📘 উলুমুল কুরআন 📄 কুরআনের সত্যতা ও পশ্চিমা লেখকবৃন্দের স্বীকারোক্তি

📄 কুরআনের সত্যতা ও পশ্চিমা লেখকবৃন্দের স্বীকারোক্তি


একটা যুগ ছিল যখন পশ্চিমা লেখকরা খ্রিস্টানদের কঠোর পক্ষপাতিত্ব করতে গিয়ে প্রকাশ্য-খোলামেলাভাবে বলতো যে, পবিত্র কুরআনুল কারীম [নাঊযুবিল্লাহ] রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মস্তিষ্ক-প্রসূত রচনা। কিন্তু বর্তমানে স্বয়ং পশ্চাত্যের অমুসলিম-লেখকদের বক্তব্য হলো যে, পূর্বের পাশ্চাত্য লেখকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল নিছক এক শত্রুরা-প্রসূত দাবী, যার স্বপক্ষে কোনো দলীল ছিল না এবং নবী কারীম (সা.)-এর পুরো জীবন ব্যবস্থা তাদের এই দাবীকে মিথ্যা প্রমাণিত করে। বর্তমান যুগের প্রসিদ্ধ পাশ্চাত্য পণ্ডিত প্রফেসর মন্টেগুমরী ওয়াট লিখেন—
"মধ্যযুগীয় ইউরোপে এই ধারণাকে ব্যাপক করা হয়েছিল যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন (নাউযুবিল্লাহ) মিথ্যা নবী ছিলেন। যিনি ভুলবশতঃ এই দাবী করতেন যে, তাঁর নিকট আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার পক্ষ হতে ওহী নাযিল হয়। কিন্তু মধ্যযুগীয় এই ধারণা প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধজনিত প্রোপাগান্ডা ছিল। যা আজ ধীরে ধীরে ইউরোপ ও খ্রিস্টজগতের মাথা থেকে বেরিয়ে আসছে।”

প্রফেসর ওয়াট সত্যিই বলেছেন যে, নবী কারীম (সা.)-এর প্রতি এই মিথ্যারোপ কোনো তথ্যভিত্তিক দলীলের উপর ভিত্তি করে ছিল না। বরং তা ছিল প্রোপাগান্ডারই একটি অংশ। তারা বলেছে যে, বর্তমান যুগের পাশ্চাত্য লেখকদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল থাকার কারণে তারা সেসব অপবাদকে মেনে নিচ্ছে না। পরিশেষে তিনি লিখেন— "অতএব, নবী কারীম (সা.)-এর ব্যাপারে মধ্যযুগীয় এই ধ্যান-ধারণাকে তো এখন আলোচনার অযোগ্য মনে করা উচিত এবং নবী কারীম (সা.)-কে এমন এক ব্যক্তি মনে করা উচিত, যিনি সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও সৎ উদ্দেশ্যে মানুষকে ওই সব পয়গাম (ওহী) শোনতেন। যার ব্যাপারে তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এগুলো মহান আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর নিকট ওহী হিসেবে এসেছে।”

এই স্বীকারোক্তির পর ইনসাফের দাবী তো এটাই ছিল যে, পরিষ্কার ভাষায় দু'জাহানের সর্দার হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রেসালতের স্বীকৃতি প্রদান করবে। কিন্তু শতাব্দীকাল থেকে মস্তিষ্কে বেঁকে বসা ভ্রান্ত ধারণাগুলো তো এত সহজেই মিটবার নয়। তাইতো মন্টেগুমরী ওয়াট এবং তার মতো অন্যান্য লেখকরাও এক দিকে তো এই স্বীকারোক্তি প্রদান করে যে, রাসূলে খোদা (সা.) নিজের নবুওয়াতের দাবীতে নিষ্ঠাবান ছিলেন। অপর দিকে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে নিজেদের মাযহাব ও মতাদর্শকে ত্যাগ করে ইসলামের ছায়া তলে আসাও তাদের জন্য মুশকিল ব্যাপার। তাই তারা মধ্যবর্তী একটি পথ বেছে নেওয়ার জন্য নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াতের দাবীর এক আশ্চর্য ও অভিনব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে।

তাদের বক্তব্য হলো, নবী কারীম (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহী মূলত বাহ্যিক ও বাস্তবিক কোনো বিষয় ছিল না। বরং (নাউযুবিল্লাহ) এটা ছিল ভেতরগত ও আধ্যাত্মিক একটি অবস্থা। যা তাঁর দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা ও সাধনার ফলে সৃষ্টি হতো। আর তিনি অত্যন্ত সততার সাথে এটাকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বা কোনো ফেরেশতার আওয়াজ মনে করতেন। তিনি তাঁর শৈশবকাল থেকেই স্বীয় সম্প্রদায়ের মাযহাব ও মতাদর্শ থেকে বিমুখ ছিলেন। তাই তিনি নির্জনে একাকী গভীর চিন্তা-ভাবনা ও ধ্যানমগ্নে লিপ্ত থাকতেন। এই উদ্দেশ্যেই তিনি হেরা গুহার নির্জনে কাটাতে শুরু করলেন। ওই দীর্ঘ চিন্তা-ফিকির ও সাধনার ফলে তাওহীদী আকীদার উপর তাঁর বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে যায়। হেরা পর্বতের ওই নির্জন-নিস্তব্ধতায় এই ধারণাগুলো তাঁর মন-মস্তিষ্কে এমনভাবে ছেয়ে যায় যে, অন্তরের এই উপলব্ধিকে তাঁর কাছে বাহ্যিক ও বাস্তব আওয়াজ মনে হতে লাগল। আর সেটাকেই তিনি আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বা কোনো ফেরেশতার আওয়াজ মনে করে পূর্ণ বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সাথে নবুওয়াতের দাবী করে বসলেন!

