📄 রাসূল সা: ও আহলে কিতাব
প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক রাসূলে আকরাম (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহীকে মূলত তাঁর "আধ্যাত্মিক অবস্থা” হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বহু চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নবী কারীম (সা.) পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী (নাঊযুবিল্লাহ) আরবের ইহুদী ও খ্রিস্টানদের কাছ থেকে শুনেছিলেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে বুহাইরা ও নাসতূরা নামক দু'জন পাদ্রীর নাম উল্লেখযোগ্য। সিরিয়া সফরের সময় যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হওয়ার ঘটনা সীরাত ও ইতিহাসের বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক এ ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, এই পাদ্রী ছিলেন আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে। ওই পাদ্রীর কাছে থেকেই তিনি (নাঊযুবিল্লাহ) তাওহীদের ধারণা লাভ করেন এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত হন।
যদি ইনসাফ পৃথিবী থেকে একেবারে ওঠে গিয়ে না থাকে, তাহলে একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষও এ কথা মেনে নিতে পারে না যে, সিরিয়া সফরকালে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের সাক্ষাতে ওই পাদ্রীরা নিজেদের বক্ষে সংরক্ষিত সম্পূর্ণ জ্ঞানভান্ডার নবী কারীম (সা.)-এর সামনে উপুড় করে ঢেলে দিলেন। প্রথমতঃ এ কথা একেবারেই দলীল-প্রমাণহীন যে বুহাইরা ও নাসতূরা আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে ছিলেন। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতেই আরয়ূসী গ্রুপকে নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং এথানাসিউস ও তার সহচররা এই গ্রুপটিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় কোনো অবহেলা করেনি।
দ্বিতীয়তঃ পাদ্রীদের সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটেছিল। এখানে আমরা বুহাইরা পাদ্রীর সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত সংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করছি। সুনানে তিরমিযী শরীফে হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার আবু তালেব কুরাইশদের সাথে মিলে সিরিয়া সফরে রওয়ানা হলেন। সেখানে একজন পাদ্রী থাকতেন। এবার যখন ব্যবসায়ী কাফেলা সেখানে অবতরণ করল, তখন পাদ্রী নিজের খানকা থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং এক পর্যায়ে রাসূলে খোদা (সা.)-এর হাত ধরে ফেললেন। তারপর বললেন— 'ইনি হলেন, সমগ্র জাহানের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল।' পাদ্রী কুরাইশদের জানালেন যে, আপনারা যখন উপত্যকা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তখন কোনো বৃক্ষলতা ও পাথর এমন ছিল না, যা তাঁকে সিজদা করেনি। পাদ্রী কুরাইশদের লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা তাঁকে রোমের দিকে নিয়ে যাবেন না, রোমানরা তাঁকে চিনে ফেললে হত্যা করে ফেলবে। এরপর পাদ্রী আবু তালেবকে একের পর এক কসম দিয়ে বললেন, তুমি অবশ্যই তাঁকে ফেরত পাঠাও। এমনকি আবু তালেব তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
এই সাক্ষাতটি ওই সময়ে হয়েছে যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বার কিংবা তের বৎসর। কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ কি এ কথা মেনে নিতে পারে যে, এত অল্প বয়সে মাত্র কয়েকটি ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত তাঁকে পূর্ববর্তী উম্মতদের এমন গভীর জ্ঞান দান করেছে যে, তিনি আহলে কিতাবদের চ্যালেঞ্জ করে তাদের কিতাবের বিকৃতির বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন! নবী কারীম (সা.) যদি আহলে কিতাবদের কাছ থেকে এই ঘটনাগুলো শুনেই থাকতেন, তাহলে মক্কার কাফের সম্প্রদায়—যারা নবী কারীম (সা.)-কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য প্রস্তুত থাকতো—তারা ওই সময় কেন নিশ্চুপ থাকল? তারা এই দাবী কেন করল না যে, আপনাকে তো অমুক অমুক আহলে কিতাব এই কথাগুলো শিখিয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এর প্রত্যাখ্যান এভাবে করা হয়েছে—
