📄 নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের প্রমাণ
এই ছোট্ট পৃথিবীতে কত মানুষের সমাগম! কতরকম তাদের সম্মান ও মর্যাদার বাহার! এই বিশাল মানবগোষ্ঠীর মাঝে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় কারণ হলো, তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসুল। এ কারণে তাঁর পরিচয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ
আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন রাসুল ছাড়া অন্য কিছু নন! [সুরা আলে ইমরান : ১৪৪]
তিনি ছাড়া আরও অনেক রাসুল (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াসসালাম) মানুষকে তাঁর প্রতিপালকের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য জগতে আগমন করেছেন। তাঁরা আনুগত্যশীল মানুষদের জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছেন আর অবাধ্য ব্যক্তিদের জাহান্নাম সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। আর এটাই ছিল সকল রাসুল ও নবীর দায়িত্ব-কর্তব্য। যেমনটা আমাদের প্রতিপালক কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেছেন,
رُسُلًا مُّبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا
এ সকল রাসুল এমন, যাদেরকে (সওয়াবের) সুসংবাদদাতা ও (জাহান্নাম সম্পর্কে) সতর্ককারীরূপে পাঠানো হয়েছিল, যাতে রাসুলগণের (আগমনের) পর আল্লাহর সামনে মানুষের কোনো অজুহাত বাকি না থাকে। আর আল্লাহ মহা ক্ষমতাবান, প্রজ্ঞাময়। [সুরা নিসা: ১৬৫]
কিন্তু তাঁর রিসালাত প্রমাণিত হবে কীভাবে? কারণ, খুব সহজেই যেকোনো মানুষ দাবি করে বসতে পারে যে, সে বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন রাসুল। (২৩১) এ কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রত্যেক রাসুলকে বিশেষ কিছু মুজিজা প্রদান করেছেন। এগুলোই প্রমাণ করে প্রকৃতই তাঁরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসুল ও বার্তাবাহক। এ মুজিজাগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, জগতের সকল মানুষ মিলেও এ ধরনের মুজিজা বা অলৌকিক কিছু দেখাতে বা উপস্থিত করতে পারবে না। এ কারণে জগতের সকলেই এই মুজিজাগুলোর মহত্ত্ব, বড়ত্ব ও অনন্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। আর যেহেতু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও একজন রাসুল ছিলেন, এ কারণে তাঁর প্রতিপালক তাঁকেও এমন অনেক মুজিজা প্রদান করেছেন, যেগুলো তাঁর নবুয়তের সত্যতাকে প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত করে।
আমরা এখানে খুবই সংক্ষেপে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজার প্রধান ও শক্তিশালী কিছু দিক উপস্থাপন করতে চাই। তবে সেইসাথে এটাও বলে রাখি, আসলে এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল মুজিজা একত্র করা কিংবা উপস্থাপন করার ইচ্ছা আমরা রাখি না। কারণ, সকল মুজিজা একত্র করতে গেলে বড় বড় অনেকগুলো খণ্ডের প্রয়োজন পড়বে, একটি বিশাল বিশ্বকোষ হয়ে দাঁড়াবে। আমরা জানি, বিষয়ের ভিন্নতা অনুযায়ী এ সকল মুজিজা কয়েক প্রকার। এগুলো আমরা নিচের কয়েকটি শিরোনামে উপস্থাপন করার ইচ্ছা রাখি।
নিচের পরিচ্ছেদগুলোয় আমরা তাঁর কিছু মুজিজা ও নবুয়তের প্রমাণ উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।
টিকাঃ
২৩১. পৃথিবীতে এমন অনেক ঘটনা রয়েছে। অনেকেই মিথ্যা দাবি করে বসেছে যে, সে স্রষ্টা বা ঈশ্বরের পক্ষ থেকে নবী বা বিশেষ বার্তাবাহক। কিংবা বিশেষ আশীর্বাদপ্রাপ্ত, সাধারণ মানুষের মতো নয়। এটা সুদূর অতীতে যেমন ঘটেছে, ঘটেছে নিকট অতীতেও, এমনকি বর্তমানেও ঘটে চলেছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল ও নবীদের বিশেষ মুজিজার মাধ্যমে তাদের সত্যতা প্রমাণিত করেছেন এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তাঁর রিসালাতের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। এ কারণে তাঁর পরবর্তী নবুয়তের দাবিদার সকলেই মিথ্যাবাদী ভণ্ড প্রতারক ও কাফের হিসেবে গণ্য হবে।-অনুবাদক
📄 অমুসলিমদের সাথে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
আল্লাহ তাআলা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই রিসালাতের সমাপ্তি টেনেছেন। তাঁর রিসালাত বা বার্তা জগদ্বাসীর জন্য রহমত ও পথনির্দেশনা। সুতরাং নবী হিসেবে তিনি এজন্য আগমন করেননি যে, তিনি এসে অন্যদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হবেন এবং তাদের মাঝে হিংসা-বিদ্বেষ ও শত্রুতার আগুন জ্বালিয়ে দেবেন। তিনি এসেছেন সঠিক পথের দিশা দিতে, মানুষকে তাদের ভালো কাজের সুসংবাদ এবং মন্দ কাজের জন্য সতর্কবাণী শোনাতে। তিনি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতেন, অন্য নবীগণ (তাদের ওপর আল্লাহ তাআলার রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) হুবহু ওই শিক্ষাই এনেছিলেন, যা তিনি এনেছেন, এটা ভিন্নকিছু নয়। এজন্য তিনি সর্বদাই মানুষের মাঝে এই অভিন্ন মর্মবাণী প্রকাশের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। কুরআনুল কারিমের অনেক আয়াতে তাঁকে এ বিষয়টি ঘোষণা করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