এই হলো দু'জাহানের সর্দার নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াতের দাবীর সেই ব্যাখ্যা, যা বর্তমানে পশ্চিমা বিজ্ঞজনদের মাঝে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। পশ্চাত্যের পণ্ডিতদের মধ্যে বহু গবেষক এর প্রবক্তা। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, এই ব্যাখ্যার পেছনে এ ছাড়া আর কি মানসিকতা কাজ করছে যে, ওই পণ্ডিতরা আগ থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে যে, নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াতের স্বীকারোক্তি তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রকৃত কথা হচ্ছে, প্রফেসর ওয়াট ও বর্তমান যুগের অন্যান্য পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ রাসূলে খোদা (সা.)-এর প্রতি নাযিলকৃত ওহীর যে ব্যাখ্যা করেছেন এর যুক্তিনির্ভর কোনো জবাব দিতেও লজ্জাবোধ হয়। তথাপি নিম্নোক্ত বাস্তব তথ্যগুলোর উপর চিন্তা করুন।

১. দু'জাহানের সর্দার নবী কারীম (সা.)-এর ব্যাপারে তাদেরই স্বীকারোক্তি হলো যে, তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মেধা ও বাস্তব কর্মপন্থার যোগ্যতায় টইটম্বুর ব্যক্তিত্ব। তাহলে তাঁর ব্যাপারে এই উদ্ভট কথা বিবেক মেনে নিতে পারে না যে, তিনি দীর্ঘ তেইশ বছর যাবৎ ধারাবাহিকভাবে নিজের ভেতরের আধ্যাত্মিক একটি অবস্থাকে কোনো ফেরেশতার আওয়াজ মনে করতেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি জানতেই পারেননি যে, এই অস্বাভাবিক অবস্থার হাকীকত কি? তাঁর প্রতি দীর্ঘ তেইশ বছরে শত-সহস্র বার ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। তাহলে কি তিনি এই পুরোটা সময় এ ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলেন?

২. অতঃপর যদি তাঁর উপর তথাকথিত এই “আধ্যাত্মিক অবস্থা” স্বীয় সম্প্রদায়কে দেখে প্রকাশ পেত, তাহলে সূত্রানুযায়ী দাবী এটাই ছিল যে, এই আধ্যাত্মিক অবস্থার সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রষ্টতার প্রত্যাখ্যান ও তাওহীদী আকীদার বর্ণনা করা। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হওয়া প্রথম ওহীতে কুফর-শিরিকের প্রত্যাখ্যানমূলক কোনো কথা নেই। নেই তাওহীদী আকীদার আলোচনাও। বরং এর পরিবর্তে 'ইকরা' (পাঠ করুন) দিয়ে ওহীর সূচনা হয়—
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ * الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ * عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمُ
'সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট-বাঁধা রক্তপিণ্ড হতে। পাঠ কর, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলম দিয়ে, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।'

৩. অতঃপর এটা একটা আশ্চর্য ব্যাপার যে, এই "আধ্যাত্মিক হালাত” বা ভেতরগত অবস্থা একবার সৃষ্টি হবার পর সঙ্গে সঙ্গে নিষ্প্রভ হয়ে গেল এবং তিন বছর যাবৎ তিনি আর কোনো আওয়াজ শুনতে পেলেন না! এ দীর্ঘ সময় ওহী বন্ধ থাকার কারণে তিনি পেরেশানও থাকতেন। কিন্তু এই তিন বছর পুরোপুরি নিশ্চুপ থাকার পর যখন আবার ওহী অবতীর্ণ হতে শুরু করল, তখনও তাতে সুস্পষ্টভাবে শিরিকের বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করা হলো না।

৪. যদি এটা কোনো আধ্যাত্মিক হালাত বা ভেতরগত অবস্থা হতো তাহলে তা তো সম্পূর্ণরূপে নবী কারীম (সা.)-এর ধ্যান-ধারণার সাথে মিলে যাওয়া উচিত ছিল। অথচ কুরআনুল কারীমের অনেক স্থানে তাঁর ব্যক্তিগত ধ্যান-ধারণার বিপরীত দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বরং কোনো কোনো স্থানে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতঃ এর উপর তিরস্কারও করা হয়েছে। যেমন—
(ক) إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ
(খ) সূরা আনফালের ৬৭ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ
(গ) সূরা তাওবা'র ৪৩ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنْتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ

৫. যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, কোনো চিন্তা-কল্পনার চরম প্রবলতা মানুষের কাছে "বাস্তব ধ্বনি”র ন্যায় অনুভূত হতে থাকে, তাহলে এর কি কারণ যে, এই "বাস্তব ধ্বনি” যে ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে, তা সর্বদা সত্যে পরিণত হয়? যে নির্দেশনা প্রদান করে তা অবশেষে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। যে শব্দমালা বলে দেয় তা এমন পাথরে খোদাই করা চিহ্নে পরিণত হয়ে যায় যে, সারা দুনিয়ার সাহিত্যিক ও বাগ্মিরা এর মুকাবেলা করতে অক্ষম হয়ে যায়!