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِّسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهُذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِينٌ
'আমি জানি, তারা বলে, 'এক মানুষ তাকে শিখিয়ে দেয়।' অথচ তারা যে লোকটির কথা বলছে তার ভাষা তো অনারব, অপরপক্ষে কুরআনের ভাষা হল স্পষ্ট আরবী।'
টিকাঃ
৪০৩. J.M. Rodwell কর্তৃক অনূদিত ইংরেজি কুরআনের ভূমিকা, পৃ: ৭।
৪০৪. "নবী স.-এর নবুওয়াত লাভ” শীর্ষক অধ্যায়: ২/২২৫: জামে' তিরমিযী।
৪০৫. হাফেয যাহাবী এ বর্ণনাকে অনির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু ইবনে হাযার আসকালানী প্রমুখ বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলে সাব্যস্ত করেছেন। (শরহুল মাওয়াহিব: ১/১৯৬)।
৪০৬. আলামা হালবী এ বর্ণনায় বয়স ৯ বছর বলেছেন, হাফেয ইবনে আবদুল বার 'তের বছর' বলেছেন। যুরকানী বলেন অধিকাংশের মত ১২ বছর।
৪০৭. সূরা নাহল: ১০৩
প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক রাসূলে আকরাম (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহীকে মূলত তাঁর "আধ্যাত্মিক অবস্থা” হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বহু চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নবী কারীম (সা.) পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী (নাঊযুবিল্লাহ) আরবের ইহুদী ও খ্রিস্টানদের কাছ থেকে শুনেছিলেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে বুহাইরা ও নাসতূরা নামক দু'জন পাদ্রীর নাম উল্লেখযোগ্য। সিরিয়া সফরের সময় যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হওয়ার ঘটনা সীরাত ও ইতিহাসের বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক এ ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, এই পাদ্রী ছিলেন আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে। ওই পাদ্রীর কাছে থেকেই তিনি (নাঊযুবিল্লাহ) তাওহীদের ধারণা লাভ করেন এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত হন।
যদি ইনসাফ পৃথিবী থেকে একেবারে ওঠে গিয়ে না থাকে, তাহলে একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষও এ কথা মেনে নিতে পারে না যে, সিরিয়া সফরকালে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের সাক্ষাতে ওই পাদ্রীরা নিজেদের বক্ষে সংরক্ষিত সম্পূর্ণ জ্ঞানভান্ডার নবী কারীম (সা.)-এর সামনে উপুড় করে ঢেলে দিলেন। প্রথমতঃ এ কথা একেবারেই দলীল-প্রমাণহীন যে বুহাইরা ও নাসতূরা আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে ছিলেন। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতেই আরয়ূসী গ্রুপকে নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং এথানাসিউস ও তার সহচররা এই গ্রুপটিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় কোনো অবহেলা করেনি।
দ্বিতীয়তঃ পাদ্রীদের সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটেছিল। এখানে আমরা বুহাইরা পাদ্রীর সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত সংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করছি। সুনানে তিরমিযী শরীফে হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার আবু তালেব কুরাইশদের সাথে মিলে সিরিয়া সফরে রওয়ানা হলেন। সেখানে একজন পাদ্রী থাকতেন। এবার যখন ব্যবসায়ী কাফেলা সেখানে অবতরণ করল, তখন পাদ্রী নিজের খানকা থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং এক পর্যায়ে রাসূলে খোদা (সা.)-এর হাত ধরে ফেললেন। তারপর বললেন— 'ইনি হলেন, সমগ্র জাহানের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল।' পাদ্রী কুরাইশদের জানালেন যে, আপনারা যখন উপত্যকা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তখন কোনো বৃক্ষলতা ও পাথর এমন ছিল না, যা তাঁকে সিজদা করেনি। পাদ্রী কুরাইশদের লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা তাঁকে রোমের দিকে নিয়ে যাবেন না, রোমানরা তাঁকে চিনে ফেললে হত্যা করে ফেলবে। এরপর পাদ্রী আবু তালেবকে একের পর এক কসম দিয়ে বললেন, তুমি অবশ্যই তাঁকে ফেরত পাঠাও। এমনকি আবু তালেব তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
