📘 উলুমুল কুরআন 📄 আল কুরআনের শব্দ বিন্যাস-গত অলৌকিক বৈশিষ্ট্য

📄 আল কুরআনের শব্দ বিন্যাস-গত অলৌকিক বৈশিষ্ট্য


পবিত্র কুরআন মাজীদের আয়াতসমূহের পারস্পরিক যোগসূত্র ও শব্দমালার বিন্যাসের মাঝে এক সূক্ষ্ম অলৌকিকত্ব নিহিত রয়েছে। লিপিবদ্ধ করার সময় মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) যে একটি বিন্যাস দিয়েছেন, পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোর মাঝে যোগসূত্র থাকার এটাই সবচেয়ে বড় দলীল। এই যোগসূত্রগুলো এতই জটিল ও সূক্ষ্ম যে তা মানুষের অনুসরণের উর্ধ্বে। পবিত্র কুরআনুল কারীমের শব্দমালার বিন্যাসের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইমাম রাযী (রহ.) ও কাযী আবুস সাউদ (রহ.) বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ সূরা হিজরের এক স্থানে নেক বান্দাদের জান্নাতের সংবাদ এবং নাফরমানদের আযাবের সংবাদের পরপরই হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর অতিথিদের কথা বলা হয়েছে। একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, ইবরাহীম (আ.)-এর কাছে আসা ফেরেশতারা তাঁকে সন্তানের সুসংবাদ দিয়েছিলেন (রহমতের উদাহরণ) এবং কওমে লূতকে ধ্বংস করেছিলেন (আযাবের উদাহরণ)।

টিকাঃ
৩৮৪. বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, হযরত মাওলানা রহমাতুল্লাহ কেরানভী রচিত "বাইবেল ছে কুরআন তক" এবং আল্লামা শাব্বীর আহমদ উসমানী রচিত "ই'জাযুল কুরআন"।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভবিষ্যদ্বাণী

📄 পবিত্র কুরআনুল কারীমের ভবিষ্যদ্বাণী


মহান আল্লাহ পাকের চিরাচরিত নিয়ম যে, তিনি যখন কাউকে নিজের মনোনীত পয়গাম্বর বানিয়ে প্রেরণ করেন, তখন মানুষের নিকট তা আল্লাহর কালাম হিসেবে প্রমাণ করার জন্য তাতে ভবিষ্যতে ঘটবে এমন কিছু ঘটনার অগ্রিম সংবাদ দিয়ে দেওয়া হয়। পবিত্র কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহ তা'আলার কালাম হওয়ার সাথে বিশটি অগ্রিম সংবাদ প্রদান করেছে, যার প্রত্যেকটিই পরিপূর্ণভাবে সঠিক বলে সাব্যস্ত হয়েছে।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 রোমানদের বিজয়

📄 রোমানদের বিজয়


নবীজী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন মক্কায় কাফেরদের হাতে নির্যাতিত হচ্ছিলেন, ঠিক ওই সময়ে পৃথিবীর দুই পরাশক্তি রোম ও পারস্যের মাঝে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছিল। ওই যুদ্ধে পারস্য সৈন্যরা একের পর এক রোমানদের উপর বিজয় লাভ করতে থাকে। ইরানীরা অগ্নিপূজক হওয়ায় মক্কার কাফেরদের পছন্দের ছিল আর রোমানরা আহলে কিতাব হওয়ায় মুসলমানদের পছন্দের ছিল। এমতাবস্থায় সূরা রূমের প্রাথমিক আয়াতগুলো অবতীর্ণ হলো- الم * غُلِبَتِ الرُّومُ * فِي أَدْنَى الْأَرْضِ وَهُم مِّن بَعْدِ غَلَبِهِمْ سَيَغْلِبُونَ * فِي بِضْعِ سِنِينَ... 'নিকটস্থ ভূমিতে, কিন্তু তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই জয়লাভ করবে কয়েক (তিন থেকে নয়) বছরের মধ্যেই... এটা আল্লাহর ওয়াদা।'

ভবিষ্যদ্বাণী করার সময় তা বাস্তবায়িত হবার কোনো লক্ষণ ছিল না। এমনকি কুরাইশ নেতা উবাই ইবনে খালফ হযরত আবু বকর (রা.)-এর সাথে বাজি ধরেছিল। কিন্তু সাত বছর পর রোমের বাদশাহ কায়সার সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে ইরানিদেরকে বহুস্থানে পরাজিত করেন। ঠিক যখন বদর প্রান্তরে মুসলমানরা বিজয় লাভ করছিল, সেই সময় সংবাদ পাওয়া গেল যে, রোমক বাহিনী ইরানিদের পর্যুদস্ত করেছে। পবিত্র কুরআন মাজীদের ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেল।

টিকাঃ
৩৮৫. সূরা রোম: ১-৬

📘 উলুমুল কুরআন 📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ

📄 মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ


যে সময়ে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কাফেরদের জুলুম ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা মোকাররমা থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ‘সওর’ পর্বতের গুহায় তিন দিন অবস্থান করার পর পবিত্র মদীনার পথ ধরে ‘যুহফা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী হলেন, তখন সেখান থেকে মক্কার দিকে যাওয়ার পথটি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। স্বভাবগতভাবেই মাতৃভূমির কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। আর জন্মভূমিকে ত্যাগ করার চিন্তায় খুব আফসোস করলেন। ওই মুহূর্তে পবিত্র কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ
'যে মহান সত্ত্বা আপনার প্রতি কুরআন (-এর বিধি-বিধান) ফরয করেছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে পুনরায় এখানে প্রত্যাবর্তন করাবেন।'

ওই সময়ে নবী কারীম (সা.) মক্কা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বাহ্যিকভাবে এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তিনি বিজয়ী বেশে ওই মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে পরিণত হলো।

টিকাঃ
৩৮৬. সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতি দিয়ে "জামউল ফাওয়াইদ”: ৩/১০৭

যে সময়ে নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কার কাফেরদের জুলুম ও অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা মোকাররমা থেকে বেরিয়ে পড়লেন এবং ‘সওর’ পর্বতের গুহায় তিন দিন অবস্থান করার পর পবিত্র মদীনার পথ ধরে ‘যুহফা’ নামক স্থানের নিকটবর্তী হলেন, তখন সেখান থেকে মক্কার দিকে যাওয়ার পথটি তাঁর দৃষ্টিগোচর হলো। স্বভাবগতভাবেই মাতৃভূমির কথা তাঁর মনে পড়ে গেল। আর জন্মভূমিকে ত্যাগ করার চিন্তায় খুব আফসোস করলেন। ওই মুহূর্তে পবিত্র কুরআন মাজীদের নিম্নোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হলো—
إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ
'যে মহান সত্ত্বা আপনার প্রতি কুরআন (-এর বিধি-বিধান) ফরয করেছেন, তিনি অবশ্যই আপনাকে পুনরায় এখানে প্রত্যাবর্তন করাবেন।'

ওই সময়ে নবী কারীম (সা.) মক্কা থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন, সে দৃষ্টিকোণ থেকে বাহ্যিকভাবে এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবায়িত হবার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তিনি বিজয়ী বেশে ওই মক্কা শহরে প্রবেশ করেন। আর এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবে পরিণত হলো।

টিকাঃ
৩৮৬. সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতি দিয়ে "জামউল ফাওয়াইদ”: ৩/১০৭

ফন্ট সাইজ
15px
17px