📘 উলুমুল কুরআন 📄 উদাহরণ

📄 উদাহরণ


উদাহরণ-১:
জাহেলী যুগে “মৃত্যু” শব্দটির ভাব আদায়ের জন্য বহু আরবী শব্দ ব্যবহৃত হতো। যেমন— ১. موت ২. هلاك ৩. فناء ৪. حتف ৫. شعوب ৬. حمام ৭. منون ৮. سام ৯. قاضية ১০. حميع ১১. نبط ১২. فود ১৩. مقدار ১৪. جباز ১৫. قیتم ১৬. حلاق ১৭. طلاطل ১৮. طلاله ১৯. عول ২০. ذام ২১. کفت ২২. جداع ২৩. حزره ২৪. خالج।

কিন্তু এগুলোর মধ্য থেকে অধিকাংশ শব্দের নেপথ্যে আরবদের এই পুরাতন দৃষ্টিভঙ্গি পরিলক্ষিত হতো যে, মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চিরকালের জন্য নিঃশেষ হয়ে যায়। তারা যেহেতু পুনরুত্থান ও পরকাল বিশ্বাস করত না, তাই তাদের নির্বাচিত শব্দগুলোতে ওই দৃষ্টিভঙ্গির ঝলক ছিল। যেখানেই মৃত্যুর হাকীকত বর্ণনা করা উদ্দেশ্য ছিল, সেখানে পবিত্র কুরআনুল কারীম এই চব্বিশটি শব্দকে পরিহার করে অভিনব একটি শব্দ ব্যবহার করেছে। আর সেই শব্দটি হচ্ছে, تَوَفَّى (তাওয়াফ্ফা)। যার আভিধানিক অর্থ হলো, “কোনো বস্তুকে পুরোপুরিভাবে আদায় করে নেওয়া।” এই শব্দটি এ কথাও স্পষ্ট করে দিল যে, মৃত্যু চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার নাম নয়। বরং মহান আল্লাহর পক্ষ হতে রূহ নিয়ন্ত্রণ করার নাম হলো “মৃত্যু”। “মৃত্যু”কে বুঝানোর জন্য পবিত্র কুরআনুল কারীমের পূর্বে এই শব্দটি কেউ ব্যবহার করেনি।

টিকাঃ
৩৭৭. ইবনে সাইয়্যেদাহ উন্দুলুসী (রহ.) এসবগুলো নাম একত্রিত করে আরবদের কবিতা থেকে উদাহরণ পেশ করেছেন। ইবনে সাইয়্যেদাহ্ রচিত "আল-মুখাস্সাস" ৬/১১৫.
৩৭৮. শায়েখ বিন্নুরী রচিত “ইয়তিমাতুল বয়ান লি মুশকিলাতুল কুরআন: পৃ: ৫৬।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 উদাহরণ

📄 উদাহরণ


উদাহরণ-২ঃ
প্রত্যেক ভাষাতেই এমন কিছু বিষয় পরিলক্ষিত হয়, যা শ্রুতিমধুরতার দৃষ্টিকোণ থেকে ফাসীহ ও পছন্দনীয় বলে মনে করা হয় না। যেমন, প্রাসাদ নির্মাণে ব্যবহৃত পাকা ইট বুঝানোর জন্য আরবী ভাষাতে যতগুলো শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, তার সবকটি উচ্চারণে কঠিন এবং নিম্নশ্রেণীর মনে করা হয়। যেমন, آجُرُّ (আজুরুন), قِرْمِدٌ (কারমাদুন) ও طُوبٌ (তুবুন)। এখন পবিত্র কুরআন মাজীদে এ কথা বলা উদ্দেশ্য ছিল যে, ফেরাউন তার মন্ত্রী হামানকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, “আমার জন্য একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি করতে ইট পোড়াও।” পবিত্র কুরআনুল কারীম এ ভাবকে এমন এক অলৌকিক পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছে যে, ভাবটাও অত্যন্ত সুন্দরভাবে আদায় হয়েছে আবার কঠিন শব্দ ব্যবহারের দোষও সৃষ্টি হয়নি। যেমন- وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرِي فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَلْ لِي صَرْحًا 'অর্থাৎ ফির'আউন বললঃ হে পরিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের অন্য উপাস্য আছে বলে আমি জানিনা। হে হামান! তুমি আমার জন্য ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি কর।'