৬. যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, ধ্যান-ধারণার প্রবলতার কারণে অনুভূত ধ্বনির কোনো হাকীকত আছে, তাহলে তা ওই ব্যক্তিরই জ্ঞানের প্রতিচ্ছায়া হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি পবিত্র কুরআন মাজীদ পাঠ করে দেখুন যে, তাতে এমন বহু কথা রয়েছে, যা ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে রাসূলে খোদা (সা.)-এর জানা ছিল না। ওহীর বাণীই প্রথম তাঁকে এর জ্ঞান দান করেছে। যেমন— مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ 'তুমি জানতে না কিতাব কী, ঈমান কী...।'

৭. বিশেষ করে পূর্ববর্তী উম্মতদের অধিকাংশ ঘটনাবলী, ঐতিহাসিকভাবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, ওহী অবতীর্ণ হবার পূর্বে রাসূলে আকরাম (সা.) সেগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পবিত্র কুরআনুল কারীমই সর্বপ্রথম তাঁকে এই জ্ঞান দান করেছে। যেমন, সূরা হুদে হযরত নূহ (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করার পর ইরশাদ হয়েছে— تِلْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ مَا كُنتَ تَعْلَمُهَا أَنتَ وَلَا قَوْمُكَ مِن قَبْلِ هَذَا 'এ সব হল অদৃশ্যের খবর যা তোমাকে ওয়াহী দ্বারা জানিয়ে দিচ্ছি, যা এর পূর্বে না তুমি জানতে, না তোমার জাতির লোকেরা জানত।'

৮. মন্টেগুমরী ওয়াট ও তার সহচররা এ কথা স্বীকার করেন যে, রাসূলে খোদা (সা.) কখনো মিথ্যা কথা বলেননি। সুতরাং তাদের মত অনুযায়ীও পবিত্র কুরআনুল কারীমের কোনো আয়াতের ব্যাপারে ভুল বর্ণনা করা অসম্ভব। এখন প্রশ্ন হলো, যদি এই "ওহী" বাস্তবিক কোনো জ্ঞান লাভের মাধ্যম না হতো, তাহলে তিনি কি করে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের সেসব ঘটনা জানতে পারলেন, যা পূর্বে তাঁর জানা ছিল না?

টিকাঃ
৩৯৫. Watt: Bell's Introduction to the Quran Ch. 2 P. 17.
৩৯৬. Watt: Bell's Introduction to the Quran Ch. 2 P. 18
৩৯৭. সূরা আলাক : ১-৫
৩৯৮. সূরা হিজর, আয়াত-৪২
৩৯৯. সূরা শুরা: ৫২
৪০০. সূরা হুদ : ৪৯
৪০১. সূরা ইউসুফ: ১০২
৪০২. Watt: Bell's Introduction to the Quran Ch. 2 P. 25

একটা যুগ ছিল যখন পশ্চিমা লেখকরা খ্রিস্টানদের কঠোর পক্ষপাতিত্ব করতে গিয়ে প্রকাশ্য-খোলামেলাভাবে বলতো যে, পবিত্র কুরআনুল কারীম [নাঊযুবিল্লাহ] রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মস্তিষ্ক-প্রসূত রচনা। কিন্তু বর্তমানে স্বয়ং পশ্চাত্যের অমুসলিম-লেখকদের বক্তব্য হলো যে, পূর্বের পাশ্চাত্য লেখকদের এই দৃষ্টিভঙ্গি ছিল নিছক এক শত্রুরা-প্রসূত দাবী, যার স্বপক্ষে কোনো দলীল ছিল না এবং নবী কারীম (সা.)-এর পুরো জীবন ব্যবস্থা তাদের এই দাবীকে মিথ্যা প্রমাণিত করে। বর্তমান যুগের প্রসিদ্ধ পাশ্চাত্য পণ্ডিত প্রফেসর মন্টেগুমরী ওয়াট লিখেন—
"মধ্যযুগীয় ইউরোপে এই ধারণাকে ব্যাপক করা হয়েছিল যে, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন (নাউযুবিল্লাহ) মিথ্যা নবী ছিলেন। যিনি ভুলবশতঃ এই দাবী করতেন যে, তাঁর নিকট আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার পক্ষ হতে ওহী নাযিল হয়। কিন্তু মধ্যযুগীয় এই ধারণা প্রকৃতপক্ষে যুদ্ধজনিত প্রোপাগান্ডা ছিল। যা আজ ধীরে ধীরে ইউরোপ ও খ্রিস্টজগতের মাথা থেকে বেরিয়ে আসছে।”

প্রফেসর ওয়াট সত্যিই বলেছেন যে, নবী কারীম (সা.)-এর প্রতি এই মিথ্যারোপ কোনো তথ্যভিত্তিক দলীলের উপর ভিত্তি করে ছিল না। বরং তা ছিল প্রোপাগান্ডারই একটি অংশ। তারা বলেছে যে, বর্তমান যুগের পাশ্চাত্য লেখকদের নিকট সুস্পষ্ট দলীল থাকার কারণে তারা সেসব অপবাদকে মেনে নিচ্ছে না। পরিশেষে তিনি লিখেন— "অতএব, নবী কারীম (সা.)-এর ব্যাপারে মধ্যযুগীয় এই ধ্যান-ধারণাকে তো এখন আলোচনার অযোগ্য মনে করা উচিত এবং নবী কারীম (সা.)-কে এমন এক ব্যক্তি মনে করা উচিত, যিনি সম্পূর্ণ নিষ্ঠা ও সৎ উদ্দেশ্যে মানুষকে ওই সব পয়গাম (ওহী) শোনতেন। যার ব্যাপারে তাঁর এই দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, এগুলো মহান আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর নিকট ওহী হিসেবে এসেছে।”

এই স্বীকারোক্তির পর ইনসাফের দাবী তো এটাই ছিল যে, পরিষ্কার ভাষায় দু'জাহানের সর্দার হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর নবুওয়াত ও রেসালতের স্বীকৃতি প্রদান করবে। কিন্তু শতাব্দীকাল থেকে মস্তিষ্কে বেঁকে বসা ভ্রান্ত ধারণাগুলো তো এত সহজেই মিটবার নয়। তাইতো মন্টেগুমরী ওয়াট এবং তার মতো অন্যান্য লেখকরাও এক দিকে তো এই স্বীকারোক্তি প্রদান করে যে, রাসূলে খোদা (সা.) নিজের নবুওয়াতের দাবীতে নিষ্ঠাবান ছিলেন। অপর দিকে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে নিজেদের মাযহাব ও মতাদর্শকে ত্যাগ করে ইসলামের ছায়া তলে আসাও তাদের জন্য মুশকিল ব্যাপার। তাই তারা মধ্যবর্তী একটি পথ বেছে নেওয়ার জন্য নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াতের দাবীর এক আশ্চর্য ও অভিনব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছে।

তাদের বক্তব্য হলো, নবী কারীম (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহী মূলত বাহ্যিক ও বাস্তবিক কোনো বিষয় ছিল না। বরং (নাউযুবিল্লাহ) এটা ছিল ভেতরগত ও আধ্যাত্মিক একটি অবস্থা। যা তাঁর দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা ও সাধনার ফলে সৃষ্টি হতো। আর তিনি অত্যন্ত সততার সাথে এটাকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বা কোনো ফেরেশতার আওয়াজ মনে করতেন। তিনি তাঁর শৈশবকাল থেকেই স্বীয় সম্প্রদায়ের মাযহাব ও মতাদর্শ থেকে বিমুখ ছিলেন। তাই তিনি নির্জনে একাকী গভীর চিন্তা-ভাবনা ও ধ্যানমগ্নে লিপ্ত থাকতেন। এই উদ্দেশ্যেই তিনি হেরা গুহার নির্জনে কাটাতে শুরু করলেন। ওই দীর্ঘ চিন্তা-ফিকির ও সাধনার ফলে তাওহীদী আকীদার উপর তাঁর বিশ্বাস দৃঢ় হয়ে যায়। হেরা পর্বতের ওই নির্জন-নিস্তব্ধতায় এই ধারণাগুলো তাঁর মন-মস্তিষ্কে এমনভাবে ছেয়ে যায় যে, অন্তরের এই উপলব্ধিকে তাঁর কাছে বাহ্যিক ও বাস্তব আওয়াজ মনে হতে লাগল। আর সেটাকেই তিনি আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা বা কোনো ফেরেশতার আওয়াজ মনে করে পূর্ণ বিশ্বাস ও নিষ্ঠার সাথে নবুওয়াতের দাবী করে বসলেন!

এই হলো দু'জাহানের সর্দার নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াতের দাবীর সেই ব্যাখ্যা, যা বর্তমানে পশ্চিমা বিজ্ঞজনদের মাঝে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। পশ্চাত্যের পণ্ডিতদের মধ্যে বহু গবেষক এর প্রবক্তা। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন, এই ব্যাখ্যার পেছনে এ ছাড়া আর কি মানসিকতা কাজ করছে যে, ওই পণ্ডিতরা আগ থেকেই এ সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে যে, নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াতের স্বীকারোক্তি তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রকৃত কথা হচ্ছে, প্রফেসর ওয়াট ও বর্তমান যুগের অন্যান্য পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ রাসূলে খোদা (সা.)-এর প্রতি নাযিলকৃত ওহীর যে ব্যাখ্যা করেছেন এর যুক্তিনির্ভর কোনো জবাব দিতেও লজ্জাবোধ হয়। তথাপি নিম্নোক্ত বাস্তব তথ্যগুলোর উপর চিন্তা করুন।

১. দু'জাহানের সর্দার নবী কারীম (সা.)-এর ব্যাপারে তাদেরই স্বীকারোক্তি হলো যে, তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মেধা ও বাস্তব কর্মপন্থার যোগ্যতায় টইটম্বুর ব্যক্তিত্ব। তাহলে তাঁর ব্যাপারে এই উদ্ভট কথা বিবেক মেনে নিতে পারে না যে, তিনি দীর্ঘ তেইশ বছর যাবৎ ধারাবাহিকভাবে নিজের ভেতরের আধ্যাত্মিক একটি অবস্থাকে কোনো ফেরেশতার আওয়াজ মনে করতেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি জানতেই পারেননি যে, এই অস্বাভাবিক অবস্থার হাকীকত কি? তাঁর প্রতি দীর্ঘ তেইশ বছরে শত-সহস্র বার ওহী অবতীর্ণ হয়েছে। তাহলে কি তিনি এই পুরোটা সময় এ ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত ছিলেন?

২. অতঃপর যদি তাঁর উপর তথাকথিত এই “আধ্যাত্মিক অবস্থা” স্বীয় সম্প্রদায়কে দেখে প্রকাশ পেত, তাহলে সূত্রানুযায়ী দাবী এটাই ছিল যে, এই আধ্যাত্মিক অবস্থার সর্বপ্রথম অভিজ্ঞতায় তাদের ভ্রষ্টতার প্রত্যাখ্যান ও তাওহীদী আকীদার বর্ণনা করা। কিন্তু আমরা দেখতে পাই যে, তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হওয়া প্রথম ওহীতে কুফর-শিরিকের প্রত্যাখ্যানমূলক কোনো কথা নেই। নেই তাওহীদী আকীদার আলোচনাও। বরং এর পরিবর্তে 'ইকরা' (পাঠ করুন) দিয়ে ওহীর সূচনা হয়—
اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ * خَلَقَ الْإِنسَانَ مِنْ عَلَقٍ * اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ * الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ * عَلَّمَ الْإِنسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمُ
'সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট-বাঁধা রক্তপিণ্ড হতে। পাঠ কর, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলম দিয়ে, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।'

