📄 কুরআনের বিষয়বস্তু
অষ্টম পরিচ্ছেদ
কুরআনের বিষয়বস্তু :
অষ্টম পরিচ্ছেদ
কুরআনের বিষয়বস্তু :
📄 এ পরিচ্ছেদের সারাংশ
এ পরিচ্ছেদে তাদের ভ্রান্ত ধারণা অপনোদন করা হয়েছে, যারা কুরআনে বৈজ্ঞানিক খাপ খাওয়াতে চায়, অবশেষে না পেয়ে কুরআনের ত্রুটি ভাবতে শুরু করেন। অথচ প্রত্যেকটি বিষয়ের আলাদা বিষয়বস্তু রয়েছে, সে অনুযায়ীই তার কর্মনির্ধারিত হয়। পাশাপাশি কুরআনের উদ্দেশ্যও এতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এতে প্রাথমিকভাবে কুরআনের মূল চার প্রকার বিষয়, তথাঃ আকাঈদ, আহকাম, ঘটনাবলী ও উপমা-উদাহরণ এবং সেসমস্ত বিষয়ের আনুষঙ্গিক, শাখা-প্রশাখা, প্রমাণাদি ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর এসমস্ত বিষয়ের অধীনে এ অধ্যায়টিতে মুশরিক ও তাদের গোমরাহির প্রকারভেদ, ইহুদী, মুনাফিকদের বিভিন্ন গলত আকায়েদের আলোচনাসহ আহকাম ও তার প্রকারভেদ, তথাঃ ইবাদত, মুআমালাত ইত্যাদি, ঘটনাবলীর প্রকারভেদ, তাতে উল্লেখিত নবীগণের নামসমূহ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নাম, একই ঘটনা পুনরাবৃত্তির রহস্য, উপমা ও প্রবাদ-সাহিত্য; ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
এ পরিচ্ছেদে তাদের ভ্রান্ত ধারণা অপনোদন করা হয়েছে, যারা কুরআনে বৈজ্ঞানিক খাপ খাওয়াতে চায়, অবশেষে না পেয়ে কুরআনের ত্রুটি ভাবতে শুরু করেন। অথচ প্রত্যেকটি বিষয়ের আলাদা বিষয়বস্তু রয়েছে, সে অনুযায়ীই তার কর্মনির্ধারিত হয়। পাশাপাশি কুরআনের উদ্দেশ্যও এতে স্পষ্ট করা হয়েছে।
এতে প্রাথমিকভাবে কুরআনের মূল চার প্রকার বিষয়, যথাঃ আকাঈদ, আহকাম, ঘটনাবলী ও উপমা-উদাহরণ এবং সেসমস্ত বিষয়ের আনুষঙ্গিক, শাখা-প্রশাখা, প্রমাণাদি ও প্রাসঙ্গিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর এসমস্ত বিষয়ের অধীনে এ অধ্যায়টিতে মুশরিক ও তাদের গোমরাহির প্রকারভেদ, ইহুদী, মুনাফিকদের বিভিন্ন গলত আকায়েদের আলোচনাসহ আহকাম ও তার প্রকারভেদ, তথাঃ ইবাদত, মুআমালাত ইত্যাদি, ঘটনাবলীর প্রকারভেদ, তাতে উল্লেখিত নবীগণের নামসমূহ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নাম, একই ঘটনা পুনরাবৃত্তির রহস্য, উপমা ও প্রবাদ-সাহিত্য; ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
📄 পবিত্র কুরআনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে
আমরা যখন পবিত্র কুরআন মাজীদের বিষয়বস্তুর উপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে, এ সবগুলো বিষয় সমূদয় চারটি শিরোনামে বিভক্ত। পবিত্র কুরআনুল কারীমের প্রত্যেকটি আয়াত অবশ্যই সেগুলোর মধ্য হতে যে কোনো একটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। শিরোনাম চারটি হচ্ছে—
১. আকাইদ : عقائد
২. আহকাম : احکام
৩. ঘটনাবলী : واقعات
৪. উপমা-উদাহরণ : امثال
টিকাঃ
