📘 উসওয়াতুল লিল আলামিন > 📄 অপরিচিতদের সাথে নবীজি ﷺ-এর আচরণ

📄 অপরিচিতদের সাথে নবীজি ﷺ-এর আচরণ


মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবী বা রাসুল হওয়ার অন্যতম উজ্জ্বল প্রমাণ হলো, অপরিচিতদের সাথেও তাঁর অনন্যসুন্দর আচরণ।
কেননা, আমরা সাধারণত পরিচিত ব্যক্তিদের সাথে ভালো ব্যবহার করি আর অপরিচিতদের সাথে করি রূঢ় আচরণ। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সীমাহীন দয়া করেছেন। তাঁকে একটি বিনয়-নম্র হৃদয় দান করেছেন এবং পরিচিত-অপরিচিত সকলের সাথেই নম্র ব্যবহারের হৃদয়গ্রাহী গুণে গুণান্বিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ﴿فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نُفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ﴾
(হে নবী,) এটা আল্লাহর রহমতই ছিল, যার কারণে আপনি মানুষের সাথে কোমল আচরণ করেছেন। আপনি যদি রূঢ় প্রকৃতির ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে গিয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে যেত। [সুরা আলে ইমরান : ১৫৯]
তাঁর জীবনে অপরিচিতদের সাথে চমৎকার ব্যবহারের অনেক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা রয়েছে। যেমন আমরা এখানে উম্মে মাবাদের সাথে সংঘটিত ঘটনাটি স্মরণ করতে পারি। উম্মে মাবাদের ভাই হুবাইশ ইবনে খালেদ বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কা থেকে হিজরতের উদ্দেশ্যে মদিনার পথে বের হলেন, সাথে ছিলেন আবু বকর রা., ছিলেন আবু বকরের গোলাম আমের ইবনে ফুহাইরা আর তাদের পথ দেখাচ্ছিলেন আবদুল্লাহ আল-লাইছি। উম্মে মাবাদের তাঁবুর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা তার থেকে কিছু খেজুর ও গোশত কিনতে চাইলেন। কিন্তু পরিবারটির নিকট তারা এ জাতীয় কিছু পেলেন না। কেননা পরিবারটি ছিল দুর্ভিক্ষপীড়িত। এ সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের তাঁবুর একপাশে একটি শীর্ণকায় বকরি দেখতে পেলেন। নবীজি সেটা দেখিয়ে বললেন, 'উম্মে মাবাদ, এই বকরিটার কী অবস্থা?'
উম্মে মাবাদ বলল, 'অতি দুর্বলতার কারণে সে বকরির পালের সাথে অগ্রসর হতে পারেনি, তাই এখানে পড়ে আছে।' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'এটার কি দুধ দোহন করা সম্ভব?'
উম্মে মাবাদ বলল, 'এমন চেষ্টা করাও অনর্থক হবে।' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তুমি কি আমাকে বকরিটির দুধ দোহনের অনুমতি দেবে?'
সে বলল, 'আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনি যদি সক্ষম হন তবে দুধ দোহন করুন।' রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরিটির নিকটে গিয়ে বকরিটির ওলান স্পর্শ করলেন, বিসমিল্লাহ বললেন এবং বরকতের দোয়া করলেন। আল্লাহ তাআলার কুদরতে তৎক্ষণাৎ বকরিটির ওলান দুধে পূর্ণ হয়ে গেল। শরীর হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল। মুখে জাবর কাটতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পাত্র চাইলেন। পাত্র প্রদান করা হলে তিনি সেই পাত্র পূর্ণ করে দুধ দোহন করলেন, এমনকি দুধ উপচে পড়ার উপক্রম হলো। এরপর তিনি পরিতৃপ্তির সাথে পান করলেন। তাঁর সঙ্গীরাও পরিতৃপ্তির সাথে পান করলেন। এরপর অন্যরাও (উম্মে মাবাদের পরিবার) তৃপ্তির সাথে দুধ পান করল। অতঃপর পুনরায় তিনি প্রথমবারের মতো দুধ দোহন করে পাত্রটি পূর্ণ করলেন। এরপর এটা উম্মে মাবাদের নিকট অর্পণ করলেন, তার থেকে কিছুটা ক্রয় করলেন অতঃপর আবার সবাইকে নিয়ে সেখান থেকে নিজেদের পথে রওয়ানা করলেন। (১৩৩)
এই ঘটনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহত্ত্বের প্রকাশ ঘটেছে। তিনি এখানে উম্মে মাবাদের সাথে ন্যায়পূর্ণ আচরণ করেছেন। অথচ তিনি বের হয়েছেন মুহাজির হিসেবে। সাথে তেমন কোনো পাথেয় নেই, না খাবার, না পানি। আর উম্মে মাবাদ তাঁকে চিনত না। খুব সহজেই তিনি তার থেকে সম্পদ নিয়ে নিমেষে চোখের আড়াল হয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে নবীসুলভ আচরণ করেছেন। জোর করে অন্যের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া ডাকাত ও দস্যুদের মতো আচরণ করেননি।
অপরিচিতদের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন অনন্যসাধারণ আচরণ অনেক সাহাবির ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার অন্যতম প্রধান উপলক্ষ্য হয়েছে। এভাবে তাদের নিকট তাঁর নবুয়তের সত্যতা এবং উম্মতের প্রতি তাঁর সীমাহীন দরদ ও ভালোবাসা উদ্ভাসিত হয়েছে। নবীজির এই আচরণ তাদেরকে ইসলামের জন্য উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করেছে। যেমন মুনজির ইবনে জারির রা. তার পিতা থেকে বর্ণনা করে বলেন, আমরা একবার সকালের দিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম। এ সময় তাঁর কাছে জুতাহীন, বস্ত্রহীন, গলায় চামড়ার আবা পরিহিত এবং ঝুলন্ত তরবারি সাথে নিয়েই একদল লোকের আগমন ঘটল। এদের অধিকাংশ সদস্য কিংবা সকলেই ছিল মুজার গোত্রের লোক। অভাব-অনটনে তাদের এই করুণ অবস্থা দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখমণ্ডল বিবর্ণ ও বিষণ্ণ হয়ে গেল। তিনি নিজের কামরায় প্রবেশ করলেন। অতঃপর আবার বেরিয়ে এলেন। বিলাল রা.-কে আজান দিতে নির্দেশ দিলেন। বিলাল রা. আজান ও ইকামত দিলেন। নামাজ শেষ করে নবীজি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন এবং এ আয়াত পাঠ করলেন,
يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا
হে মানবজাতি! তোমরা নিজেদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের মাত্র একজন ব্যক্তি থেকে (আদম আলাইহিস সালাম) সৃষ্টি করেছেন। এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার সঙ্গিনী। এবং তাদের দুজনের মাধ্যমে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো, যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অন্যের নিকট প্রার্থনা করো। এবং আত্মীয়তার সম্পর্ককেও ভয় করে চলো। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তোমাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। [সুরা নিসা : ১]
অতঃপর তিনি সুরা হাশরের শেষদিকের এই আয়াত পাঠ করলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যেন ভবিষ্যতের (আখিরাতের) জন্য কী সঞ্চয় করেছে সেদিকে লক্ষ করে এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। [সুরা হাশর: ১৮]
এরপর উপস্থিত লোকদের কেউ একটি দিনার, কেউ একটি দিরহাম, কেউ কাপড়, কেউ-বা এক সা'(১৩৪) আটা আবার কেউ এক সা' খেজুর দান করল। অবশেষে তিনি সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললেন, 'অন্তত এক টুকরো খেজুর হলেও তোমরা নিয়ে এসো।' আনসার সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তি একটি বড় থলে নিয়ে এলেন। থলের ভারে তার হাত নুয়ে পড়ছিল। এরপর লোকেরা সারিবদ্ধভাবে একের পর এক দান করতে লাগল। ফলে খাদ্য ও কাপড়ের দুটো স্তুপ হয়ে গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারা মুবারক স্বর্ণের মতো জ্বলজ্বল করতে লাগল। অতঃপর তিনি বললেন, 'যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোনো উত্তম কাজের প্রচলন করে, সে তার এই কাজের সওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা এ কাজ করবে, সে এর বিনিময়েও সওয়াব পাবে। তবে এতে তাদের সওয়াবের কোনো অংশ কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে (ইসলাম পরিপন্থী) কোনো খারাপ কাজের প্রচলন করবে, তাকে এ কাজের বোঝা (গুনাহ ও শান্তি) বহন করতে হবে। তারপর যারা এই কাজ করবে, তাদের সমপরিমাণ বোঝা তাকেও বইতে হবে। তবে এতে তাদের অপরাধ ও শান্তির কোনো অংশই কমবে না।' (১৩৫)
এভাবেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথেও সুন্দর আচরণ করেছেন। বরং তাঁর এই অমায়িক অনন্যসাধারণ আচরণ অন্যদের ইসলামগ্রহণের কারণ হয়েছিল। যেমন যায়েদ ইবনে সাআনা রা.। তিনি ছিলেন একজন ইহুদি পাদরি। তিনি নিজের ইসলামগ্রহণের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, নবুয়তের আলামতসমূহের মধ্যে সকল আলামতই আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে দেখতে পেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র দুটি আলামতের পরীক্ষা বা প্রত্যক্ষ দর্শন তখনও আমার বাকি ছিল। আলামত দুটি হলো : ১. সহনশীলতা তাঁর ক্রোধের ওপর প্রবল হবে। ২. তাঁর সাথে যতই মূর্খতাসুলভ আচরণ করা হবে, ততই তাঁর সহনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
তারপর যায়েদ ইবনে সাআনা বললেন, আমি নবীজির এই দুটি আলামত পরীক্ষা করার সুযোগ খুঁজতে লাগলাম। তাঁর সাথে মিশতে লাগলাম, যাতে আলামত দুটি প্রত্যক্ষ করতে পারি। একদিন তিনি নিজের ঘরের বাইরে এলেন। তখন তাঁর সাথে ছিলেন হজরত আলি রা.। ইতিমধ্যে বেদুইনের মতো দেখতে এক লোক এসে আবেদন করল, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমার গোত্র ইসলামগ্রহণ করেছে। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, মুসলমান হয়ে গেলে তোমাদের রিজিকের আর কোনো অভাব থাকবে না। কিন্তু এখন তারা অনাবৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষপীড়িত হয়ে পড়েছে। ভীষণ অভাব-অনটন তাদেরকে আঁকড়ে ধরেছে। আমার ভয় হচ্ছে, এ অবস্থায় তারা ইসলাম ছেড়ে না দেয়! তারা হয়তো যে সচ্ছলতার আশা নিয়ে ইসলামগ্রহণ করেছিল, আবার একই আশায় ইসলাম পরিত্যাগ করবে। যদি ভালো মনে করেন, তবে আপনি তাদেরকে কিছু সাহায্য করুন।'
লোকটির এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পাশের ব্যক্তি উমর রা.-এর দিকে তাকালেন। উমর রা. বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, কিছুই তো মজুদ নেই।'
তখন আমি (যায়েদ ইবনে সাআনা) বললাম, 'হে মুহাম্মাদ, যদি আপনি অমুক ব্যক্তির বাগানের এই পরিমাণ খেজুর নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্তে আমার নিকট বিক্রি করেন, তবে আমি অগ্রিম মূল্য দিয়ে দেবো এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে খেজুর নিয়ে নেব।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'হে ইহুদি, এটা হতে পারে না। বরং তুমি যদি বাগান নির্দিষ্ট না করো (শুধু খেজুরের পরিমাণ নির্দিষ্ট করো), তবে আমি এই চুক্তিতে আবদ্ধ হতে পারি।'
আমি তাঁর প্রস্তাব মেনে নিলাম এবং তিনি আমার সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন আর আমি আমার থলের মুখ খুলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ খেজুরের মূল্য হিসেবে আশি মিছকাল (এক মিছকাল=৪.৫ গ্রাম) স্বর্ণ প্রদান করলাম। তিনি এই স্বর্ণ সেই বেদুইন ব্যক্তির হাতে দিয়ে বললেন, 'এগুলো দিয়ে তাদের অভাব দূর করে দাও।' (যায়েদ ইবনে সাআনা পরবর্তী সময়ে মুসলমান হন এবং তাবুক যুদ্ধে শাহাদাত বরণ করেন।) (১৩৬)
সুন্দর হয়, আমরা যদি অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে নবীজির অমায়িক আচরণের একটি চমৎকার ঘটনা দিয়ে এই পরিচ্ছেদটি শেষ করি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ। অতিথিদের আপ্যায়নের প্রতি তিনি ছিলেন অত্যধিক আগ্রহী। কিন্তু নিজের দরিদ্রতার কারণে তাঁর এই মনোবাসনা অনেক সময় অপূর্ণ রয়ে যেত।
একবার এক অপরিচিত 'আনসারি যুবক' মেহমান হিসেবে তাঁর নিকট আগমন করলেন। ঘটনাটি হজরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, যুবকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাঁর একজন স্ত্রীর কাছে কোনো খাবার আছে কি না তা খোঁজ নেওয়ার জন্য পাঠালেন। স্ত্রী বলে পাঠালেন, সেই সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, পানি ছাড়া আমার কাছে কোনো খাবার নেই। এরপর তিনি তাঁর আরেক স্ত্রীর কাছে পাঠালেন। সেখান থেকেও একই উত্তর এলো। এভাবে একে একে শেষ পর্যন্ত সকলেই একই কথা বলে পাঠালেন যে, সেই সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন, পানি ছাড়া আমার নিকট এখন কোনো খাবার নেই।
তখন তিনি উপস্থিত লোকদের বললেন, 'এমন কে আছে যে আজ রাতে এই লোকটির মেহমানদারি করতে পারে? আল্লাহ তাআলা তার প্রতি অনুগ্রহ করবেন।' এক আনসারি সাহাবি উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসুল, আমি তার মেহমানদারি করাব...।' (১৩৭)
এভাবেই আমাদের প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপরিচিতদের সাথেও অত্যন্ত সুন্দর ও অমায়িক আচরণ করেছেন। এটা ছিল তাঁর নবুয়তের সত্যতার ওপর অন্যতম প্রমাণ। কেননা, তিনি তাঁর জীবনের সকল কাজে সকলের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, দয়ার্দ্র এবং উদার মনের অধিকারী।

টিকাঃ
১৩৩. মুসতাদরাকে হাকেম : ৪২৭৪।
১৩৪. এক সা' = ৩২৭০.৬০ গ্রাম (প্রায়)। সূত্র: মাসিক আল কাউসার, জুলাই-আগস্ট ২০১১।-সম্পাদক
১৩৫. সহিহ মুসলিম: ২৩৯৮, সুনানে নাসায়ি: ২৫৫৪, মুসনাদে আহমাদ : ১৯২২৫।
১৩৬. সহিহ ইবনে হিব্বান : ২৮৮, মুসতাদরাকে হাকেম : ৬৫৪৭।
১৩৭. সহিহ মুসলিম : ২০৫৪, সহিহ ইবনে হিব্বان : ৫২৮৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00