এই সাক্ষাতটি ওই সময়ে হয়েছে যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বার কিংবা তের বৎসর। কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ কি এ কথা মেনে নিতে পারে যে, এত অল্প বয়সে মাত্র কয়েকটি ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত তাঁকে পূর্ববর্তী উম্মতদের এমন গভীর জ্ঞান দান করেছে যে, তিনি আহলে কিতাবদের চ্যালেঞ্জ করে তাদের কিতাবের বিকৃতির বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন! নবী কারীম (সা.) যদি আহলে কিতাবদের কাছ থেকে এই ঘটনাগুলো শুনেই থাকতেন, তাহলে মক্কার কাফের সম্প্রদায়—যারা নবী কারীম (সা.)-কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য প্রস্তুত থাকতো—তারা ওই সময় কেন নিশ্চুপ থাকল? তারা এই দাবী কেন করল না যে, আপনাকে তো অমুক অমুক আহলে কিতাব এই কথাগুলো শিখিয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এর প্রত্যাখ্যান এভাবে করা হয়েছে—
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِّسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهُذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِينٌ
'আমি জানি, তারা বলে, 'এক মানুষ তাকে শিখিয়ে দেয়।' অথচ তারা যে লোকটির কথা বলছে তার ভাষা তো অনারব, অপরপক্ষে কুরআনের ভাষা হল স্পষ্ট আরবী।'
টিকাঃ
৪০৩. J.M. Rodwell কর্তৃক অনূদিত ইংরেজি কুরআনের ভূমিকা, পৃ: ৭।
৪০৪. "নবী স.-এর নবুওয়াত লাভ” শীর্ষক অধ্যায়: ২/২২৫: জামে' তিরমিযী।
৪০৫. হাফেয যাহাবী এ বর্ণনাকে অনির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু ইবনে হাযার আসকালানী প্রমুখ বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলে সাব্যস্ত করেছেন। (শরহুল মাওয়াহিব: ১/১৯৬)।
৪০৬. আলামা হালবী এ বর্ণনায় বয়স ৯ বছর বলেছেন, হাফেয ইবনে আবদুল বার 'তের বছর' বলেছেন। যুরকানী বলেন অধিকাংশের মত ১২ বছর।
৪০৭. সূরা নাহল: ১০৩
📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের উপর কয়েকটি সংশয় উত্থাপন
কোনো কোনো পাশ্চাত্য বিশারদ পণ্ডিত পবিত্র কুরআন মাজীদে বর্ণিত কিছু কিছু ঘটনার উপর অভিযোগ উত্থাপন করে এর দ্বারা তারা এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, (নাউযুবিল্লাহ) নবী কারীম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ সব ঘটনাবলী আহলে কিতাবের কোনো আলেমের কাছ থেকে মৌখিকভাবে শুনেছিলেন। অতঃপর তা বর্ণনা করার সময় কিছু ভুল হয়ে গেছে।
কোনো কোনো পাশ্চাত্য বিশারদ পণ্ডিত পবিত্র কুরআন মাজীদে বর্ণিত কিছু কিছু ঘটনার উপর অভিযোগ উত্থাপন করে এর দ্বারা তারা এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, (নাউযুবিল্লাহ) নবী কারীম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ সব ঘটনাবলী আহলে কিতাবের কোনো আলেমের কাছ থেকে মৌখিকভাবে শুনেছিলেন। অতঃপর তা বর্ণনা করার সময় কিছু ভুল হয়ে গেছে।
📄 হযরত মারিয়াম (আ:) এর পিতার নাম
ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকায় একটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে যে, হযরত মূসা (আ.)-এর বোনের নামও ছিল মারইয়াম এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর মায়ের নামও ছিল মারইয়াম। প্রথমোক্ত মারইয়াম ছিলেন ইমরানের কন্যা। কিন্তু পবিত্র কুরআন মাজীদে (নাউযুবিল্লাহ) ভুলবশতঃ শেষোক্ত মারইয়ামকেও “ইমরানের কন্যা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিতাপের বিষয় হলো, ব্রিটেনিকা'র ন্যায় জগদ্বিখ্যাত বিশ্বকোষেও এ ধরনের স্থূল অভিযোগটি লিপিবদ্ধ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করা হয়নি। যদি ব্রিটেনিকা'র প্রবন্ধ সম্পাদক নির্ভরযোগ্য কোনো দলীল দ্বারা এ কথা প্রমাণ করে দিতে পারতো যে, হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতার নাম “ইমরান” ছিল না, তবে তা আলোচনাযোগ্য হতো। কিন্তু বাইবেলের মধ্যেও তাঁর পিতার কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর স্বয়ং ব্রিটেনিকার "মারইয়াম" প্রবন্ধের মধ্যেও এ কথা স্বীকার করা হয়েছে— "হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতা-মাতার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে কোনো রেকর্ড বিদ্যমান নেই।"