قُلْ مَا كُنْتُ بِدْعَا مِنَ الرُّسُلِ
আপনি বলে দিন, আমি নতুন কোনো নবী নই (অর্থাৎ আমার আগে কোনো নবীর আগমন ঘটেনি, আমিই প্রথম, বিষয়টি এমন নয়)। [সুরা আহকাফ: ৯]
অন্য ধর্মানুসারীদের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচার-ব্যবহার ছিল খুবই মার্জিত ও উন্নত। তিনি এর প্রেরণা লাভ করেছিলেন আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
(وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آدَمَ وَحَمَلْنَاهُمْ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَرَزَقْنَاهُمْ مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَفَضَّلْنَاهُمْ عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِيلًا)
বাস্তবিকপক্ষে আমি আদমসন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং স্থলে ও জলে তাদের জন্য বাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদের উত্তম রিজিক দান করেছি এবং আমার বহু মাখলুকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। [সুরা ইসরা: ৭০]
এ কারণে একদিনের জন্যেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারও ওপর জুলুম করা বা কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার চিন্তাও করেননি। কাউকে নিজের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামগ্রহণে বাধ্য করেননি। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
(وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَا مَنَ مَنْ فِي الْأَرْضِ كُلُّهُمْ جَمِيعًا أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ)
আপনার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারী সকলেই ঈমান আনত। তবে কি আপনি মানুষের ওপর চাপ প্রয়োগ করবেন, যাতে তারা সকলে মুমিন হয়ে যায়? (অর্থাৎ আপনি ইসলামগ্রহণের ওপর কাউকে চাপ প্রয়োগ করবেন না)। [সুরা ইউনুস: ৯৯]
এরপরও কিছু বিদ্বেষী মানুষ ইসলাম ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে নানা ধরনের অভিযোগ ও আপত্তি ওঠায় এবং বিভিন্নপ্রকার সন্দেহ-সংশয় আরোপ করে, অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এ কারণে আমরা এখানে অমুসলিমদের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাচার নিয়ে স্বতন্ত্র একটি অধ্যায় প্রতিষ্ঠা করেছি। যাতে অমুসলিমদের সাথে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচার-আচরণ এবং শিষ্টাচার উঠে আসে। আর এই অধ্যায়টির আলোচনা নিচের কয়েকটি শিরোনামে উপস্থাপিত হবে, ইনশাআল্লাহ।
নিচের পরিচ্ছেদগুলোয় আমরা অমুসলিমদের সাথে তাঁর আচার- আচরণ ও শিষ্টাচার সংক্রান্ত আলোচনা উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।
📄 শেষ কথা
আল্লাহ তাআলা তাঁর সর্বশেষ বার্তার মাধ্যমে গোটা মানবজাতিকে সম্মানিত করেছেন। তিনি এই বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا )
(হে নবী) আমি আপনাকে সমস্ত মানুষের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে পাঠিয়েছি। [সুরা সাবা : ২৮]
আল্লাহ তাআলা তাঁকে পাঠিয়েছেন, যেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করেন, যেন তিনি মানুষকে বের করেন মানুষের ইবাদত থেকে মানুষের প্রতিপালকের ইবাদতের দিকে, (ভ্রান্ত) ধর্মের অত্যাচার ও বাড়াবাড়ি থেকে ইসলামের ন্যায়পরতার দিকে এবং দুনিয়ার সংকীর্ণতা কাটিয়ে প্রশস্ত এক জাগতিকতার দিকে।
পরকথা হলো, এই গ্রন্থে আমরা অকাট্যভাবে রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের সত্যতা প্রমাণ করেছি। অতএব, এবার সমাপ্তিতে এসে আমাদের মনের দুয়ারে একটি প্রশ্ন নিয়ে স্থির দাঁড়ানো দরকার এবং এ ক্ষেত্রে বিশ্বের সকল একনিষ্ঠ মানুষের উচিত আমাদের প্রতি একাত্মতা ঘোষণার। অতঃপর নিজেদের প্রশ্ন করি, তবুও কেন কিছু অমুসলিম ইসলামের এমন বিরোধিতা করে? অথচ ইসলামের রয়েছে অপূর্ব মূল্যবোধ ও মহান মানবিকতা। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের সত্যতার ওপর রয়েছে বহু অকাট্য দলিল ও প্রমাণ। তারা শুধু অস্বীকার এবং মিথ্যা বলেই ক্ষান্ত হয় না, বরং প্রবল বিদ্বেষী হয়ে ইসলামকে গালিগালাজ করে, নিন্দামন্দ করে এবং তার ওপর বিভিন্ন ধরনের দোষত্রুটি আরোপ করে!
এ কারণে বহু বিবেকবান ব্যক্তি অনেক সময় ভীষন আশ্চর্যবোধ করেন, কেন তারা ইসলামের প্রতি এত আক্রমণপ্রবণ! কেন তারা জগতের শ্রেষ্ঠ মানব এবং বনি আদমের শ্রেষ্ঠ নেতার প্রতি এমন দোষারোপ করে! বিজ্ঞজনরা খুবই আশ্চর্য হয়ে ভাবেন, এই সমুজ্জ্বল আলোও তাদের চোখগুলো কেন দেখে না? এই উদ্ভাসিত সত্যও তাদের বিবেক কেন অনুধাবন করে না?
