📘 উলুমুল কুরআন 📄 রোমানদের বিজয়

📄 রোমানদের বিজয়


নবীজী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কায় কাফেরদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছিলেন, ঠিক ওই সময়ে পৃথিবীর দুই পরাশক্তি রোম ও পারস্যের মাঝে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিল। ওই যুদ্ধে পারস্য সৈন্যরা একের পর এক রোমানদের উপর বিজয় লাভ করতে থাকে। ইরানীরা অগ্নিপূজক হওয়ায় মক্কার কাফেরদের পছন্দের ছিল আর রোমানরা আহলে কিতাব হওয়ায় মুসলমানদের পছন্দের ছিল। এমতাবস্থায় সূরা রূমের প্রাথমিক আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো- الم * غُلِبَتِ الرُّومُ * فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُم مِّن بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ * فِي بِضْعِ سِنِينَ... 'নিকটস্থ ভূমিতে, কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে কয়েক (তিন থেকে নয়) বছরের মধ্যেই... এটা আল্লাহর ওয়াদা।'

ভবিষ্যদ্বাণী করার সময় তা বাস্তবায়িত হবার কোনো লক্ষণ ছিল না। এমনকি কুরাইশ নেতা উবাই ইবনে খালফ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সাথে বাজি ধরেছিল। কিন্তু সাত বছর পর রোমের বাদশাহ কায়সার সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানিদেরকে বহুস্থানে পরাজিত করেন। ঠিক যখন বদর প্রান্তরে মুসলমানরা বিজয় লাভ করছিল, সেই সময় সংবাদ পাওয়া গেল যে, রোমক বাহিনী ইরানিদের পর্যুদস্ত করেছে। পবিত্র কুরআন মাজীদের ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল।

টিকাঃ
৩৮৫. সূরা রোম: ১-৬

📘 উলুমুল কুরআন 📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ

📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ


যে সময়ে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কাফেরদের জুলুম ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা মোকাররমা থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ‘সওর’ পর্বতের গুহায় তিন দিন অবস্থান করার পর পবিত্র মদীনার পথ ধরে ‘যুহফা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী হলেন, তখন সেখান থেকে মক্কার দিকে যাওয়ার পথটি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। স্বভাবগতভাবেই মাতৃভূমির কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। আর জন্মভূমিকে ত্যাগ করার চিন্তায় খুব আফসোস করলেন। ওই মুহূর্তে পবিত্র কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ
'যে মহান সত্ত্বা আপনার প্রতি কুরআন (-এর বিধি-বিধান) ফরয করেছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে পুনরায় এখানে প্রত্যাবর্তন করাবেন।'

ওই সময়ে নবী কারীম (সা.) মক্কা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বাহ্যিকভাবে এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তিনি বিজয়ী বেশে ওই মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে পরিণত হলো।

টিকাঃ
৩৮৬. সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতি দিয়ে "জামউল ফাওয়াইদ”: ৩/১০৭

যে সময়ে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কাফেরদের জুলুম ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা মোকাররমা থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ‘সওর’ পর্বতের গুহায় তিন দিন অবস্থান করার পর পবিত্র মদীনার পথ ধরে ‘যুহফা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী হলেন, তখন সেখান থেকে মক্কার দিকে যাওয়ার পথটি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। স্বভাবগতভাবেই মাতৃভূমির কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। আর জন্মভূমিকে ত্যাগ করার চিন্তায় খুব আফসোস করলেন। ওই মুহূর্তে পবিত্র কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ
'যে মহান সত্ত্বা আপনার প্রতি কুরআন (-এর বিধি-বিধান) ফরয করেছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে পুনরায় এখানে প্রত্যাবর্তন করাবেন।'

ওই সময়ে নবী কারীম (সা.) মক্কা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বাহ্যিকভাবে এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তিনি বিজয়ী বেশে ওই মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে পরিণত হলো।

টিকাঃ
৩৮৬. সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতি দিয়ে "জামউল ফাওয়াইদ”: ৩/১০৭

