📘 উলুমুল কুরআন 📄 কেয়াসে ইতেসায়ী বা পার্থক্যকরন কেয়াসী দলীল

📄 কেয়াসে ইতেসায়ী বা পার্থক্যকরন কেয়াসী দলীল


(৩) কেয়াসে ইস্তেস্নায়ী বা পার্থক্যকরন কেয়াসী দলীল :
মানতিকী দলিলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকার হলো কেয়াসে ইস্তেস্নায়ী। এই দলীলটি সাধারণত কোনো বিষয়কে নেতিবাচক করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এর দু'টি অংশ থাকে। প্রথম অংশ তথা সুগরার মধ্যে যে বিষয়টিকে নেতিবাচক করা উদ্দেশ্য হয়, সেটাকে অন্য একটা বিষয়ের উপর নির্ভরশীল করে দেওয়া হয়। আর দ্বিতীয় অংশ তথা কুবরার মধ্যে ওই বিষয়টিকে নেতিবাচক করা হয়, যার উপর প্রথম অংশকে নির্ভরশীল করা হয়েছিল। যেমন, আমাকে এটা প্রমাণ করতে হবে যে, "এখন দিন নয়।” তখন আমি বলব, “এখন যদি দিনই হতো, তাহলে সূর্য বিদ্যমান থাকতো। কিন্তু যখন সূর্য বিদ্যমান নেই। কাজেই এখন দিন নয়।" এ ধরনের আরো বহু দলীল পবিত্র কুরআনুল কারীমে রয়েছে। যেমন, শিরককে অস্বীকৃতি ও তাওহীদকে সাব্যস্ত করতে গিয়ে ইরশাদ হয়েছে— لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا 'অর্থাৎ যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া বহু ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।' এটি হচ্ছে সুগরা। এর কুবরা উহ্য রয়েছে—তা হচ্ছে, “জমিন ও আসমান ধ্বংস হয়নি”। অতএব, বুঝা গেল যে, জমিন ও আসমানে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা ব্যতীত আর কোনো মা'বুদ বা ইলাহ নেই।

টিকাঃ
৪২৩. কেননা এক ইলাহ এক ধরনের কাজ করতে চাইতেন, আর অন্য ইলাহ আরেকটি কাজের ইচ্ছা করতেন। ফলে উভয়ের মাঝে লড়াই বেঁধে যেত। আর এভাবে ফেতনা-ফ্যাসাদ ছড়িয়ে পড়ত।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 সাবর ও তাকসীম অনুসন্ধানও বিভাজন রীতি

📄 সাবর ও তাকসীম অনুসন্ধানও বিভাজন রীতি


(৪) সাবর ও তাকসীম অনুসন্ধানও বিভাজন রীতি :
প্রকাশ থাকে যে যুক্তি ভিত্তিক দলীলসমূহের মধ্য হতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীল হলো, “সাবর ও তাকসীম” বা বিভাজন রীতি। যার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের দাবীকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর পদ্ধতি হলো এই যে, প্রতিপক্ষকে বলা হবে যে, তোমার দাবী প্রমাণিত হওয়ার জন্য এই সম্ভাব্য বিষয়গুলোর মধ্য হতে যে কোনো একটি পাওয়া যাওয়া জরুরী। আর যেহেতু এগুলোর মধ্য হতে একটি সম্ভাব্য বিষয়ও পাওয়া যাচ্ছে না; তাই বুঝা যাচ্ছে তোমার দাবী সঠিক নয়।

পবিত্র কুরআন মাজীদে এর অত্যন্ত স্পষ্ট দলীল বিদ্যমান রয়েছে। কাফের সম্প্রদায় কখনো কখনো হালাল পশুর নরগুলোকে নিজেদের জন্য হারাম করে নিত আবার কখনো মাদীগুলোকে। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তাদের এই কর্মরীতিকে প্রত্যাখ্যান করতে গিয়ে বলেছেন যে, তোমাদের এই হারাম করার কারণ কি? যুক্তিগতভাবে সম্ভাব্য চারটি কারণ হতে পারে— (১) হয়তো নর হওয়ার কারণে হারাম বলবে (২) অথবা মাদী হওয়ার কারণে (৩) অথবা যে গর্ভাশয়ে তা জন্ম নিয়েছে, তাতে হারাম হওয়ার কোনো কারণ পাওয়া যাবে (৪) অথবা আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা হারাম করেছেন, বিধায় তোমরাও তা হারাম করেছ। আর এই চারটির সবকটিই অসম্ভব। কারণ আল্লাহ তা'আলা এ ধরনের কোনো আদেশ নাযিল করেননি। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী পন্থায় "সাবর ও তাকসীম" এর মাধ্যমে তাদের ধারণাগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন।