তবে আমরা যখন এসব অস্বীকারকারী, মিথ্যাপ্রতিপন্নকারী এবং অপবাদ আরোপকারীদের অবস্থার দিকে দৃষ্টি প্রদান করি, তখন এই বিস্ময় ও বিমূঢ়তা বিদূরিত হয়। কারণ তাদেরকে আমরা দেখতে পাই, তারা হয়তো হিংসুক কিংবা মূর্খ।
১. হিংসুক শ্রেণি
তাদের জানাশোনা কিংবা জ্ঞানবুদ্ধি কম নয়। খুব স্পষ্টভাবেই তারা সত্যকে জানে। কিন্তু স্বেচ্ছায় অসত্যের পথ অনুসরণ করে চলে। কিন্তু কেন তারা সত্যের বিরোধিতা করে এবং তা অস্বীকার করে? এটা করে কয়েকটি কারণে। যেমন, হয়তো তারা তাদের দুনিয়ার জীবনকেই ভালোবাসে, নিজেদের পার্থিব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। আর কেউ কেউ অন্ধের মতো অনুসরণ করে চলে নিজের নফস বা প্রবৃত্তিকে। আর কেউ সত্যকে অস্বীকার করে হিংসা ও ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে। তারা বিকৃত মানসিকতার অধিকারী এক জাতি। প্রমাণাদিও তাদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। তারা কোনো যুক্তিরও ধার ধারে না। এই শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ
তারা সীমালঙ্ঘন ও অহমিকাবশত নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো (সত্য বলে) বিশ্বাস করে নিয়েছিল। সুতরাং দেখে নাও ফ্যাসাদকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল। [সুরা নামল: ১৪]
মানুষদের এই শ্রেণিটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে এবং বুনো উল্লাসের সাথে সর্বদা ধর্মের বিরোধিতা করে যায়। ইচ্ছাকৃতভাবে এবং জেনেশুনেই সকল ভালো গুণ ও নৈতিকতার বিরুদ্ধাচরণ করে।
২. সাধারণ মূর্খ শ্রেণি
তবে প্রথম শ্রেণিটির সংখ্যা দ্বিতীয় শ্রেণির তুলনায় খুবই কম। দ্বিতীয় শ্রেণিটির সমস্যা হলো, ধর্মের সঠিক উৎস থেকে তারা ধর্ম সম্পর্কে অবগত হয়নি। এ কারণে তাদের ধারণায় প্রবিষ্ট হয়ে আছে, ধর্ম হলো মন্দে ঘেরা নবসৃষ্ট কিছু বিশ্বাস ও প্রাচীন কিছু প্রথার সমষ্টি। তারা এমন কিছু মূর্খ ও অজ্ঞ মানুষ, যাদের জানাশোনা নেই। কিংবা রয়েছে এমন কিছু সহজ-সরল ব্যক্তিও, যাদের নিকট ধর্মের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও স্বরূপ উন্মোচনের প্রয়োজন রয়েছে। এমন কিছু বুদ্ধিমান ব্যক্তিও রয়েছেন, যাদের প্রয়োজন ইসলামের অকাট্য দলিল ও প্রমাণ।
এই দ্বিতীয় শ্রেণির (সাধারণ মূর্খ) ব্যক্তিদের ধর্ম সম্পর্কে মৌলিক জ্ঞানার্জন প্রয়োজন। যাতে তারা ইসলামের প্রকৃত রূপ ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হতে পারে। যেভাবে ইসলামকে জেনেছে এবং গ্রহণ করেছে পারসিক, শামীয়, মিশরীয় ও উত্তর আফ্রিকীয় জাতি। এমনকি আন্দালুস, আনাতোলিয়া, পূর্ব ইউরোপ এবং পূর্ব ও পশ্চিম আফ্রিকার খ্রিষ্টানগণ। যেমন জেনেছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ভারত উপমহাদেশ এবং অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ। এখন আমাদের কর্তব্য হলো, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ইসলামের যে বার্তা নাজিল করেছেন, এইসব ব্যক্তিদের নিকট সেই বার্তা উপস্থাপন করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা, তাঁর অনুপম চরিত্র এবং স্বভাব-বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করা। যা এই বিশাল পরিমাণ সাধারণ জনগণের হেদায়েতের জন্য হবে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ।