৪১৫. এই গ্রন্থ সংকলনের ১১ বছর পূর্বে অধম গ্রন্থকার এ বিষয়গুলো লিখেছিল এবং তৎকালীন মাসিক "আল-বাইয়্যিনাত" ইত্যাদিতে তা ছাপাও হয়েছিল। এখন তাতে কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন করে এই গ্রন্থের অংশ হিসেবে প্রস্তুত করছি। মুহাম্মাদ তাকী
আমরা যখন পবিত্র কুরআন মাজীদের বিষয়বস্তুর উপর গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করি, তখন আমরা দেখতে পাই যে, এ সবগুলো বিষয় সমূদয় চারটি শিরোনামে বিভক্ত। পবিত্র কুরআনুল কারীমের প্রত্যেকটি আয়াত অবশ্যই সেগুলোর মধ্য হতে যে কোনো একটি প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। শিরোনাম চারটি হচ্ছে— ১. আকাইদ, ২. আহকাম, ৩. ঘটনাবলী, ৪. উপমা-উদাহরণ।
টিকাঃ
৪১৫. এই গ্রন্থ সংকলনের ১১ বছর পূর্বে অধম গ্রন্থকার এ বিষয়গুলো লিখেছিল এবং তৎকালীন মাসিক "আল-বাইয়্যিনাত" ইত্যাদিতে তা ছাপাও হয়েছিল। এখন তাতে কিছুটা সংযোজন-বিয়োজন করে এই গ্রন্থের অংশ হিসেবে প্রস্তুত করছি। মুহাম্মদ তাকী।
📄 ধর্মবিশ্বাস
মৌলিকভাবে পবিত্র কুরআনুল কারীমে তিন প্রকার আকীদা-বিশ্বাসের কথা ঘোষিত হয়েছে। যেমন—
১. তাওহীদ (মহান আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস)
২. রিসালাত (আল্লাহ কর্তৃক নবী-রাসূল প্রেরণের প্রতি বিশ্বাস)।
৩. আখিরাত (পরকালের প্রতি বিশ্বাস)।
'তাওহীদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ এই বিশ্ব জগতের প্রত্যেকটি অণু-পরমাণুকে একক সত্ত্বার সৃষ্টি হিসেবে বিশ্বাস করবে। একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে। তাঁর কাছেই প্রার্থনা ও যাচনা করবে। একমাত্র তাঁকেই ভয় করবে। তাঁর কাছেই চাইবে। আর অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, এই অগণিত সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণু তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং অন্য কেউ তাঁর তাওফীক দেওয়া ব্যতীত সেটাকে এদিক-সেদিক করতেও সক্ষম নয়।
আর 'রিসালাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পূর্বে অতিবাহিত সকল পয়গাম্বরকে মহান আল্লাহর সত্য রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা। তিনি যে কথাকে হক বলেন, সেটাকে সত্য বলে মেনে নিবে এবং তিনি যে বিষয়কে বাতিল বলেন, সেটাকে বাতিল হিসেবে মেনে নিবে।
আর 'আখিরাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ মৃত্যুর পর এমন এক নতুন জীবনের উপর বিশ্বাস রাখবে, যা হবে চিরন্তন এবং সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার পার্থিব জীবনের কর্মকান্ডের বিনিময় প্রদান করা হবে। যদি সে ভালো কাজ করে থাকে, তাহলে জান্নাতের চিরন্তন নেয়ামতরাজির অধিকারী হবে। আর যদি মন্দ কাজ করে স্বীয় পার্থিব জীবনকে বিনষ্ট করে থাকে, তাহলে জাহান্নামের চিরন্তন শাস্তির যোগ্য হবে।
প্রথম বিষয়বস্তু : আকাইদ (ইতিবাচক দিক) :