📘 উলুমুল কুরআন 📄 ইহুদীদের মৃত্যু কামনা

📄 ইহুদীদের মৃত্যু কামনা


নবী কারীম (সা.)-এর যুগে ইহুদীরা বলে বেড়াতো, "পরকালের সফলতা ও শান্তি শুধু ইহুদীদের জন্য নির্ধারিত। আর আমরা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবো।” তাদের এ কথার প্রতিউত্তর পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে—
قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِندَ اللَّهِ خَالِصَةً مِّن دুনিল النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ * لَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ
'বল, 'যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক'। কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কক্ষনো তা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে খুবই অবহিত।'

এই চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যদ্বাণী পবিত্র মদীনার সেই পরিবেশে ঘোষণা করা হচ্ছিল যেখানে এলাকার পর এলাকা ইহুদীদের আবাস ছিল। দিন-রাত মুসলমানদের সাথে তাদের তর্ক-বিতর্ক ও বচসা লেগেই থাকতো। যদি এই চ্যালেঞ্জ ওহীর মাধ্যমে করা না হতো, তাহলে যে ইহুদীরা রাসূলে আকরাম (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে প্রস্তুত ছিল না, তারা অতি সহজেই প্রকাশ্যভাবে মৃত্যু কামনা করে দেখাতে পারতো। আর এভাবে দিন-রাত যে বাক-বিতণ্ডা ও বচসা লেগে থাকতো, মুহূর্তের মধ্যেই তার সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু এই আয়াত অবতীর্ণ হবার পর ইহুদীদের কলিজা শুকিয়ে গেল এবং একজন ব্যক্তিও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য সামনে অগ্রসর হলো না।

নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালতের ব্যাপারে অমুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি যেমনই হোক, কিন্তু তাঁর কোনো শত্রুও এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেনি যে, তিনি বিবেক, প্রজ্ঞা, উপলব্ধি শক্তি ও দূরদর্শিতার দিক থেকে একজন উচ্চস্তরের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এখন এ কথা একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ থেকেও এই আশা করা যায় না যে, সে দৃঢ় বিশ্বাস ও পূর্ণ আস্থা ছাড়া এমন কোনো চ্যালেঞ্জ বা ভবিষ্যদ্বাণী করে যাবে, যা তার প্রতিপক্ষের লোকেরা এক মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হবে। তাহলে রাসূলে খোদা (সা.)-এর ন্যায় বিবেক, প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের পক্ষ হতে এই চ্যালেঞ্জ ওহীর দিক-নির্দেশনা ব্যতীত সম্ভবই ছিল না।

টিকাঃ
৩৮৭. সূরা বাকারা: ৯৪-৯৫

নবী কারীম (সা.)-এর যুগে ইহুদীরা বলে বেড়াতো, "পরকালের সফলতা ও শান্তি শুধু ইহুদীদের জন্য নির্ধারিত। আর আমরা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবো।” তাদের এ কথার প্রতিউত্তর পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে—
قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِندَ اللَّهِ خَالِصَةً مِّن دুনিল النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ * لَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ
'বল, 'যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক'। কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কক্ষনো তা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে খুবই অবহিত।'

এই চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যদ্বাণী পবিত্র মদীনার সেই পরিবেশে ঘোষণা করা হচ্ছিল যেখানে এলাকার পর এলাকা ইহুদীদের আবাস ছিল। দিন-রাত মুসলমানদের সাথে তাদের তর্ক-বিতর্ক ও বচসা লেগেই থাকতো। যদি এই চ্যালেঞ্জ ওহীর মাধ্যমে করা না হতো, তাহলে যে ইহুদীরা রাসূলে আকরাম (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে প্রস্তুত ছিল না, তারা অতি সহজেই প্রকাশ্যভাবে মৃত্যু কামনা করে দেখাতে পারতো। আর এভাবে দিন-রাত যে বাক-বিতণ্ডা ও বচসা লেগে থাকতো, মুহূর্তের মধ্যেই তার সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু এই আয়াত অবতীর্ণ হবার পর ইহুদীদের কলিজা শুকিয়ে গেল এবং একজন ব্যক্তিও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য সামনে অগ্রসর হলো না।

নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালতের ব্যাপারে অমুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি যেমনই হোক, কিন্তু তাঁর কোনো শত্রুও এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেনি যে, তিনি বিবেক, প্রজ্ঞা, উপলব্ধি শক্তি ও দূরদর্শিতার দিক থেকে একজন উচ্চস্তরের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এখন এ কথা একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ থেকেও এই আশা করা যায় না যে, সে দৃঢ় বিশ্বাস ও পূর্ণ আস্থা ছাড়া এমন কোনো চ্যালেঞ্জ বা ভবিষ্যদ্বাণী করে যাবে, যা তার প্রতিপক্ষের লোকেরা এক মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হবে। তাহলে রাসূলে খোদা (সা.)-এর ন্যায় বিবেক, প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের পক্ষ হতে এই চ্যালেঞ্জ ওহীর দিক-নির্দেশনা ব্যতীত সম্ভবই ছিল না।

টিকাঃ
৩৮৭. সূরা বাকারা: ৯৪-৯৫

📘 উলুমুল কুরআন 📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের সংরক্ষণ

📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের সংরক্ষণ


পবিত্র কুরআনুল কারীমের পূর্বে যে সকল আসমানী কিতাব বিভিন্ন নবী-রাসূলগণের উপর নাযিল করা হয়েছে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার পক্ষ হতে সেগুলোর সংরক্ষণের কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। আর তাই তো সেগুলো নিজেদের প্রকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত থাকেনি। মুসলমানদের তো এই শুভ বিশ্বাস যে, বর্তমানে তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুরের নামে যেসব কিতাবে প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে, তা কখনো অবিকল ওই কিতাব নয়, যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল। বরং এগুলোতে বহু হের-ফের ও বিকৃতি সাধিত হয়েছে। বরং স্বয়ং আহলে কিতাব সম্প্রদায়ও এই হাকীকতকে স্বীকার করতে বাধ্য। কট্টর থেকে কট্টরপন্থী কোনো ইহুদী বা খ্রিস্টানও এই দাবী করতে পারে না যে, তাদের (বর্তমান) কিতাবের প্রত্যেকটি শব্দ আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত এবং সেগুলোর কোথাও কোনো ভুল বা পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়নি। পক্ষান্তরে পবিত্র কুরআনুল কারীম নিজের ব্যাপারে এই ভবিষ্যদ্বাণী ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল—
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
'নিশ্চয়ই আমিই এই কুরআনকে অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।'

এই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে সত্যে প্রমাণিত হয়েছে। চৌদ্দশত বছরের এই দীর্ঘ সময়ে পবিত্র কুরআনুল মাজীদের কোনো নুকতা বা বিন্দুও বিনষ্ট হয়নি। আর না এতে বিকৃতি ও পরিবর্তন-পরিবর্ধনের কোনো অপচেষ্টা সফল হয়েছে। ইসলাম সর্বদাই বিরোধিতা ও শত্রুতার বেষ্টনীতে ছিল এবং শত্রুরা এটাকে পরাস্ত করার অপচেষ্টায় কোনো ধরনের কার্পণ্য করেনি। কিন্তু ওই যুগেও কোনো শত্রু পবিত্র কুরআনুল কারীমকে নিশ্চিহ্ন, বিনষ্ট বা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করার অপচেষ্টায় সফল হতে পারেনি। যখন পবিত্র কুরআনের কপি সংখ্যা ছিল একেবারেই সীমিত এবং প্রচার ও প্রকাশনার উপকরণও ছিল অনুপস্থিত।