আজকের গোটা পৃথিবী যেসব ভয়াবহ সমস্যা ও স্পষ্ট ভ্রান্তিতে আক্রান্ত, তার সঠিক সমাধানের জন্য প্রয়োজন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আগত ঐশী নির্দেশনা প্রয়োগের। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণের সময়ে বিশ্বের যে অবস্থা হয়েছিল, আজকের পুরো বিশ্বও সেই একই অবস্থায় এসে উপনীত। নিশ্চিত যে, শুধু রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রবর্তিত পদ্ধতিই আমাদেরকে আজকের এই মূর্খতা ও উদাসীনতার অন্ধকার থেকে ইসলামের আলোর দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম, যেভাবে নিয়ে গিয়েছিল অতীতের আক্রান্ত পৃথিবীকে। আমাদের যুগের মানুষ আজ একজন সঠিক আদর্শ এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিশূন্যতায় ভুগছে, এমনকি তারা হারিয়ে ফেলেছে তাদের মানবতা ও মনুষ্যত্ববোধ, হয়ে গেছে উদ্ভ্রান্ত উদ্বাস্তুর মতো অর্থহীন আদর্শহীন। এ কারণে গোটা বিশ্বই আজ সর্বক্ষণ একটি উন্নত এবং অনুসরণীয় আদর্শের অনুসন্ধান করছে। যা পাওয়া যাবে একমাত্র রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে। আশ্চর্যের কিছু নয় যে, ইসলাম থেকে দূরে পশ্চিমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিও এই মর্মটি অনুধাবন করেছেন। যেমন বিখ্যাত (সাহিত্যিক, ঔপন্যাসিক) জর্জ বার্নার্ড শ এবং (নাট্যকার) জোহান গ্যোটে প্রমুখ। তারা বিশ্বের জন্য আদর্শ ও অনুসরণীয় ব্যক্তি হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই নির্বাচন করেছেন। কেননা, তিনি এমনটা হওয়ারই উপযুক্ত।
কিন্তু গোটা বিশ্ব কিছুতেই ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামের মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হবে না, যতক্ষণ না বিশ্বের কল্যাণপ্রত্যাশী একনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানবের জীবনচরিত পাঠ ও গভীর অধ্যয়নের আহ্বানে অবতীর্ণ হন। যে পাঠ ও অধ্যয়ন হবে ধীরস্থিরতা ও অনুসন্ধানের সাথে। যাতে করে গোটা বিশ্ব অবগত হতে পারে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানবজাতির জন্য এমন কিছু মর্মবাণী ও মূল্যবোধ রেখে গিয়েছেন, যেগুলো বাস্তবেই তাদের উন্নতি, অগ্রগতি ও সভ্যতার সোপান।
এই কথাগুলোই পশ্চিমের বহু পণ্ডিত, সুবিবেচক চিন্তাবিদ স্বীকার করেছেন। যেমন আমেরিকান চিন্তাবিদ উইল ডুরান্ট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন, আমরা যদি মানুষের মাঝে প্রভাব বিস্তারের বিচারে মহৎ মানুষের মহত্ত্ব নিরুপণ করতে চাই, তাহলে আমাদের বলতেই হয়, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ইতিহাসের মহৎ ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন এমন একটি জনগোষ্ঠীর আত্মিক ও চারিত্রিক উন্নতি সাধনে, যাদেরকে আকাশের উষ্ণতা এবং মরুভূমির অনুর্বরতা বর্বরতার গহিন অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছিল। অথচ তিনি তাঁর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এমনভাবে সফল হয়েছিলেন যে, মানবজাতির সমগ্র ইতিহাসে কোনো সংস্কারক তার কাছাকাছিও পৌঁছাতে সক্ষম হয়নি।
নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই গ্রন্থে আরও বহু বিষয় সংযুক্ত করা যেত, কিন্তু আমি তা করতে সক্ষম হইনি হয়তো সময়ের স্বল্পতার কারণে, কিংবা পুনরাবৃত্তির ভয়ে, কোনো ঘটনা ভুলে যাওয়ার কারণে, কিংবা আমার না জানার কারণে। তবে আমার কৈফিয়ত হলো আমি একজন মানুষ। মানুষের বৈশিষ্ট্যই হলো অসম্পূর্ণতা। এ ব্যাপারে কত সুন্দরই-না বলেছেন ইমাম শাফি রহ.। আমি তার সে কথা দিয়েই আমার এই আলোচনা শেষ করতে চাই। ইমাম শাফি রহ. রচিত বিখ্যাত কিতাব আর- রিসালাহ। এটি তিনি আশিবার সম্পাদনা করেছেন। অবশেষে একদিন তার প্রিয় ছাত্র মুজানিকে বললেন, ছাড়ো! আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব ব্যতীত কোনো কিতাব একেবারে বিশুদ্ধ হওয়ার নিয়মই রাখেননি!
