📘 উলুমুল কুরআন 📄 দশম সংশয় : পবিত্র কুরআনুল কারীমের শায ক্বরাত ও তার হাকীকত

📄 দশম সংশয় : পবিত্র কুরআনুল কারীমের শায ক্বরাত ও তার হাকীকত


কোনো কোনো প্রাচ্য পন্ডিতবর্গ পবিত্র কুরআনুল কারীমের শায বা বিরল ক্বেরাতসমূহকে কাজে লাগিয়ে ভ্রান্ত ধারণার এক পাহাড় বানিয়েছে। বিশেষ করে গোল্ডযিহার এবং অর্থার জিফেরী ওই ক্বেরাতসমূহের অনেক উদাহরণ পেশ করে সেগুলো থেকে মনগড়া সিদ্ধান্ত রচনা করেছেন। সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এ ব্যাপারে একমত যে, পবিত্র কুরআনুল কারীমের শুধু ওই ক্বেরাতগুলোই গ্রহণযোগ্য হবে, যেগুলোর মধ্যে নির্ধারিত শর্তাবলী পাওয়া যাবে।

শায ক্বেরাতগুলোর হাকীকত নিম্নরূপ হতে পারে:
১. কখনো কখনো ওই ক্বেরাতগুলো একেবারেই মওজু (বানোয়াট) হয়ে থাকে। যেমন, আবুল ফযল মুহাম্মদ ইবনে যা'ফর খুযাঈ'র ক্বেরাতসমূহ, যা ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয় কিন্তু তা ভিত্তিহীন।
২. কখনো কখনো ক্বেরাতগুলোর সনদে দুর্বলতা থাকে। যেমন, ইবনুস সামীফা' এবং আবুস সাম্মানের ক্বেরাতসমূহ।
৩. কোনো কোনো সময় ক্বেরাতগুলোর সনদ বিশুদ্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা পবিত্র কুরআনুল কারীমের অন্তর্ভুক্তই নয়। বরং কোনো সাহাবী অথবা তাবেঈ সাধারণ কথাবার্তার ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন মাজীদের কোনো শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এর সাথে দু'একটি শব্দ সংযোজন করে দিয়েছিলেন। যেমন হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রা.)-এর বর্ণনায় (مِنْ أُمٍّ) শব্দের সংযোজন।
৪. কখনো কখনো এমনও হয়েছে যে, পবিত্র কুরআনুল কারীমের কোনো কোনো ক্বেরাত পরবর্তীতে রহিত করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সাহাবী তা রহিত হবার বিষয়টি না জানার কারণে পূর্বের ক্বেরাত অনুযায়ী পড়তে থাকেন। কিন্তু অন্যান্য সাহাবীগণ তা জানতেন বলে তাঁরা সেটাকে পবিত্র কুরআনের অংশ হিসেবে গণ্য করতেন না।
৫. আবার কোনো কোনো শায ক্বেরাত দেখে এমনও মনে হয় যে, কখনো কোনো তাবেঈর কাছ থেকে তেলাওয়াতে কোনো ভুল-ত্রুটি প্রকাশ পেয়ে গেছে এবং কোনো শ্রবণকারী তা শুনে বর্ণনা করে দিয়েছেন।

টিকাঃ
৩৫৯. আন্-নশরু ফী কিরআতিল আশর: ১/৩১-৩২, আল-ইতকান: ১/৭৯
৩৬০. মুশকিলুল আসার [তহাভী]: ১৯৬-২০২

📘 উলুমুল কুরআন 📄 একাদশ অভিযোগ

📄 একাদশ অভিযোগ


পবিত্র কুরআনুল কারীমের সম্পর্কে যত শায ক্বেরাত বর্ণিত আছে, এর অধিকাংশ ই উপরেল্লিখিত পাঁচটি প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর এটা তো স্পষ্ট যে, এ প্রকারগুলোর কোনো ক্বেরাতকেই গ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করার কোনো প্রশ্নই আসে না। তাই সমগ্র উম্মাহ কোনো যুগেই সেগুলোকে নির্ভরযোগ্য ক্বেরাত হিসেবে গণ্য করেনি। অতএব, এই বিরল ক্বেরাতগুলোর উপর কেন্দ্র করে প্রাচ্য পন্ডিতগণ যে ফলাফল বের করার চেষ্টা করেছেন, সেগুলো এমনই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট যে, গভীর জ্ঞান ও গবেষণা অনুযায়ী তা চিন্তা-ভাবনার উপযোগী নয়।

টিকাঃ
৩৬১. আন্-নশরু ফী কিরআতিল আশর: ১/১৬

ফন্ট সাইজ
15px
17px