আর তাওরাতের অবস্থা দেখুন, বাবেলের বাদশা বুখতে নসর কীভাবে নিপীড়ন চালিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছিল? বনী ইসরাঈলের বর্ণনা অনুযায়ী হযরত উযাইর (আ.) ব্যতীত কারো তাওরাত মুখস্থ ছিল না। তাই সমস্ত কপি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা নিজেদের স্মৃতিতে রক্ষিত তাওরাত পুনরায় লিপিবদ্ধ করিয়ে নেয়। অতঃপর রোম সম্রাট আন্তিওকাস নিজের শক্তিমত্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। স্বয়ং বনী ইসরাঈলের বর্ণনা অনুযায়ী সে তাওরাতের এক একটি করে সবকটি কপি ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। এমনকি একটি কপিও অবশিষ্ট ছিল না। অনুরূপভাবে ইঞ্জিলের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। কিভাবে রোমান বাদশাহ তীতুস, শাহ নীরূন, ডোমিশীয়ান ও ডিউক্ল্যাশীয়ানের আক্রমণে এর আসল কপিগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

কিন্তু পবিত্র কুরআনুল কারীমের অবস্থা হলো এই যে, শত-সহস্র আক্রমণকারীর সম্মুখীন হয়, বহু স্থানে মুসলমানদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, তাদের গ্রন্থাগারগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং পুরাতন গ্রন্থাদির বিশাল সংগ্রহ ভান্ডার সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কারামেতা বা শিয়া সম্প্রদায়ের মহা প্লাবন সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে তছনছ করে দেয় এবং পবিত্র কুরআনুল কারীমের বিকৃতি সাধনের অপচেষ্টায় তারা কোনো কার্পণ্য করেনি। কিন্তু মহা গ্রন্থ আল-কুরআন আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ধরনের বিকৃতি ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন ছাড়াই শুধু সংরক্ষিত নয়; বরং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত তথা সারা বিশ্বে এর প্রচার ও প্রসারের গতি বেড়েই চলেছে। (আল্লাহ না করুন) যদি কথার কথা আজও পবিত্র কুরআন মাজীদের লিখিত সমস্ত কপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তাহলে লক্ষ লক্ষ তাওহীদী মানব সন্তানের স্মৃতিশক্তি এর পরিপূর্ণ আমানতদার। কেউ যদি পবিত্র কুরআনুল কারীমের একটি শব্দও পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে মুসলমানদের ছোট্ট শিশুরাও তাকে ধরে ফেলতে পারে।

অতঃপর পবিত্র কুরআন মাজীদের শুধু শব্দরাজিই নয়; বরং অর্থ ও তাফসীর সংরক্ষণের যে ব্যবস্থাপনা মহান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে করা হয়েছে, তা স্বয়ং স্বতন্ত্র একটি ইতিহাস। যেমন সেই প্রাচীনকাল থেকেই প্রত্যেক ভাষায় অর্থের আলোকে শব্দমালার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ যে ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল অর্থাৎ ইবরানী, সুরইয়ানী ও কালদানী ইত্যাদি ভাষা ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথবা সেগুলোতে এমন আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যে, তা আজ নতুন এক ভাষায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভাষাকে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন এমন বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা দান করেছেন যে, হাজারো বিপ্লব, উত্থান-পতন ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন হওয়া সত্ত্বেও তা পুরোপুরি সংরক্ষিত রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি জানতে চায় যে, পবিত্র কুরআন মাজীদের অমুক শব্দটি সেই যুগে কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হতো? তাহলে অতি সহজেই সে তা জানতে সক্ষম।