হে আল্লাহ, দরুদ ও শান্তি বর্ষণ করুন এবং বরকতময় করুন সকল জাহানের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর।
-ড. রাগিব সারজানি
টিকাঃ
৭৭২. উইল ডুরান্ট : কিসসাতুল হাজারাহ: ১৩/৪৭।
৭৭৩. হাশিয়াতু ইবনে আবিদিন: ২/২৭।
📄 পরিশিষ্ট
পাশ্চাত্যের অনেকেই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়ে সুবিবেচনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। তাদের এই সুবিবেচনার কারণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাত ও জীবনী নিয়ে তাদের সুগভীর অধ্যয়ন ও গবেষণা। তারা তাদের এই অধ্যয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রে পূর্ণভাবে আধুনিক তাত্ত্বিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যেটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সুগভীর পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষা ও গবেষণার ওপর। পরিশেষে তাদের নিকট রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফল এসেছে।
এভাবে তাদের এই স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্যগুলো এমন কিছু আলোর মশাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, পশ্চিমের অনেক সত্যানুসন্ধানী ব্যক্তি এর দ্বারা সঠিক পথের দিশা পেয়েছে। আমরা এই পরিশিষ্টে সুবিবেচকদের সেই সাক্ষ্যগুলো উপস্থাপন করেছি, তবে তা মূলত সিন্ধু থেকে তুলে আনা কিছু বিন্দুমাত্র, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পবিত্র সিরাত সম্পর্কে তাদের পক্ষ থেকে যত লেখা হয়েছে, তার খুব অল্পই এখানে বলা হয়েছে। তবে এই স্বল্প উপস্থাপনার মধ্য দিয়েই যে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে সেটা হলো, অমুসলিমদের সাথে আচার-আচরণে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহৎ চরিত্র।
আর্নল্ড টয়েনবি বলেন,
আরবের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনাচার তাঁর অনুসারীদের অন্তরগুলোকে মুগ্ধ ও বিমোহিত করে তুলেছিল। তাদের নিকট তাঁর ব্যক্তিত্বের স্থান ছিল অনেক উচ্চ ও ঊর্ধ্বে। এ কারণে তারা তাঁর রিসালাতের প্রতি এমনভাবে ঈমান এনেছে যে, তাঁর নিকট যা ওহি হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তার কাজকর্ম (যা সুন্নি মুসলিমদের নিকট ইসলামি বিধানের একটি উৎস) তারা তার সবকিছুই গ্রহণ করে নিয়েছে। এগুলো শুধু মুসলমান সমাজের জীবনযাপনের রীতিপদ্ধতি বর্ণনাতেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং অমুসলিম প্রজাদের সাথে বিজয়ী মুসলিমদের কেমন আচরণ হবে, সে সম্পর্কেও সুবিন্যস্ত দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছে।
হেনরি ডি কাস্ট্রিজ বলেন,
ইসলামের অনুসারীদের মাঝে ইসলামের প্রসার ঘটেছে (ধর্মীয় বিধানের সাথে তাদের) সংমিশ্রণ, ঘনিষ্ঠতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে। এই প্রসারে না ছিল কোনোরূপ বাধ্যবাধকতা বা খ্রিষ্টান মিশনারি কার্যক্রমের (মতো) কোনো তৎপরতা। বস্তুত একজন মুসলিম কোন মুহূর্তে যে প্রকৃত মুসলিম হয়ে ওঠে, নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন; কেননা, তার ইসলাম স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে।
লিও তলস্তয় বলেন,
ইসলামধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম একটি দিক হলো, ইসলাম খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের প্রতিও কল্যাণের উপদেশ প্রদান করছে, বিশেষ করে প্রথম যুগের ধর্মীয় পাদরিদের ক্ষেত্রে। ইসলাম ইহুদি-খ্রিষ্টানদের সাথে সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে। এমনকি এই ধর্ম তার অনুসারীদেরকে খ্রিষ্টান ও ইহুদি নারীদের বিবাহের পর্যন্ত অনুমতি প্রদান করেছে, যদিও সেই নারীরা তাদের ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। বস্তুত এর মাঝে যে বিশাল উদারতা ও সহনশীলতা বিদ্যমান, বিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট তা অগোচর নয়।
থমাস ওয়াকার আর্নল্ড বলেন,
শতাব্দীর পর শতাব্দী ইসলামি সম্প্রদায়ের শাসনের অধীনে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন মতের এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের এই ব্যাপক উপস্থিতিই ইসলামের সেই উদারতা ও সহনশীলতা প্রমাণ করে, যা এই খ্রিষ্টানরা উপভোগ করেছে। একটি ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে, এত বিপুল মানুষের ইসলামে প্রবেশের ক্ষেত্রে তরবারির শক্তিই ছিল প্রধানভাবে কার্যকর, তবে এই কথার মাঝে কোনো সত্যতা নেই। ইসলামধর্ম অন্য ধর্মানুসারীদের জন্যও উদারতা প্রকাশ করে এবং তাদের ধর্মীয় জীবনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।
গান্ধীজি বলেন,