৩. অতঃপর এটা একটা আশ্চর্য ব্যাপার যে, এই "আধ্যাত্মিক হালাত” বা ভেতরগত অবস্থা একবার সৃষ্টি হবার পর সঙ্গে সঙ্গে নিষ্প্রভ হয়ে গেল এবং তিন বছর যাবৎ তিনি আর কোনো আওয়াজ শুনতে পেলেন না! এ দীর্ঘ সময় ওহী বন্ধ থাকার কারণে তিনি পেরেশানও থাকতেন। কিন্তু এই তিন বছর পুরোপুরি নিশ্চুপ থাকার পর যখন আবার ওহী অবতীর্ণ হতে শুরু করল, তখনও তাতে সুস্পষ্টভাবে শিরিকের বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করা হলো না।

৪. যদি এটা কোনো আধ্যাত্মিক হালাত বা ভেতরগত অবস্থা হতো তাহলে তা তো সম্পূর্ণরূপে নবী কারীম (সা.)-এর ধ্যান-ধারণার সাথে মিলে যাওয়া উচিত ছিল। অথচ কুরআনুল কারীমের অনেক স্থানে তাঁর ব্যক্তিগত ধ্যান-ধারণার বিপরীত দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বরং কোনো কোনো স্থানে তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করতঃ এর উপর তিরস্কারও করা হয়েছে। যেমন—
(ক) إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ
(খ) সূরা আনফালের ৬৭ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَى حَتَّى يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ
(গ) সূরা তাওবা'র ৪৩ নং আয়াতে ইরশাদ হয়েছে- عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنْتَ لَهُمْ حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ

৫. যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, কোনো চিন্তা-কল্পনার চরম প্রবলতা মানুষের কাছে "বাস্তব ধ্বনি”র ন্যায় অনুভূত হতে থাকে, তাহলে এর কি কারণ যে, এই "বাস্তব ধ্বনি” যে ভবিষ্যদ্বাণী করে থাকে, তা সর্বদা সত্যে পরিণত হয়? যে নির্দেশনা প্রদান করে তা অবশেষে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়। যে শব্দমালা বলে দেয় তা এমন পাথরে খোদাই করা চিহ্নে পরিণত হয়ে যায় যে, সারা দুনিয়ার সাহিত্যিক ও বাগ্মিরা এর মুকাবেলা করতে অক্ষম হয়ে যায়!

৬. যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, ধ্যান-ধারণার প্রবলতার কারণে অনুভূত ধ্বনির কোনো হাকীকত আছে, তাহলে তা ওই ব্যক্তিরই জ্ঞানের প্রতিচ্ছায়া হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি পবিত্র কুরআন মাজীদ পাঠ করে দেখুন যে, তাতে এমন বহু কথা রয়েছে, যা ওহী অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে রাসূলে খোদা (সা.)-এর জানা ছিল না। ওহীর বাণীই প্রথম তাঁকে এর জ্ঞান দান করেছে। যেমন— مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ 'তুমি জানতে না কিতাব কী, ঈমান কী...।'

৭. বিশেষ করে পূর্ববর্তী উম্মতদের অধিকাংশ ঘটনাবলী, ঐতিহাসিকভাবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, ওহী অবতীর্ণ হবার পূর্বে রাসূলে আকরাম (সা.) সেগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পবিত্র কুরআনুল কারীমই সর্বপ্রথম তাঁকে এই জ্ঞান দান করেছে। যেমন, সূরা হুদে হযরত নূহ (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করার পর ইরশাদ হয়েছে— تِلْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ مَا كُنتَ تَعْلَمُهَا أَنتَ وَلَا قَوْمُكَ مِن قَبْلِ هَذَا 'এ সব হল অদৃশ্যের খবর যা তোমাকে ওয়াহী দ্বারা জানিয়ে দিচ্ছি, যা এর পূর্বে না তুমি জানতে, না তোমার জাতির লোকেরা জানত।'

৮. মন্টেগুমরী ওয়াট ও তার সহচররা এ কথা স্বীকার করেন যে, রাসূলে খোদা (সা.) কখনো মিথ্যা কথা বলেননি। সুতরাং তাদের মত অনুযায়ীও পবিত্র কুরআনুল কারীমের কোনো আয়াতের ব্যাপারে ভুল বর্ণনা করা অসম্ভব। এখন প্রশ্ন হলো, যদি এই "ওহী" বাস্তবিক কোনো জ্ঞান লাভের মাধ্যম না হতো, তাহলে তিনি কি করে পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের সেসব ঘটনা জানতে পারলেন, যা পূর্বে তাঁর জানা ছিল না?

টিকাঃ
৩৯৫. Watt: Bell's Introduction to the Quran Ch. 2 P. 17.
৩৯৬. Watt: Bell's Introduction to the Quran Ch. 2 P. 18
৩৯৭. সূরা আলাক : ১-৫
৩৯৮. সূরা হিজর, আয়াত-৪২
৩৯৯. সূরা শুরা: ৫২
৪০০. সূরা হুদ : ৪৯
৪০১. সূরা ইউসুফ: ১০২
৪০২. Watt: Bell's Introduction to the Quran Ch. 2 P. 25

📘 উলুমুল কুরআন 📄 রাসূল সা: ও আহলে কিতাব

📄 রাসূল সা: ও আহলে কিতাব


প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক রাসূলে আকরাম (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহীকে মূলত তাঁর "আধ্যাত্মিক অবস্থা” হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বহু চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নবী কারীম (সা.) পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী (নাঊযুবিল্লাহ) আরবের ইহুদী ও খ্রিস্টানদের কাছ থেকে শুনেছিলেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে বুহাইরা ও নাসতূরা নামক দু'জন পাদ্রীর নাম উল্লেখযোগ্য। সিরিয়া সফরের সময় যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হওয়ার ঘটনা সীরাত ও ইতিহাসের বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক এ ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, এই পাদ্রী ছিলেন আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে। ওই পাদ্রীর কাছে থেকেই তিনি (নাঊযুবিল্লাহ) তাওহীদের ধারণা লাভ করেন এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত হন।

যদি ইনসাফ পৃথিবী থেকে একেবারে ওঠে গিয়ে না থাকে, তাহলে একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষও এ কথা মেনে নিতে পারে না যে, সিরিয়া সফরকালে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের সাক্ষাতে ওই পাদ্রীরা নিজেদের বক্ষে সংরক্ষিত সম্পূর্ণ জ্ঞানভান্ডার নবী কারীম (সা.)-এর সামনে উপুড় করে ঢেলে দিলেন। প্রথমতঃ এ কথা একেবারেই দলীল-প্রমাণহীন যে বুহাইরা ও নাসতূরা আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে ছিলেন। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতেই আরয়ূসী গ্রুপকে নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং এথানাসিউস ও তার সহচররা এই গ্রুপটিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় কোনো অবহেলা করেনি।

দ্বিতীয়তঃ পাদ্রীদের সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটেছিল। এখানে আমরা বুহাইরা পাদ্রীর সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত সংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করছি। সুনানে তিরমিযী শরীফে হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার আবু তালেব কুরাইশদের সাথে মিলে সিরিয়া সফরে রওয়ানা হলেন। সেখানে একজন পাদ্রী থাকতেন। এবার যখন ব্যবসায়ী কাফেলা সেখানে অবতরণ করল, তখন পাদ্রী নিজের খানকা থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং এক পর্যায়ে রাসূলে খোদা (সা.)-এর হাত ধরে ফেললেন। তারপর বললেন— 'ইনি হলেন, সমগ্র জাহানের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল।' পাদ্রী কুরাইশদের জানালেন যে, আপনারা যখন উপত্যকা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তখন কোনো বৃক্ষলতা ও পাথর এমন ছিল না, যা তাঁকে সিজদা করেনি। পাদ্রী কুরাইশদের লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা তাঁকে রোমের দিকে নিয়ে যাবেন না, রোমানরা তাঁকে চিনে ফেললে হত্যা করে ফেলবে। এরপর পাদ্রী আবু তালেবকে একের পর এক কসম দিয়ে বললেন, তুমি অবশ্যই তাঁকে ফেরত পাঠাও। এমনকি আবু তালেব তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।

এই সাক্ষাতটি ওই সময়ে হয়েছে যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বার কিংবা তের বৎসর। কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ কি এ কথা মেনে নিতে পারে যে, এত অল্প বয়সে মাত্র কয়েকটি ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত তাঁকে পূর্ববর্তী উম্মতদের এমন গভীর জ্ঞান দান করেছে যে, তিনি আহলে কিতাবদের চ্যালেঞ্জ করে তাদের কিতাবের বিকৃতির বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন! নবী কারীম (সা.) যদি আহলে কিতাবদের কাছ থেকে এই ঘটনাগুলো শুনেই থাকতেন, তাহলে মক্কার কাফের সম্প্রদায়—যারা নবী কারীম (সা.)-কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য প্রস্তুত থাকতো—তারা ওই সময় কেন নিশ্চুপ থাকল? তারা এই দাবী কেন করল না যে, আপনাকে তো অমুক অমুক আহলে কিতাব এই কথাগুলো শিখিয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এর প্রত্যাখ্যান এভাবে করা হয়েছে—
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِّسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهُذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِينٌ
'আমি জানি, তারা বলে, 'এক মানুষ তাকে শিখিয়ে দেয়।' অথচ তারা যে লোকটির কথা বলছে তার ভাষা তো অনারব, অপরপক্ষে কুরআনের ভাষা হল স্পষ্ট আরবী।'

টিকাঃ
৪০৩. J.M. Rodwell কর্তৃক অনূদিত ইংরেজি কুরআনের ভূমিকা, পৃ: ৭।
৪০৪. "নবী স.-এর নবুওয়াত লাভ” শীর্ষক অধ্যায়: ২/২২৫: জামে' তিরমিযী।
৪০৫. হাফেয যাহাবী এ বর্ণনাকে অনির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু ইবনে হাযার আসকালানী প্রমুখ বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলে সাব্যস্ত করেছেন। (শরহুল মাওয়াহিব: ১/১৯৬)।
৪০৬. আলামা হালবী এ বর্ণনায় বয়স ৯ বছর বলেছেন, হাফেয ইবনে আবদুল বার 'তের বছর' বলেছেন। যুরকানী বলেন অধিকাংশের মত ১২ বছর।
৪০৭. সূরা নাহল: ১০৩

প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক রাসূলে আকরাম (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ ওহীকে মূলত তাঁর "আধ্যাত্মিক অবস্থা” হিসেবে প্রমাণ করার জন্য বহু চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, নবী কারীম (সা.) পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী (নাঊযুবিল্লাহ) আরবের ইহুদী ও খ্রিস্টানদের কাছ থেকে শুনেছিলেন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে বুহাইরা ও নাসতূরা নামক দু'জন পাদ্রীর নাম উল্লেখযোগ্য। সিরিয়া সফরের সময় যাদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হওয়ার ঘটনা সীরাত ও ইতিহাসের বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো কোনো পাশ্চাত্য লেখক এ ধারণা প্রকাশ করেছেন যে, এই পাদ্রী ছিলেন আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে। ওই পাদ্রীর কাছে থেকেই তিনি (নাঊযুবিল্লাহ) তাওহীদের ধারণা লাভ করেন এবং পূর্ববর্তী উম্মতদের ঘটনাবলী সম্পর্কে অবগত হন।

যদি ইনসাফ পৃথিবী থেকে একেবারে ওঠে গিয়ে না থাকে, তাহলে একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষও এ কথা মেনে নিতে পারে না যে, সিরিয়া সফরকালে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের সাক্ষাতে ওই পাদ্রীরা নিজেদের বক্ষে সংরক্ষিত সম্পূর্ণ জ্ঞানভান্ডার নবী কারীম (সা.)-এর সামনে উপুড় করে ঢেলে দিলেন। প্রথমতঃ এ কথা একেবারেই দলীল-প্রমাণহীন যে বুহাইরা ও নাসতূরা আরয়ূসী গ্রুপের মধ্য হতে ছিলেন। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতেই আরয়ূসী গ্রুপকে নাস্তিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং এথানাসিউস ও তার সহচররা এই গ্রুপটিকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টায় কোনো অবহেলা করেনি।

দ্বিতীয়তঃ পাদ্রীদের সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটেছিল। এখানে আমরা বুহাইরা পাদ্রীর সাথে নবী কারীম (সা.)-এর সাক্ষাত সংক্রান্ত বিস্তারিত বর্ণনাটি উদ্ধৃত করছি। সুনানে তিরমিযী শরীফে হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার আবু তালেব কুরাইশদের সাথে মিলে সিরিয়া সফরে রওয়ানা হলেন। সেখানে একজন পাদ্রী থাকতেন। এবার যখন ব্যবসায়ী কাফেলা সেখানে অবতরণ করল, তখন পাদ্রী নিজের খানকা থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং এক পর্যায়ে রাসূলে খোদা (সা.)-এর হাত ধরে ফেললেন। তারপর বললেন— 'ইনি হলেন, সমগ্র জাহানের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল।' পাদ্রী কুরাইশদের জানালেন যে, আপনারা যখন উপত্যকা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, তখন কোনো বৃক্ষলতা ও পাথর এমন ছিল না, যা তাঁকে সিজদা করেনি। পাদ্রী কুরাইশদের লক্ষ্য করে বললেন, আপনারা তাঁকে রোমের দিকে নিয়ে যাবেন না, রোমানরা তাঁকে চিনে ফেললে হত্যা করে ফেলবে। এরপর পাদ্রী আবু তালেবকে একের পর এক কসম দিয়ে বললেন, তুমি অবশ্যই তাঁকে ফেরত পাঠাও। এমনকি আবু তালেব তাঁকে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।

এই সাক্ষাতটি ওই সময়ে হয়েছে যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র বার কিংবা তের বৎসর। কোনো সুস্থ বিবেক সম্পন্ন মানুষ কি এ কথা মেনে নিতে পারে যে, এত অল্প বয়সে মাত্র কয়েকটি ঘণ্টার এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাত তাঁকে পূর্ববর্তী উম্মতদের এমন গভীর জ্ঞান দান করেছে যে, তিনি আহলে কিতাবদের চ্যালেঞ্জ করে তাদের কিতাবের বিকৃতির বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন! নবী কারীম (সা.) যদি আহলে কিতাবদের কাছ থেকে এই ঘটনাগুলো শুনেই থাকতেন, তাহলে মক্কার কাফের সম্প্রদায়—যারা নবী কারীম (সা.)-কে প্রত্যাখ্যান করার জন্য প্রস্তুত থাকতো—তারা ওই সময় কেন নিশ্চুপ থাকল? তারা এই দাবী কেন করল না যে, আপনাকে তো অমুক অমুক আহলে কিতাব এই কথাগুলো শিখিয়েছে। পবিত্র কুরআনুল কারীমে এর প্রত্যাখ্যান এভাবে করা হয়েছে—
وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِّسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهُذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِينٌ
'আমি জানি, তারা বলে, 'এক মানুষ তাকে শিখিয়ে দেয়।' অথচ তারা যে লোকটির কথা বলছে তার ভাষা তো অনারব, অপরপক্ষে কুরআনের ভাষা হল স্পষ্ট আরবী।'

টিকাঃ
৪০৩. J.M. Rodwell কর্তৃক অনূদিত ইংরেজি কুরআনের ভূমিকা, পৃ: ৭।
৪০৪. "নবী স.-এর নবুওয়াত লাভ” শীর্ষক অধ্যায়: ২/২২৫: জামে' তিরমিযী।
৪০৫. হাফেয যাহাবী এ বর্ণনাকে অনির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেছেন, কিন্তু ইবনে হাযার আসকালানী প্রমুখ বর্ণনাটিকে বিশুদ্ধ বলে সাব্যস্ত করেছেন। (শরহুল মাওয়াহিব: ১/১৯৬)।
৪০৬. আলামা হালবী এ বর্ণনায় বয়স ৯ বছর বলেছেন, হাফেয ইবনে আবদুল বার 'তের বছর' বলেছেন। যুরকানী বলেন অধিকাংশের মত ১২ বছর।
৪০৭. সূরা নাহল: ১০৩

📘 উলুমুল কুরআন 📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের উপর কয়েকটি সংশয় উত্থাপন

📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের উপর কয়েকটি সংশয় উত্থাপন


কোনো কোনো পাশ্চাত্য বিশারদ পণ্ডিত পবিত্র কুরআন মাজীদে বর্ণিত কিছু কিছু ঘটনার উপর অভিযোগ উত্থাপন করে এর দ্বারা তারা এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, (নাউযুবিল্লাহ) নবী কারীম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ সব ঘটনাবলী আহলে কিতাবের কোনো আলেমের কাছ থেকে মৌখিকভাবে শুনেছিলেন। অতঃপর তা বর্ণনা করার সময় কিছু ভুল হয়ে গেছে।

কোনো কোনো পাশ্চাত্য বিশারদ পণ্ডিত পবিত্র কুরআন মাজীদে বর্ণিত কিছু কিছু ঘটনার উপর অভিযোগ উত্থাপন করে এর দ্বারা তারা এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, (নাউযুবিল্লাহ) নবী কারীম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) এ সব ঘটনাবলী আহলে কিতাবের কোনো আলেমের কাছ থেকে মৌখিকভাবে শুনেছিলেন। অতঃপর তা বর্ণনা করার সময় কিছু ভুল হয়ে গেছে।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 হযরত মারিয়াম (আ:) এর পিতার নাম

📄 হযরত মারিয়াম (আ:) এর পিতার নাম


ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকায় একটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে যে, হযরত মূসা (আ.)-এর বোনের নামও ছিল মারইয়াম এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর মায়ের নামও ছিল মারইয়াম। প্রথমোক্ত মারইয়াম ছিলেন ইমরানের কন্যা। কিন্তু পবিত্র কুরআন মাজীদে (নাউযুবিল্লাহ) ভুলবশতঃ শেষোক্ত মারইয়ামকেও “ইমরানের কন্যা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিতাপের বিষয় হলো, ব্রিটেনিকা'র ন্যায় জগদ্বিখ্যাত বিশ্বকোষেও এ ধরনের স্থূল অভিযোগটি লিপিবদ্ধ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করা হয়নি। যদি ব্রিটেনিকা'র প্রবন্ধ সম্পাদক নির্ভরযোগ্য কোনো দলীল দ্বারা এ কথা প্রমাণ করে দিতে পারতো যে, হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতার নাম “ইমরান” ছিল না, তবে তা আলোচনাযোগ্য হতো। কিন্তু বাইবেলের মধ্যেও তাঁর পিতার কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর স্বয়ং ব্রিটেনিকার "মারইয়াম" প্রবন্ধের মধ্যেও এ কথা স্বীকার করা হয়েছে— "হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতা-মাতার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে কোনো রেকর্ড বিদ্যমান নেই।"

প্রকৃত কথা হলো, এটা তো পবিত্র কুরআনুল কারীমের সত্যতার সুস্পষ্ট দলীল যে, সে ওইসব ঐতিহাসিক মূলতত্ত্বের পর্দা উন্মোচন করেছে, যা শত শত বছর পর্যন্ত অজানা ছিল। হযরত মারইয়াম (আ.)-এর জন্ম, তাঁর লালন-পালন ও কৈশোর জীবনের সকল অবস্থার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় সকল উৎস একেবারেই নিশ্চুপ ছিল। এমনকি ইঞ্জিলের নির্ভরযোগ্য সুসমাচার (মার্ক, লুক, মথি ও ইউহান্নাহ)-এর মাঝেও তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই! একমাত্র পবিত্র কুরআন মাজীদই প্রথমবার এ সমস্ত ঘটনাবলীকে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে।

টিকাঃ
৪০৮. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৩/৪৮৩, প্রবন্ধ: কুরআন।
৪০৯. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৪/৯৯৯, প্রবন্ধ: মারইয়াম।
৪১০. দেখুন: ডিকশনারী অব দ্যা বাইবেল: ৩/২৮৮

ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকায় একটি অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে যে, হযরত মূসা (আ.)-এর বোনের নামও ছিল মারইয়াম এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর মায়ের নামও ছিল মারইয়াম। প্রথমোক্ত মারইয়াম ছিলেন ইমরানের কন্যা। কিন্তু পবিত্র কুরআন মাজীদে (নাউযুবিল্লাহ) ভুলবশতঃ শেষোক্ত মারইয়ামকেও “ইমরানের কন্যা” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিতাপের বিষয় হলো, ব্রিটেনিকা'র ন্যায় জগদ্বিখ্যাত বিশ্বকোষেও এ ধরনের স্থূল অভিযোগটি লিপিবদ্ধ করতে কোনো দ্বিধাবোধ করা হয়নি। যদি ব্রিটেনিকা'র প্রবন্ধ সম্পাদক নির্ভরযোগ্য কোনো দলীল দ্বারা এ কথা প্রমাণ করে দিতে পারতো যে, হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতার নাম “ইমরান” ছিল না, তবে তা আলোচনাযোগ্য হতো। কিন্তু বাইবেলের মধ্যেও তাঁর পিতার কোনো নাম উল্লেখ করা হয়নি। আর স্বয়ং ব্রিটেনিকার "মারইয়াম" প্রবন্ধের মধ্যেও এ কথা স্বীকার করা হয়েছে— "হযরত মারইয়াম (আ.)-এর পিতা-মাতার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে কোনো রেকর্ড বিদ্যমান নেই।"

প্রকৃত কথা হলো, এটা তো পবিত্র কুরআনুল কারীমের সত্যতার সুস্পষ্ট দলীল যে, সে ওইসব ঐতিহাসিক মূলতত্ত্বের পর্দা উন্মোচন করেছে, যা শত শত বছর পর্যন্ত অজানা ছিল। হযরত মারইয়াম (আ.)-এর জন্ম, তাঁর লালন-পালন ও কৈশোর জীবনের সকল অবস্থার ব্যাপারে খ্রিস্টীয় সকল উৎস একেবারেই নিশ্চুপ ছিল। এমনকি ইঞ্জিলের নির্ভরযোগ্য সুসমাচার (মার্ক, লুক, মথি ও ইউহান্নাহ)-এর মাঝেও তাঁর অবস্থা সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই! একমাত্র পবিত্র কুরআন মাজীদই প্রথমবার এ সমস্ত ঘটনাবলীকে জনসম্মুখে তুলে ধরেছে।

টিকাঃ
৪০৮. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৩/৪৮৩, প্রবন্ধ: কুরআন।
৪০৯. ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ১৪/৯৯৯, প্রবন্ধ: মারইয়াম।
৪১০. দেখুন: ডিকশনারী অব দ্যা বাইবেল: ৩/২৮৮

ফন্ট সাইজ
15px
17px