মৌলিকভাবে পবিত্র কুরআনুল কারীমে তিন প্রকার আকীদা-বিশ্বাসের কথা ঘোষিত হয়েছে। যেমন— ১. তাওহীদ (মহান আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস), ২. রিসালাত (আল্লাহ কর্তৃক নবী-রাসূল প্রেরণের প্রতি বিশ্বাস), ৩. আখিরাত (পরকালের প্রতি বিশ্বাস)।
'তাওহীদ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ এই বিশ্ব জগতের প্রত্যেকটি অণু-পরমাণুকে একক সত্ত্বার সৃষ্টি হিসেবে বিশ্বাস করবে। একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে। তাঁর কাছেই প্রার্থনা ও যাচনা করবে। একমাত্র তাঁকেই ভয় করবে। তাঁর কাছেই চাইবে। আর অন্তরে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখবে যে, এই অগণিত সৃষ্টির প্রতিটি অণু-পরমাণু তাঁরই ক্ষমতাধীন এবং অন্য কেউ তাঁর তাওফীক দেওয়া ব্যতীত সেটাকে এদিক-সেদিক করতেও সক্ষম নয়।
আর 'রিসালাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও তাঁর পূর্বে অতিবাহিত সকল পয়গাম্বরকে মহান আল্লাহর সত্য রাসূল হিসেবে বিশ্বাস করা। তিনি যে কথাকে হক বলেন, সেটাকে সত্য বলে মেনে নিবে এবং তিনি যে বিষয়কে বাতিল বলেন, সেটাকে বাতিল হিসেবে মেনে নিবে।
আর 'আখিরাত' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মানুষ মৃত্যুর পর এমন এক নতুন জীবনের উপর বিশ্বাস রাখবে, যা হবে চিরন্তন এবং সেখানে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার পার্থিব জীবনের কর্মকান্ডের বিনিময় প্রদান করা হবে। যদি সে ভালো কাজ করে থাকে, তাহলে জান্নাতের চিরন্তন নেয়ামতরাজির অধিকারী হবে। আর যদি মন্দ কাজ করে স্বীয় পার্থিব জীবনকে বিনষ্ট করে থাকে, তাহলে জাহান্নামের চিরন্তন শাস্তির যোগ্য হবে।
এই তিনটি মৌলিক আকীদাকে সাব্যস্ত করার জন্য পবিত্র কুরআনুল কারীম বিভিন্ন ধরনের দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করেছে। আকলী বা যুক্তিগত দলীলগুলো চার প্রকার। কোনো বিষয়কে প্রমাণ করার জন্য মানুষ হয়তো এমন একটি উদ্ধৃতি দেয়, যা প্রতিপক্ষও মানতে বাধ্য। এগুলো দলীলে নাকলী বা উদ্ধৃতিসূচক দলীল হয়ে থাকে। অথবা মানুষ তর্কশাস্ত্রের ধাঁচে নিজের দাবীর স্বপক্ষে দলীল পেশ করে থাকে। তাহলে এগুলোকে বলা হয় যুক্তিভিত্তিক দলীল। অথবা সে নিজের প্রতিপক্ষকে এমন জিনিস প্রদর্শন করে, যা দ্বারা প্রত্যেক মানুষই দাবীদারের সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারে। এগুলোকে বলা হয় মুশাহাদাতী বা চাক্ষুষ দলীল। কিংবা মানুষ নিজের দৃষ্টিভঙ্গিকে সঠিক বলে প্রমাণ করার জন্য অতীত বিশ্বের কিছু ঘটনার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে যে, দেখ অতীতে আমার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী আমল করা হয়েছিল বলে তারা সফলতা পেয়েছিল, আর অমুক সম্প্রদায় বিরুদ্ধাচরণ করেছে বলে তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এ ধরনের দলীলকে বলা হয় 'তাজরেবা' বা অভিজ্ঞতালব্ধ দলীল।