আরবী ভাষাকে কি অসাধারণ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে? নিম্নোক্ত ঘটনা থেকে তার কিছুটা ধারণা লাভ করা যায়। ইয়ামেনের প্রসিদ্ধ শহর 'যারায়েব'-এর কোল ঘেঁষে 'উকাজ' নামক দু'টি পাহাড় ছিল। পাহাড় দু'টিতে বসবাসকারীরা এই সংকল্প করে নিয়েছিল যে, নিজেদের বসতি এলাকার বাইরে কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, কারো সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে না এবং এলাকা ছেড়ে বাইরে কোথাও যাবে না। এমনকি বাইরের কোনো ব্যক্তিও তাদের এখানে তিন দিনের চেয়ে বেশি অবস্থান করতে পারতো না। এ সবের কারণ ছিল একটাই যে, তারা মনে করতো যদি বাইরের লোকজনের সাথে আমাদের মেলামেশা বেড়ে যায়, তাহলে আমাদের বিশুদ্ধ আরবী ভাষা বিকৃত হয়ে যাবে। তারা নিজেদের এই নিয়ম-নীতিকে কঠোরভাবে পালন করতো। ঐতিহাসিকগণ লিখেন যে, এটিই একমাত্র গ্রুপ, যাদের আরবী ভাষা একেবারে ইসলামপূর্ব জাহেলিয়্যাত যুগের ভাষা এবং তাতে এক চুল পরিমাণও পার্থক্য সাধিত হয়নি। আসল কথা হলো, পবিত্র কুরআন মাজীদ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার এই কিতাব সর্বদা সংরক্ষিত থাকবে এবং স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর সংরক্ষণ করবেন, এর সত্যতা দিন দিন আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠছে এবং এ ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এখানে পবিত্র কুরআনুল কারীমের সবগুলো ভবিষ্যদ্বাণী সমবেত করা নয়; বরং শুধু কয়েকটি উদাহরণ পেশ করা উদ্দেশ্য ছিল। আর এই কয়েকটি উদাহরণ থেকেই এ কথাটি সুস্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র কুরআন মাজীদ যে ভবিষ্যদ্বাণী বা অগ্রিম সংবাদ প্রদান করেছিল, সেগুলো এমন অলৌকিক পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মধ্যে মানবিক শক্তির বিন্দুমাত্র কোনো দখল নেই।

টিকাঃ
৩৮৮. এর বিস্তারিত ও অনস্বীকার্য দলীলের জন্য দেখুন: মাওলানা রহমাতুল্লাহ কেরানভী রচিত এবং অধম [গ্রন্থকার] কর্তৃক সম্পাদিত "কুরআন ছে বাইবেল তক"।
৩৮৯. দেখুন, ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ৩/৫০১, প্রবন্ধ বাইবেল।
৩৯০. দেখুন: বাইবেল, ম্যাকমিলান, লন্ডন, ১৯৬৩ খ্রি. মুকাবিউ কী পহলী কিতাব: ১/৫৯
৩৯১. ইয়াকুব হামাভী রচিত : “মু'জামুল বুলদান” : ৪/১৪৩, বৈরত ১৩৭৬ হিজরী।

পবিত্র কুরআনুল কারীমের পূর্বে যে সকল আসমানী কিতাব বিভিন্ন নবী-রাসূলগণের উপর নাযিল করা হয়েছে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার পক্ষ হতে সেগুলোর সংরক্ষণের কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। আর তাই তো সেগুলো নিজেদের প্রকৃত অবস্থায় সংরক্ষিত থাকেনি। মুসলমানদের তো এই শুভ বিশ্বাস যে, বর্তমানে তাওরাত, ইঞ্জিল ও যাবুরের নামে যেসব কিতাবে প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে, তা কখনো অবিকল ওই কিতাব নয়, যা আসমান থেকে অবতীর্ণ হয়েছিল। বরং এগুলোতে বহু হের-ফের ও বিকৃতি সাধিত হয়েছে। বরং স্বয়ং আহলে কিতাব সম্প্রদায়ও এই হাকীকতকে স্বীকার করতে বাধ্য। কট্টর থেকে কট্টরপন্থী কোনো ইহুদী বা খ্রিস্টানও এই দাবী করতে পারে না যে, তাদের (বর্তমান) কিতাবের প্রত্যেকটি শব্দ আল্লাহ তা'আলা প্রদত্ত এবং সেগুলোর কোথাও কোনো ভুল বা পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়নি। পক্ষান্তরে পবিত্র কুরআনুল কারীম নিজের ব্যাপারে এই ভবিষ্যদ্বাণী ঘোষণা দিয়ে রেখেছিল—
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
'নিশ্চয়ই আমিই এই কুরআনকে অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।'

এই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে সত্যে প্রমাণিত হয়েছে। চৌদ্দশত বছরের এই দীর্ঘ সময়ে পবিত্র কুরআনুল মাজীদের কোনো নুকতা বা বিন্দুও বিনষ্ট হয়নি। আর না এতে বিকৃতি ও পরিবর্তন-পরিবর্ধনের কোনো অপচেষ্টা সফল হয়েছে। ইসলাম সর্বদাই বিরোধিতা ও শত্রুতার বেষ্টনীতে ছিল এবং শত্রুরা এটাকে পরাস্ত করার অপচেষ্টায় কোনো ধরনের কার্পণ্য করেনি। কিন্তু ওই যুগেও কোনো শত্রু পবিত্র কুরআনুল কারীমকে নিশ্চিহ্ন, বিনষ্ট বা পরিবর্তন-পরিবর্ধন করার অপচেষ্টায় সফল হতে পারেনি। যখন পবিত্র কুরআনের কপি সংখ্যা ছিল একেবারেই সীমিত এবং প্রচার ও প্রকাশনার উপকরণও ছিল অনুপস্থিত।

আর তাওরাতের অবস্থা দেখুন, বাবেলের বাদশা বুখতে নসর কীভাবে নিপীড়ন চালিয়ে নিশ্চিহ্ন করেছিল? বনী ইসরাঈলের বর্ণনা অনুযায়ী হযরত উযাইর (আ.) ব্যতীত কারো তাওরাত মুখস্থ ছিল না। তাই সমস্ত কপি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তারা নিজেদের স্মৃতিতে রক্ষিত তাওরাত পুনরায় লিপিবদ্ধ করিয়ে নেয়। অতঃপর রোম সম্রাট আন্তিওকাস নিজের শক্তিমত্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেল। স্বয়ং বনী ইসরাঈলের বর্ণনা অনুযায়ী সে তাওরাতের এক একটি করে সবকটি কপি ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলেছে। এমনকি একটি কপিও অবশিষ্ট ছিল না। অনুরূপভাবে ইঞ্জিলের প্রতি দৃষ্টিপাত করুন। কিভাবে রোমান বাদশাহ তীতুস, শাহ নীরূন, ডোমিশীয়ান ও ডিউক্ল্যাশীয়ানের আক্রমণে এর আসল কপিগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

কিন্তু পবিত্র কুরআনুল কারীমের অবস্থা হলো এই যে, শত-সহস্র আক্রমণকারীর সম্মুখীন হয়, বহু স্থানে মুসলমানদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়, তাদের গ্রন্থাগারগুলো জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এবং পুরাতন গ্রন্থাদির বিশাল সংগ্রহ ভান্ডার সমুদ্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। কারামেতা বা শিয়া সম্প্রদায়ের মহা প্লাবন সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে তছনছ করে দেয় এবং পবিত্র কুরআনুল কারীমের বিকৃতি সাধনের অপচেষ্টায় তারা কোনো কার্পণ্য করেনি। কিন্তু মহা গ্রন্থ আল-কুরআন আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো ধরনের বিকৃতি ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন ছাড়াই শুধু সংরক্ষিত নয়; বরং পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্ত তথা সারা বিশ্বে এর প্রচার ও প্রসারের গতি বেড়েই চলেছে। (আল্লাহ না করুন) যদি কথার কথা আজও পবিত্র কুরআন মাজীদের লিখিত সমস্ত কপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তাহলে লক্ষ লক্ষ তাওহীদী মানব সন্তানের স্মৃতিশক্তি এর পরিপূর্ণ আমানতদার। কেউ যদি পবিত্র কুরআনুল কারীমের একটি শব্দও পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে মুসলমানদের ছোট্ট শিশুরাও তাকে ধরে ফেলতে পারে।

অতঃপর পবিত্র কুরআন মাজীদের শুধু শব্দরাজিই নয়; বরং অর্থ ও তাফসীর সংরক্ষণের যে ব্যবস্থাপনা মহান আল্লাহ তা'আলার পক্ষ হতে করা হয়েছে, তা স্বয়ং স্বতন্ত্র একটি ইতিহাস। যেমন সেই প্রাচীনকাল থেকেই প্রত্যেক ভাষায় অর্থের আলোকে শব্দমালার মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। পূর্ববর্তী কিতাবসমূহ যে ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছিল অর্থাৎ ইবরানী, সুরইয়ানী ও কালদানী ইত্যাদি ভাষা ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথবা সেগুলোতে এমন আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যে, তা আজ নতুন এক ভাষায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভাষাকে মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন এমন বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা দান করেছেন যে, হাজারো বিপ্লব, উত্থান-পতন ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন হওয়া সত্ত্বেও তা পুরোপুরি সংরক্ষিত রয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তি জানতে চায় যে, পবিত্র কুরআন মাজীদের অমুক শব্দটি সেই যুগে কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হতো? তাহলে অতি সহজেই সে তা জানতে সক্ষম।

আরবী ভাষাকে কি অসাধারণ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে? নিম্নোক্ত ঘটনা থেকে তার কিছুটা ধারণা লাভ করা যায়। ইয়ামেনের প্রসিদ্ধ শহর 'যারায়েব'-এর কোল ঘেঁষে 'উকাজ' নামক দু'টি পাহাড় ছিল। পাহাড় দু'টিতে বসবাসকারীরা এই সংকল্প করে নিয়েছিল যে, নিজেদের বসতি এলাকার বাইরে কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না, কারো সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করবে না এবং এলাকা ছেড়ে বাইরে কোথাও যাবে না। এমনকি বাইরের কোনো ব্যক্তিও তাদের এখানে তিন দিনের চেয়ে বেশি অবস্থান করতে পারতো না। এ সবের কারণ ছিল একটাই যে, তারা মনে করতো যদি বাইরের লোকজনের সাথে আমাদের মেলামেশা বেড়ে যায়, তাহলে আমাদের বিশুদ্ধ আরবী ভাষা বিকৃত হয়ে যাবে। তারা নিজেদের এই নিয়ম-নীতিকে কঠোরভাবে পালন করতো। ঐতিহাসিকগণ লিখেন যে, এটিই একমাত্র গ্রুপ, যাদের আরবী ভাষা একেবারে ইসলামপূর্ব জাহেলিয়্যাত যুগের ভাষা এবং তাতে এক চুল পরিমাণও পার্থক্য সাধিত হয়নি। আসল কথা হলো, পবিত্র কুরআন মাজীদ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার এই কিতাব সর্বদা সংরক্ষিত থাকবে এবং স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর সংরক্ষণ করবেন, এর সত্যতা দিন দিন আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠছে এবং এ ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছে।

এখানে পবিত্র কুরআনুল কারীমের সবগুলো ভবিষ্যদ্বাণী সমবেত করা নয়; বরং শুধু কয়েকটি উদাহরণ পেশ করা উদ্দেশ্য ছিল। আর এই কয়েকটি উদাহরণ থেকেই এ কথাটি সুস্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান হয় যে, পবিত্র কুরআন মাজীদ যে ভবিষ্যদ্বাণী বা অগ্রিম সংবাদ প্রদান করেছিল, সেগুলো এমন অলৌকিক পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মধ্যে মানবিক শক্তির বিন্দুমাত্র কোনো দখল নেই।

টিকাঃ
৩৮৮. এর বিস্তারিত ও অনস্বীকার্য দলীলের জন্য দেখুন: মাওলানা রহমাতুল্লাহ কেরানভী রচিত এবং অধম [গ্রন্থকার] কর্তৃক সম্পাদিত "কুরআন ছে বাইবেল তক"।
৩৮৯. দেখুন, ইনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটেনিকা: ৩/৫০১, প্রবন্ধ বাইবেল।
৩৯০. দেখুন: বাইবেল, ম্যাকমিলান, লন্ডন, ১৯৬৩ খ্রি. মুকাবিউ কী পহলী কিতাব: ১/৫৯
৩৯১. ইয়াকুব হামাভী রচিত : “মু'জামুল বুলদান” : ৪/১৪৩, বৈরত ১৩৭৬ হিজরী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px