📘 উলুমুল কুরআন 📄 ধর্মবিশ্বাস

📄 ধর্মবিশ্বাস


মৌলিকভাবে পবিত্র কুরআনুল কারীমে তিন প্রকার আকীদা-বিশ্বাসের কথা ঘোষিত হয়েছে। যেমন—
১. তাওহীদ (মহান আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস)
২. রিসালাত (আল্লাহ কর্তৃক নবী-রাসূল প্রেরণের প্রতি বিশ্বাস)।
৩. আখিরাত (পরকালের প্রতি বিশ্বাস)।

'তাওহীদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ এই বিশ্ব জগতের প্রত্যেকটি অণু-পরমাণুকে একক সত্ত্বার সৃষ্টি হিসেবে বিশ্বাস করবে। একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে। তাঁর কাছেই প্রার্থনা ও যাচনা করবে। একমাত্র তাঁকেই ভয় করবে। তাঁর কাছেই চাইবে। আর অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, এই অগণিত সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণু তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং অন্য কেউ তাঁর তাওফীক দেওয়া ব্যতীত সেটাকে এদিক-সেদিক করতেও সক্ষম নয়।

আর 'রিসালাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পূর্বে অতিবাহিত সকল পয়গাম্বরকে মহান আল্লাহর সত্য রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা। তিনি যে কথাকে হক বলেন, সেটাকে সত্য বলে মেনে নিবে এবং তিনি যে বিষয়কে বাতিল বলেন, সেটাকে বাতিল হিসেবে মেনে নিবে।

আর 'আখিরাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ মৃত্যুর পর এমন এক নতুন জীবনের উপর বিশ্বাস রাখবে, যা হবে চিরন্তন এবং সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার পার্থিব জীবনের কর্মকান্ডের বিনিময় প্রদান করা হবে। যদি সে ভালো কাজ করে থাকে, তাহলে জান্নাতের চিরন্তন নেয়ামতরাজির অধিকারী হবে। আর যদি মন্দ কাজ করে স্বীয় পার্থিব জীবনকে বিনষ্ট করে থাকে, তাহলে জাহান্নামের চিরন্তন শাস্তির যোগ্য হবে।

প্রথম বিষয়বস্তু : আকাইদ (ইতিবাচক দিক) :
মৌলিকভাবে পবিত্র কুরআনুল কারীমে তিন প্রকার আকীদা-বিশ্বাসের কথা ঘোষিত হয়েছে। যেমন— ১. তাওহীদ (মহান আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস), ২. রিসালাত (আল্লাহ কর্তৃক নবী-রাসূল প্রেরণের প্রতি বিশ্বাস), ৩. আখিরাত (পরকালের প্রতি বিশ্বাস)।

'তাওহীদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ এই বিশ্ব জগতের প্রত্যেকটি অণু-পরমাণুকে একক সত্ত্বার সৃষ্টি হিসেবে বিশ্বাস করবে। একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে। তাঁর কাছেই প্রার্থনা ও যাচনা করবে। একমাত্র তাঁকেই ভয় করবে। তাঁর কাছেই চাইবে। আর অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, এই অগণিত সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণু তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং অন্য কেউ তাঁর তাওফীক দেওয়া ব্যতীত সেটাকে এদিক-সেদিক করতেও সক্ষম নয়।

আর 'রিসালাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পূর্বে অতিবাহিত সকল পয়গাম্বরকে মহান আল্লাহর সত্য রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা। তিনি যে কথাকে হক বলেন, সেটাকে সত্য বলে মেনে নিবে এবং তিনি যে বিষয়কে বাতিল বলেন, সেটাকে বাতিল হিসেবে মেনে নিবে।

আর 'আখিরাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ মৃত্যুর পর এমন এক নতুন জীবনের উপর বিশ্বাস রাখবে, যা হবে চিরন্তন এবং সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার পার্থিব জীবনের কর্মকান্ডের বিনিময় প্রদান করা হবে। যদি সে ভালো কাজ করে থাকে, তাহলে জান্নাতের চিরন্তন নেয়ামতরাজির অধিকারী হবে। আর যদি মন্দ কাজ করে স্বীয় পার্থিব জীবনকে বিনষ্ট করে থাকে, তাহলে জাহান্নামের চিরন্তন শাস্তির যোগ্য হবে।

এই তিনটি মৌলিক আকীদাকে সাব্যস্ত করার জন্য পবিত্র কুরআনুল কারীম বিভিন্ন ধরনের দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করেছে। আকলী বা যুক্তিগত দলীলগুলো চার প্রকার। কোনো বিষয়কে প্রমাণ করার জন্য মানুষ হয়তো এমন একটি উদ্ধৃতি দেয়, যা প্রতিপক্ষও মানতে বাধ্য। এগুলো দলীলে নাকলী বা উদ্ধৃতিসূচক দলীল হয়ে থাকে। অথবা মানুষ তর্কশাস্ত্রের ধাঁচে নিজের দাবীর স্বপক্ষে দলীল পেশ করে থাকে। তাহলে এগুলোকে বলা হয় যুক্তিভিত্তিক দলীল। অথবা সে নিজের প্রতিপক্ষকে এমন জিনিস প্রদর্শন করে, যা দ্বারা প্রত্যেক মানুষই দাবীদারের সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে। এগুলোকে বলা হয় মুশাহাদাতী বা চাক্ষুষ দলীল। কিংবা মানুষ নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে সঠিক বলে প্রমাণ করার জন্য অতীত বিশ্বের কিছু ঘটনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে যে, দেখ অতীতে আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আমল করা হয়েছিল বলে তারা সফলতা পেয়েছিল, আর অমুক সম্প্রদায় বিরুদ্ধাচরণ করেছে বলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এ ধরনের দলীলকে বলা হয় 'তাজরেবা' বা অভিজ্ঞতালব্ধ দলীল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px