টিকাঃ
৪২৪. সূরা আনআম: ১৪৪

📘 উলুমুল কুরআন 📄 তাসলিম স্বীকৃতি ভিত্তিক দলীল

📄 তাসলিম স্বীকৃতি ভিত্তিক দলীল


(৫) তাসলীম-স্বীকৃতি ভিত্তিক দলীল :
যুক্তি দলীলের চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ দলীল হলো "তাসলীম”। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের কোনো কথা অথবা দাবীকে মেনে নিয়ে এ কথা বলা যে, এটা মেনে নেওয়ার পরও উদ্দেশ্য হাসিল হয় না। কাফেররা বলে বেড়াত যে, আমাদের নিকট কোনো মানুষের পরিবর্তে কোনো ফেরেশতাকে নবী বানিয়ে প্রেরণ করা হলো না কেন? তাদের এই প্রশ্নের জবাব আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা কয়েকভাবে দিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে হতে একটি হচ্ছে— وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنَاهُ رَجُلًا 'আমি যদি তাঁকে ফেরেশতা করেও প্রেরণ করতাম, তাহলে তাঁকে মানুষের আকৃতিতেই প্রেরণ করতাম।' অর্থাৎ প্রথম কথা তো হলো, কোনো নবীর জন্য ফেরেশতা হওয়া আবশ্যক নয়। কিন্তু তারপরও তোমাদের কথা মেনে নিয়ে আমি যদি ফেরেশতাও প্রেরণ করতাম তাহলেও তোমাদের উদ্দেশ্য হাসিল হতো না। কারণ আমি ফেরেশতাকেও তার আসল গঠন-আকৃতিতে প্রেরণ করতাম না। কারণ তোমাদের মধ্যে তার আসল গঠন-আকৃতি দেখার যোগ্যতা নেই। কাজেই তাকে মানব-আকৃতিতেই প্রেরণ করা হতো। আর তখনও তোমরা তার প্রতি ঈমান আনতে না।

টিকাঃ
৪২৫. সূরা আনআম: ৯

📘 উলুমুল কুরআন 📄 ইন্তেকাল –পরিবর্তন ভিত্তিক দলীল

📄 ইন্তেকাল –পরিবর্তন ভিত্তিক দলীল


(৬) ইন্তেকাল-পরিবর্তন ভিত্তিক দলীল :
মানতিকী পদ্ধতিতে মুনাযিরা-বিতর্কের ক্ষেত্রে কখনো কখনো এমনও হয় যে, বাদী একটি দলীল পেশ করে। প্রতিপক্ষ বক্র বুঝসম্পন্ন হবার কারণে এর উপর পাল্টা কোনো প্রশ্ন করে বসে। এমতাবস্থায় বাদী তার এই পাল্টা প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে অন্য আরেকটি দলীল পেশ করে। এর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রকাশ করা যে, তোমার এই প্রশ্ন করাটা নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক। এই পদ্ধতিকে বলা হয় "ইন্তেকাল”।

হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর একটি ঘটনায় এর উজ্জ্বল উদাহরণ রয়েছে। নমরূদের সাথে যখন তাঁর বিতর্ক হয়েছিল, হযরত ইবরাহীম (আ.) দলীল পেশ করলেন— رَبِّيَ الَّذِي يُحْيِي وَيُمِيتُ 'আমার প্রভু তো তিনি, যিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন।' তখন নমরূদ একজন নিরপরাধ লোককে হত্যা করে এবং অন্যকে মুক্ত করে বলল— أَنَا أُحْيِي وَأُمِيتُ 'আমিও জীবন দান করি এবং মৃত্যু দান করি।' হযরত ইবরাহীম (আ.) বুঝতে পারলেন যে, এই আহাম্মক তো জীবন ও মৃত্যুর অর্থই বুঝে না। তাই তিনি সঙ্গে সঙ্গেই তাকে নির্বাক করে দেওয়ার মতো আরেকটি দলীল পেশ করলেন— فَإِنَّ اللَّهَ يَأْتِي بِالشَّمْسِ مِنَ الْمَشْرِقِ فَأْتِ بِهَا مِنَ الْمَغْرِبِ 'নিশ্চয়ই আল্লাহ পূর্বদিক থেকে সূর্য আনেন। অতএব, তুমি তা পশ্চিম দিক থেকে আন।' এটা ছিল “ইন্তেকাল”। যার দ্বারা নমরূদের বাকপটুতা নিমেষেই চুপসে যায়। فَبُهِتَ الَّذِي كَفَرَ 'ফলে কাফের ব্যক্তি হতভম্ব হয়ে গেল।'

টিকাঃ
৪২৬. সূরা বাকারা: ২৫৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية