📘 উলুমুল কুরআন 📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভবিষ্যদ্বাণী

📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভবিষ্যদ্বাণী


মহান আল্লাহ পাকের চিরাচরিত নিয়ম যে, তিনি যখন কাউকে নিজের মনোনীত পয়গাম্বর বানিয়ে প্রেরণ করেন, তখন মানুষের নিকট তা আল্লাহর কালাম হিসেবে প্রমাণ করার জন্য তাতে ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কিছু ঘটনার অগ্রিম সংবাদ দিয়ে দেওয়া হয়। পবিত্র কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহ তা'আলার কালাম হওয়ার সাথে বিশটি অগ্রিম সংবাদ প্রদান করেছে, যার প্রত্যেকটিই পরিপূর্ণভাবে সঠিক বলে সাব্যস্ত হয়েছে।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 রোমানদের বিজয়

📄 রোমানদের বিজয়


নবীজী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কায় কাফেরদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছিলেন, ঠিক ওই সময়ে পৃথিবীর দুই পরাশক্তি রোম ও পারস্যের মাঝে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিল। ওই যুদ্ধে পারস্য সৈন্যরা একের পর এক রোমানদের উপর বিজয় লাভ করতে থাকে। ইরানীরা অগ্নিপূজক হওয়ায় মক্কার কাফেরদের পছন্দের ছিল আর রোমানরা আহলে কিতাব হওয়ায় মুসলমানদের পছন্দের ছিল। এমতাবস্থায় সূরা রূমের প্রাথমিক আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো- الم * غُلِبَتِ الرُّومُ * فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُم مِّن بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ * فِي بِضْعِ سِنِينَ... 'নিকটস্থ ভূমিতে, কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে কয়েক (তিন থেকে নয়) বছরের মধ্যেই... এটা আল্লাহর ওয়াদা।'

ভবিষ্যদ্বাণী করার সময় তা বাস্তবায়িত হবার কোনো লক্ষণ ছিল না। এমনকি কুরাইশ নেতা উবাই ইবনে খালফ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সাথে বাজি ধরেছিল। কিন্তু সাত বছর পর রোমের বাদশাহ কায়সার সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানিদেরকে বহুস্থানে পরাজিত করেন। ঠিক যখন বদর প্রান্তরে মুসলমানরা বিজয় লাভ করছিল, সেই সময় সংবাদ পাওয়া গেল যে, রোমক বাহিনী ইরানিদের পর্যুদস্ত করেছে। পবিত্র কুরআন মাজীদের ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল।

টিকাঃ
৩৮৫. সূরা রোম: ১-৬

📘 উলুমুল কুরআন 📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ

📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ


যে সময়ে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কাফেরদের জুলুম ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা মোকাররমা থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ‘সওর’ পর্বতের গুহায় তিন দিন অবস্থান করার পর পবিত্র মদীনার পথ ধরে ‘যুহফা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী হলেন, তখন সেখান থেকে মক্কার দিকে যাওয়ার পথটি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। স্বভাবগতভাবেই মাতৃভূমির কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। আর জন্মভূমিকে ত্যাগ করার চিন্তায় খুব আফসোস করলেন। ওই মুহূর্তে পবিত্র কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ
'যে মহান সত্ত্বা আপনার প্রতি কুরআন (-এর বিধি-বিধান) ফরয করেছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে পুনরায় এখানে প্রত্যাবর্তন করাবেন।'

ওই সময়ে নবী কারীম (সা.) মক্কা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বাহ্যিকভাবে এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তিনি বিজয়ী বেশে ওই মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে পরিণত হলো।

টিকাঃ
৩৮৬. সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতি দিয়ে "জামউল ফাওয়াইদ”: ৩/১০৭

যে সময়ে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কাফেরদের জুলুম ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা মোকাররমা থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ‘সওর’ পর্বতের গুহায় তিন দিন অবস্থান করার পর পবিত্র মদীনার পথ ধরে ‘যুহফা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী হলেন, তখন সেখান থেকে মক্কার দিকে যাওয়ার পথটি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। স্বভাবগতভাবেই মাতৃভূমির কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। আর জন্মভূমিকে ত্যাগ করার চিন্তায় খুব আফসোস করলেন। ওই মুহূর্তে পবিত্র কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ
'যে মহান সত্ত্বা আপনার প্রতি কুরআন (-এর বিধি-বিধান) ফরয করেছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে পুনরায় এখানে প্রত্যাবর্তন করাবেন।'

ওই সময়ে নবী কারীম (সা.) মক্কা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বাহ্যিকভাবে এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তিনি বিজয়ী বেশে ওই মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে পরিণত হলো।

টিকাঃ
৩৮৬. সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতি দিয়ে "জামউল ফাওয়াইদ”: ৩/১০৭

📘 উলুমুল কুরআন 📄 ইহুদীদের মৃত্যু কামনা

📄 ইহুদীদের মৃত্যু কামনা


নবী কারীম (সা.)-এর যুগে ইহুদীরা বলে বেড়াতো, "পরকালের সফলতা ও শান্তি শুধু ইহুদীদের জন্য নির্ধারিত। আর আমরা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবো।” তাদের এ কথার প্রতিউত্তর পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে—
قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِندَ اللَّهِ خَالِصَةً مِّن دুনিল النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ * لَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ
'বল, 'যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক'। কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কক্ষনো তা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে খুবই অবহিত।'

এই চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যদ্বাণী পবিত্র মদীনার সেই পরিবেশে ঘোষণা করা হচ্ছিল যেখানে এলাকার পর এলাকা ইহুদীদের আবাস ছিল। দিন-রাত মুসলমানদের সাথে তাদের তর্ক-বিতর্ক ও বচসা লেগেই থাকতো। যদি এই চ্যালেঞ্জ ওহীর মাধ্যমে করা না হতো, তাহলে যে ইহুদীরা রাসূলে আকরাম (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে প্রস্তুত ছিল না, তারা অতি সহজেই প্রকাশ্যভাবে মৃত্যু কামনা করে দেখাতে পারতো। আর এভাবে দিন-রাত যে বাক-বিতণ্ডা ও বচসা লেগে থাকতো, মুহূর্তের মধ্যেই তার সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু এই আয়াত অবতীর্ণ হবার পর ইহুদীদের কলিজা শুকিয়ে গেল এবং একজন ব্যক্তিও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য সামনে অগ্রসর হলো না।

নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালতের ব্যাপারে অমুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি যেমনই হোক, কিন্তু তাঁর কোনো শত্রুও এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেনি যে, তিনি বিবেক, প্রজ্ঞা, উপলব্ধি শক্তি ও দূরদর্শিতার দিক থেকে একজন উচ্চস্তরের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এখন এ কথা একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ থেকেও এই আশা করা যায় না যে, সে দৃঢ় বিশ্বাস ও পূর্ণ আস্থা ছাড়া এমন কোনো চ্যালেঞ্জ বা ভবিষ্যদ্বাণী করে যাবে, যা তার প্রতিপক্ষের লোকেরা এক মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হবে। তাহলে রাসূলে খোদা (সা.)-এর ন্যায় বিবেক, প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের পক্ষ হতে এই চ্যালেঞ্জ ওহীর দিক-নির্দেশনা ব্যতীত সম্ভবই ছিল না।

টিকাঃ
৩৮৭. সূরা বাকারা: ৯৪-৯৫

নবী কারীম (সা.)-এর যুগে ইহুদীরা বলে বেড়াতো, "পরকালের সফলতা ও শান্তি শুধু ইহুদীদের জন্য নির্ধারিত। আর আমরা অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবো।” তাদের এ কথার প্রতিউত্তর পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে—
قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الْآخِرَةُ عِندَ اللَّهِ خَالِصَةً مِّن دুনিল النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ * لَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ
'বল, 'যদি আল্লাহর নিকট পরকালের বাসস্থান অন্যলোক ছাড়া কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই হয়, তাহলে তোমরা মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক'। কিন্তু তাদের কৃতকর্মের জন্য তারা কক্ষনো তা কামনা করবে না এবং আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে খুবই অবহিত।'

এই চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যদ্বাণী পবিত্র মদীনার সেই পরিবেশে ঘোষণা করা হচ্ছিল যেখানে এলাকার পর এলাকা ইহুদীদের আবাস ছিল। দিন-রাত মুসলমানদের সাথে তাদের তর্ক-বিতর্ক ও বচসা লেগেই থাকতো। যদি এই চ্যালেঞ্জ ওহীর মাধ্যমে করা না হতো, তাহলে যে ইহুদীরা রাসূলে আকরাম (সা.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কোনো সুযোগ হাতছাড়া করতে প্রস্তুত ছিল না, তারা অতি সহজেই প্রকাশ্যভাবে মৃত্যু কামনা করে দেখাতে পারতো। আর এভাবে দিন-রাত যে বাক-বিতণ্ডা ও বচসা লেগে থাকতো, মুহূর্তের মধ্যেই তার সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু এই আয়াত অবতীর্ণ হবার পর ইহুদীদের কলিজা শুকিয়ে গেল এবং একজন ব্যক্তিও এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য সামনে অগ্রসর হলো না।

নবী কারীম (সা.)-এর নবুওয়াত ও রিসালতের ব্যাপারে অমুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গি যেমনই হোক, কিন্তু তাঁর কোনো শত্রুও এ ব্যাপারটি অস্বীকার করেনি যে, তিনি বিবেক, প্রজ্ঞা, উপলব্ধি শক্তি ও দূরদর্শিতার দিক থেকে একজন উচ্চস্তরের ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এখন এ কথা একজন সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ থেকেও এই আশা করা যায় না যে, সে দৃঢ় বিশ্বাস ও পূর্ণ আস্থা ছাড়া এমন কোনো চ্যালেঞ্জ বা ভবিষ্যদ্বাণী করে যাবে, যা তার প্রতিপক্ষের লোকেরা এক মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম হবে। তাহলে রাসূলে খোদা (সা.)-এর ন্যায় বিবেক, প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের পক্ষ হতে এই চ্যালেঞ্জ ওহীর দিক-নির্দেশনা ব্যতীত সম্ভবই ছিল না।

টিকাঃ
৩৮৭. সূরা বাকারা: ৯৪-৯৫

ফন্ট সাইজ
15px
17px