২৯)
আমরা যদি পশ্চিমাবিশ্বের কিছু দেশ, যেমন ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন আমেরিকাসহ অনন্য দেশগুলোর দিকে দৃষ্টি দিই, তাহলে সব জায়গাতে একই চিত্র দেখতে পাব। সারা বিশ্বে ইসলামের প্রতি মানুষের এই অগ্রসরতা ও मुसलमानों ক্রমবৃদ্ধির হার প্রমাণ করে, ইসলাম হলো মানুষের স্বভাবজাত ও প্রাকৃতিক ধর্ম। মন ও মানসিকতার সাথে ইসলাম এতটাই সামঞ্জস্যশীল যে, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের যে-কেউ ইসলামের প্রকৃত রূপরেখা সম্পর্কে অবগত হবে, শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে সে কেবল ইসলামধর্মকেই গ্রহণ করে নেবে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি জরিপে উঠে এসেছে, ফ্রান্সে প্রতি বছর গড়ে ৩৬০০ জন ব্যক্তি ইসলামগ্রহণ করে থাকে। (৫৩০)
এদিকে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকুলিন স্মিথ বলেন, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে (২০০৭ সাল) مسلمانوں সংখ্যা পৌঁছেছে ২ মিলিয়নে (বিশ লক্ষ)। অথচ ২০০১ সালে তাদের সংখ্যা ছিল ১.৬ মিলিয়ন (ষোলো লক্ষ)। সাত বছরেরও কম সময়ে مسلمانوں সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪০ লক্ষ।
দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা বলছে, مسلمانوں এই নতুন পরিসংখ্যান ইসলামের মর্যাদা ও মহত্ত্বকেই প্রমাণ করে। পৃথিবীতে (জনসংখ্যার হিসাবে) খ্রিষ্টধর্মের পরে এটাকেই সবচেয়ে বৃহৎ ধর্ম হিসেবে দেখা হয়। কারণ, বর্তমান ব্রিটেনের সামষ্টিক জনসংখ্যা অনুপাতে মুসলমান হলো ৩.৩%। তবে এটা স্পষ্ট যে, বর্তমানে ব্রিটেনে যে ধর্মটি সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, সেটা হলো ইসলাম। (৫৩১)
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির সমাজ গবেষণাকেন্দ্র থেকে প্রকাশিত নতুন জরিপ বলছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য ধর্মের চেয়ে ইসলামধর্মই সবচেয়ে দ্রুত মানুষের মাঝে প্রসার লাভ করছে। আমেরিকাতে মসজিদের সংখ্যা ১২০৯ ছাড়িয়ে গেছে, যার অর্ধেকেরও বেশি স্থাপিত হয়েছে গত দশ বছরের মধ্যে। এভাবে গত দশ বছরের মধ্যে যারা নিজ ধর্ম ছেড়ে ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন, তাদের হারও ১৭% থেকে ৩০%-এর মাঝে ওঠানামা করছে। (৫৩২)
আর জার্মানিতে ৩.৩ মিলিয়ন (তেত্রিশ লক্ষ)-এরও অধিক মুসলমান বসবাস করে। জার্মানির অধিবাসীদের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪% হলো মুসলমান। সেখানে মসজিদ বা নামাজের স্থানের সংখ্যা ৩০০০-এর কাছাকাছি। (৫৩৩)
এভাবে বেলজিয়ামের লিবার বেলজিক পত্রিকা একটি ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেছে, আগামী বিশ বছর পর ব্রাসেলস (যাকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অফিসিয়াল রাজধানী হিসেবে গণ্য করা হয়)-এর অধিবাসীদের মধ্যে মুসলমানরা হবে সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর এই অনুমান সঠিক হওয়ার একটা স্পষ্ট দলিলও আছে, তা হলো ২০০১ সালের পর থেকে ব্রাসেলসে নতুন প্রজন্মের মধ্যে 'মুহাম্মাদ' নামের প্রচলনটা তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি।