প্রকৃত কথা হলো, এটা তো পবিত্র কুরআনুল কারীমের সত্যতার সুস্পষ্ট দলীল যে, সে ওইসব ঐতিহাসিক মূলতত্ত্বের পর্দা উন্মোচন করেছে, যা শত শত বছর পর্যন্ত অজানা ছিল। হযরত মারইয়াম (আ.)-এর জন্ম, তাঁর লালন-পালন ও কৈশোর জীবনের সকল অবস্থার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় সকল উৎস একেবারেই নিশ্চুপ ছিল। এমনকি ইঞ্জিলের নির্ভরযোগ্য সুসমাচার (মার্ক, লুক, মথি ও ইউহান্নাহ)-এর মাঝেও তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই! একমাত্র পবিত্র কুরআন মাজীদই প্রথমবার এ সমস্ত ঘটনাবলীকে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে।
টিকাঃ
৪০৮. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৩/৪৮৩, প্রবন্ধ: কুরআন।
৪০৯. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৪/৯৯৯, প্রবন্ধ: মারইয়াম।
৪১০. দেখুন: ডিকশনারী অব দ্যা বাইবেল: ৩/২৮৮
ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকায় একটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে যে, হযরত মূসা (আ.)-এর বোনের নামও ছিল মারইয়াম এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর মায়ের নামও ছিল মারইয়াম। প্রথমোক্ত মারইয়াম ছিলেন ইমরানের কন্যা। কিন্তু পবিত্র কুরআন মাজীদে (নাউযুবিল্লাহ) ভুলবশতঃ শেষোক্ত মারইয়ামকেও “ইমরানের কন্যা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিতাপের বিষয় হলো, ব্রিটেনিকা'র ন্যায় জগদ্বিখ্যাত বিশ্বকোষেও এ ধরনের স্থূল অভিযোগটি লিপিবদ্ধ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করা হয়নি। যদি ব্রিটেনিকা'র প্রবন্ধ সম্পাদক নির্ভরযোগ্য কোনো দলীল দ্বারা এ কথা প্রমাণ করে দিতে পারতো যে, হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতার নাম “ইমরান” ছিল না, তবে তা আলোচনাযোগ্য হতো। কিন্তু বাইবেলের মধ্যেও তাঁর পিতার কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর স্বয়ং ব্রিটেনিকার "মারইয়াম" প্রবন্ধের মধ্যেও এ কথা স্বীকার করা হয়েছে— "হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতা-মাতার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে কোনো রেকর্ড বিদ্যমান নেই।"
প্রকৃত কথা হলো, এটা তো পবিত্র কুরআনুল কারীমের সত্যতার সুস্পষ্ট দলীল যে, সে ওইসব ঐতিহাসিক মূলতত্ত্বের পর্দা উন্মোচন করেছে, যা শত শত বছর পর্যন্ত অজানা ছিল। হযরত মারইয়াম (আ.)-এর জন্ম, তাঁর লালন-পালন ও কৈশোর জীবনের সকল অবস্থার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় সকল উৎস একেবারেই নিশ্চুপ ছিল। এমনকি ইঞ্জিলের নির্ভরযোগ্য সুসমাচার (মার্ক, লুক, মথি ও ইউহান্নাহ)-এর মাঝেও তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই! একমাত্র পবিত্র কুরআন মাজীদই প্রথমবার এ সমস্ত ঘটনাবলীকে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে।
টিকাঃ
৪০৮. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৩/৪৮৩, প্রবন্ধ: কুরআন।
৪০৯. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৪/৯৯৯, প্রবন্ধ: মারইয়াম।
৪১০. দেখুন: ডিকশনারী অব দ্যা বাইবেল: ৩/২৮৮
📄 ফেরআউনের উজির হামান
ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকার প্রবন্ধ "কুরআন"-এর মধ্যে এ অভিযোগও করা হয়েছে যে, পবিত্র কুরআনুল কারীম ফেরাউনের এক উজীর বা মন্ত্রীর নাম 'হামান' বলে উল্লেখ করেছে। অথচ বাইবেলের পুরাতন আহাদনামায় এ নামে ফেরাউনের কোনো মন্ত্রীর নাম পাওয়া যায় না। প্রবন্ধ সম্পাদক এই মত প্রকাশ করেছে যে, বস্তুত হামান শাহ আসভীরসের মন্ত্রী ছিল এবং নবী কারীম (সা.) যেহেতু এ ঘটনাগুলো মৌখিকভাবে শ্রবণ করেছিলেন, তাই তিনি (নাউযুবিল্লাহ) ভুলবশতঃ এই নামটিকে ফেরাউনের মন্ত্রীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