আমি এমন সেই মহাপুরুষের গুণাবলি জানতে আগ্রহী ছিলাম, যিনি কোনোরূপ সংঘর্ষ ছাড়াই কোটি কোটি মানুষের অন্তরকে শাসন করেছেন। আমি সর্বদিক দিয়ে নিশ্চিত যে, আজকের ইসলাম তরবারির মাধ্যমে তার এই মহান অবস্থান অধিকার করেনি। বরং এটি সম্ভব হয়েছে নিজের প্রতিপালক ও রিসালাতের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থাবান সেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সরলতার ও অকৃত্রিমতার কারণে। বস্তুত এইসব বৈশিষ্ট্যই ইসলামের রাস্তা প্রস্তুত করেছে এবং তার সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করেছে, এখানে তরবারির কোনো ভূমিকা নেই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীর দ্বিতীয় অধ্যায় পাঠের পর আমার কেবলই আফসোস ছিল তাঁর মহান জীবন সম্পর্কে আরও অধিক জ্ঞান ও পরিচিতি অর্জনের (কোনো সূত্র) না পাওয়ার কারণে।
উইলিয়াম মন্টগোমারি ওয়াট বলেন,
আমি আশা করি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী সম্পর্কে এই অধ্যয়ন, গবেষণা নতুনভাবে বনি আদমের একজন মহান পুরুষের ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদানে সহায়তা করবে। নিজের ধর্মবিশ্বাসের কারণে অন্যদের সকল অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করার জন্য তাঁর নিঃশঙ্ক প্রস্তুতি, যারা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছে, তাঁকে অনুসরণ করেছে এবং তাঁকে নেতা ও নির্দেশক হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাদের প্রতি তাঁর উন্নত নৈতিক আচরণ এবং তাঁর পরম সাফল্যসমূহ এই সবকিছুই তাঁর ন্যায়পরায়ণতা, তাঁর মধ্যে ওতপ্রোতভাবে গাঁথা পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতার প্রমাণ বহন করে।
বসওয়ার্থ স্মিথ বলেন,
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন একই সময়ে একজন রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় প্রধান। অথচ তাঁর নিকট না ছিল ধর্মীয় নেতাদের মতো কোনো অহংকার-অহমিকা, আবার না ছিল সম্রাটদের মতো বড় কোনো সেনাদল। তাঁর নিয়মিত প্রশিক্ষিত কোনো সেনাবাহিনী ছিল না, ছিল না নিজস্ব কোনো দেহরক্ষী। ছিল না সুউচ্চ-সুরম্য কোনো প্রাসাদ কিংবা নিয়মিত কোনো রাজস্ব। যদি বিশ্বের কারও ক্ষেত্রে বলা হয় যে, তিনি শুধু ঐশী ক্ষমতাবলে পৃথিবীতে শাসন পরিচালনা করেছেন, তবে সেটা শুধু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেই বলা সম্ভব। কেননা তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি শাসনের বাগডোর নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছেন অথচ অন্যদের মতো শাসনের বাহ্যিক উপকরণ ব্যবহার করেননি এবং দুনিয়ার কোনো ক্ষমতাধরের সাহায্য গ্রহণ করেননি।
লরা ভেকিয়া ভাগলিরি বলেন,
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বক্ষণ ঐশী বিধান মেনে চলেছেন। ছিলেন অত্যধিক উদার, বিশেষ করে একেশ্বরবাদী ধর্মের অনুসারীদের প্রতি। তা ছাড়া এটাও পরিজ্ঞাত হয়েছে যে, তিনি মূর্তিপূজকদের ক্ষেত্রেও কতটা বেশি ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের সাথে সদা বিনয় ও নম্রতার আচরণ করেছেন। কারণ, তিনি এই বিশ্বাস রাখতেন যে, সময়ের অতিবাহন অচিরেই তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে পথ দেখাবে, একদিন তারাও সঠিক পথপ্রাপ্ত হবে। তিনি খুব ভালোভাবেই জানতেন যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা (মানুষের জন্য প্রেরিত এই শেষবার্তা) মানুষের অন্তরে একসময় প্রবেশ করিয়েই দেবেন।
গুস্তাভ লি বোন বলেন,
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সীমাহীন ধৈর্য ও অন্তরের উদারতায় নিজের ওপর আপতিত সকল কষ্ট ও অত্যাচার সয়ে নিয়েছেন। যে কুরাইশ দীর্ঘ বিশ বছর যাবৎ তাঁর সাথে শত্রুতা প্রদর্শন করেছে, তিনি তাদের সাথেও কোমলতা ও সহনশীলতার আচরণ করেছেন।
উইল ডুরান্ট বলেন,
আমরা যদি মানুষদের মাঝে প্রভাব বিস্তারের বিচারে মহৎ মানুষের মহত্ত্ব নিরূপণ করতে চাই, তাহলে আমাদের বলতেই হয়, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ইতিহাসের মহৎ ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।
আলফোনস ডি ল্যামারটিন বলেন,
মেধা ও বুদ্ধিমত্তায় বর্তমান ইতিহাসের কোনো মহান ব্যক্তিকে কেউ কি নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তুলনা করতে দুঃসাহস দেখাবে? বিশ্ব-ইতিহাসের এসব বিখ্যাত ব্যক্তিদের হয়তো কেউ অস্ত্র তৈরি করেছে, কেউ সংবিধান প্রণয়ন করেছে কিংবা কেউ প্রতিষ্ঠা করেছে সাম্রাজ্য। তারা তো অস্থায়ী জীর্ণ কিছু গৌরব অর্জন করেছে, যা তাদের সামনেই ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু এই মহান পুরুষ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধারে সৈন্যবাহিনী পরিচালনা করেছেন, শরিয়ত প্রবর্তন করেছেন, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন, বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীকে শাসন করেছেন, শাসকদের অনুগত করেছেন। শুধু এগুলোই নয়, বরং সেইসাথে তৎকালীন মিলিয়ন-মিলিয়ন মানুষকে পরিচালিত করেছেন, যা ছিল বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আর শুধু এটাই নয়, তিনি সকল মূর্তি, লটারির তির এবং ভ্রান্তধর্ম, ভ্রান্তচিন্তা ও বিশ্বাসকে অপসারিত করেছেন।... এখন সর্বপ্রকার মহৎ মানবীয় মাপকাঠির আলোকে আমাকে বলুন, বিশ্বের আর কেউ কি নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হতে পারে!