টিকাঃ
৩৭৯. ইবনুল আসীর রচিত "আল-মাসালুস সায়ে'র"-এর উদ্ধৃতিসহ।

📘 উলুমুল কুরআন 📄 উদাহরণ

📄 উদাহরণ


উদাহরণ-৩:
আরবীতে কোনো কোনো শব্দ এমন আছে, যা একবচন অবস্থায় উচ্চারণে সহজ ও ফাসীহ হয় কিন্তু বহুবচন অত্যন্ত কঠিন বলে মনে হয়। যেমন, জমিনকে বুঝানোর أَرْض (আরদুন) উচ্চারণে সহজ একটি শব্দ। আরবীতে এর দু'টি বহুবচন ব্যবহৃত হয়— أَرَضُونَ এবং أَرَاضِي। দু'টি শব্দকেই উচ্চারণে কঠিন বলে মনে করা হয়। কিন্তু পবিত্র কুরআনুল কারীম অধিকাংশ স্থানে سَمَاوَات (সামাওয়াত)-কে বহুবচন এবং এরই সাথে أَرْض (আরদুন)-কে একবচন ব্যবহার করেছে। কোথাও أَرْض-কে বহুবচন শব্দে ব্যবহার করেনি। তবে পবিত্র কুরআনুল কারীমের একটি স্থানে সাত জমিনের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল। সেখানেও পবিত্র কুরআন মাজীদ বহুবচন শব্দটিকে এড়িয়ে এমন এক চমৎকার অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছে: اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ 'আল্লাহ ওই মহান সত্ত্বা, যিনি সৃষ্টি করেছেন সাত আসমান এবং সমপরিমাণ জমিন।'

টিকাঃ
৩৮০. সূরা তালাক : ১২

📘 উলুমুল কুরআন 📄 উদাহরণ

📄 উদাহরণ


উদাহরণ-৪ :
পবিত্র কুরআন মাজীদের কোনো কোনো শব্দের উপর কতক নাস্তিক কঠিন হবার আপত্তি উত্থাপন করেছে। যেমন, ضِيزَى (দ্বীযা) শব্দটি। কিন্তু সাহিত্যিকগণ শব্দকে এমন শৈলীতে ব্যবহার করেন যে, এর চেয়ে উত্তম আর কোনো শব্দ সেখানে ব্যবহার করা যায় না। যেমন কবি মির্জা গালিব উর্দুতে 'ধোল-ধাপ্পা' (দুম্বল ধাপা) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। আরবীতে এর উদাহরণ এই যে, ঘাড়ের একটি রগের নাম أَخْدَع (আখদা)। হামাসার এক কবি এটি এমন সুন্দরভাবে ব্যবহার করেছেন যে তা কবিতার সাবলীলতার সাথে মিশে গেছে। পবিত্র কুরআন মাজীদে ضِيزَى শব্দটিও এমন সৌন্দর্যের সাথে ব্যবহৃত হয়েছে যে, এর স্থলে এর চেয়ে সুন্দর কোনো শব্দও তার জুড়ি হতে পারে না। أَلكُمُ الذَّكَرُ وَلَهُ الْأُنثَى * تِلْكَ إِذَا قِسْمَةٌ ضِيزَى। বাহ্যিকভাবে তাকালে ضِيزَى এর মুকাবিলায় قِسْمَةٌ جَائِرَةٌ অথবা ظَالِمَةٌ উত্তম বলে মনে হয়। কিন্তু পবিত্র কুরআনের যে বিষয়বস্তুর যোগসূত্রে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেখানে অন্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের সকল সৌন্দর্য ও প্রবাহ বিনষ্ট হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৩৮১. মাওলানা ইউসুফ বিননূরী রচিত গ্রন্থ "ইয়াতিমাতুল বয়ান" থেকে সংকলিত।

ফন্ট সাইজ
15px
17px