কিন্তু আসভীরসের যে মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এ কাহিনী শুধু বাইবেলের একটি সন্দেহপূর্ণ গ্রন্থ 'আসতার'-এর মাঝে উল্লেখ রয়েছে। খ্রিস্টানদের প্রোটেস্টেন্ট গ্রুপ এই গ্রন্থকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মানে না। এই সন্দেহপূর্ণ গ্রন্থে যে হামান-এর আলোচনা করা হয়েছে সে মন্ত্রীসভার সভাপতি ছিল। আর এর যে কাহিনী এই কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, এর সঙ্গে পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত হামানের ঘটনার সাথে দূরবর্তী কোনো সম্পর্কও নেই।
পবিত্র কুরআন মাজীদে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ফেরাউন হামানকে তার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং হামান শেষ সময় পর্যন্ত ফেরাউনের মন্ত্রী ছিল এবং অবশেষে ফেরাউনের সাথেই দরিয়ায় নিমজ্জিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আসতার গ্রন্থে হামান সম্পর্কে এ জাতীয় কোনো ঘটনাই বর্ণনা করা হয়নি। আসতারের কাহিনীটি বুখতে নাস্সারের পরবর্তীতে সংঘটিত হয়েছে। যে ব্যক্তি হালকা দৃষ্টিতেও আসতার গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেছে, সেও এ কথা আঁচ করতে পারবে যে, আসতারের এই ঘটনার সাথে পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত হামানের ঘটনার সাথে কোনো মিল নেই।
টিকাঃ
৪১১. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৩/৪৮৩, প্রবন্ধ: কুরআন।
৪১২. আসতার গ্রন্থে কোনো কপিতে নাম হামান এবং কোনো কপিতে আমান বা আইমান উল্লেখ রয়েছে।
৪১৩. দেখুন: আসতার: ১/৩
৪১৪. প্রাগুক্ত: ৩/১-৮, ৭/৬-১০, ৮/২ (ম্যাকমিলান, লন্ডন, ১৯৬৩)
ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকার প্রবন্ধ "কুরআন"-এর মধ্যে এ অভিযোগও করা হয়েছে যে, পবিত্র কুরআনুল কারীম ফেরাউনের এক উজীর বা মন্ত্রীর নাম 'হামান' বলে উল্লেখ করেছে। অথচ বাইবেলের পুরাতন আহাদনামায় এ নামে ফেরাউনের কোনো মন্ত্রীর নাম পাওয়া যায় না। প্রবন্ধ সম্পাদক এই মত প্রকাশ করেছে যে, বস্তুত হামান শাহ আসভীরসের মন্ত্রী ছিল এবং নবী কারীম (সা.) যেহেতু এ ঘটনাগুলো মৌখিকভাবে শ্রবণ করেছিলেন, তাই তিনি (নাউযুবিল্লাহ) ভুলবশতঃ এই নামটিকে ফেরাউনের মন্ত্রীর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
কিন্তু আসভীরসের যে মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, এ কাহিনী শুধু বাইবেলের একটি সন্দেহপূর্ণ গ্রন্থ 'আসতার'-এর মাঝে উল্লেখ রয়েছে। খ্রিস্টানদের প্রোটেস্টেন্ট গ্রুপ এই গ্রন্থকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে মানে না। এই সন্দেহপূর্ণ গ্রন্থে যে হামান-এর আলোচনা করা হয়েছে সে মন্ত্রীসভার সভাপতি ছিল। আর এর যে কাহিনী এই কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, এর সঙ্গে পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত হামানের ঘটনার সাথে দূরবর্তী কোনো সম্পর্কও নেই।
পবিত্র কুরআন মাজীদে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ফেরাউন হামানকে তার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং হামান শেষ সময় পর্যন্ত ফেরাউনের মন্ত্রী ছিল এবং অবশেষে ফেরাউনের সাথেই দরিয়ায় নিমজ্জিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আসতার গ্রন্থে হামান সম্পর্কে এ জাতীয় কোনো ঘটনাই বর্ণনা করা হয়নি। আসতারের কাহিনীটি বুখতে নাস্সারের পরবর্তীতে সংঘটিত হয়েছে। যে ব্যক্তি হালকা দৃষ্টিতেও আসতার গ্রন্থটি অধ্যয়ন করেছে, সেও এ কথা আঁচ করতে পারবে যে, আসতারের এই ঘটনার সাথে পবিত্র কুরআনে উল্লিখিত হামানের ঘটনার সাথে কোনো মিল নেই।
টিকাঃ
৪১১. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৩/৪৮৩, প্রবন্ধ: কুরআন।
৪১২. আসতার গ্রন্থে কোনো কপিতে নাম হামান এবং কোনো কপিতে আমান বা আইমান উল্লেখ রয়েছে।
৪১৩. দেখুন: আসতার: ১/৩
৪১৪. প্রাগুক্ত: ৩/১-৮, ৭/৬-১০, ৮/২ (ম্যাকমিলান, লন্ডন, ১৯৬৩)