থমাস কার্লাইল বলেন,
কিছু গোড়াপন্থী এবং নাস্তিক দাবি করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কর্মের মাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত প্রসিদ্ধি, পার্থিব সম্মান ও কর্তৃত্বের গৌরব অর্জনের আকাঙ্ক্ষা করেছেন। আমি আল্লাহর কসম করে বলতে পারি, তিনি কিছুতেই এগুলোর ইচ্ছা করেননি। বরং এই মহান পুরুষের অন্তর ছিল বিশাল ও বিস্তৃত। তাঁর ছিল উজ্জ্বল দুটি চোখ এবং মহান হৃদয়। অন্তর পরিপূর্ণ ছিল দয়া, রহমত, কল্যাণ ও সহানুভূতিতে। সদাচার প্রজ্ঞা বুদ্ধিমত্তা বিচক্ষণতা পাণ্ডিত্য এবং বিশুদ্ধ চিন্তা-চেতনা ছিল তাঁর বৈশিষ্ট্য। দুনিয়ার কিছুতেই তাঁর লোভ ছিল না। বরং ছিলেন পার্থিব কোনো কর্তৃত্ব ও সম্মানের ঘোর বিরোধী। আর আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে বিশ্বের সর্বাধিক প্রশংসিত এবং শ্রেষ্ঠতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যাবলি দেখেছি। তাঁর মাঝে পরিস্ফুট হতে দেখেছি অগ্রগণ্য বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণ দৃষ্টি এবং শক্তিমান মেধাবী পৌরুষ। তিনি ইচ্ছা করলে (তাঁর এই মেধা, বুদ্ধি ও শক্তিমত্তা নিয়ে) একজন বিদগ্ধ কবি হতে পারতেন। কিংবা একজন অসীম সাহসী অশ্বারোহী বীরযোদ্ধা হতে পারতেন, অথবা হতে পারতেন প্রতাপশালী কোনো বাদশাহ বা সম্রাট। কিংবা হতে পারতেন যেকোনো শ্রেণির নায়ক।
উইলিয়াম ম্যুর বলেন,
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখযোগ্য গুণের মধ্যে ছিল তাঁর সাথিদের সাথে সম্মানজনক ব্যবহার। এ ছাড়া উদারতা, বিনয়, দয়া ও অনুগ্রহ যেন তাঁর অন্তরের গভীরে প্রবিষ্ট। তাঁর চারপাশের মানুষদের অন্তরেও তাঁর মুহাব্বত ও ভালোবাসা গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছিলো। তিনি তাঁর সবচেয়ে কঠিন শত্রুর সাথেও উদারতা ও সহনশীলতার আচরণ করেছেন, এমনকি সেই মক্কাবাসীদের সাথেও, যারা বহু বছর অবিরাম তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করে গেছে এবং তাঁকে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্য করতে বাধা প্রদান করেছে। এভাবেই তিনি জয়-পরাজয় সকল অবস্থাতেই ক্ষমা ও সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন।
মাইকেল এইচ হার্ট বলেন,
(আমার গ্রন্থে) ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রথম নির্বাচন করায় অনেক পাঠক হয়তো চমকিত ও বিস্মিত হতে পারেন। এটা তাদের মনের মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। তবে আমার পুরো বিশ্বাস, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোটা ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি ধর্মীয় ও পার্থিব দুটি দিকেই সমানভাবে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও উচ্চ পর্যায়ের সফলতা অর্জন করেছেন।
গ্যোটে বলেন,
আমি গোটা ইতিহাসে মানবজাতির সবচেয়ে উন্নত ও শ্রেষ্ঠ আদর্শের উদাহরণ খুঁজে বেড়িয়েছি, অবশেষে তা পেয়েছি নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে।
টিকাঃ
৭৭৪. আর্নল্ড টয়োনবি (Arnold Tynbee): একজন ইংরেজ ঐতিহাসিক ও প্রাচ্যবিদ (১৮৮৯-১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ)।
৭৭৫. টয়োনবি: মুখতাসারু দিরাসাতিন লিত-তারিখ: ৩/৯৮। (বইটির আসল নাম, A Study of History)-অনুবাদক
৭৭৬. হেনরি ডি কাস্ট্রিজ (Henry de Castries 1850-1927): একজন ফরাসি খ্রিষ্টান লেখক এবং ফরাসি সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল।
৭৭৭. হেনরি ডি কাস্ট্রিজ: আল-ইসলাম: খাওয়াতির ও সাওয়ানিহ : ৫।
৭৭৮. লিও তলস্তয় (Leo Tolstoy): তিনি ছিলেন একজন রুশ লেখক ও ঔপন্যাসিক (১৮২৮-১৯১০ খ্রিষ্টাব্দ)। তাকে সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ছিলেন সমাজসংস্কারক, শান্তিকামী এবং গভীর চিন্তাবিদ।
৭৭৯. কিছু শর্ত সাপেক্ষে আহলে কিতাব নারীদেরকে বিয়ে করা ইসলামে বৈধ। তবে মুহাক্কিক আলেমগণ বলেন, বর্তমানে ফিতনার আশঙ্কা ও শর্তের অনুপস্থিতিতে আহলে কিতাব নারীদের বিয়ে করা অনুত্তম।-সম্পাদক
৭৮০. তলস্তয়: হুকমুন নবী মুহাম্মাদ: ৪৪।
৭৮১. থমাস ওয়াকার আর্নল্ড (Thomas Walker Arnold): বিখ্যাত ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ এবং ইতিহাসবেত্তা। জন্ম: ১৯ এপ্রিল ১৮৬৪। মৃত্যু: ৯ জুন ১৯৩০।
৭৮২. থমাস ওয়াকার আর্নল্ড: আদ-দাওয়াতু ইলাল ইসলাম: ১০২।