একইভাবে রাশিয়ান সংবাদপত্র Rossiyskaya Gazeta উল্লেখ করেছে, ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দশ বছরে বেলজিয়ামে مسلمانوں সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে ২০০৫ সালে এসে সেখানে مسلمانوں সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার। উক্ত সালে এই দেশের মোট জনসংখ্যাই যেখানে ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি। (৫৩৪)
এই হলো মহান ইসলাম। এভাবেই ইসলাম তার গতিময়তা ও নিজের শক্তিতে যুগে যুগে মানুষের মাঝে প্রসার লাভ করেছে। এর কারণ একটাই, ইসলাম স্বভাবজাত নিরঙ্কুশ ধর্ম। অতএব, আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের সত্যতা প্রমাণে এই স্বভাবজাত ধর্ম কতই-না চমৎকার একটি প্রমাণ! ইতিপূর্বে আমরা তাঁর নবুয়তের সত্যতা ও রিসালাতের পূর্ণতার ওপর যেসব স্পষ্ট প্রমাণ উল্লেখ করেছি, এ সকল আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা এখন পরিতৃপ্তির সাথেই বলতে পারি, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশ্ববাসীর জন্য এমন এক পূর্ণাঙ্গ ঐশী বার্তা এনেছেন, যা পূর্ণ হয়ে আছে পারস্পরিক ভালোবাসা, সাহায্য, সহযোগিতা এবং সমূহ কল্যাণে।
সুন্দর হয়, আমরা যদি আমাদের এই আলোচনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদিসের মাধ্যমে সমাপ্ত করি, যাতে তিনি পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ইসলাম প্রবেশের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। তিনি বলেন,
«لَيَبْلُغَنَّ هَذَا الْأَمْرُ مَا بَلَغَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَلَا يَتْرُكُ اللَّهُ بَيْتَ مَدَرٍ وَلَا وَمَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللَّهُ هَذَا الدِّينَ بِعِزَّ عَزِيزٍ أَوْ بِذُلُّ ذَلِيلٍ عِزًّا يُعِزُّ اللَّهُ بِهِ الْإِسْلَامَ وَذُلَّا يُذِلُّ اللَّهُ بِهِ الْكُفْرَ»
এই ধর্ম একসময় সেইসব স্থান পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যেখানে রাত হয় কিংবা দিনের আগমন ঘটে। কাঁচা ইট বা পশমের কোনো ঘর (শহর ও গ্রাম), কোনোটিই বাকি থাকবে না, যেখানে আল্লাহ তাআলা এই ধর্মকে পৌঁছে দেবেন না। আর তাতে সম্মানিতরা সম্মানিত হবে ও অসম্মানিতরা অসম্মানিত হবে। সম্মানিতকে আল্লাহ তাআলা ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করবেন আর অসম্মানিতকে আল্লাহ তাআলা কুফরির মাধ্যমে লাঞ্ছিত করবেন। (৫৩৫)
***

টিকাঃ
*২৪. হুসাইন মুনিস: আল-ইসলামুল ফাজਿਹ: ২০-২৪।
৫২৫. গুস্তাভ লি বোন: হাজারাতুল আরব : ১২৫。
৫২৬. ওয়েবসাইট: www.adherents.com
৫২৭. Sato Tsugitaka, Muslim Societies, Routledge, UK, 2004.
৫২৮. ভিজিট করুন ইসলামিক সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট: www.islmicnews.net এবং আরবি সংবাদপত্র 'আশ-শারকুল আওসাত'-এর ওয়েবসাইট: www.asharqalawsat.com
৫২৯. Sato Tsugitaka, Muslim Societies, Routledge, UK, 2004.
*৫৩০. ইসলাম টাইম-এর ওয়েবসাইট : www.islamtime.net
*৫৩১. ইসলাম টাইম-এর ওয়েবসাইট : www.islamtime.net
*৫৩২. লিওয়াউশ শরিয়া-এর ওয়েবসাইট : www.shareah.com
*৫৩৩. জার্মান সাময়িকীর ওয়েবসাইট : www.magazine-deutschland.de
** রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা নভোস্টি-এর ওয়েবসাইট: http://ar.rian.ru/analytics
***. মুসনাদে আহমাদ: ১৬৯৯৮, মুসতাদরাকে হাকেম: ৮৩২৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00