৭৮৩. মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী (১৮৬৯-১৯৪৮ খ্রি.): ভারতীয় (হিন্দু সমাজের) আধ্যাত্মিক নেতা এবং অহিংস আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। তার এই আন্দোলন ভারতকে ব্রিটিশ পরাধীনতা থেকে মুক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৭৮৪. ইয়ং ইন্ডিয়া নামক একটি পত্রিকার আলোচনার অংশ।
৭৮৫. উইলিয়াম মন্টগোমারি ওয়াট (William Montgomery Watt): তিনি একজন ইংরেজ প্রাচ্যবিদ (১৯০৯-২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ)। আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক। এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটির আরবি বিভাগে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো, মুহাম্মাদ ফি মাক্কা, মুহাম্মাদ আন-নাবি ওয়া রাজুলুদ দাওলা, আল-ইসলাম ওয়াল- মাসিহিয়্যাহ ফিল আলামিন মুআসির।
৭৮৬. উইলিয়াম মন্টগোমারি ওয়াট: মুহাম্মাদ ফি মাক্কা: ৫২, ৫২১ (ঈষৎ পরিমার্জিত)।
৭৮৭. বসওয়ার্থ স্মিথ (Bosworth Smith 1839-1908): তিনি ছিলেন বিখ্যাত ইংরেজ সাহিত্যিক। শিক্ষাদান এবং ইতিহাস বিষয়ে তার অনেক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা রয়েছে। তার প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর একটি হলো, মুহাম্মাদ ওয়াল-মুহাম্মাদিয়্যাহ।
৭৮৮. বসওয়ার্থ স্মিথ: মুহাম্মাদ ওয়াল-মুহাম্মাদিয়্যাহ: ৯২।
৭৮৯. লরা ভেকিয়া ভাগলিরি (Laura Veccia Vaglieri 1893-1989): ইতালীয় নারী প্রাচ্যবিদ।
৭৯০. ভেকিয়া ভাগলিরি: দিফাউন আনিল ইসলাম: ৭৩।
৭৯১. গুস্তাভ লি বোন (Gustave Le Bon): তিনি ছিলেন একজন ফরাসি প্রাচ্যবিদ (১৮৪১-১৯২১ খ্রিষ্টাব্দ)। তাঁর বিখ্যাত একটি গ্রন্থ হলো 'হাজারাতুল আরব'। আরবের ইসলামি সভ্যতার প্রতি ন্যায়বান আলোচনার ন্যায়পরতার ক্ষেত্রে আধুনিক ইউরোপে প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটাকে একটি প্রধান গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৭৯২. হাজারাতুল আরব: ১০৪-১০৫।
৭৯৩. গুস্তাভ লি বোন: হাজারাতুল আরব: ১০৮।
৭৯৪. উইল ডুরান্ট (Will Durant 1885-1981): বিখ্যাত আমেরিকান ঐতিহাসিক, তার বৃহৎ গ্রন্থ হলো ৪২ খণ্ডে সমাপ্ত কিসসাতুল হাজারাহ-এর পেছনে তিনি পূর্ণ পাঁচ যুগ সময় ব্যয় করেন।-অনুবাদক
৭৯৫. উইল ডুরান্ট: কিসসাতুল হাজারাহ: ১৩/৫৯।
৭৯৬. আলফোনস ডি ল্যামারটিন (Alphonse de Lamartine 1790-1869): তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ফরাসি লেখক ও কবি।
৭৯৭. ডি ল্যামারটিন: তারিখু তুর্কিয়া : ২৭৬-২৭৭। (ঈষৎ পরিমার্জিত)
৭৯৮. থমাস কার্লাইল (Thomas Carlyle 1795-1881): তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ইংরেজ লেখক, তার একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হলো, আল-আবতাল। তিনি এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে চমৎকার একটি অধ্যায় সংযুক্ত করেছেন।
৭৯৯. আল-আবতাল: ৬৮-৬৯।
৮০০. থমাস কার্লাইল: আল-আবতাল: ৮২।
৮০১. উইলিয়াম ম্যুর (William Muir 1819-1905): তিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ। স্কটল্যান্ডের বংশোদ্ভূত। এডিনবার্গ ইউনিভাসির্টির প্রধান লেফটেন্যান্ট গভর্নর। তার গ্রন্থাবলির মাঝে রয়েছে শাহাদাতুল কুরআন লি-আম্বিয়ায়ির রহমান। এ ছাড়া তিনি ইংরেজিতে সিরাত, ইসলামি খেলাফতের ইতিহাস, মিশরের মামলুক সাম্রাজ্যের ইতিহাস ইত্যাদি নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আরব কবিদের নিয়ে তার বেশ কিছু প্রবন্ধ রয়েছে।
৮০২. উইলিয়াম ম্যুর: হায়াতু মুহাম্মাদ (আব্দুর রহমান আযযাম বিরচিত বাতালুল আবতাল থেকে উদ্ধৃত: ৪৪-৪৫।)
৮০৩. মাইকেল এইচ হার্ট (Michael H. Hart): তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং সামসময়িক আমেরিকান একজন ইতিহাসবিদ। আমেরিকান স্পেস এজেন্সির কর্মী প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭২ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ আল- খালিদুনাল মিআহ (অমর একশজন)। এতে তিনি বিশ্ব-ইতিহাসের প্রভাবশালী একশ ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা করেছেন।
৮০৪. মাইকেল এইচ হার্ট: আল-মিয়াতুল আওয়ায়িল। (বাংলায় এই গ্রন্থের নাম দেওয়া হয়েছে, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ১০০ মনীষীর জীবনী): ২৯।
৮০৫. ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে (Johann Wolfgang Von Goethe 1749-1832) : বিখ্যাত জার্মান সাহিত্যিক। আরব চিন্তাধারার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত রচনাবলির মধ্যে রয়েছে আদ-দিওয়ানুশ শারকি লিশ-শায়িরিল গারবি।
৮০৬. গ্যোটে: আদ-দিওয়ানুশ শারকি লিশ-শায়িরিল গারবি।